সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিকে রুখতেই হবে


  • May 5, 2021
  • (1 Comments)
  • 504 Views

বিজেপি এখন ৭৭টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বাংলায়। ফলে নিজেদের সাময়িক হতাশা কাটিয়ে দাঁতনখ বের করে মেরুকরণের রাজনীতির বীজ বুনতে বুনতে যাবে। এখন দেখার বাংলার সম্প্রীতির ঐতিহ্য দিয়ে বাংলার মানুষ কতটা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। ক্ষমতায় আসীন মমতা সরকার গত দশ বছরের স্বৈরাচারী নীতি দিয়ে জনগণের উপর আবার রোলার চালাতে থাকলে যে ক্ষোভ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে আছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তা আবার বেরিয়ে আসবে। যার রাজনৈতিক ফায়দা তুলবে একমাত্র বিজেপি। আর সেটা হবে ধর্মীয় মেরুকরণের ভিত্তিতেই। লিখছেন ছাত্র আন্দোলনের কর্মী অনিমেষ দত্ত

 

তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রথম বাংলার কোনো একটি নির্বাচন ঘিরে গোটা দেশের মানুষের আগ্রহ বিশেষ ভাবে চোখে পড়ল। বাংলার নির্বাচন বরাবরই দেশীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ থেকেছে। বলা হয়, আছে বাংলা বরাবরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু এবারের নির্বাচনে যেমন একাধিক সমীকরণ দেখা গেছে তেমনই ছিল একাধিক লক্ষ্য। প্রশ্ন উঠে গেছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও। করোনা পরিস্থিতিতে কেন আট দফায় দীর্ঘ নির্বাচন প্রক্রিয়া চালানো হল সেই নিয়েও সরব থেকেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজন গ্রামবাসীর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, রাজনৈতিক তরজা। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এবং ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্ট বলছে যে শীতলকুচিতে পরিকল্পনা মাফিক গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল। এতকিছুর পর শেষমেশ তৃতীয়বারের মত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। ২ তারিখ ভোট গণনার কিছুক্ষণের মধ্যেই এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে অমিত শাহের দাবি মতো দু’শো আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় তো আসছেই না বরং মুখ পুড়তে চলেছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের। বাংলার মানুষ একযোগে সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন

 

কিন্তু, ছন্দ নষ্ট হলো তৃণমূলের জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরের কিছু ঘটনায়। দু’তারিখ রাতেই বের হলো একাধিক বিজয় মিছিল। যদিও তৃণমূল সুপ্রিমোর তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে এই কোভিড পরিস্থিতিতে বিজয় মিছিল এখন করা হবে না। কোভিড পরিস্থিতি সামলে উঠলে তারপর ব্রিগেডে হবে ‘সেলিব্রেশন’। কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। পাড়ায় পাড়ায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা দলীয় পতাকা, সবুজ আবির নিয়ে নেমে পড়েন বিজয় উল্লাসে, করোনাকে তোয়াক্কা না করেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়নি মুখে মাস্ক। ডিজে চালিয়ে উদ্দাম নাচ আর বাজি ফাটানোর আওয়াজে কান ঝালাপালা। আর ঠিক সেই রাত থেকেই ঘটতে শুরু করে বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা। বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় তৃণমূলের কর্মীরা বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। বাড়ি, দোকান ভাঙচুর করছে। পরদিনও সকাল থেকে দেখা যায় বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বার শেয়ার হচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে বিজয় উল্লাস করতে করতে তৃণমূলের কর্মীরা কোথাও বিজেপি কর্মীদের, কোথাও বা বাম-কং-আইএসএফ কর্মীদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে।

 

৩ তারিখ বিকেল থেকে বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রী এবং বিজেপি প্রভাবিত অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ট্যুইটারে নেমে পড়লেন। কয়েক মুহুর্তের মধ্যে টুইটারে ট্রেন্ডিংয়ে চলে আসে একটি হ্যাশট্যাগ- #প্রেসিডেন্টসরুলইনবেঙ্গল-এর সাথে সাথেই আরও বেশি কিছু হ্যাশট্যাগকে ছড়ানো হয় – #বেঙ্গলবার্নিং #বেঙ্গলিজবার্নিং, #শেমঅনমমতাব্যানার্জি, #টিএমসিটেরর ইত্যাদি। হ্যাশট্যাগের সঙ্গে একাধিক ছবি, ভিডিও ছড়ানো হয়। মুহুর্তের মধ্যে সেগুলো ভাইরালও হয়। সিপিএম এর নেতারাও ফেসবুকে এবং অন্যান্য মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পার্টি অফিস ভাঙচুর, কর্মীদের মারধর, দোকান-বাড়ি ভাঙচুর, পুড়িয়ে দেওয়া ইত্যাদির ছবি-ভিডিও ছড়াতে থাকেন। বাংলার বাইরে থেকে কেউ যদি গতকাল এবং আজকের বিকেল পর্যন্ত পরিস্থিতি শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে তাহলে তার কাছে এই জিনিসটাই পৌঁছয় যে বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা এতটা চরমে যে এখানে জঙ্গলরাজ কায়েম হয়ে গেছে।

 

ঠিক কী ঘটেছে? হ্যাঁ, প্রতিবারের মতোই এবারেও বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত। বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের কর্মীরা হামলা চালায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে। ভাঙচুর চালানো হয় বিজেপির সমর্থকদের দোকানগুলোতে। একই সাথে তৃণমূলের কর্মীরা হামলা চালায় বামফ্রন্ট কর্মীদের উপরও। প্রতীক উর রহমান, এসএফআই এর রাজ্য সভাপতি যিনি এবারের ভোটে ডায়মন্ডহারবার থেকে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী ছিলেন তার এলাকাতেও হামলা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় দোকান। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন অংশে হেমনগর অঞ্চলে মজদুর ক্রান্তি পরিষদ (এমকেপি)-র কর্মীদের বাড়ি, দোকান ভাঙচুর করে তৃণমূল। আক্রমণ চালানো হয় আইএসএফ কর্মীদের উপরও। আবার একই সাথে বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ। কোথাও কোথাও তৃণমূল কর্মীরাও আক্রমণের সম্মুখীন হন। অভিযোগ ওঠে বিজেপির দিকে। এরই মধ্যে মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায় বেশ কিছু। মৃত্যু হয় বিজেপি, সিপিএম, তৃণমূল সব দলের কর্মীর। এখনও অবধি মোট চোদ্দ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যুর খবর আছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবর অনুযায়ী পূর্ব বর্ধমান জেলারই নবগ্রামে তৃণমূলের আক্রমণে কাকলি ক্ষেত্রপাল নামের একজন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। যিনি একজন সিপিআইএম কর্মী। বাকি তিন জন তৃণমূল কর্মী। টাইমস অফ ইন্ডিয়ারই আরেকটি খবরে জানা গেছে হুগলি জেলার খানাকুলে বিজেপি কর্মীদের আক্রমণে তৃণমূল কর্মী দেবু প্রামাণিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সোদপুর, আসানসোল, বেলেঘাটা, বোলপুরের বাগদি পাড়া, বিধাননগরের দত্তাবাদ সহ বিভিন্ন জায়গায় দু’লের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, বিজয়ী দলের কর্মীদের দ্বারা বিরোধী দলের কর্মীদের উপর আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। এই সমস্ত ঘটনাই সত্য। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের যে ধারা বাংলায় চলে আসছে গত কয়েক দশক ধরে তা অব্যাহত থাকল এবারেও। দিনের শেষে সাধারণ কর্মীরাই মার খেলেন। তাদেরই বাড়ি, দোকান ভাঙচুর হল। জীবন সংশয় হল।

 

কিন্তু ভোট পরবর্তী হিংসায় এবারে যুক্ত হল এক অন্যরকম ছবি। যা বাংলার রাজনীতিতে কোনোদিন দেখা যায়নি। একাধিক ভুয়ো খবর। বিজেপির আইটি সেল-এর নেটওয়ার্ক কতটা শক্তপোক্ত তার আবার প্রমাণ পাওয়া গেল এই সমস্ত ভুয়ো খবর ছড়ানোর গতি দেখে। মুহুর্মুহু ছড়িয়ে দেওয়া হলো ফেক নিউজ। ট্যুইটারে সেই সমস্ত ভুয়ো খবরগুলোকে ছড়াতে থাকেন বিজেপির একাধিক নেতা-কর্মী থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকেও ট্যুইট হতে থাকে একাধিক ভুয়ো ছবি, ভিডিও। এক এক করে কিছু খবর এই লেখায় তুলে দেওয়া হল, যা পরবর্তীতে অল্ট নিউজ ফ্যাক্ট চেক করে জানিয়েছে যে সেগুলি ভুয়ো।

 

১) স্বপন দাশগুপ্ত, রাজ্যসভায় বিজেপির প্রাক্তন সদস্য। তিনি গত ৩ তারিখ রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি ট্যুইট করেন সেখানে তিনি লেখেন — “অ্যালার্মিং সিচুয়েশন ইন নানুর (বীরভূম ডিস্ট্রিক্ট) উইথ মোর দ্যান এ থাউজেন্ড হিন্দু ফ্যামিলিজ আউট ইন দ্য ফিল্ডস টু এস্কেপ মারুডিং মবস সিকিং টু টেক ইট আউট এগেন্সট বিজেপি সাপোর্টার্স। রিপোর্ট অফ মলেস্টেসন অর ওয়ার্স অফ উইমেন। @অমিত শাহ প্লিজ রাশ সাম সিকিউরিটি টু দ্য এরিয়া।” এর পরেই ছড়িয়ে যায় সেই ট্যুইট। কিন্তু বাস্তবে কি এরকম কিছু ঘটেছিল? ওই এলাকার থানায় অভিযোগ জমা পড়ার পরেই বীরভূমের এসপি এন এন ত্রিপাঠী জানান যে, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। তিনি এও জানান, খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থানা থেকে খোঁজ খবর করা শুরু হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের সাথেও কথা বলা হয়। কিন্তু স্থানীয় বিজেপি নেতারা জানায় যে ‘মলেস্টেশন’ বা হাজার হাজার হিন্দু পরিবারের গ্রাম ছাড়ার কোনো খবর তাদের কাছেও নেই। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায় যে সেখানে আসলে কিছুই হয়নি। অর্থাৎ বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত একটি মিথ্যা খবর ট্যুইট করেছেন।

 

২) আর একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে দেখা যাচ্ছে হাতে অস্ত্র নিয়ে নাচানাচি করছে বেশ কিছু মানুষ এবং তার ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে এই নির্বাচনের বহুল প্রচলিত তৃণমূলের #খেলাহবে গানটি। ভিডিওটি ট্যুইট করা হয় প্রীতি গান্ধী নামের একটি ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে ৪ তারিখ রাত ৩.৪০ মিনিটে। ক্যাপশনে লেখা হয়, “পোস্ট রেজাল্ট সেলিব্রেশন ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল…#খেলাহবে।” অর্থাৎ, অস্ত্র নিয়ে ভোটে জেতার সেলিব্রেশন করছে শাসক দল। পরবর্তীতে অল্ট নিউজ ফ্যাক্ট চেক করে জানায় যে এই ভিডিওটি ২০২০ সালে আপলোড করা হয়েছে অন্য হ্যান্ডেল থেকে নির্বাচন হওয়ার বেশ কয়েক মাস আগে। এবং এই ভিডিওতে এডিট করে যুক্ত করা হয়েছে “খেলা হবে” গানটি। @দ্য কুইন্ট এর পরেই সম্পূর্ণ তথ্য সহ খবরটি প্রকাশ করে। পরে অবশ্য সরিয়ে নেওয়া হয় ভিডিওটি।

 

৩) “হিন্দু ২.০ প্রশাসক সমিতি” নামের একটি ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে ৪টি ছবি টুইট করা হয়। যার মধ্যে একটি হল হিটলারের। হিটলারের মুখের জায়গায় মমতা ব্যানার্জির ছবি বসানো আছে। দ্বিতীয় ছবি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদ পত্রিকার বহু পুরোনো একটি সাদা কালো কাটিংয়ের। যেখানে লেখা “প্রেসিডেন্টস রুল ইন বেঙ্গল”। এবং তার পাশের একটি ছবিতে অটল বিহারী বাজপেয়ী। পরিষ্কার বোঝা যায় এ ছবি সত্তর দশকের সময়কার। তৃতীয় ছবিটি একটি কার্টুন ছবি। দেখা যাচ্ছে মমতা ব্যানার্জির “ভাঙা পা”য়ে ঝুলন্ত একজন ব্যক্তি। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ ছবিটি। যেখানে দেখা যাচ্ছে আগুন জ্বলছে এবং কিছু মানুষ ছোটাছুটি করছেন। এই ছবিটি বাংলায় পূর্ব পরিচিত। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচন এর শেষ দফার কিছুদিন আগে কলকাতায় বিদ্যাসাগর কলেজে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি দৃশ্য। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই সমস্ত ছবি নির্বাচন পরবর্তী হিংসার বলে চালানোর চেষ্টা করা হয় ওই ট্যুইটার হ্যান্ডেলগুলি থেকে। যেখানে ক্যাপশনে বলা হয় — “… উই ওয়ান্ট # প্রেসিডেন্টস রুল ইন বেঙ্গল বিকজ অফ # বেঙ্গল ভায়োলেন্স… হিন্দুজ আর কিলড বাই কাশ্মীরিজ অ্যান্ড বিজেপি প্রোনাউনস ফর এ নেশন ওয়াইড ধরনা!!… বেঙ্গল নিডস এ গোপাল পাঁঠা!” স্বাভাবিক ভাবেই অল্ট নিউজ ফ্যাক্ট চেক করে জানায় যে এগুলি ভুয়ো

 

৪) আজ তক সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক কমলেশ সিং তার ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও ট্যুইট করে লেখেন- ” এ পুলিশম্যান জয়েন্স দ্য ভিক্টরি সেলিব্রেশন ইন #ওয়েস্টবেঙ্গলইলেকশন২০২১।” একই সাথে আরও দুটি ট্যুইটার হ্যান্ডেল (নো দ্য নেশন, অরুনেশ) থেকে একই ভিডিও টুইট করে লেখা হয় — “পুলিশমেন কেম টু কন্ট্রোল দ্য সিচুয়েশন অ্যান্ড দেন টিএমসি গুনস অ্যাটাক অন পুলিস।” কিন্তু বাস্তব কী বলছে? অল্ট নিউজ জানায় যে সেই ভিডিওটি ওড়িশার পুরোনো একটি ঘটনার ভিডিও। উড়িষ্যার চ্যানেল কলিঙ্গ টিভি গত ১৩ জানুয়ারি ওই ভিডিওটি নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে। এই ভিডিওর সাথে পশিচমবঙ্গের নির্বাচনোত্তর হিংসার কোনো সম্পর্ক নেই।

 

এইগুলি ছাড়াও আরও একাধিক ছবি, ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে দাবি করা হয় যে তৃণমূলের গুন্ডারা বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছে। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও ট্যুইট করেন যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন পুরুষ একজন মহিলাকে চুলের মুঠি ধরে মারছে। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সেই টুইটের ক্যাপশনে লেখেন, “টিএমসি মুস্লিম গুনস আর বিটিং বিজেপি উইমেন ওয়ার্কার্স ইন কেন্দামারি ভিলেজ, নন্দীগ্রাম।” নিউজ ওয়েব পোর্টাল দ্য কুইন্ট এরপর তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে এই ভিডিওর সত্যতা সামনে আনে। ঘটনাটিতে একজন পুরুষ একজন মহিলাকে মারছেন ঠিকই এবং জায়গার নামও সঠিক কিন্তু এর সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের “মুসলিম” গুন্ডাবাহিনীর বিজেপির মহিলা কর্মীকে মারার কোনো সম্পর্ক নেই। ঘটনাটি একেবারেই ঘরোয়া ঝামেলার জেরে। অথচ কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, স্বপন দাশগুপ্ত কিংবা অন্যান্য বিজেপি নেতাদের করা ভুয়ো ট্যুইট এর বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি পুলিশকে কিংবা ট্যুইটার কর্তৃপক্ষকে। সরাসরি উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা সত্ত্বেও গ্রেফতার করা হয়নি এঁদের কাউকেই।

 

একই সাথে আরও একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করে গোটা দেশ। অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত, যিনি গত কয়েক মাস ধরেই বেশ পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে —তার অভিনয়ের জন্য নয় — বিজেপির হয়ে প্রোপাগান্ডার জন্য। সেই তিনিই ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক ট্যুইট করতে থাকেন। মমতা বন্দ্যোপা‌ধ্যায়কে রাবণের সঙ্গে তুলনা করা থেকে শুরু করে বাংলাকে কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা। এমনকি এ রাজ্যে তিনি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানান কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। এমনকি একটি ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর ২০০০ সালের প্রথম পর্বের ‘বিরাট রূপ’ অবতার হয়ে আত্মপ্রকাশের আবেদন জানান। সকলেই অনুমান করছেন কঙ্গনা নরেন্দ্র মোদীর মুখ্যমন্ত্রীত্বকালীন ২০০২ সালের গুজরাত গণহত্যার পরোক্ষ উল্লেখ করেছেন। যে ইতিহাসের উল্লেখ দূরে থাক ইঙ্গিতটুকুও নরেন্দ্র মোদীর ঘোর অপছন্দের। এর পরেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয় ট্যুইটার কর্তৃপক্ষ। না করে উপায় ছিল না। স্থায়ী ভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় কঙ্গনার ট্যুইটার হ্যান্ডেল। যদিও, দিনের পর দিন ট্যুইটারের নিয়মবিধি লঙ্ঘন করা এবং ‘,হেট স্পিচ’-এর জন্য এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ট্যুইটারের মুখপাত্র। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, অভিনেত্রীর বক্তব্যের ফলে হিংসা ছড়াতে পারে। সেই সঙ্গেই মঙ্গলবার বিকেল বেলা একই রকম পদক্ষেপ নেন দেশের দুই খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার আনন্দ ভূষণ এবং রিমঝিম ডাদুর। দু’জনেই তাঁদের ইনস্টাগ্রামে জানান, আগামী দিনে যে যে প্রকল্পের কথা হয়েছিল কঙ্গনার সঙ্গে, তা বাতিল করা হবে। এর আগে যা যা কাজ তাঁরা করেছেন, সে সব ছবি ও ভিডিয়ো নেটমাধ্যম থেকে তুলে নেওয়া হবে।”

 

এতগুলো ভুয়ো খবরের দিকে বেশি জোর দেওয়া হল কেন নিশ্চয়ই ভাবছেন? আজ্ঞে এই সমস্ত ভুয়ো খবর মানুষ একাধিক বার বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে ছড়াচ্ছেন। শেয়ার করছেন। যাচাই করার ধার ধারছেন না। মিথ্যেকে একাধিক বার বলা হলে সেই মিথ্যেকে সত্যি বানানো যায় আজকের পোস্টট্রুথের যুগে। এখানেই ভয়ের মূল কারণ। ভুয়ো খবরের ক্যাপশনগুলো খেয়াল করার মতো। লেখার প্রথমেই বলা হয়েছিল যে গত কয়েক দশকের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার সাথে এবারের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার গুণগত পার্থক্য আছে। যদি একটু খুঁটিয়ে লক্ষ্য করা যায় দেখা যাবে যেকটি ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই একটা ন্যারেটিভকে সামনে আনা হয়েছে আর সেটা হল হিন্দুরা অত্যাচারিত হয়েছে মুসলিমদের দ্বারা। বিজেপির “হিন্দু” কর্মীরা আক্রান্ত তৃণমূলের “মুসলিম” কর্মীদের দ্বারা। হিংসার ক্ষেত্রেও স্পষ্ট মেরুকরণ বাংলায় এই প্রথম। আগের ভোট পরবর্তী হিংসাগুলিতে (সে যে দলই করুক) ‘অমুক দলের বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে’- এই বয়ানেই দেখা যেত। এখন যুক্ত হয়েছে অমুক দলের “মুসলিম” বাহিনী কিংবা “হিন্দু” কর্মী। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র টুইট করে লেখেন- “বেঙ্গল= কাশ্মীর।” অর্থাৎ পরিষ্কার যে কাশ্মীরের সঙ্গে তুলনা টেনে বাংলাতেও মিলিটারি শাসন জারি করতে হবে। এবারের ভোটে হারটা বিজেপি কোনোমতেই যেন মেনে নিতে পারছে না। তাই যেনতেন প্রকারে বাংলায় লাগামহীন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করছে। আর তার সাথে পরিষ্কার ভাবেই মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষদের টার্গেট করা হচ্ছে বিজেপির তরফ থেকে। ভোটের ফল প্রকাশের পরের দিনই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) “বাঙালির সম্প্রীতি প্রেমে ক্ষুব্ধ“। বিজেপির হারের পরেও অবশ্য আরএসএস নেতারা মনে করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় না-এলেও ‘হিন্দুত্ব’-কে বাংলার রাজনৈতিক বিতর্কের মূলস্রোতে নিয়ে আসা গিয়েছে। তবে সমস্যা হল, এখনও বাঙালি ভদ্রলোকের মন থেকে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি অন্ধপ্রেম’ উপড়ে ফেলা যায়নি। এক আরএসএস নেতা বলেন, “মুশকিল হল, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ভদ্রলোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। তাই তৃণমূল সরকারের সংখ্যালঘু তোষণ নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও তাঁরা বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। তবে তাঁদের মনেও হিন্দুত্বর ধারণা জাগিয়ে তোলা গিয়েছে। সংখ্যালঘু তোষণের বিপদ তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।” আরএসএস-বিজেপির এই ‘প্রচেষ্টা’-র জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটের প্রচারে গিয়ে চণ্ডী পাঠ করতে হয়েছে বলে আরএসএস নেতারা মনে করছেন।” ঠিক এই জিনিসটাই সম্পূর্ণ ভোটপর্ব জুড়েও দেখা গিয়েছিল বিজেপির তরফ থেকে। তা হলো সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি, বিভাজনের রাজনীতি। মতুয়া ভোটব্যাংক, মুসলিম ভোটব্যাংক, হিন্দু ভোটব্যাংক, গোর্খা ভোটব্যাংক, বাঙালি-অবাঙালি ভোট, রাজবংশী ভোট, হিন্দিভাষী ভোট, বাংলাভাষী ভোট, আদিবাসী ভোট এই সমস্ত শব্দবন্ধ বাংলার নির্বাচনে একেবারেই ছিল না তা নয় কিন্তু সেটাই ভোট প্রচারের মূল ন্যারেটিভ হয়ে দাঁড়ায়নি কোনোদিন। যা এবারের ভোটে বিজেপি সবরকমের চেষ্টার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতাকেই ন্যারেটিভ বানিয়েছে। খানিক দূর অবধি সচেষ্টও হয়েছে। যার জন্য মমতা ব্যানার্জিকেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। গ্রামেগঞ্জে ‘হিন্দু’ পরিবারগুলোতে গিয়ে বলা হয়েছে যে “মমতা সব মুসলিমদেরই দিয়েছে, তোমাদের কী দিয়েছে?” “ঘোমটা টেনে বেগম হয়ে বিধর্মী হয়ে গেছে, এই মমতাকে ভোট দেবেন না।” বিজেপি নিজেদের হিন্দুদের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলায় সম্প্রীতির দীর্ঘ ইতিহাস, একসাথে থাকার, ধনী-গরিব ন্যারেটিভে লড়াই করার ইতিহাস থাকার কারণেই পুরোপুরি সফল হতে পারেনি বিজেপি। তাই এখন সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে মেরুকরণের রাস্তায়। ভোটের পরে বাংলায় দাঙ্গা লাগানোর সূক্ষ্ম চেষ্টাও শুরু হয়ে গিয়েছে এর মাধ্যমে।

 

বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা আজকের নয়। কংগ্রেস আমল থেকে বাম আমল, এবং হালের তৃণমূলের তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসা। সবক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিরোধী দলের কর্মীদের উপর “এবার দেখাব তোদের” আক্রোশ। কংগ্রেস আমলে তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা, খুন বাংলার মানুষ ভোলেনি। কিংবা বামফ্রন্ট্রের ৩৪ বছরের শাসনে আমরা দেখেছি একাধিকবার ভোটে জেতা এবং প্রতিবার ভোটের পরেই বিরোধী দলের কর্মীদের “দেখে নেওয়া”র ঘটনা। শুধু তৃণমূল নয়, বামেদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বামফ্রন্ট্রের বাইরে থাকা অন্যান্য বাম দলগুলি, মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা, ছাত্রছাত্রী, আন্দোলনের কর্মীরাও। ২০১১ সালে পালাবদল এর পর উল্টো ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। সেই কায়দাতেই বামফ্রন্ট কর্মীদেরও মারধর শুরু করে তৃণমূল। একই ভাবে গণআন্দোলনের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নামানো হয়। ২০১৬ বিধানসভা, ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচন সবক্ষেত্রেই একই ছবি। ভোট এবং ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস বাংলায় চলতেই থাকে। খুন হতে থাকেন গরিব সাধারণ মানুষ। কিন্তু এবার? ২০২১ নির্বাচন এ বাংলার রাজনীতিতে সমীকরণ অনেকটা বদলে যায়৷ দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি।

 

কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি ২০১৯-এ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়। সেই সঙ্গে চির ধরে বাংলায় তৃণমূলের। ২০১৪ সালে ১টা লোকসভা আসন থেকে বিজেপি এক লাফে ১৮টা আসন জিতে কার্যত দাবি করে যে “উনিশে হাফ, একুশে সাফ।” তারপর জল গড়িয়েছে অনেক দূর। নির্বাচনে জেতার জন্য নিজেদের সবটা দিয়ে ঝাঁপিয়েছে বিজেপি। সিএএ-এনআরসি নিয়ে দেশ যখন উত্তাল সেই সময়েই দিল্লির নির্বাচনে ভরাডুবি হয় বিজেপির। ক্ষমতায় আসে কেজরিওয়াল সরকার। কিন্তু তাতেও বিজেপির খেলা বন্ধ হয় না। দিল্লিতে ঘটানো হয় ভয়ংকর গণহত্যা। একাধিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্ট-এ প্রকাশ হতে থাকে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে কীভাবে দিল্লিতে অশান্তি পাকিয়েছে। ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে, একাধিক ভুয়ো খবর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে কীভাবে হত্যা সংগঠিত করেছে। তারপর করোনা অতিমারী, লকডাউনের মাধ্যমে দেশের মানুষের রুটিরুজির অবস্থা খারাপ হওয়ার মুহুর্তেও থামেনি সেই ঘটনার রেশ। লকডাউনকে ব্যবহার করে গ্রেফতার করা হয় একের পর এক ছাত্রছাত্রীদের, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের। তবলিগি জামাতের করোনা ছড়ানোর ভুয়ো খবর ছড়িয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভিলেন বানানোর চেষ্টা চালানো হয় জোর কদমে। আর এখন বাংলার নির্বাচন পরবর্তী সময়েও এই ভুয়ো খবরের খেলায় মেতে উঠেছে বিজেপি। তৃণমূলের শপথ গ্রহণের পরেও এই খেলা চলতে থাকবে এটা পরিষ্কার। বিজেপি এখন ৭৭টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বাংলায়। ফলে নিজেদের সাময়িক হতাশা কাটিয়ে দাঁতনখ বের করে এই মেরুকরণের রাজনীতির বীজ বুনতে বুনতে যাবে। এখন দেখার বাংলার সম্প্রীতির ঐতিহ্য দিয়ে বাংলার মানুষ কতটা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। ক্ষমতায় আসীন মমতা সরকার গত দশ বছরের স্বৈরাচারী নীতি দিয়ে জনগণের উপর আবার রোলার চালাতে থাকলে যে ক্ষোভ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে আছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তা আবার বেরিয়ে আসবে। যার রাজনৈতিক ফায়দা তুলবে একমাত্র বিজেপি। আর সেটা হবে ধর্মীয় মেরুকরণের ভিত্তিতেই। এইবারের নির্বাচন অনেকের মতে বিজেপি বনাম তৃণমূল হয়নি, বরং হয়েছে বিজেপি বনাম বিজেপি বিরোধী শক্তির মধ্যে। সেখানে বিজেপি বিরোধী মানুষ একজোট হয়ে ভোট দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জির পক্ষে। এমনকি বাংলায় “নো ভোট টু বিজেপি” স্লোগানকে সামনে রেখে আন্দোলনও সংগঠিত করেছেন বাংলারই গণ আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠন এবং ব্যক্তিরা। যার বেশ ভালো ফলও পাওয়া গেছে ভোটবাক্সে। এমনকি দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষক নেতারা এসেও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষকে আবেদন জানিয়ে গেছেন। ফলে বাংলায় বিজেপি বিরোধী অ-তৃণমূল শক্তিও উপস্থিত ভালো পরিমাণে। এই ভোট পরবর্তী হিংসা অবিলম্বে বন্ধ না করতে পারলে ফল বিপরীতে যেতে পারে মমতা ব্যানার্জিরই। ইতিমধ্যেই অন্য রাজনৈতিক সমীকরণ জন্ম দেবার সম্ভাবনাও প্রবল হয়ে উঠছে বাংলার রাজনীতিতে। বামফ্রন্ট, কংগ্রেস শূন্যে নেমে এসেছে। সবমিলিয়ে বাংলার ভোট পরবর্তী প্রগতিশীল বিরোধী রাজনীতি একরকম শূন্যতার মধ্যে আগামী দিন বাংলার রাজনীতি সাম্প্রদায়িক শক্তির দিকে আরও অনেকটা বাঁক নেবে কি না তা সময়ই বলবে। বাংলার সচেতন রাজনৈতিক শক্তিরা এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে না ঠেকাতে পারলে বাংলা তার লড়াইয়ের ঐতিহ্য হারাবে।

Share this
Recent Comments
1
Leave a Comment