ব্যর্থতা ঢাকতে ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের এখন সম্বল শুধু রাজনৈতিক হিংসা


  • September 20, 2021
  • (0 Comments)
  • 250 Views

২০১৮ সালে ত্রিপুরায় ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একবিন্দুও পালন করতে পারেনি বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার। সাড়ে তিন বছরে পায়ের নীচে জমি হারাতে হারাতে এখন টিকে থাকতে সম্বল শুধুমাত্র রাজনৈতিক হিংসা ও সন্ত্রাস। ৮ সেপ্টেম্বর এবং তারপরে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সাক্ষী সারা রাজ্যের মানুষ। তবে প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্রগুলি এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রায় নেই এই সন্ত্রাসের খবর ত্রিপুরা থেকে গ্রাউন্ডজিরো-র জন্য সৌরব চক্রবর্ত্তী এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট। 

 

রাস্তার দুই ধারে আগুন, মাঝখান দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছেন দুই জন মহিলা। চারদিকে শ্লোগান দেওয়া হচ্ছে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘ভারত মাতা কী জয়’। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে ২০০২সালের গুজরাত দাঙ্গার কোনো তথ্যচিত্র কিংবা কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া দিল্লি দাঙ্গার ভিডিও ফুটেজ। তবে এই দৃশ্য গুজরাত কিংবা দিল্লির নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের ছোট রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার। গত ৮সেপ্টেম্বর সারা রাজ্য জুড়ে যে ভয়ানক রাজনৈতিক সন্ত্রাস ভারতীয় জনতা পার্টি সংগঠিত করেছে তা গত কয়েক দশকের মধ্যে ত্রিপুরার মানুষ দেখেননি। একেবারে প্রকাশ্যেই রাজধানী আগরতলার মেলার মাঠ এলাকায় তিনটি সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অফিস এবং সিপিআই (এম)-এর দু’টি প্রধান কার্যালয়ে আক্রমণ চালায় গেরুয়া বাহিনী। তাছাড়া সেদিনই সারা রাজ্যে আরও কয়েকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অফিস ও সিপিআই (এম) সহ অন্যান্য বিরোধী দলের অফিসও পোড়ানো হয় কিংবা ভাঙচুর করা হয়।

 

২০১৮ সালের ৩ মার্চ ২৫ বছরের দীর্ঘ বাম শাসনকে পরাস্ত করে ত্রিপুরার ক্ষমতা দখল করে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকার। ক্ষমতায় আসার আগে দিল্লি থেকে প্রায় কয়েক ডজন নেতা-মন্ত্রী ত্রিপুরায় প্রায় ওভারটাইম খেটেছেন, ত্রিপুরার মানুষকে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেও সেসবের কিছুই পূরণ করেননি। গ্রাম ও পাহাড়ে কাজের অভাব, চাকরির অভাব, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বেহাল অবস্থা গোটা রাজ্যের মানুষকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে। এই অবস্থার মধ্যে দিশেহারা সাধারণ মানুষ বিরোধী দলগুলির নানান কর্মসূচিতে যোগ দিতে শুরু করতেই গোটা দেশের মতো এখানেও রাজনৈতিক সন্ত্রাস করতে শুরু করে বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমেই প্রায় বিনা নির্বাচনে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করা শুরু হয় এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে যা আরও প্রবল আকার ধারণ করে।

 

লোকসভা নির্বাচনে সদ্য ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার সুষ্ঠুভাবে ভোট করাতেই পারত। কিন্তু তা হয়নি। ২০১৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ত্রিপুরায় যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তা সাধারণ মানুষের কাছে অনেকাংশেই নতুন এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতিতে বেমানান। এর সঙ্গে যোগ হওয়া রাজনৈতিক হিংসার ফলে যে উৎসাহে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা হয়েছিল ঠিক যেন সেই উৎসাহেই মানুষ তাদের দূরে ঠেলতে শুরু করেন। যার ফলে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শেই লোকসভা নির্বাচনে প্রবল সন্ত্রাসের আশ্রয় নিতে হয়েছিল। অথচ ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে একটিও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসেনি। উৎসবের মেজাজে গোটা রাজ্যে ভোট হয়েছিল এবং জনগণ বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিল। সুতরাং গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই বিজেপির সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছিল এটা স্পষ্ট।

 

এই যুক্তির ক্ষেত্রে বড় প্রমাণ কিছুদিন আগে শেষ হওয়া এডিসি নির্বাচনের ফলাফল। ক্ষমতায় থেকেও তিপ্রামথার কাছে হারতে হয়েছে বিজেপি-আইপিএফটি জোটকে। গ্রাম-পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বামেদের যে সংগঠন গড়ে উঠেছিল তার দখল নেওয়ার জন্য যে পরিমাণ কাজ করা উচিত ছিল তা বিজেপি করে উঠতে পারেনি। বিরোধী দল করলেই বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যাওয়া কিংবা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলাকে মানুষ ভালোভাবে নেননি। ২০১৮ সালের মার্চের পর থেকে যে সমস্ত লোকজন দলে দলে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তাদের একটা বড়ো অংশ এখন নিষ্ক্রিয়। মার খাওয়া কিংবা বাড়িঘরে আক্রমণের ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিরাট সংখ্যক সাধারণ মানুষ বিজেপি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। তবে এই মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া মানুষদের নিয়ে বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করার যে প্রয়াস তাতে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআই (এম) এগিয়ে থাকলেও তাদের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরা সফরের সময়ে তাঁর গাড়িতে আক্রমণের ফলে কিছু জাতীয় সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সেই নিয়ে খবর হলেও এই রাজনৈতিক আক্রমণের ঘটনা নতুন কিছু নয়।

 

২০১৮ সাল থেকে বিজেপি যে রাজনৈতিক হিংসা সারা রাজ্যে চালাচ্ছে, এবার প্রকাশ্যে নিজেরাই তার প্রমাণ দিয়েছে গত ৮ সেপ্টেম্বর। বিকেল চারটে নাগাদ বিজেপি’র যুব মোর্চার একটি মিছিল থেকে প্রথমেই আক্রমণ চালানো হয় ‘পিবি ২৪ চ্যানেল’ এবং দৈনিক পত্রিকা ‘প্রতিবাদী কলম’-এর অফিসে। স্যোশাল মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত ভিডিওগুলিতে যুব মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্বদের প্রকাশ্যে মোটা লাঠি হাতে ভেতরের জিনিস ভাঙতে এবং অফিসে কর্মরতদের উপর আক্রমণ করতে দেখা যায়। তার ঠিক লাগোয়া সিপিআই (এম)-এর সদর দপ্তরে আক্রমণ চালানো হয়। এরপরেই এক দল উন্মত্ত যুবক মিলে রাজ্য দপ্তরেও আক্রমণ চালায়। পার্টি অফিসের সামনে রাখা দু’টি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। অফিসের দরজায় রাখা আরেকটি গাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ভেতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি, বইপত্রসহ অন্যান্য নানান জিনিসপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়। তার লাগোয়া সিপিআই (এম)-এর মুখপত্র ‘ডেইলি দেশের কথা’ অফিসেও আক্রমণ চালানো হয়, সেখানেও প্রচুর জিনিসপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়। বামফ্রন্টের আহ্বায়ক বিজন ধরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষের উপরে।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মেলার মাঠের এক মোবাইল বিক্রেতা অমিত বিশ্বাস গ্রাউন্ড জিরো-কে জানান, “১৫ বছর হয়েছে এখানে দোকান, চোখের সামনে শত শত রাজনৈতিক মিছিল দেখেছি, কিন্তু কোনোদিন এই রকম দেখিনি। এই মিছিলের লোকজন হাতে যে বাঁশ নিয়ে এসেছিলেন তা দিয়ে ঘর বানানো যাবে। মিছিল শুরুই হয়েছিল আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে। এইসব কিছু হওয়ার পরে এখন গোটা আগরতলা বিকেলের মধ্যেই চুপ হয়ে যায়।”

 

আগরতলা সিটি সেন্টারের ফাস্টফুড বিক্রেতা কমল দাশ বললেন, “নতুন সরকার আসার পরে এমনিতেই চাঁদার জুলুম বেড়েছে, এখন প্রতি মাসে ২-৩টি করে পুজো হচ্ছে আর মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাস যেভাবে বাড়ছে তাতে আগামী দিনে দোকান চালিয়ে যাওয়া খুবই সমস্যার কারণ লোকজন আসছেই না। আমি বামেদের সমর্থক নই। সারা জীবন কংগ্রেস করে এসেছি কিন্তু এই রকম দেখিনি। এতো দিন ধরে ব্যবসা করছি এখানে কেউ হুমকি পর্যন্ত দেয়নি, কিন্তু বিজেপি সরকার আসার পর থেকে এইসব বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।”

 

মেলার মাঠ থেকে খানিক পেছনের দিকে গেলেই হকার্স কর্নার। দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যবসার জায়গা। হকার্স কর্নারের ভেতরে মহিলাদের সাজগোজের জিনিসের দোকান চালানো উর্মি দেববর্মা প্রথমে ভয়ে মুখ থেকে মাস্ক নামাননি ও কথাও বলতে চাননি। পরে ছবি না তোলার প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি কথা বলতে শুরু করেন। জানান, “আমি আর আমার স্বামী এখানে দোকান চালাচ্ছি প্রায় ১২ বছর, আগে এই সময়ে মানে পুজোর আগে প্রচুর ভিড় থাকত। এখন পুজোর মাত্র কয়েক দিন বাকি কিন্তু এখনও ক্রেতা নেই। মেলার মাঠে পার্টি অফিস তো কয়েক দিন আগে ভেঙেছে, কিন্তু নানান জুলুম, নির্যাতন চলছে অনেক দিন ধরেই। আগে আমরা একা একা বাড়ি ফিরেছি রাত ১১টার সময়েও, কিন্তু এখন ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়িতেও পৌঁছে যাচ্ছি।”

 

৮ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসের ফলে গোটা আগরতলা শহর জুড়ে মানুষের মধ্যে আশঙ্কা সর্বস্ব নীরবতার পাশাপাশি ক্ষোভও জমেছে প্রবলভাবে। বর্ডার গোলচক্কর এলাকার বাসিন্দা, ভাড়ার রিক্সা চালক ফারুক মিঞা জানালেন, “আগরতলায় এমন বহু জায়গা আছে যেখানে অটো পৌঁছাতে পারে না কিন্তু রিক্সা পৌঁছে যায়। এই কারণেই আমরা দিনের শেষে এক সময় ভালো টাকা রোজগার করেছি। আমার আগে রিক্সা ছিল। কিন্তু মুসলমান হওয়ায় বিজেপি আসার পরে জুলুমবাজি শুরু হয়। ইউনিয়নে রিক্সা নিয়ে যেতে পারিনি অনেক দিন। তারপর রিক্সা বিক্রি করে কিছু টাকা দেওয়ার পরে এখন ইউনিয়নে ঢুকতে দেয়। কিন্তু নতুন রিক্সা কিনতে পারছি না, ব্যবসা ভাল না। আগের থেকে অর্ধেক হয়ে গেছে রোজগার। কয়েকদিন পর পর বিজেপির লোকজন ঝামেলা করে আর আমাদের পেটে লাথি পরে। মানুষ বাড়ি থেকে না বের হলে রোজগারও নেই। আপনাকে এখন পেলাম, তার আগে এক ঘণ্টা ধরে বসে আছি একজন কাস্টমারও নেই।”

 

বটতলা থেকে বাঁধার ঘাট রেলস্টেশন পর্যন্ত অটো চালানো জয়ন্ত কলই জানান, “আমরাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি ভুল হয়ে গেছে। এই রুটেরই একজন চালকের অটোতে সেদিন লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। অথচ আমরা তখন রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার বন্ধুর গাড়িতে এখন ৫ হাজার টাকা খরচ করতে হবে, সে আবার অন্য লোকের গাড়ি চালায়। মালিককে তো বোঝানো যাবে না। কিন্তু আমাদের তো কোনো দোষ নেই।”

 

৮ সেপ্টেম্বর শুধুমাত্র আগরতলা নয় রাজ্যের বিভিন্ন স্থানেই একই কায়দায় আক্রমণ চালানো হয় বিরোধী দলগুলির পার্টিঅফিস ও নেতা-কর্মীদের বাড়িতেও। এতে শুধুমাত্র দলীয় রাজনীতি করা লোকজনই নয় আক্রান্ত হয়েছেন প্রচুর সাধারণ পথচলতি মানুষও। যাত্রীপুরার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই পরিস্থিতি খুবই বেমানান। সেদিনই উদয়পুরে সিপিআই (এম)-র মহকুমা অফিস ভাঙচুর করা হয় ও দুরন্ত টিভির অফিস ভেঙে দেওয়া হয়। বিশালগড়ে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হয় সিপিআই (এম)-র সিপাহিজলা জেলা পার্টি অফিস। সোনামুড়া মহকুমার অন্তর্গত কাঁঠালিয়ায় সিপিআই(এম)-র মহকুমা কমিটির সদস্য ননী পালের বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি তাঁকেও প্রচণ্ড মারধর করা হয়। উদয়পুরে সিপিআই (এম)-র রাজ্য কমিটির সদস্য মানিক বিশ্বাসের বাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়। এদিকে এদিনই আগরতলায় ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেবের বাড়ি আক্রমণ করে সম্পূর্ণ তছনছ করে দেওয়া হয়। ৮ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত সিপিআই (এম)-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নানান অফিসে আক্রমণ চালায় বিজেপি’র কর্মীরা। তারমধ্যে রয়েছে সিপিআই (এম)-র ডুকলি, গন্ডাছড়া, লংতরাই ভ্যালি, শান্তিরবাজার, কমলপুর, বক্সনগর, কাঠালিয়া, রহিমপুর, নতুনগর, রবীন্দ্রনগর, ধনপুর, বাঁধারঘাট, খোয়াই ইত্যাদি জায়গার নানান দপ্তর। সিপিআই (এম-এল)-এর একটি দপ্তর পুড়িয়ে ফেলা হয় উদয়পুরে। সিপিআই (এম)-এর সাংস্কৃতিক শাখা সংস্কৃতি সম্বন্বয় কেন্দ্রের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে রাখা রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ ত্রিপুরা ও সারা ভারতের নাটক, গান, চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও রাজনীতির অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ বইপত্র ও দুঃষ্প্রাপ্য নথি পুড়ে যায়।

 

উদয়পুরের মাছ ব্যবসায়ী রাজা সরকার জানান, “উদয়পুর সংস্কৃতির শহর, রাজনৈতিক তর্জা, তর্কাতর্কি সবসময়ই হয়েছে কিন্তু এইরকম হিংসা আমরা কোনোদিন দেখিনি। বড়দের মুখে ৮৮-৯৩-এর গল্প শুনেছি। এইরকম দিন দেখতে হবে কোনোদিন ভাবিনি।”

 

খোয়াই কোহিনুর কমপ্লেক্সে ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিক্রেতা বিজয় আচার্য বললেন, “সমীর দেব সরকার এখানকার বিধায়ক থাকার সময়ে এইরকম আতঙ্কে আমাদের ব্যবসা করতে হয়নি। এখনও সিপিএমের বিধায়ক তবে বিধায়ককে কেউ মানে না। সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্য দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। রাজনীতিতে তো যাই-ই না এখন, পরে দেখবেন হঠাৎ একদিন দোকান ভেঙে দিয়ে গেছে।”

 

কমলপুরের কাপড় ব্যবসায়ী সুজিত নাগের বক্তব্য, “২০১৫ সাল থেকে বিজেপি করছিলাম, কিন্তু দল যখন ক্ষমতায় আসে আমাদের কথা আর আলোচনা করে না। জিনিসের দাম বাড়ছে কিন্তু ইনকাম বাড়েনি এক টাকাও। এখন আর বিজেপিতে যাওয়া হয় না। ২০২৩ সালে এই সরকারের পতন চাই।”

 

মানিক সরকারের বিধানসভা কেন্দ্র ধনপুরেও প্রচণ্ড সন্ত্রাস চলেছে। সেখানকার একজন শ্রমজীবী মানুষ বিলাশ পাল জানিয়েছেন, “মানিক সরকার এখানে এলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক জড়ো করে তাঁকে আক্রমণ করা হয়, আগে এইসব হয়নি। আমাদের ভাইবন্ধুরা বিরোধী রাজনীতি করেছে, আমরাও করেছি, কিন্তু এইরকম পরিবেশ তৈরি হয়নি। মানুষ মিলেমিশে শান্তিতেই ছিল। এখন সারাক্ষণ বাইকবাহিনী ঠহল দিয়ে বেড়ায়, ভালো লাগে না, দমবন্ধ হয়ে আসে।”

 

১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস জোট সরকারের আমলে রাজ্যে যে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার ছায়া এই জোট সরকারের আমলেও দেখা যাচ্ছে। মানুষ সুখী নয় তা প্রমাণিত। তবে এখানেও পার্থক্য আছে, সেই অন্ধকার সময়েও বিরোধী দলগুলো অল্প পরিমাণে রাজ্যে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পেরেছিল। যার ফলেই ’৯৩ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে বামেরা। তবে বিরোধীমুক্ত ভারত গড়ার যে ডাক প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন তা সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক। এই ধারাই ত্রিপুরায় চালিত করছে আরএসএস-বিজেপি। আইটি সেল দ্বারা সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে বিরোধী রাজনীতি করা বা বিরোধী মনোভাবাপন্ন মানুষদের প্রতি। সময় সুযোগ করে বাইকবাহিনী দ্বারা আক্রমণ চালিয়ে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে মানুষের কণ্ঠস্বরকে কিংবা পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে মানুষের বসতবাড়ি, দোকান, ফসল সমেত কৃষিজমি, ধানের গোলা, কৃষিজমিতে ব্যবহার করার বাঁশ। গো-রক্ষাবাহিনী তৈরি করে গরুর সুরক্ষার নামে সংখ্যালঘু মানুষের উপর ক্রমাগত আক্রমণ ও হেনস্তা নামিয়ে আনা হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

 

ত্রিপুরা বরাবরই গণআন্দোলনের পৃষ্ঠপোষক। স্বাধীনতার সময়ে জনশিক্ষা আন্দোলন, কাজের দাবিতে আন্দোলন, ভাষার জন্য লড়াই, জাতি-উপজাতি সম্প্রীতির লড়াই ত্রিপুরার মাটিকে লড়াইয়ে রেখেছে সর্বক্ষণ। ত্রিপুরা নিজস্ব সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস, পোষাক-পরিচ্ছদের জন্য সারা ভারতে জনপ্রিয়। ত্রিপুরার প্রধান দুই ভাষা ককবরক ও বাংলা। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই এখানে হিন্দির বাড়বাড়ন্ত,  মুখ্যমন্ত্রীর ক্রমাগত হিন্দিতে ভাষণ ও ত্রিপুরার মানুষের রুচি ও ত্রিপুরার মাটি সম্পর্কে অজ্ঞতা মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। তাছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ছোট ও মাঝারি শিল্প, যোগাযোগ, পরিবহন, মানুষের নিরাপত্তা ইত্যাদি প্রায় সব কিছুতেই ব্যর্থ হয়েছে বিপ্লব দেবের সরকার। করোনা ভাইরাসের সময়ে অপরিকল্পিত লকডাউন ও অন্যান্য সমস্ত বিষয়েই সরকারের অন্তঃসারশূন্যতা বেরিয়ে আসে।

 

২০১৮ সালের ভোটে প্রচুর বামপন্থী মানুষও নতুন আশায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু সেইসব কিছুই পূরণ হয়নি, উলটে যা ভালো দিক ছিল তা ক্রমশ নষ্ট হতে থাকে। ক্ষমতায় আসার পরে দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা বন্ধ থাকে, বন্ধ থাকে টিপিএসসি পরীক্ষা, পুলিশ ও অন্যান্য দপ্তরেও নিয়োগ বন্ধ থাকে। গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম জায়গা রেগার (১০০ দিনের কাজ) কাজ অনিয়মিত হয়ে পড়ে। আবাস যোজনার ঘর নিয়ে নানান কেলেঙ্কারি সামনে আসে। পরিবহনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমে গিয়ে মাফিয়াতন্ত্রের বাড়বাড়ন্ত হয়। আমদানি ও রপ্তানিতেও পিছিয়ে পড়ে রাজ্য। বামেদের আমলেও এইসব ক্ষেত্রে ১০০% কাজ হয়নি, কিন্তু প্রয়োজনটুকু মিটিয়ে ফেলার মতো কাজ মানুষ পেয়েছেন। যা গেরুয়া আমলে বিশবাঁও জলে। তাছাড়া কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া, সংবাদপত্রগুলিকে হুমকি দেওয়া এইসমস্ত ফ্যাসিস্ত কাজকর্ম ত্রিপুরায় চলছে নিয়মিত।

 

সারা রাজ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে বামফ্রন্টের আহ্বায়ক বিজন ধরের কাছে জানতে চাইলে গ্রাউন্ডজিরোকে তিনি জানান, “বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সারা রাজ্যে আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই। বিগত বামফ্রন্ট সরকার যে কাজকর্ম করে গেছে তাঁরা সেসব কাজগুলিকেও ধরে রাখতে পারছে না। এই অবস্থায় আমরা মানুষের কথা বলার অধিকার, রাজ্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাধারণ মানুষ ভেবেছে নতুন সরকারের থেকে তাঁরা নানান সুবিধা পাবেন, কারণ প্রতিশ্রুতি সেরকমই ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এই মোহভঙ্গ হতেই মানুষ আমাদের কর্মসূচিগুলিতে যোগ দিতে থাকে। একদিকে আমাদের দিকে মানুষের চলে আসা এবং বিজেপির প্রতি অনীহা বিজেপিকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছে। নতুন মন্ত্রীত্ব পাওয়া কয়েক জন বিধায়ক তাঁদের কর্মীদের পরোক্ষভাবে উস্কানিও দিয়েছেন বামপন্থীদের উপর আক্রমণ করার জন্য। তবে মানুষ বুঝতে পারছে বিজেপির পায়ের নীচের মাটি সরে গেছে। নীতিহীন একটি দল বেশিদিন রাজ্যে থাকলে তা আদৌ জনহিতকর হবে না। বামেরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সারা রাজ্যের বিভিন্ন অংশে উন্নয়নের একটি চলমান ধারা অব্যহত ছিল, কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে তাতে ব্যাঘাত ঘটে। সাড়ে তিন বছর হয়ে যাওয়ার পরেও মানুষকে দেওয়া একটিও প্রতিশ্রুতি তাঁরা রাখতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ পুনরায় বামেদের দিকে ভিড় করছেন এবং জাতীয় স্তরেও আমরা এই আন্দোলনকে পৌঁছে দিয়ে বোঝাতে চাইছি যে বিজেপি কোনোভাবেই দেশের বিকল্প নয়।”

 

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে জাতীয় কংগ্রেস। সিপিআই (এম-এল)র সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য ফোনে গ্রাউন্ডজিরোকে জানিয়েছেন, “ত্রিপুরায় এই মুহূর্তে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও তাঁদের কর্মসূচিতে আক্রমণ নামানো হচ্ছে। এইবারের আক্রমণগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের উপরেও আক্রমণ চালানো হয়েছে যা গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ। বিজেপি এই মুহূর্তে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে যা থেকে তাঁরা রাজনৈতিক হিংসাকে আয়ত্ত করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। ত্রিপুরায় সিপিআই (এম)র পাশাপাশি আমাদেরও অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আমরা এই সমস্ত ঘটনার নিন্দা জানাই এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছি। আমাদের লড়াই ত্রিপুরাতে আরও তীব্রতর হবে।”

 

লিবারেশন বামেদের পাশে দাঁড়ালেও তৃণমূল বাম এবং বিজেপিকে একই আধারে রেখে নিন্দা জানিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেব এই সমস্ত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “বিপ্লব দেবের সরকার ভয় পেয়েছে তৃণমূলকে দেখে। আমি আবারও বলছি বিপ্লববাবু, আপনি আপনার গুন্ডাবাহিনী সামলান। আর সিপিএম সাড়ে তিন বছর কিছুই করেনি, তৃণমূলকে দেখে এখন হঠাৎ করে জেগে উঠেছে। ত্রিপুরায় আমরাই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”

 

তবে ২০১৬ সালেও ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস দল ভাঙিয়ে সুদীপ রায়বর্মনসহ কয়েকজন বিধায়ক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লড়াই শুরু করলেও মুকুল রায় বিজেপিতে চলে যেতেই সেখানে ভাঁটা পড়ে। পরে তারাই বিজেপিতে গিয়ে ভিড় করেন। এবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে আটকে দেওয়ার পরে তৃণমূলের পাখির চোখ এখন ত্রিপুরায়। ইতিমধ্যে বাংলার তৃণমূল সরকারের বর্তমান মন্ত্রী ব্রাত্য বসু-সহ কয়েকজন সাংসদ-বিধায়ক নিয়মিত ত্রিপুরায় আসা-যাওয়া করছেন। জনমানসে এই নিয়ে আগ্রহ খানিক বাড়লেও পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষও জল মাপছেন। ক্রমাগত রাজনৈতিক আক্রমণ এবং ত্রিপুরায় তৃণমূলের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারকে জিজ্ঞাসা করা হলে গ্রাউন্ডজিরোকে তিনি জানান, “বিজেপির এই ধরণের আক্রমণ নতুন কিছু নয়। সাড়ে তিন বছর ধরেই চলছে। অগণতান্ত্রিকভাবে মানুষের কাজ করার, আন্দোলন করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মানে বুঝতে হবে তাঁরা মানুষকে ভয় পেয়েছে। ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি ও বামপন্থী শক্তির উপর বিজেপির ফ্যাসিবাদী আক্রমণ দেখে বুঝতে হবে এই সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। মানুষ তাঁদের সঙ্গ দিচ্ছে না, এটা বুঝতে পেরে সন্ত্রাসের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি এবং সেই লড়াই বজায় থাকবে। এ রাজ্যে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের ক্রমাগত আন্দোলনের যে অভিমুখ, তা চলবে। কোনো ধরনের আক্রমণ আমাদের আটকে রাখতে পারবে না।”

 

তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আগেও এখানে সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করেছে কিন্তু লাভ হয়নি। গণতান্ত্রিক দেশ, তাঁরা আবার এখানে চেষ্টা করছে কিন্তু তাঁদের দলের লোকেরাই বিজেপিতে গিয়েছিল আগের বার। এইবার নতুন উদ্যোগ শুরু হয়েছে, কিছু কিছু মানুষ তাঁদের সাথে জুড়েছেন, তবে তা সাময়িক। তৃণমূল যদি ভাবে এখানেও তাঁরা বাংলার কায়দায় লড়াই করে জিতে যাবে  তা হবে না।পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিমণ্ডল সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁরা তাঁদের মতো চেষ্টা চালাতেই পারেন, এতে আমাদের কিছু বলার নেই। ত্রিপুরার মাটিতে গণ আন্দোলনের যে ভিত্তি আমাদের আছে, তার ছিঁটেফোঁটাও নেই তৃণমূলের। সুতরাং উড়ে এসে জুড়ে বসার ফল তাঁরা আগেও পেয়েছে, এবারেও পাবে।”

 

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথা সত্যি – ত্রিপুরায় তৃণমূলের ভিত্তি কিছুই নেই, তবে ২৫ বছরের বাম শাসনও মানুষের কাছে সুখকর ছিল না। শেষদিকে ভেতর থেকেই সংগঠন ভেঙে না গেলে পরাজয় ঘটত না। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে যোগ্য লোকের পরিবর্তে অযোগ্য লোকেদের ভিড় বামেদের পতনের দিকে নিয়ে গেছে। তাছাড়া ক্ষমতার দম্ভে সাধারণ পঞ্চায়েত প্রধানও নিজেকে বিধায়ক ভাবতে শুরু করেছিলেন যার সুযোগ নিয়েছে বিজেপি। বিজেপির বিরাট অঙ্কের টাকার জোর এবং মানুষের ক্ষোভের কাছেই মূলত হেরেছে বামেরা। সারাদেশে এখন সংসদীয় বামেদের বেহাল অবস্থা। পশ্চিমবঙ্গে শেষ বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসন জিততে পারেনি বামেরা। ত্রিপুরার এডিসি নির্বাচনেও খাতা খুলতে পারেনি বামফ্রন্ট। এহেন পরিস্থিতিতে এই সমস্ত আক্রমণের ফলে বামেদের দিকে মানুষের সাময়িক সহানুভূতি বাড়লেও তা ভোটের বাক্সে কতোটা প্রতিফলিত হবে এই নিয়ে বিস্তর সন্দেহ আছে। এদিকে প্রদ্যোত কিশোরের দল তিপ্রামথাও পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করতে শুরু করেছে। একাধারে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, মানুষের রুজি-রুটির অভাব, চাকরি ও কর্মসংস্থানের অভাব বিজেপিকে মানুষের থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিকল্প হিসেবে কোন দল উঠে আসবে সেই অঙ্ক আগামী কিছু দিনে পরিস্কার হয়ে যাবে নিশ্চিত। তবে ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে যেরকম দেখা যাচ্ছে, তেমনি দেখা যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

 

Share this
Leave a Comment