পূর্ণ ক্রোধের শোভা


  • November 26, 2020
  • (0 Comments)
  • 514 Views

 

দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকে ও অন্যান্য নানা শ্রমিক সংগঠন সমূহের সহযোগিতায় ২৬ নভেম্বর ২০২০ দেশ জুড়ে শ্রমিক-কৃষকদের মিছিল ও সভা রাজ্যে-রাজ্যে পথ দখল করে নিল। চারটি লেবার কোড বিল, তিনটি কৃষি আইন, রেল ও অন্যান্য নানা সরকারি পরিষেবার বেসরকারিকরণ, নতুন শিক্ষা নীতি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার শোচনীয় অবস্থা – বিশেষত করোনাভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে, গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ইত্যাদির বিরুদ্ধে এই সাধারণ ধর্মঘট পালন করতে রাস্তায় নামল শ্রমজীবী নারী-পুরুষের ঢেউ। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির দাবি অনুযায়ী ধর্মঘটে ভাগ নিয়েছেন ২৫ কোটিরও বেশি শ্রমিক ও কর্মীরা। দাবি – দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত হানা বন্ধ করতে হবে, দেশকে আদানি-আম্বানির খাস রাজত্ব বানিয়ে রাখা চলবে না, দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে শান্তি। এইসমস্ত প্রতিবাদেরই কিছু মুহূর্ত তুলে ধরা হল এখানে। লেখা – দেবাশিস আইচ। ছবি -ইন্টারনেট ও নানান সূত্র। 

 

এভাবেই গুঁড়িয়ে দিতে হয়। এভাবেই বিসর্জন দিতে হয় ব্যারিকেড। এভাবেই গুঁড়িয়ে দিতে হয় শাসকের দম্ভ। এভাবেই ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলতে হয় স্বেচ্ছাচারীর  প্রতিরোধের সমস্ত হাতিয়ার। এভাবেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হয়। সংসদের ঘেরাটোপে অন্যায় কূট পথে হার, শেষ হার নয়। গাঁ-গঞ্জ, নগর-মফস্বল, কল-কারখানা, খেতখামার, অফিস-কাছারি তো রইল। রইল রাজপথ। একনায়কতন্ত্র যদি সংসদের দখল নেয়, তবে জনগণ দেশের দখল নেবে।

 

২৬ সেপ্টেম্বর দেখাল সেই পূর্ণ ক্রোধের শোভা। এমনই একদিন দেখাল, যেদিনটি সংবিধান দিবস। ১৯৪৯ সালে এই দিনে বলবৎ হয়েছিল ভারতের সংবিধান। ১৯৪৭ সালের ২২ জানুয়ারি সংবিধান সভায় সংবিধানের যে উদ্দেশ্য ও সংকল্প গৃহীত হয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল, ভারতের সকল অধিবাসী সামাজিক, আর্থিক, ও রাজনৈতিক ন্যায় ও প্রতিষ্ঠার সমানতা, চিন্তার ও মত প্রকাশের, বিশ্বাসের, ধর্মের, উপাসনা, বৃত্তির, মিলনের ও কর্মের স্বাধীনতার প্রত্যাভূতি দেওয়া হবে এবং তা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংখ্যালঘুদের, অনগ্রসর ও জনজাতি অঞ্চলগুলির এবং অবদমিত ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত রক্ষাকবচের ব্যবস্থা করা হবে। এই সংকল্পের আদর্শের প্রতিফলন মেলে সংবিধানের প্রস্তাবনায়। সে উদ্দেশ্য যে সম্পূর্ণ সাধিত হয়েছে, সে সংকল্প যে পূর্ণমাত্রায় রক্ষা করা গিয়েছে তা নয়। যতদিন গিয়েছে তত তার ক্ষয় হয়েছে। কিন্তু, কখনোই তা আজকের মতো এমন বিপদের মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু, এই ২৬/১১ প্রমাণ করল সেই উদ্দেশ্য ও সংকল্পে যে আদর্শ নিহিত রয়েছে, ভারত তা ভুলে যায়নি।

 

২০০২ সালে গুজরাত গণহত্যার পর দেশজোড়া প্রবল নিন্দার মুখে দাঁড়িয়ে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘গুজরাট-অস্মিতা’ অর্থাৎ গুজরাটি জাতীয়তাবাদের ডাক দিয়েছিলেন। আসলে তা ছিল হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ। যে মুসলমানরা সেদিন রাষ্ট্রীয় মদতে গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন, যাঁদের তাবৎ সহায়-সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছিল, আজও যাঁদের ঘেটোবন্দি করে একঘরে করে রাখা হয়েছে তাঁরাও গুজরাটিই ছিলেন। দিল্লি দখলের পর মোদী-দুই রাজত্ব নির্লজ্জ ভাবে সেই ধর্মীয় সংখ্যাগুরুবাদকেই প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। চাইছেন কর্পোরেটগুরুবাদের চূড়ান্ত প্রতিষ্ঠা।

 

মোদী ভুলে গিয়েছেন হিন্দুত্ব-অস্মিতা যদি থাকে তবে ‘শিখ হুন দল পাঠান মোগল’ অস্মিতাও রয়েছে। ‘গুজরাট-অস্মিতা’ যদি থাকে, তবে পঞ্জাব-সিন্ধু-মারাঠা-দ্রাবিড়-উৎকল-বঙ্গেরও অস্মিতাবোধ রয়েছে। যদি আদানি-আম্বানিদের মতো ইয়ারদোস্ত পুঁজিপতিদের কাছে বেচে দেওয়া হয় কৃষকের শ্রমিকের আর্থিক নিরাপত্তা। কোটি কোটি মানুষের ন্যূনতম খাদ্য-স্বাস্থ্য-শিক্ষা-কর্মের নিরাপত্তা যদি প্রশ্নের মুখে দাঁড়ায়, বিপন্ন হয়, তবে আমজনতা ছিনিয়ে নেবেই তার অধিকার।

 

দেশজোড়া এমন সাধারণ ধর্মঘট, জনজাগরণের এমন উত্তাল ঢেউ, অযুত-কোটি শ্রমজীবী-কৃষিজীবীর এমন অভূতপূর্ব অংশগ্রহণে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটিস্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে এ আসলে প্রকৃতই দ্বিতীয় স্বাধীনতার লড়াই শুরুর ঘোষণা। শেষ যুদ্ধ। জয় হাসিল না হওয়া অবধি এই লড়াই জারি রাখতে হবে।   এ আর ধর্মঘট ধর্মঘট খেলা নয়। অধিকার রক্ষা ও উদযাপনের লড়াই। দিল্লি চলো।

 

পশ্চিমবাংলা (কলকাতা ও আশেপাশে কিছু এলাকা)

 

 

 

 

 

বিহার (পাটনা ও আশেপাশের এলাকা)

 

 

 

 

 

 

 

ঝাড়খণ্ড (রাঁচি)

 

 

 

ওড়িশা

 

  • টিইউসিআই-অ্যাফিলিয়েটেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়র্কা‌র্স ইউনিয়ন, ভুবনেশ্বর – ২০০রও বেশি‌ টিইউসিআই, এআইআরডব্লিউও, বস্তি সুরক্ষা মঞ্চ, ওএনএসইউ, জিএমএসইউ ইত্যাদি সংগঠনের কর্মীদের এনএইচ ব্লকেডে, ক্রাউন হোটেলের কাছে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিতে চারজন মহিলা অ্যাক্টিভিস্ট আহত হন।

 

 

 

মহারাষ্ট্র

 

  • থানে, সিপিআইএম, এইআইকেএস, সিআইটিইউ, এআইডিডব্লিউএ, ডিএফওয়াইআই, এসএফআই-এর প্রায় ৫০০০ সদস্য মুম্বই-আগ্রা হাইওয়ে রুখে দিল।

 

 

 

  • কলিনা ক্যাম্পাসে বিইউসিটিইউ, শিক্ষক ভারতী, অনুদানিত শিক্ষা বচাই সমিতি ও কামগার একতা সমিতির প্রতিবাদ সভা

 

 

  • সিন্ধদুর্গের ওরাসে সম্মিলিত প্রতিবাদ সভা

 

  • মুম্বই

 

 

  • মুম্বই অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের প্রতিবাদ

 

 

কর্নাটক

 

 

তামিলনাড়ু

 

  • হোসুরে সম্মিলিত প্রতিবাদ সভা

 

 

 

  • ইরোড – মূলত কৃষকদের প্রতিবাদ মিছিল

 

 

 

তেলেঙ্গানা

 

  • আইটিইউসি প্রতিবাদ সভা

 

 

  • তেলেঙ্গানায় নানান কয়লাখনির শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভা

 

 

 

 

অন্ধ্রপ্রদেশ

 

 

 

 

হরিয়ানা ও পাঞ্জাব

 

  • কৃষকরা ‘দিল্লি চলো’ প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটছেন, তাঁদের আটকে দেওয়া হল পানিপথ টোল প্লাজাতে।

 

 

  • আম্বালা ও অন্যত্র কৃষক মিছিলের উপর পুলিশের ওয়াটার ক্যানন – কর্না‌লে কৃষকরা পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড ভেঙে দিল্লির দিকে এগিয়ে গেলেন।

 

 

 

  •  গুরগাঁও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রতিবাদ

 

 

  •  গুরগাঁওতে অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিবাদ

 

 

 

  • কৈথল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রতিবাদ

 

 

  •  কৈথলে অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিবাদ

 

 

 

  • কুরুক্ষেত্র 

 

 

 

 

 

 

উত্তরাখণ্ড

 

  • রুদ্রপুর

 

 

 

  • হরিদ্বার

 

 

দিল্লি

 

  • দিল্লি-হরিয়ানা সীমান্তে কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ পদযাত্রার আশংকায় প্রতিরক্ষা বাহিনী ও ব্যারিকেড

 

 

  • আইএফটিইউ বিড়ি শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভা

 

 

  • দিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিল ও সভায় উঠে এল শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন

 

Share this
Leave a Comment