ঠুড়্গা পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার প্রজেক্ট মামলার বর্তমান পরিস্থিতি 


  • February 21, 2020
  • (0 Comments)
  • 1411 Views

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ঘোষণা করেছেন, আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, টানা চারদিন ঠুড়্গা প্রকল্পের পক্ষে সরকারের আপিলের শুনানি করবেন এই মামলার উপর এত গুরুত্ব আরোপ কেন তা জানতে এই প্রকল্প তৎসংক্রান্ত মামলার প্রেক্ষাপট জেনে নেওয়া জরুরিলিখেছেন ইমন সাঁতরা 

 

গত ২ জুলাই, ২০১৯ কলকাতা হাইকোর্টে দেবাংশু বসাকের সিংগ্‌ল্‌ বেঞ্চ ঠুড়্গা প্রকল্পের বিরুদ্ধে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়স্থিত বনাঞ্চলের অধিবাসীদের দাখিল করা রিট পিটিশনের উপর গোটা-আট-দশ শুনানির পর শক্তপোক্ত একটি রায় দেন। কোন প্রেক্ষাপটে সেই রায় তা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে চাই।

 

‘বনাধিকার আইন, ২০০৬’-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিলেন জেলাশাসক। আইনটিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে নিজের বসতভিটা, চাষের জমি ও তৎসংলগ্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের যে বনাঞ্চলের ওপরে বনগ্রামবাসী অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নির্ভরশীল, তার ওপরেও রয়েছে তাদের সামুদায়িক অধিকার। আইনানুযায়ী, গ্রামবাসীদের দ্বারা আহূত গ্রামসভায় গ্রামের প্রাপ্তবয়স্কদের পঞ্চাশ শতাংশের বেশি মানুষ যদি প্রকল্প বিষয়ে সায়-স্বাক্ষর দেন তবেই উক্ত গ্রামের সমর্থন আছে ধরা হবে। এই মর্মে প্রস্তাবিত প্রকল্প অঞ্চলে যতগুলি গ্রাম ও তাদের সামুদায়িক বন পড়ছে, তার প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা গ্রামসভা হতে হবে, এবং প্রত্যেকটিতে উক্ত গ্রামের অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক গ্রামবাসীর সমর্থন মিললে তবেই প্রকল্প-আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় ছাড়পত্রের জন্য তদ্বির করতে পারেন।

 

ঠুড়্গার সরকারি দস্তাবেজে সাতটি মৌজার উল্লেখ রয়েছে। যার মধ্যে বনাধিকার আইন অনুযায়ী ষাটটির বেশি গ্রামসভা বিদ্যমান। অথচ বাস্তবে একটিও গ্রামসভা বসেনি। দুটি গ্রামসভার রেজোলিউশন কপি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়েছে, যেখানে অযোধ্যা (পঞ্চায়েত, গ্রাম নয়)-র পাতায় সর্বসাকুল্যে ২৪ জনের সই রয়েছে, যা ওই গ্রামের প্রাপ্তবয়স্কদের অর্ধেকের ধারেকাছেও নয়। এই ২৪টি সই জোগাড় করা হয়েছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ভুয়া মিটিং-এর টোপ দিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে ডেকে, আলোচনায় উপস্থিতির স্বাক্ষর হিসাবে। আর বাঘমুণ্ডি (পঞ্চায়েত, গ্রাম নয়)-র পাতায় সই নেই এমনকি একটিও।

 

এসবই প্রমাণ হয়ে যাবার পরেও বিচারক জানতে চান অভিযোগকারী তিনজন প্রত্যক্ষত ক্ষতিগ্রস্ত কিনা বা আইনি পরিভাষায় লোকাস স্ট্যান্ডাই অর্থাৎ প্রকল্প-ক্ষেত্রের মধ্যে চাষবাস বা বসত করেন কিনা! একজন পিটিশনারের জমির পর্চা পাওয়া যায়, যেটি প্রস্তাবিত প্রকল্প-অঞ্চলের মধ্যে পড়ে।

 

প্রকল্পের নথিপত্রে সরকার জানিয়েছিল, কারুর জমি প্রস্তাবিত প্রকল্পাধীন নয়। মিথ্যের মুখোশ সম্পূর্ণ খসে পড়ে। সরকারি উকিলরা গরহাজির হন। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্র জোগাড়ে রাজ্য সরকার যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, তা স্বীকার করেন বিচারপতি। এমনকি কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক কেন নথিগুলি মিলিয়ে না দেখেই প্রাথমিক ছাড় দিলেন, তা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন। অবশ্য জেলাশাসককে স্রেফ ভর্ৎসনা করেই ছেড়ে দেন; এবং প্রকল্পের ছাড়পত্র বাতিল করে আইন মেনে ছাড়পত্র জোগাড় করার নির্দেশ দেন।

District Magistrates letter falsely stating that no villagers land falls within the project area.

হাইকোর্টে মুখ পুড়িয়ে এবার সরকার গেল ডিভিশন বেঞ্চে। একটাই গাউনি—‘৭৮০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট, এভাবে some tribals-এর ওজরে ভেস্তে যাবে!’ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র পেতে এনভায়রনমেন্ট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ই.আই.এ) ও ক্যুমুলেটিভ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (সি.আই.এ) জরুরি। প্রথম অ্যাসেসমেন্টটা হল, উক্ত প্রকল্পটি পরিবেশ (প্রকৃতি+মানুষ)-এর উপর কতরকম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে তার মূল্যায়ন। দ্বিতীয়টি হল, কাছাকাছি আগে থেকেই আর কোনও একইরকম বা অন্যরকম প্রকল্প থাকলে তার লাগাতার ক্ষতির সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ক্ষতি মিলে যোগফল কী দাঁড়াবে।

 

৩০০ পাতার ই.আই.এ ছত্রেছত্রে টোকা। ই.আই.এ-টি মিথ্যা আর পরস্পরবিরোধিতায় ভরা। যেমন, ঠুড়্গার ই.আই.এ-তে লেখা প্রস্তাবিত প্রকল্প-এলাকায় হাতিদের যাতায়াতের রাস্তা বা বাস্তুহাতি নেই। কী লেখা আছে হুবহু তুলে দিচ্ছি— “Asian Elephant is not found in lower reaches and is not reported from the project or its surrounding area” EIA P. 8-4 এবং “As per the primary field investigations conducted and information collected from the locals revealed that the immediate vicinity of the proposed project does not fall under any Elephant Corridors or migration route.” P. 8-17 & amp; 8-18.

 

উপরিউক্তগুলো ভ্রান্ত ও অসত্য। তার প্রমাণ— ওই ই.আই.এ- তে যে সূত্র উল্লেখিত আছে, সেখানেই ঠিক উলটো তথ্য আছে। উল্লিখিত সূত্রটি হল রাইট টু প্যাসেজ নামক ২০১৭ সালে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত ভারতের এলিফ্যান্ট করিডোর সংক্রান্ত বিখ্যাত বই। পৃ.১৬৪-তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে বাঘমুণ্ডি এলাকাটি পড়ে মাহিলং-কালিমাটি হাতি-করিডোরের মধ্যে এবং পি.পি.এস.পি-র জন্য অযোধ্যা পাহাড়ের হাতির সংখ্যা কমেছে ও করিডোরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের কাছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠানো ফ্যাক্টশিটে স্বীকৃত রয়েছে এই প্রকল্পের প্রস্তাবিত ক্ষেত্র এলিফ্যান্ট করিডোরের মধ্যে পড়ছে। আবার ই.আই.এ-তে পশ্চিমবঙ্গ বন দফতরের হাতিগণনার যে রিপোর্টটিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট লেখা, ওই অঞ্চলে ১০ থেকে ১২টি হাতি রয়েছে। স্থানীয় মানুষেরা জানিয়েছেন ওই দলে ছানা-হাতিও রয়েছে। অর্থাৎ আবার পরস্পরবিরোধী তথ্য!

Graffiti on a village house wall opposing the power project.

বাস্তব হল, আগের প্রকল্পের ফলে হাতি-মানুষে সংঘাত বেড়ে গেছে, নতুন প্রকল্প হলে তা আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। অন্যত্র লেখা আছে, অযোধ্যার জঙ্গল ডিপ্লিটেড অর্থাৎ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এই জঙ্গলে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব কনসার্ভিং নেচার তালিকা অনুযায়ী শিড্যুল ১ (অতিবিরল) প্রাণী পিপিলীকাভুক বা বনরুইয়ের বাস। রয়েছে মাদ্রাজ ট্রি শ্র্যু, একরকমের গেছো ছুঁচো যা পশ্চিমবাংলায় একমাত্র অযোধ্যা-বনেই পাওয়া যায়।

 

আমরা মোক্ষম উদাহরণটি নেব সি.আই.এ থেকে। এক্ষেত্রে টার্মস অব রেফারেন্স (টি.ও.আর) বলে একটা বিষয় ঠিক করতে হয়। অর্থাৎ প্রস্তাবিত প্রকল্পকে কেন্দ্রে রেখে কতখানি অঞ্চল ধরে সামুদায়িক ক্ষতির মূল্যায়ন হবে। বাস্তবে ঠুড়্গা নদীর যেখানে আপারড্যাম হবে, তার আড়াই কিলোমিটার দূরে একই পাহাড়শ্রেণীর আরেকটি নদী বামনির উপর পূর্বতন পাম্পড স্টোরেজ পাওয়ার প্রকল্পের আপারড্যাম, যার জন্যে কাটা গিয়েছে তিনলক্ষাধিক স্বাভাবিক অরণ্যের বৃক্ষকূল, যার মধ্যে ছিল অযোধ্যা পাহাড়ের সবচেয়ে গভীর অরণ্য-অঞ্চল। কাটা পড়েছে, ডুবে গিয়েছে আটটি পাহাড়চূড়া। কিন্তু ঠুড়্গা প্রকল্পের সি.আই.এ-র টি.ও.আর নির্ধারিত হয়েছে ঠুড়্গা নদীর উচ্চগতি। বলা হয়েছে, যেহেতু উক্ত ক্ষেত্রে একইরকম প্রকল্প নেই, তাই তার ক্যুমুলেটিভ ইমপ্যাক্ট বা সামুহিক প্রভাব মূল্যায়নের প্রয়োজনই নেই। সত্যি কি তাই? বামনি ঠুড়্গা বান্দু ইত্যাদি ক্ষীণধারা হাতেগোনা নদীগুলি অযোধ্যা পাহাড়ের প্রাণ। শুধু তাই নয়, এগুলি শোভা নদীকে পুষ্ট করে, যার মাধ্যমে পুষ্ট হয় দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের অতীব গুরুত্বপূর্ণ নদী সুবর্ণরেখা। ইতিমধ্যে পিপিএসপির ড্যাম অযোধ্যা পাহাড়ের এক-তৃতীয়াংশ অরণ্যভূমি ধ্বংসের সাথে সাথে বামনিকে বন্ধ্যা করেছে। ফলে, সুবর্ণরেখায় জল কমেছে। এখন ঠুড়্গায় ড্যাম দিলে তার সামুহিক ক্ষতিমূল্যায়নে এই বিষয়টি ধর্তব্যের মধ্যে আসতেই হবে। তাতে ক্ষতির পরিমাণ এত বিরাট করে দেখা দেবে, ঠুড়্গা প্রকল্পের ছাড়পত্র সরকার-নির্ধারিত পরিমাপেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই ঝক্কি এড়াতে হলে টি.ও.আর-টাই বেঁধে দিতে হত হাস্যকরভাবে ঠুড়্গার উচ্চগতিতে। তাই করা হয়েছে। অযোধ্যা পাহাড় যারা গিয়েছেন তারা তো জানেন বটেই, যারা যাননি তারাও সাধারণজ্ঞানে ভর করেই বুঝবেন তিন কিলোমিটার উচ্চগতির নদীতে এত বড় ড্যাম একটার বেশি দুটো দেওয়া অসম্ভব এবং একটা বাঁধই নদীটির কবর রচনা করবে।

ছবি ‘বন মানুষ’ তথ্যচিত্র থেকে সংগৃহিত।

এদিকে অযোধ্যার মানুষ রিট পিটিশন করেন বহু আন্দোলনের ফলে প্রাপ্ত আইনি অধিকার ‘বনাধিকার রক্ষা আইন, ২০০৬’-মোতাবেক। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটি মানুষের অধিকারের, উচ্ছেদের। প্রাণ-প্রকৃতি সেখানে পরোক্ষ বিষয়। এই মর্মেই কিন্তু ঠুড়্গা প্রকল্পে সরকার আটকেছে। কিন্তু এখন ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতিগণ কখনো কখনো কেন পরিবেশ-সংক্রান্ত যুক্তির দিকে যাচ্ছেন তা স্পষ্ট নয়।  ডিভিশন বেঞ্চ প্রথম শুনানিতেই (২৪ জানুয়ারি, ২০২০) সরকারপক্ষকে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের থেকে দ্বিতীয় অর্থাৎ চূড়ান্ত ছাড়পত্র নিয়ে আসতে বলেন। তাহলেই নাকি সরকার গাছকাটা শুরু করতে পারে। দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তাঁরা অযোধ্যাবাসীর উকিলের বক্তব্যকে একান্ত ফেলে দিতে পারেননি। তাই সরকারপক্ষকে চেপে ধরে জানতে চান, সিংগ্‌ল্‌ বেঞ্চে কেন তাঁরা গরহাজির ছিলেন, এবং কেন এই মর্মেই তাঁদের ডিভিশন বেঞ্চের আপিলটি খারিজ হয়ে যাবে না?‘আমি ছিলাম আমি ছিলাম’ বলে কাঁদুনি গায় সরকারের বশংবদ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ নিগম (WBSEDCL)-এর উকিল। এই WBSEDCL হল প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ঘোষিত মালিক অর্থাৎ স্টেকহোল্ডার। এরপর তাদের উকিল সরকারের উকিলের সাথে মিলে প্রকল্পটির আর্থিক বহর নিয়ে বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে; এবং আইনি যুক্তি ছাড়াই বিচারপতিরা আপিলটি বহাল রেখে পরের শুনানিতে অ্যাডভোকেট জেনারেল (এ.জি.)-কে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি এ.জি. কৌশিক দত্ত কোর্টে হাজির হন। মহারাষ্ট্রের তাডোবা-পেঞ্চ অভয়ারণ্য থেকে বনবাসীদের উৎখাত করা হয়েছিল, বনের ট্যুরিস্ট গাইড বা কাউকে সাফারি ড্রাইভার বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয় — সেদিন এইধরণের উদাহরণ আদালত ও সরকারপক্ষের কথাবার্তার মধ্যে এসেছে।

 

কিন্তু এই ধরণের প্রতিশ্রুতি বা ক্ষতিপূরণ যে অযোধ্যাবাসী চাননা, তা তাঁরা বলে আসছেন বামনি নদীর উপর তৈরি পুরুলিয়া পাম্পড স্টোরেজ প্রকল্পের সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রতারণায় রূপান্তরিত হওয়ার দিন থেকে। এদিকে আন্দোলনকারীদের কাউকে পাথরখাদানের ম্যানেজার বানিয়ে দেবার বা বরাত পাইয়ে দেবার টোপ, কাউকে জেলে ভরার হুমকি, কাউকে অন্যত্র জমি দেওয়ার টোপ, কারোর বাজারের থলে রাস্তায় ফেলে আন্দোলন থেকে স’রে আসার হুমকি— পুলিশ-প্রশাসন এসব যথেষ্ট করেছে। সঙ্গে প্রকল্পের তরফ থেকে রয়েছে ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজনের মাধ্যমে বাস্তুতান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতির ভরণপোষণের নিরর্থক নিদান। এই প্রকল্প হলে ক্ষতি কোথায় কতটা কীভাবে হবে, গবেষণাই করা হয়নি, তার আবার পূরণ! আর কম্পেন্সেটরি অ্যাফরেস্টেসন (ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজন) আসলে চোখে ধুলো দেওয়া। জঙ্গল আর তার সাথে জড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি ধ্বংস করার পর কোনও মূল্যেই কি তার ক্ষতিপূরণ আদৌ সম্ভব? ৪২,০০০ বছর আগের নৃতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে অযোধ্যায়। সে-বিষয়ক গবেষণায় না এগিয়ে তার চারপাশ এভাবে ধ্বংস করতে থাকার অর্থ কী! যা হোক, আগামী ২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি একটানা শুনানির পর রায় কি হয় সে দিকেই তাকিয়ে আছে অযোধ্যা।

 

লেখক ইমন সাঁতরা শিক্ষক সমাজকর্মী।

 

 

ঠুড়গা প্রকল্প প্রসঙ্গে আরও পড়তে দেখুন – 

New Hydro Project at Ajodhya Hills: Recipe for a Disaster

ঠুড়্গা আন্দোলনের সংহতি কর্মীদের পুলিশি হেনস্থা; বনাধিকার রক্ষার দাবীতে অনড় সংহতি মঞ্চ

কেটে ফেলা হল আরের জঙ্গল

 

 

Share this
Leave a Comment