“এই বিল পুড়ে খাক হবে”: কলকাতার বুকে ট্রান্স বিল-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ


  • December 29, 2018
  • (0 Comments)
  • 458 Views

“ইয়ে বিল তো জ্বলকে খাক্‌ হোগা। নাথিং অ্যাবাউট আস উইথআউট আস।” আমাদের বাদ দিয়ে আমাদের কথা নয়। বছরের শেষ ভাগে সারা দেশ উত্তাল লোকসভায় পাশ হওয়া ট্রান্সজেন্ডার বিল নিয়ে। এই সম্প্রদায়ের জন্য বিলটি সর্বতোভাবে নেতিবাচক। “স্টপ ট্রান্সজেন্ডার বিল” আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের নানা প্রান্তে। পশ্চিমবঙ্গে রূপান্তরকামী, হিজড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এল এই বিল নিয়ে তাঁদের সোজাসাপ্টা উত্তর। লিপিবদ্ধ করলেন সুদর্শনা চক্রবর্তী

 

 

পূজা হিজড়া সম্প্রদায়ের অর্ন্তভুক্ত। কিন্তু তিনি হিজড়া পেশার সঙ্গে যুক্ত নন। পেশায় তিনি নৃত্যশিল্পী, পাশাপাশি মেক-আপ আর্টিস্ট-এর কাজও শিখছেন। ট্রান্সজেন্ডার বিল-এর প্রসঙ্গ উঠতেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন:

“সরকার বলছে হিজড়ে মানুষদের বধাই, ট্রেন-এ মাঙ্গনা সব বন্ধ করে দেবে। তবে মানুষ খাবে কি? যখন ৩৭৭ রদ হল আমরা সবাই ভাবলাম এবার সবাই নিজের মতো বাঁচব। কিন্তু তা কী হল? এখনও তো সবাই আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করে, পোশাক নিয়ে অবজেকশন করে। কেন এমন হবে? আসলে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের বেশিরভাগ মানুষই ইগনোর করে। আমার পেশায় আমাকে দেখে কেউ মুচকি হাসে, কেই আবার হা-হা করেই হেসে দেয়। তখন কষ্ট হয়। আমাদেরও তো মানুষ বলেই ভাবতে হবে। সরকারের উচিত একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া যা সবাই করতে পারে। ট্রান্সজেন্ডার মানুষেরাও ভাবে যে কাজ করবে, ভালভাবে বাঁচবে, দু’টো রুটি খাবে কিন্তু ভাল থাকবে। সরকার যেন নিশ্চিত করে যে মহিলাদের মতোই ট্রান্সজেন্ডার, শি-মেল, ক্রসড্রেসার সবাই যেন সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারেন।”

 

 

সিন্টু বাগুই কলকাতার সোনাগাছি যৌনপল্লী এলাকায় আনন্দম নামে একটি সংস্থায় দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে রূপান্তরকামী মানুষদের নিয়ে কাজ করেন। বললেন:

“আমার কাছে ট্রান্সজেন্ডার বিল-এর সবচেয়ে অপমানজনক দিক হল স্ক্রিনিং কমিটির সামনে প্রমাণ করতে হবে যে আমি ট্রান্সজেন্ডার। একজন নারী বা পুরুষকে যখন এই পরীক্ষা দিতে হয় না, তখন আমাকে কেন হবে? এটা একা আমার বা কোনও একজনের কথা নয়, পুরো কমিউনিটির জন্যই খুবই অপমানজনক। আমি কে সেটা তো আমিই ঠিক করব, কোনও স্ক্রিনিং কমিটি সেটা ঠিক করবে কেন! আরেকটি অত্যন্ত আপত্তিজনক বিষয় হল ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের ‘বেগার’ বলে অ্যারেস্ট করে নেওয়া। আমি তো ট্রান্সজেন্ডার মানুষ, কিন্তু আমি ‘বেগার’ নই। তাহলে আমার মতো যারা চাকরি বা অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত, তারা তো অ্যারেস্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ের মধ্যে থাকব, রাস্তায় হাঁটলেই, ট্রেনে চড়লেই। এর তো কোনও যুক্তি নেই। তাছাড়া সরকার এই বিল-এ অ্যাকসেস টু হেল্থ, অ্যাকসেস টু এডুকেশন, অ্যাকসেস টু জব নিয়ে কোনও কথা না বলে হিজড়ে পেশার নানা দিক বন্ধ করে দেওয়া, স্ক্রিনিং কমিটি তৈরি করা ইত্যাদি নেতিবাচক দিকে মন দিয়েছে। তাছাড়া এই বিলটি এমন যেখানে গ্রাসরুট বা আর্থ- সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের কথা ভাবাই হয়নি। তারা হয়তো ট্রান্সজেন্ডার শব্দটির সঙ্গেই পরিচিত নন। তারা জানেন, বোঝেন ‘কোতি’। সেই জায়গাতেও এই বিলটি এক বড় ধাক্কা। আমরা যখনই কোনও কাজ করি, কমিউনিটি-র সব স্তরের মানুষকে অর্ন্তভুক্ত করার চেষ্টা করি, এই বিলে সেটিও অনুপস্থিত। অধিকাংশ ট্রান্সজেন্ডার মানুষ এখনও পড়াশোনার সুযোগ পান না, এই সমাজ তাকে তা দেয় না। সরকারের উচিত ছিল তাদের পড়াশোনা, এক্সট্রা কারিকুলার, কাজের ব্যবস্থা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করা ইত্যাদি বিষয়গুলি এই বিলে নিয়ে আসা। তার বদলে এই বিলটি অত্যন্ত নেতিবাচক একটি পদক্ষেপ।”

 

 

অমৃতা সরকার রূপান্তরকামী মানুষদের নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, পাশাপাশি এই বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণাতেও অংশ নেন। স্পষ্টই জানালেন:

“একজন পুরুষকে তো খুলে দেখাতে হয় না, সে পুরুষ। একজন নারীকেও প্রমাণ দিতে হয় না। তাহলে একজন রূপান্তরকামী মানুষকে সরকার আইন করে সেটা করতে কেন বাধ্য করবেন? অন্যরাও হিউম্যান বিয়িং, আমরাও হিউম্যান বিয়িং। তাহলে এই বৈষম্যমূলক, অপমানজনক আচরণ কেন? যারা এখনও নিজেদের কোতি বলেন তারা তো এর ফলে কিছুই বুঝতে পারবেন না। এ যেন আমাদেরই মুছে ফেলার চেষ্টা। আর তাছাড়া হিজড়ে সম্প্রদায়ের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ মানা যায় না। আমি যদি স্বেচ্ছায় আমার গুরুর কাছে যাই তাহলে কোনও থার্ড পার্সন-এর কী বলার থাকতে পারে? এইগুলি বন্ধ করে সরকারের উচিত রূপান্তরকামীদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-জীবিকার বিষয়ে কাজ করা।”

 

 

শ্যাম ঘোষ একজন রূপান্তরকামী পুরুষ হিসাবে নিজেকে চিহ্নিত করেন। ট্রান্সজেন্ডার বিল প্রসঙ্গে তার বক্তব্য:

“এই বিলটি ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি-র জন্য অত্যন্ত খারাপ একটি বিষয়। নালসা জাজমেন্ট-এ যে বলা হয়েছে – আমি যদি মনে করি ও বলি যে আমি রূপান্তরকামী, সেটাই মেনে নিতে হবে, এখানে তা অস্বীকার করা হচ্ছে। এই স্ক্রিনিং কমিটির সামনে প্রমাণ করা যে আমি রূপান্তরকামী সেটা তো তাহলে নালসা জাজমেন্ট-এর বিরূদ্ধে যাচ্ছে। তাছাড়া রূপান্তরকামী পুরুষ, যারা বায়োলজিকালি নারী ও মানসিকভাবে পুরুষ এবং যারা হয়তো শারীরিক পরিবর্তন করাতে চান না, তাদের কাছে এই স্ক্রিনিং কমিটির সামনে পোশাক খুলে প্রমাণ দেওয়া অত্যন্ত অপমানজনক ব্যাপার। শুধু রূপান্তরকামী পুরুষ নয়, যেকোনও মানুষের পক্ষেই এটি অত্যন্ত অপমানজনক। তাছাড়া বেসিক ফান্ডা হল যাদের জন্য এই বিল, সেই বিল তৈরির কমিটিতে এমন অন্তত একজন কেন এই কমিউনিটি থেকে নেই, যিনি বিষয়গুলি বুঝবেন! কোনও সিস্‌-জেন্ডার মানুষ তার চিন্তাভাবনার জায়গা থেকে, আমাদের বিষয়গুলি না জেনে, না বুঝে, ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির হয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন, তা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।”

 

 

হিজড়ে সম্প্রদায়ের রীনা জানালেন:

“এই বিলটা নিয়ে আমি জানি। এতে বলছে যে হিজড়েদের এইসব চলবে না, মানে বাচ্চা নাচানো, মাঙ্গনা এইসব। হিজড়েরা এই করে, হিজড়েরা ঐ করে। একটা সরকারের এসব কক্ষনো করা উচিত না। এটা ভুল।”

 

 

কাশ্মীরা একটি হিজড়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। স্পষ্ট বললেন:

“কোনওভাবেই আমি এই বিলটাকে মানি না, মানব না। কারণ আমি কি সেটা আমার অধিকার। আমি কীভাবে নিজেকে ডিজক্লোজ করব সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, সরকার বলে দিতে পারে না। আমার সেক্স-ওরিয়েন্টশন সরকার বলে দেবে! আমি কোন্‌ খোপের মধ্যে থাকব মানে আমি ছেলে হয়ে থাকব না মেয়ে না লেজবিয়ান না অন্য কোনও কমিউনিটি সেটা সে ঠিক করে দেবে! আমার কোনও অধিকার নেই। আমি হিজড়ে গোষ্ঠীর বধাই পেশার সঙ্গে যুক্ত। এগুলো আমাদের পরম্পরা। এগুলো কখনওই বন্ধ করা যায় না। চারপাশে এত যে ক্রিমিনাল কেস ঘটছে সেগুলো দেখুক না আগে।”

 

 

তনুশ্রী চক্রবর্তী রূপান্তরকামী মানুষদের নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনে কর্মরত। বললেন:

“এই বিল-এ স্ক্রিনিং কমিটির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু নালসা জাজমেন্ট-এ তো বলা হয়েছে সেল্ফ আইডেন্টিফিকেশন-এর কথা। আমি ট্রান্সজেন্ডার, লেসবিয়ান, গে হোয়াটএভার সেটা আমি ঠিক করব। এই বিল অনুযায়ী তো তা অন্য কেউ নির্ধারণ করে দেবে। নালসা যখন একটা বিষয় পাস করে দিয়েছে তার উপরে আবার এইটি চাপিয়ে দেওয়া, সেই রায়ে হস্তক্ষেপ করা, এর বিরূদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। এই বিলটি আইনে পরিণত হলে বহু মানুষের চারিত্রিকভাবে, গঠনগতভাবে, কাজের জায়গায় খুবই হ্যাম্পার হবে। সবচেয়ে অপমানজনক হল পাঁচ জন মিলে ঠিক করবে আমি কি। কেন? আমি তো ছোটবেলা থেকেই জানি আমি কে ও কি; সেটা আমিই ডিসাইড করেছি।”

 

 

কলি পাল হিজড়ে সম্প্রদায়ভুক্ত, ও একজন গুরু। বিল নিয়ে তার বক্তব্য:

“এই বিলটা সম্পর্কে জেনেছি। খুব খারাপ এটা। এতদিন পর্যন্ত যা হয়নি, এই মোদী এসে সেটা করছে এটা ভালো নয়। এই যে বলা হচ্ছে আমাদের পরীক্ষা করা হবে এটা তো সবচেয়ে খারাপ, এই জিনিসটা কোনওদিন হয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছিল ইন্দিরা গান্ধী, তাঁর ছেলে রাজীব গান্ধী। কৈ কখনও তো আমাদের বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি হয়নি। এই মোদী আসার পর থেকে এইসব হচ্ছে। প্রথম আমাদের পাব্লিকদের অত্যাচার করল নোটবন্দী করে। সরকারের উচিত ছিল আমরা কীভাবে থাকি, কীভাবে বাঁচতে চেষ্টা করি, কীভাবে বাঁচি এইটা আগে দেখা। কীভাবে আমরা চলব, চালাব, কীভাবে সবাইকে নিয়ে স্বাধীনভাবে থাকব সেইটা দেখা উচিৎ ছিল, কিন্তু সেইটা না করে উনি বিল পাস করছেন। এইটা কিন্তু উচিৎ হয়নি।”

 

 

হিজড়ে সম্প্রদায়ের মানুষ শাকিলার সোজা কথা:

“আমরা যদি ভিক্ষা না করি খাব কী, বাঁচব কীভাবে? আমাদের চাকরি থাকলে চাকরি করতাম। চাকরি নেই তো কী করব। বাঁচতে তো হবে। সরকার শুধু মুখে বলে, আমাদের জন্য কিছু করে না। সরকার আজ পর্যন্ত কী করেছে আমাদের জন্য? চাইতে হলে সরকারের কাছে একটা ভালো চাকরি চাইব। আর কী!”

 

 

দীর্ঘদিন হিজড়ে পেশার সঙ্গে যুক্ত, একটি সংগঠনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও পশ্চিমবঙ্গ বৃহন্নলা সমিতির সচিব অপর্ণা বিস্তারিত বললেন:

“আমার মনে হয় সরকার নিজস্ব কিছু অভিসন্ধি পূরণ করার চেষ্টায় রয়েছে। একটা বিল যখন সরকার পেশ করে ও পাশ করার প্রচেষ্টা রাখে তা হয় জনগনের স্বার্থে। কিন্তু এই বিলটিতে জনগনের স্বার্থ কোথায় তাই আমরা বুঝতে পারিনি। যদি মনে করি হিজড়েদের নিয়ে নয় ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়ে এই বিলটিতে ভাবা হয়েছে যে তারা পড়াশোনা করবে, চাকরি-বাকরি করবে। সেই রিজার্ভেশনগুলোও এই বিলটাতে নেই। তাহলে আদৌ সরকার কী ভেবেছে? এদিকে যেখানে সরকার পড়াশোনা, চাকরির কোনও পরিকাঠামো দিতে পারছে না, এনএবিলিং এনভায়রণমেন্ট দিতে পারছে না, তারপরেও সরকার বলছে ‘বেগিং ইজ আ ক্রাইম অ্যান্ড দ্য গুরু-চেলা পরম্পরা শ্যুড বি ক্রিমিনালাইজড’! অর্গানাইজড বেগিং, বন্ডেড লেবার প্রচুর শব্দ উঠে আসছে এই জায়গা থেকে। কিন্তু কেন? সাধারণ মানুষ, সিস্‌-জেন্ডার মানুষদের জীবনেও এমন ঘটনা ঘটেই থাকে যা নিয়ে সারা দেশে আমরা অনেক তোলপাড় দেখি। আমাদের জীবনেও থাকতেই পারে। ভিক্ষাবৃত্তি যে শুধুমাত্র আমরাই করি এমন তো নয়। কিন্তু একটা প্রথাকে যদি ভিক্ষাবৃত্তির নজরে দেখা হয় তাহলে সেটা খুব চাপের। হ্যাঁ, আমি পড়াশোনা করেও ভিক্ষাবৃত্তি করব না হিজড়ে প্রথার মধ্যে যাব দ্যাট শ্যুড বি মাই চয়েজ। আর একটা কাগজ, একটা বিল আমার গুরুর সাথে আমার যে সম্পর্ক তা নষ্ট করে দিতে পারে না। আই ক্যুড নট সি এনি ডেভেলপমেন্ট ইন দিস বিল, নো রিফ্লেকশন।

যে ড্রাফ্‌ট’টা এসেছিল বিলের তাতে আমাদের অনেক রেকমেন্ডেশন ছিল। সরকার বলল ২৭টা রেকমেন্ডেশন নিয়েছে। বাট দোজ্‌ আর অল ফ্রেজেজ্‌ অ্যান্ড স্পেলিংস, নাথিং এলস্‌। ওগুলো দিয়ে আমাদের কোনও লাভ হবে না। এই বিলে সবচেয়ে আউটরেজিয়াস বিষয় হল আমার কথা আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। একজন সিস্‌-জেন্ডার মানুষ বলছেন। কিন্তু আমারটা তো আমিই জানি, আমি কী চাই। দেশটা আমার, সরকারটাও আমার রিপ্রেজেন্টেশন, তাহলে আমি বলতে পারছি না কেন? একজন সিএমওএইচ কেন ডিসাইড করবেন আমি ট্রান্সজেন্ডার কি না। আমি তো সার্জারি নাও করাতে পারি। মানে ট্রান্সজেন্ডারদের একটা ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে বাঁধা হচ্ছে যে ট্রান্স-উওম্যান তাকে দেখতে একদম ফেমিনাইন হবে, যে ট্রান্স-ম্যান তাকে দেখতে একদম ম্যাসকুলাইন হবে। এটা কেন? বিয়ন্ড দ্য বাইনারি-ও তো অনেক কিছু থাকতে পারে। আমাদের রাজ্যের ট্রান্সজেন্ডার বোর্ড বিষয়টি নিয়ে ভীষণ চুপ, হয়তো তারাও একটি বিলের অপেক্ষা করছেন ভালো কাজ করার জন্য। তবে দেশজুড়ে আমাদের আন্দোলন চলবে। বিভিন্ন শহরে তো বটেই শহরে যারা আসতে পারছেন না নিজেদের জেলায়, গ্রামে তারা প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ও যাবেন।”

 

 

উত্তরবঙ্গে রূপান্তরকামী মানুষদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সুমি বললেন:

“এই বিলের সবচেয়ে খারাপ দিক জেলাভিত্তিক স্ক্রিনিং কমিটি। এই বিলে আসলে থাকা দরকার ছিল লিঙ্গ স্বনির্ধারণের অধিকার নালসা জাজমেন্ট অনুযায়ী ও কর্মক্ষেত্রে রির্জাভেশন, যা বলা নেই বললেই চলে। এই বিলের ফলে শহর ও গ্রাম বিভেদটি বাড়বেই। কারণ গ্রামে বা শহরের বাইরে সেক্স চেঞ্জ সংক্রান্ত তথ্য সেভাবে নেই বা করার সামর্থ্যও নেই। সেই কারণে অনেক ট্রান্স মানুষ যে জেলাভিত্তিক স্ক্রিনিং কমিটি হবে তার কাছে বাদ পড়ে যাবে। আবার অনেক ট্রান্সজেন্ডার মানুষ সেক্স চেঞ্জ করাতেও চান না। সেটাও তার অধিকার। এখন আমাদের রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে আসা দরকার। এরকম একটা বিল খুব সহজেই লোকসভাতে পাশ হয়ে গেল কারণ সেখানে কোনও ট্রান্স প্রতিনিধি নেই। আমাদের আরও বেশি করে রাজনীতিতে আসা দরকার এবং এই বিল নিয়ে এই মুহূর্তে এমপি-দের সঙ্গে কথা বলা ও বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলা দরকার।”

 

 

 

সুদর্শনা ডকুমেন্টারি নির্মাতা এবং স্বতন্ত্র সাংবাদিক। ছবি: গ্রাউন্ডজিরো।

Share this
Leave a Comment