কবিতা যখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার: কিস্তি ২


  • August 29, 2020
  • (0 Comments)
  • 450 Views
লাতিন আমেরিকার বিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা বড়ো সময় জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে একনায়কতন্ত্র, যার বিরুদ্ধে বহুধারার লড়াই লাতিন আমেরিকার দেশগুলির সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক জীবনের অঙ্গাঙ্গী অংশ। আজ যখন আমাদের দেশে হিন্দুত্ববাদী একনায়কতন্ত্রের বাস্তবতা, তখন কীভাবে দেখব আমরা এই আন্তর্জাতিক ইতিহাসকে ? কি শিক্ষা নেব লাতিন আমেরিকার সাংস্কৃতিক বিদ্রোহের ধারা থেকে ? বিশেষ করে যখন কারারুদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মীরা, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিকরা ? যখন রাষ্ট্র, ভারভারা রাও, জি. এন. সাইবাবার মতো কবিদের জেলে পুরে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করতে তৎপর?
 
লাতিন আমেরিকার সাংস্কৃতিক বিদ্রোহের ধারার তিন কবি – পাবলো নেরুদা, ভিকতোর হারা ও হুয়ান হেলমানকে নিয়ে লিখছেন অরুন্ধতী ভট্টাচার্য। দ্বিতীয় কিস্তি – হুয়ান হেলমানকে নিয়ে। প্রথম কিস্তি (রাষ্ট্রের ক্ষমতা কি পাবলো নেরুদাকে হত্যা করেছিল?) এই লিঙ্কে

 

কিস্তি ২ – আমার পৌত্রী বা পৌত্রের প্রতি খোলা চিঠি : হুয়ান হেলমান

 

আর্হেন্তিনার প্রথিতযশা কবি, অনুবাদক ও সাংবাদিক হুয়ান হেলমানের জন্ম ১৯৩০ সালের ৩রা মে বুয়েনোস আইরেসে। তাঁর পূর্বপুরুষ রাশিয়া থেকে আগত ইহুদি অভিবাসী; বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পুশকিনের কবিতা শুনে তিনি কবিতা লেখায় উদ্বুদ্ধ হন। পরবর্তীকালে তাঁর কবিতা হয়ে ওঠে সময়ের দর্পণ: একনায়কতন্ত্রের দমন, রাষ্ট্র প্রণোদিত হত্যা ও নিরুদ্দেশ এবং তার দীর্ঘ পরিণাম নিয়ে লেখা তাঁর কবিতার বৈপ্লবিক উচ্চারণ লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের একটি সুদৃঢ় স্তম্ভ। হুয়ান হেলমানের জন্মের বছরেই আর্হেন্তিনায় ঘটেছিল বিংশ শতাব্দীর প্রথম মিলিটারি অভ্যুত্থান। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আবহে বেড়ে ওঠা কবি ষাটের দশক থেকে সরাসরি রাজনীতির আবর্তে জড়িয়ে পড়েন এবং কম্যুনিস্ট পার্টি ছেড়ে যোগ দেন তৎকালীন নিষিদ্ধ পেরোনিস্ট পার্টিতে ও তারও পরে বামপন্থী মোন্তোনেরোস গেরিলা বাহিনীতে, যারা সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাসী ছিল। পাশাপাশি চলতে থাকে তাঁর কবিতার প্রবাহ এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়, প্রধানত ‘পানোরামা’ ও ‘ক্রিসিস’ পত্রিকায় লেখা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রবন্ধ। সমকালীন মুক্তমনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর কবিতা বিশেষ সমাদৃত ছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালে আর্হেন্তিনার বাম-বিরোধী শক্তির চাপে তিনি রোমে নির্বাসিত হন। এর পরের বছরেই মিলিটারি একনায়কতন্ত্রের দমননীতি তাঁর পারিবারিক জীবনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। তাঁর পুত্র মার্শেলো, গর্ভবতী পুত্রবধূ মারিয়া ক্লাউদিয়া আর কন্যা নোরা গ্রেফতার হন। কিছুদিন পরে নোরা মুক্তি পায়, কিন্তু বাকি দুজনের আর খোঁজ পাওয়া যায়না। বহু বছর পরে ১৯৯০ সালে সিমেন্ট ভর্তি একটি ব্যারেলের মধ্যে ছেলের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়, কিন্তু পুত্রবধূর কোনও সন্ধান আর পাওয়া যায়নি। সে থেকে যায় একনায়কতন্তের করাল গ্রাসে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া আর্হেন্তিনার ৩০,০০০ মানুষের মধ্যে। কবি শুধু জানতে পেরেছিলেন যে অবরুদ্ধ অবস্থায় সে একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিল, কিন্তু জানতেন না সে সন্তান ছেলে না মেয়ে। বহু বছর অনুসন্ধানের পর ২০০০ সালে কবি সেই সন্তানের দেখা পান, সে তার পৌত্রী, নাম মাকারেনা, তখন তার বয়স ২৩ বছর, রাষ্ট্রের অনুগত অফিসাররা যাকে জন্মের কয়েক মাস পরেই ১৯৭৭ সালের ১৪ই আগস্ট উরুগুয়াইয়ের এক প্রাক্তন পুলিশ কর্মীর বাড়ির দোরগোড়ায় ফেলে দিয়ে এসেছিল। দাদুর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর মাকারেনা তার প্রকৃত পিতা-মাতার পদবী গ্রহণ করে হয়ে ওঠে মারিয়া মাকারেনা হেলমান গার্সিয়া এবং এখন সে উরুগুয়াইয়ের একজন উল্লেখযোগ্য মানবাধিকার কর্মী।

 

ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮৮ সালে স্বল্প সময়ের জন্য কবি দেশে ফিরেছিলেন এবং তারপর মেহিকোয় চলে যান এবং সেখানেই আমৃত্যু ২০১৪ সালের ১৪ই জানুয়ারী পর্যন্ত বসবাস করেন। ৭০ বছর বয়সের পর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করতে শুরু করেন। তাঁর অর্জিত বহু আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও সন্মানের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ২০০৭ সালের ‘মিগেল দে সেরভান্তেস’ পুরষ্কার, যাকে স্প্যানিশ ভাষার বুকার প্রাইজ হিসাবে গণ্য করা হয়।

 

বর্তমান চিঠিটি হুয়ান হেলমান লিখেছিলেন তখনও পর্যন্ত তাঁর না দেখা সেই পৌত্রীর উদ্দেশ্যে।

 

“আর ছ’ মাস বাদে তোমার ঊনিশ বছর বয়স পূর্ণ হবে। ১৯৭৬ সালে অক্টোবর মাসের কোনও এক দিনে কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পে তোমার জন্ম। তার কিছু আগে বা কিছু পরে ওই একই বছরের একই মাসে তোমার বাবাকে মাত্র আধ মিটার দূর থেকে ঘাড়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে নিরস্ত্র ছিল এবং একজন মিলিটারি কমান্ডার তাকে হত্যা করেছিল। সম্ভবত ওই কমান্ডারই তোমার মাকে গ্রেফতার করে। দিনটা ছিল ২৪শে আগস্ট, স্থান – বুয়েনোস আইরেস। তারপর ওদের দুজনকে নিয়ে গিয়েছিল আউতোমোতোরেস ওরলেত্তির কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পে, যাকে মিলিটারিরা নাম দিয়েছিল ‘বাগান’। তোমার বাবার নাম মার্শেলো আর মা, ক্লাউদিয়া। এই ঘটনার সময় তাদের বয়স ছিল কুড়ি বছর আর তুমি তখন তোমার মায়ের সাত মাস গর্ভে। তোমাকে সুদ্ধ তোমার মাকে নিয়ে গিয়েছিল সেইখানে যেখানে তোমার জন্ম হয়। নিশ্চয়ই একা নিঃসঙ্গ অবস্থায় সে তোমায় জন্ম দেয়, একনায়কতন্ত্রের সমর্থক কোনও এক ডাক্তারের অধীনে। তারপর তোমাকে তোমার মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় – যেমনটা ঘটত তখন – আর দিয়ে দেয় কোনও এক পুলিশ বা মিলিটারি বা তাদের বন্ধুস্থানীয় কোনও বিচারপতি বা সাংবাদিক নিঃসন্তান দম্পতিকে। প্রত্যেক কন্সেনট্রেশন ক্যাম্পে তখন থাকত ভয়াবহ অপেক্ষার এক তালিকা, সেখানে থাকত সেই সব দম্পতির নাম যারা বন্দিনী মায়েদের থেকে লুঠে নেওয়া সন্তানদের দত্তক নিতে ইচ্ছুক। আবার কখনও কখনও জন্ম দেওয়ার পরেই মায়েদের মেরে ফেলাও হত। মিলিটারি শাসন শেষ হয়েছে ১২ বছর হয়ে গেল কিন্তু তোমার মায়ের কোনও খবর এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ২০০ লিটারের একটি ড্রামের মধ্যে মিলিটারিরা সিমেন্ট ও বালি ভরে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল সান ফেরনান্দো নদীর ধারে, যার মধ্যে তোমার বাবার দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। ততদিনে কেটে গেছে তেরটি বছর। লা তাবলাদায় তাকে কবর দেওয়া হয়েছে। অন্ততপক্ষে তার মৃত্যু সম্বন্ধে আমি নিশ্চিত।

 

আমার খুবই আশ্চর্য লাগছে তোমার বাবা-মা হিসাবে আমার সন্তানদের কথা বলতে। এমনকি আমি এও জানিনা যে তুমি ছেলে না মেয়ে। শুধু জানি যে তোমার জন্ম হয়েছিল। ভাটিকানের রাজ্য-সহায়ক ফাদার ফিয়োরেইয়ো কাবাল্লি ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আমাকে নিশ্চিত করে এই খবরটা দিয়েছিল। সেই মুহূর্ত থেকে ভেবে আসছি কোন পরিণতির পথে তুমি হেঁটে গেছ। কত রকমের চিন্তা আমার মাথায় আসে। এক দিকে যেমন এই ভাবনা আমায় কুরে-কুরে খায় যে তুমি নিশ্চয়ই একজন পুলিশ বা মিলিটারিকে বাবা বলে ডাক, যে আসলে তোমায় চুরি করেছিল। অথবা তুমি বাবা বলে ডাকছ তোমার বাবার হত্যাকারীরই কোনও এক বন্ধুকে। আবার অন্যদিকে সবসময় চেয়েছি যে যেখানেই তুমি আশ্রয় পাও না কেন তারা যেন তোমার যত্ন নেয়, তোমাকে লেখাপড়া শেখায় আর তোমায় ভালোবাসে। যদিও এ চিন্তাও বারবার আমাকে বিব্রত করেছে যে সেই ভালোবাসায় নিশ্চয়ই কোনও ফাঁক থাকবে। তারা তোমার জন্মদাতা পিতা-মাতা নয়, সেই জন্য নয়; তার চেয়েও বড় কারণ হল তোমার সত্য পরিচয় তারা তো কিছুটা হলেও জানে, তাহলে সেই ইতিহাস তারা কেমনভাবে গ্রহণ করেছে এবং কতটাই বা বিকৃত করেছে। আর তখনই মনে হয় তারা নিশ্চয়ই তোমাকে অনেক মিথ্যা কথা বলেছে।

 

এত বছর ধরে এও ভেবেছি যে যদি তোমার সাথে কখনও দেখা হয় তাহলে আমি কি করবঃ তোমাকে তোমার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে আনব না কি তোমার পালক পিতা-মাতার সঙ্গে কথা বলে একটা ব্যবস্থা করব যাতে তোমায় মাঝে মধ্যে দেখতে ও তোমার সঙ্গ পেতে পারি। তবে অবশ্যই তোমাকে জানিয়ে দিতে হবে তোমার প্রকৃত পরিচয়, কোথা থেকে তুমি এসেছ। বারবার এই দোলাচলতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এক এক সময় মনে হয়েছে প্লাজা দে মাইয়োর ঠাকুমারা হয়তো তোমায় খুঁজে পেয়েছে। তোমার বয়স অনুযায়ী পালটে পালটে যেত আমার এই সব ভাবনা-দুর্ভাবনারা। বারে বারেই আমার মনে হত কি ঘটেছিল তা বোঝার জন্য তুমি নেহাতই ছেলেমানুষ। যাদেরকে নিজের বাবা-মা বলে ভেবেছ বা আরও ভালো করে বললে যাদের নিজের বাবা-মায়ের মতো ভালোবাস তারা তোমার নিজের কেউ নয় সেকথা বোঝার জন্য তোমার বয়স নিতান্তই কম। আমার আশংকা হয় এই ভেবে যে এর ফলে তুমি দ্বৈত আঘাতের সম্মুখীন হবে, যা তোমার মানসিক গঠনের ক্ষেত্রে বিপর্যয় আনতে পারে। কিন্তু এখন তুমি বড় হয়েছ, আত্মপরিচয় জানার এবং তারপর সেই পরিচয় নিয়ে কি করবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বয়স তোমার হয়েছে। ঠাকুমারা আছেন আর আছে রক্তের নমুনার ব্যাঙ্ক যা নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া মানুষের সন্তানদের বংশ পরিচয় জানাতে সাহায্য করবে। জানাবে তোমার উৎসের পরিচয়।

 

এখন তোমার বয়স প্রায় তোমার বাবা-মায়ের বয়সের সমান। আর কিছুদিনের মধ্যেই তুমি তাদের থেকে বড় হয়ে যাবে। কিন্তু তারা তাদের সেই ২০ বছর বয়সেই চিরকালের মতো থেমে রইল। তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখি আর দেখি এই পৃথিবীকে তোমাদের বাসযোগ্য করে যাওয়ার স্বপ্ন। ইচ্ছে করে তোমাকে তোমার বাবা-মায়ের কথা বলব আর তুমি আমায় বলবে তোমার কথা। যাতে তোমার মধ্যে আমার ছেলেকে আবার দেখতে পাই আর আমার মধ্যে তোমার বাবার যেটুকু রেশ আছে তা তুমি দেখতে পাও। আমরা দুজনেই সেই মানুষটির অভাবে অনাথ হয়ে আছি। সেনাবাহিনীর একনায়কতন্ত্র আমাদের পরিবারে যে নিষ্ঠুর ও নিঃশব্দ ক্ষত তৈরি করেছে তা যদি একটু সারিয়ে তোলার যায়। তোমাকে তোমার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা নয়, তোমার প্রকৃত পরিচয় দেওয়াই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। আগেই বলেছি, তুমি এখন বড় হয়ে গেছ।

 

মার্শেলো আর ক্লাউদিয়ার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। তোমার তো নয়ই। শুধু জানি যে তুমি জন্মেছিলে, কোথায় আছ আর কার সঙ্গেই বা আছ, তার কিছুই জানি না। হতে পারে তোমার চোখদুটো আমার ছেলে মতো সবুজাভ ধূসর অথবা তোমার মায়ের মতো খুব উজ্জ্বল, মায়াময় আর দুষ্টুমিতে ভরা। যদি ছেলে হও তাহলে কেমন হবে, কে জানে। আর যদি মেয়ে হও তাহলেই বা কেমন হবে, কে জানে। হতে পারে এক রহস্য থেকে বেরিয়ে তুমি আবার একটা রহস্যে ঢুকবে – এই দাদুর সঙ্গে দেখা হওয়ার রহস্য, যে শুধু তোমার অপেক্ষায় বসে আছে।”

 

পাদটীকা

 

১। আউতোমোতোরেস ওরলেত্তি : আর্হেন্তিনার বুয়েনোস আইরেসে মিলিটারি একনায়কতন্ত্রের একটি গোপন কেন্দ্র, যেখানে বিদ্রোহীদের অবরুদ্ধ করে অত্যাচার এবং প্রয়োজনে হত্যা করা হত। কেন্দ্রটি ১৯৭৬ সালের মে মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত কার্যকরী ছিল।

 

২। প্লাজা দে মাইয়ো : একটি মানবাধিকার সংঘটন, যাদের উদ্দেশ্য ছিল আর্হেন্তিনার মিলিটারি একনায়কতন্ত্রের সময়ে অপহৃত ও বেআইনি ভাবে দত্তক দেওয়া শিশুদের খুঁজে বের করা এবং তাদের প্রকৃত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। এই শিশুদের মধ্যে অনেকেরই জন্ম জেলের মধ্যে, যাদের মায়েদের গর্ভবতী অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ও পরবর্তীকালে যাদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।       

 

তৃতীয় কিস্তি (আমার পৌত্রী বা পৌত্রের প্রতি খোলা চিঠি : হুয়ান হেলমান) এই লিঙ্কে

 

লেখক স্পেনীয় ভাষার অধ্যাপক ও অনুবাদক

 

Share this
Leave a Comment