গ্রেপ্তার হওয়ার মুখে ভারতের নাগরিকদের প্রতি আনন্দ তেলতুম্বে-র খোলা চিঠি


  • May 2, 2020
  • (0 Comments)
  • 1000 Views

এপ্রিল, ভীমা কোরেগাঁও মামলায় এনআইএ কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন দলিত মেধাজীবী অধ্যাপক আনন্দ তেলতুম্বে এবং সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভালখা এই মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আরও জন প্রথিতযশা মেধাজীবী, আইনজীবী, অধ্যাপক, দলিত অধিকাররক্ষা কর্মী সুধীর ধাওয়ালে, রোনা উইলসন, সুরেন্দ্র গ্যাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন, ভার্নন গঞ্জালভেজ, সুধা ভরদ্বাজ, অরুণ ফেরেইরা, ভারভারা রাও বিনাবিচারে ২০১৮ সাল থেকে জেলবন্দি মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে এনআইএ মামলাগুলি রাতারাতি মহারাষ্ট্র এসআইটি হাত থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয় আত্মসমর্পণের প্রাকমুহূর্তে তেলতুম্বে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লেখেন সেই চিঠির বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হল

 

 

ভারতের নাগরিকদের প্রতি আনন্দ তেলতুম্বে-র খোলা চিঠি

 

যদিও আমি জানি, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের যৌথ প্রচেষ্টায় এবং তাদের বশংবদ প্রচারমাধ্যমের সচেতন হট্টগোলের মধ্যে এই বক্তব্যের ডুবে যাওয়ার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে, তা সত্ত্বেও আমার মনে হয়েছে যে, আপনাদের সাথে কথা বলে নেওয়াটা দরকার; কারণ, এর পরে আর সে সুযোগ আমি কবে পাব তা জানি না।

 

অগাস্ট ২০১৮’র সময় যখন গোয়া ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের শিক্ষক-আবাসনে আমার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়, সেদিন থেকে আমার জীবন ওলটপালট হয়ে গেছে। আমার সঙ্গে যা ঘটছিল, আমি তা চরম দু:স্বপ্নেও কল্পনা করিনি। আমি যদিও জানতাম যে পুলিশ আমার বক্তব্যের আয়োজকদের — যেগুলোর বেশিরভাগটাই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলি — সাথে দেখা করতো এবং আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ভয় দেখাত; আমার মনে হয়েছিল যে তারা হয়তো আমাকে আমার ভাইয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলছে যে পরিবার ছেড়ে চলে যায় অনেকদিন আগেই। আমি যে সময় খড়্গপুর আইআইটি-তে পড়াই, জনৈক বিএসএনএল আমলা আমার ভক্ত এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে জানান যে, আমার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে।আমি ওঁকে ধন্যবাদ জানিয়েও এ-বিষয়ে আর কিছু করিনি। এমনকি নিজের সিমটাও বদলাইনি। এই সমস্ত অনধিকার প্রবেশের ফলে আমি বিব্রত হয়ে পড়লেও নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিতে থাকি যে, এর ফলে হয়তো পুলিশের চোখে আমি ‘স্বাভাবিক’ একজন মানুষ প্রতিপন্ন হব এবং আমার ব্যবহারেও কোনও বেআইনি ধাঁচ থাকবে না। পুলিশ সাধারণত সামাজিক অধিকারকর্মীদের অপছন্দ করে থাকে, কারণ তারা পুলিশের সমালোচনা করে। ভেবেছিলাম যে আমি নিজে এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বলেই বোধহয় এইসব ব্যাপার। কিন্তু আবার এই বলে নিজেকে শান্ত করেছিলাম যে পাকাপাকি চাকরির সুবাদে সেই ভূমিকাটিও যে আমি যথাযথভাবে পালন করে উঠতে পারিনি, সেটা ওরা বুঝতে পারবে।

 

কিন্তু ভোরবেলা যখন আমার প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা আমাকে ফোনে জানালেন যে পুলিশ ক্যাম্পাসে তল্লাশি চালিয়েছে এবং আমার খোঁজ করেছে, আমি কয়েক মূহুর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই আমি কিছু প্রয়োজনীয় কাজের জন্য মুম্বই চলে আসি এবং আমার স্ত্রী আগে থেকেই সেখানে ছিলেন। যখন জানলাম যে সেইদিন অন্যান্য বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের হাত থেকে এক চুলের জন্য নিস্তার পেয়েছি ভেবে মনে মনে ভীষণ শঙ্কিত হয়েছিলাম। পুলিশ আমাদের গতিবিধি জানত এবং চাইলে গ্রেফতারও করতে পারত; তা সত্ত্বেও কী কারণে তারা সেটা করেনি, তা শুধু তারাই জানে। ওরা জোর করে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছ থেকে ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে আমাদের বাড়ির ভিতরেও ঢুকেছিল, কিন্তু শুধুই ভিডিও তুলে আবার তালা বন্ধ করে দেয়। আমাদের দুর্ভাগ্যের সেই শুরু। আইনজীবীদের পরামর্শ অনু্যায়ী আমি এবং আমার স্ত্রী ঠিক পরবর্তী বিমানে গোয়াতে পৌঁছে বিচোলিম পুলিশ থানাতে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করি যে আমাদের অবর্তমানে পুলিশ আমাদের বাড়িতে ঢুকে যদি কিছু রেখে এসে থাকে তার জন্য আমরা দায়ী থাকব না। আমার স্ত্রী স্বেচ্ছায় আমাদের টেলিফোন নম্বরগুলি দেয়, যদি তদন্তের স্বার্থে সেগুলি কাজে লাগে এই ভেবে।

 

আশ্চর্যজনকভাবে ‘মাওয়িস্ট কাহিনি’ চালানোর অব্যবহিত পরেই পুলিশ সাংবাদিক সম্মেলন করা শুরু করে দেয়। এর পরিষ্কার উদ্দেশ্যই ছিল বশংবদ সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে আমার এবং পুলিশ যাঁদের গ্রেফতার করেছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত ধারণাগুলোকে জনতার মধ্যে উসকে দেওয়া। ৩১ অগাস্ট ২০১৮’র এরকম একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জনৈক পুলিশকর্তা আমার বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে একটি চিঠি পড়ে শোনান, যা আগেই যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের কম্পিউটার থেকে তথাকথিতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। চিঠিটিতে ভীষণ এলোমেলোভাবে আমার অংশগ্রহণ করা একটি আকাদেমিক সম্মেলনের তথ্য সম্বলিত করা হয়েছিল, যেটা কিনা খুব সহজে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি, প্যারিসের ওয়েবসাইটেই পাওয়া যেতে পারত। শুরুতে এতে আমি খানিকটা আমোদ পেলেও পরবর্তীকালে ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি এবং ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করি, এবং ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮-তে মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানাই। আজ পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে সেটির জবাব এসে পৌঁছয়নি। হাইকোর্ট পুলিশকে তিরস্কার করার পরে অবশ্য তাদের সাংবাদিক সম্মেলনগুলি বন্ধ হয়।

 

পুরো ঘটনাটিতে আরএসএস-এর পরিষ্কার হাত ছিল। আমার মারাঠী বন্ধুরা আমায় জানান, রমেশ পতঙ্গে নামে এদের একজন কার্যনির্বাহক ২০১৫’র এপ্রিল মাসে ওদের মুখপত্র পাঞ্চজন্য পত্রিকায় আমাকে নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখে। অরুন্ধতী রায় ও গেইল ওমবেট-এর সাথে আমাকেও সেই নিবন্ধে “মায়াবী আম্বেদকরবাদী” বলে আখ্যায়িত করা হয়। হিন্দু পুরাণে “মায়াবী” শব্দটি একটি দানবকে বোঝায়, যাকে দমন করা প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের সুরক্ষায় থাকা সত্ত্বেও পুণে পুলিশ যথন আমাকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করে, সেই সময় হিন্দু্ত্ববাদী গোষ্ঠীর একদল সাইবার গুন্ডা আমার উইকিপিডিয়া পেজটিকে আক্রমণ করে। এটি বহুদিন ধরেই পাবলিক পেজ ছিল এবং আমি এবিষয়ে অবগতও ছিলাম না। প্রথমেই তারা সমস্ত তথ্য মুছে ফেলে ও শুধু এইটুকুই লিখে রাখে “এর একজন মাওবাদী ভাই আছেন…এর বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে…মাওবাদীদের সঙ্গে যোগসুত্র থাকার অপরাধে একে গ্রেফতার করা হয়েছিল,” ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছু ছাত্রছাত্রী পরে আমায় বলে, যখনই তারা পেজটিকে শুধরোতে গিয়েছে অথবা সম্পাদনা করার চেষ্টা করেছে, তখনই সেই সাইবার গুন্ডারা সবকিছু মুছে ফেলে মানহানিকর বক্তব্য তুলে ধরেছে। শেষপর্যন্ত উইকিপিডিয়া হস্তক্ষেপ করাতে পেজটি স্বাভাবিক হয়, যদিও কিছু নেতিবাচক তথ্য থেকেই যায়। এরপর শুরু হল সঙ্ঘ পরিবারের তথাকথিত “নক্সাল বিশেষজ্ঞ”-দের মাধ্যমে দ্রুত বেগে হাস্যকর গুজব সমেত গণমাধ্যমগুলির ঝটিকা আক্রমণ। সম্প্রচারকারী চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে আমার করা অভিযোগগুলি পাত্তা পেল না, এমনকি ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং ফাউন্ডেশন-কে লেখা সত্ত্বেও। এরপর অক্টোবর ২০১৯-এ পেগ্যাসাস সংক্রান্ত খবরটি সকলের নজরে আসে। অন্যান্যদের মতো আমার ফোনেও একটি অত্যন্ত ক্ষতিকারক ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে দেয় সরকার। কিছুটা সময়ের জন্য গণমাধ্যমগুলিতে হইচই শুরু হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিরও অপমৃত্যু ঘটে।

 

আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সততার সাথে উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করেছি এবং নিজের লেখাপত্রের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের সাহায্যে সাধারণ মানুষকে যতটুকু সাহায্য করা যায় তা করে এসেছি। আমার গত পাঁচ দশকের প্রায় নিষ্কলঙ্ক কর্মজীবনে আমি দেশের বহুজাতিক সংস্থাগুলিতে শিক্ষক, সামাজিক অধিকারকর্মী এবং বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে এসেছি। আমার অগুনতি আর্ন্তজাতিক রচনা যার মধ্যে ত্রিশের উপর বই এবং অসংখ্য প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সমালোচনা, সংবাদেপত্রের কলম, সাক্ষাৎকার রয়েছে, তার মধ্যে কোথাও কোনও ধ্বংসাত্মক প্রবণতার প্রতি সহায়ক মনোভাবের ইশারাও পাওয়া যাবে না। কিন্তু এখন জীবনের উপান্তে এসে আমাকে কঠোর ইউএপিএ আইনের আওতায় জঘন্য অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত করা হচ্ছে।

 

একা আমার মত একজন মানুষের পক্ষে সরকার এবং তার বশংবদ গণমাধ্যমের করে চলা লাগামছাড়া প্রচার কর্মসূচির বিরোধিতা করে যাওয়া অবশ্যই সম্ভব নয়। সমগ্র আর্ন্তজাল জুড়ে আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া কাণ্ডের অণুপুঙ্খ বিবরণেই সেটির এলোমেলো এবং সাজানো চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যাবে। এআইআরটিএফ ওয়েবসাইটে সংক্ষিপ্ত নোটটি পড়ে দেখা যেতে পারে। আপনাদের সুবিধার্থে সারাংশটি আমি এখানে দিয়ে দেব:

 

পুলিশের হাতে দুইজন বন্দির কম্পিউটার থেকে তথাকথিতভাবে আবিষ্কৃত তেরোটি চিঠির মধ্যে পাঁচটির ভিত্তিতে আমাকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আমার কাছ থেকে কিছুই উদ্ধার করা হয়নি। চিঠিটিতে “আনন্দ” নামের কাউকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যা ভারতে প্রচলিত একটি নাম, কিন্তু পুলিশ সংশয়হীনভাবে সেটি আমার বলে প্রতিপন্ন করেছে। তা-সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞেরা, এমনকি সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকও, পুরো বিচারবিভাগের মধ্যে একমাত্র যিনি এই প্রমাণের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, ৯এঁরা এই চিঠির শৈলী ও বক্তব্য দুটোকেই নস্যাৎ করে দিয়েছেন। চিঠির বক্তব্যের মধ্যে যাকে ন্যূনতমভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায়, এমন কিছুর আভাসও নেই। কিন্তু আমাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনের আওতায় এনে, যা কিনা একজন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ অসহায় করে দিতে পারে।

 

আপনাদের বোঝার সুবিধে করে দেওয়ার মত করে বললে বলা যায়:

 

সহসা একটি পুলিশ বাহিনী আপনার বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় এবং কোনো পরোয়ানা ব্যতিরেকেই আপনার বাড়ি খানাতল্লাশি শুরু করে।  শেষপর্যন্ত তারা আপনাকে গ্রেফতার করে এবং গারদে বন্দি করে রাখে। তারা কোর্টে বলতে পারে যে অমুক জায়গায় (ভারতের যে কোনও জায়গা বসিয়ে নিন) একটি চুরির (অথবা অন্য কোনো  অভিযোগের) কিনারা করতে গিয়ে পুলিশ তমুকের (যে কোনও নাম বসিয়ে নিন) কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ বা পেনড্রাইভ উদ্ধার করেছে যার মধ্যে কোনো একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের একজন তথাকথিত সদস্যের লেখা কিছু চিঠি রয়েছে, যাতে অমুকের নাম বলা হয়েছে, আর সেই অমুক ব্যক্তিটি পুলিশের হিসেবে আপনি ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। তারা আপনাকে গভীর একটি ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করল। হঠাৎ করে আপনি দেখলেন আপনার গোটা জীবন উলটপালট হয়ে গেছে, আপনার চাকরি চলে গেছে, পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে, গণমাধ্যম আপনার সম্মানহানি করছে, এগুলির বিষয়ে আপনি কিচ্ছু করতে পারবেন না। পুলিশ “মুখবন্ধ” খাম এগিয়ে দেবে বিচারকের সামনে এইটা প্রমাণ করতে যে আপনার বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল যার জন্য আপনাকে হেফাজতে রেখে জেরা করতে হবে। প্রমাণ ছাড়াই যে এসব করা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো বক্তব্যই বিচারকেরা শুনবেন না, কারন হিসেবে বলবেন, এসব কেবল বিচারের সময় গ্রাহ্য করা হবে। হেফাজতে রেখে জেরা করবার পর আপনাকে কারাগারে পাঠানো হবে। আপনি জামিনভিক্ষা করবেন  এবং আদালত আপনার আবেদন অগ্রাহ্য করবে কারণ ঐতিহাসিক তথ্য বলছে জামিন বা মুক্তি পাওয়ার পূর্বে কারাবাসকালীন সময় দাঁড়ায় গড়ে চার থেকে দশ বছর। এবং এটা যেকোনও কারুর সাথেই ঘটতে পারে।

 

‘জাতি’-র নামে নিরপরাধ নাগরিকের স্বাধীনতা এবং সমস্ত রকমের সাংবিধানিক অধিকার হরণকারী এই জাতীয় কঠোর আইন সাংবিধানিক ন্যায্যতা পেয়ে চলেছে ক্রমাগত। উগ্র রাষ্ট্রবাদ ও জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক শ্রেণির হাতে অস্ত্র হয়ে উঠেছে যার মাধ্যমে সে ভিন্নমত দমন করে মেরুকরণ সৃষ্টি করছে। এই গণউন্মাদনা সবকিছুর মানে ঘুরিয়ে, অর্থ ওলটপালট করতে সম্পূর্ণ সক্ষম হয়েছে, যার ফলে একজন রাষ্ট্র ধ্বংসসাধনকারী হয়ে উঠছে দেশভক্ত, আর নিঃস্বার্থকর্মীরা হয়ে যাচ্ছেন দেশদ্রোহী। আমার ভারতকে চোখের সামনে ধ্বংস হতে দেখতে দেখতে ক্ষীণতম আশা নিয়ে আমি এই দুঃসময়ে আপনাদের লিখছি।

 

যাই হোক, আমি এনআইএ হেফাজতে চললাম এবং আমি জানি না আবার কবে আপনাদের সাথে কথা বলতে পারব। যদিও আমি আশা রাখি আপনার পালা আসার আগে আপনিও কথা বলবেন।

 

– আনন্দ তেলতুম্বে

 

 

অনুবাদ: শিলাদিত্য ভট্টাচার্য

 

Share this
Leave a Comment