প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতির পথ কী? শহরে শিক্ষা আলোচনা


  • July 23, 2018
  • (0 Comments)
  • 1363 Views

রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষার মান ও উন্নতির সম্ভাবনা বিষয়ে প্রতীচী ইন্সটিটিউট ও তৃণমূল স্তরের প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে সৃষ্ট সংগঠন ‘শিক্ষা আলোচনা’র উদ্যোগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। উঠে এসেছে শিক্ষা ও শিক্ষানীতি নিয়ে বহু গঠনমূলক সমালোচনা। জানা যাচ্ছে, সুষ্ঠুভাবে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য বছরে যে টাকা প্রয়োজন, সরকারি খাতে তার এক চতুর্থাংশও বরাদ্দ হচ্ছে না। উপরন্তু শিক্ষা-সম্পর্কিত দপ্তরগুলির প্রশাসনিক গঠনের কারণে শিক্ষকরা সুযোগ হারাচ্ছেন গণতান্ত্রিক পর্যালোচনার।

দেবাশিস আইচ

একটা বড় গাছের পাশে টালি-বেড়ার ঘর। প্রায় অন্ধকার। তার ভিতর মেঝের উপর একগুচ্ছ কচিকাঁচা। শ্লেট-পেন্সিল, বই-খাতা আর কোনোমতে ঝোলানো একটি ব্ল্যাকবোর্ড। গ্রামীণ সাংবাদিক পাঠিয়েছেন কাঁচা বাজারটি। মহানগরে তা যখন মাখোমাখো করে রান্নার পর পরিবেশিত হল, তখন দেখা গেল ফুটোফাটা, জীর্ণশীর্ণ ছবি। পরিবেশকের গলায় যুগপৎ রাগ ও দু:খ ঝরে ঝরে পড়ছে। স্বাভাবিক। দিদিমণি কাঁচুমাচু হয়ে কিছু বলছেন। কী বলছেন মনে নেই। বোধহয় বলছিলেন, ছেলেমেয়েদের দুর্দশার কথা, পাকা বাড়ির জন্য দরবার করে করে শুকতলা ক্ষয়ে যাবার কথা। এটুকু মনে আছে, গ্রামীণ ও নাগরিক সংবাদদাতাদের – অর্থাৎ, যিনি বাজার করে পাঠালেন আর যিনি রেঁধেবেড়ে ফের বাজারজাত করলেন – জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আচ্ছা ওরা পড়তে আসে কেন? ওদের বাবা-মায়েরাই বা কেন পড়তে পাঠায়? সেদিন এর উত্তর পাওয়া যায়নি।

এর উত্তর পেয়েছিলাম কিছুকাল পরে প্রতীচী ট্রাস্ট-এর এক সমীক্ষায় (প্রতীচী শিক্ষা প্রতিবেদন, ২০০১-০২)। “দেখা গিয়েছে যে মা-বাবারা তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়া শেখার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। কেবল ০.৫ শতাংশ মা-বাবা চান না যে তাঁদের সন্তানদের লেখাপড়া হোক। কন্যাসন্তানদের ক্ষেত্রে কেবল ৩ শতাংশ মা-বাবা চান না তারা লেখাপড়া শিখুক।” মনে রাখতে হবে মিড ডে মিলের বর্তমান বন্দোবস্ত তখন ছিল না। সেই সময়ের কর্মসূচি অনুযায়ী শিশু পিছু প্রতি মাসে তিন কিলোগ্রাম চাল দেওয়া হত। তাও আবার তিন-চার মাস পর পর। ঘর নেই, মারের ভয়, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এমন হাজারো বাধা পেরিয়েও মা-বাবাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রবল। পাশাপাশি, এও দেখা গিয়েছিল, “মুসলমান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে তাঁদের শিশুদের শিক্ষা আহরণের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা।” বাঙালি হিন্দু মধ্যবিত্তদের মধ্যে যে একটি ভুল ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে, ‘মুসলমানরা তাদের শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না’, এই সমীক্ষা সেই ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ জানায়। প্রতিবেদনটি থেকে এ কথাও পরিষ্কার, উচ্চ ও মাঝারি জাতি থেকে আসা কিছু শিক্ষক এমনও মনে করেন, লেখাপড়া আদিবাসী, তফসিলি জাতি বা মুসলমান শিশুদের ‘কম্মো নয়’।

ছবিঃ প্রতীচী ট্রাস্ট

আজ পিছনে ফিরে তাকাতে গিয়ে দেখছি, ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০১-০২ এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু উপস্থিতির হার ছিল ৫৮ শতাংশ। ২০০৮-০৯ এ তা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ৭৪.৮ শতাংশে। বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের ২০০৮-০৯ এর বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ওই শিক্ষাবর্ষে শিশুভর্তির প্রকৃত হার ছিল ৯৯.১ শতাংশ।

সদ্য প্রকাশিত প্রতীচী ও শিক্ষা আলোচনা’র (২০১৮) প্রতিবেদনের মতে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় যে ইতিবাচক ফল দেখা গেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কচিকাঁচাদের প্রবেশের অধিকার (নেট এনরোলমেন্ট রেশিও বা এন.ই.আর.)  সুনিশ্চিত করা গিয়েছে। পাশাপাশি, শিশু ও শিক্ষকের অনুপাত (পিউপিল টিচার রেশিও বা পি.টি.আর)।

 ২০০৪২০১৫
গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও১০৭১০৪
নেট এনরোলমেন্ট রেশিও৮৬৯৪
পিউপিল টিচার রেশিও৪৯২৩

* গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও বা জিইআর ভর্তি হওয়া মোট শিশুদের (বয়স নিরপেক্ষ) সংখ্যার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। কিন্তু নেট এনরোলমেন্ট রেশিও বা এনইআর এ সেই বছরের ভর্তিযোগ্য শিশুদের সংখ্যার বিপরীতে প্রকৃত ভর্তির হিসাবটা ধরা হয়। যেমন, কোনও এক বছরে বুনিয়াদী স্তরে (প্রথম – অষ্টম শ্রেণিতে) ভর্তিযোগ্য (৬ – ১৪ বছর বয়সি) শিশুর সংখ্যা ১০০, কিন্তু সেই বয়সি শিশুদের প্রকৃত ভর্তি হবার সংখ্যা ৯০ এবং মোট ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ১০৫। এক্ষেত্রে জিইআর হবে ( ১০৫ / ১০০ x ১০০ ) = ১০৫। এবং এনইআর হবে ( ৯০ / ১০০ x ১০০ ) = ৯০।

প্রথম প্রতীচী প্রতিবেদন থেকে সর্বশেষ প্রতিবেদনের মাঝে প্রায় দেড় দশক কেটে গিয়েছে। এই সময়ে ধাপে ধাপে নানা পরিবর্তনের চিহ্নও বর্তমান। একটি প্রধান পরিবর্তন ২০০৪ সাল থেকে মিড ডে মিল হিসেবে রান্না করা খাবার দেওয়া। তা নিয়ে বিতর্ক, রাগ-অনুরাগ কিছু কম হয়নি। আমরা কোটেশন প্রিয় জাতি। কথায় কথায় বলি, ‘খালি পেটে ধর্ম হয় না’। খালি পেটে যে লেখাপড়াও হয় না সে কথা বোঝাতে সময় লেগেছিল। প্রথম থেকেই মিড ডে মিলে আর্থিক ঘাটতি ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েছে। বর্তমান সময়ে শিশু প্রতি ধার্য চার টাকা তেরো পয়সা। সাম্প্রতিক প্রতীচী সমীক্ষায় হিসেব কষে দেখানো হয়েছে, উপযুক্ত মানের খাবার দিতে গেলে শিশু প্রতি দৈনিক সাত টাকা সতেরো পয়সা প্রয়োজন। অর্থাৎ, শিশু পিছু দৈনিক তিন টাকা তিন পয়সা ঘাটতি রয়েছে। পাঠ্যবইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন সমীক্ষক সংস্থাদুটি। দেখা যাচ্ছে, প্রথম শ্রেণির একটি শিশু, যার বয়স ছয় বছর, তার জন্য প্রস্তুত ‘আমার বই’টির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৪৮। প্রতিবেদনের ভূমিকায় এই তথ্য তুলে ধরে অমর্ত্য সেনের মন্তব্য, “একটি ছয় বছরের বাচ্চার পক্ষে বইটা হাত দিয়ে তোলাই বেশ কঠিন। এ ব্যাপারে বাস্তবানুগ হওয়ার প্রয়োজন আছে।”

ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে যে অগ্রগতি ঘটেছে তা দেখাই যাচ্ছে। তেইশ জন শিশু পিছু একজন শিক্ষক বেশ অনুকূল। এ গড় অনুপাত। বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকের অসম বণ্টনের গভীর সমস্যা রয়েছে। কোথাও এই অনুপাত ৪০-এর উপরে কোথাও ১২:১। দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলায় এই অনুপাত বেশ খারাপ। মনে রাখতে হবে এই জেলাগুলি হয় সংখ্যালঘু প্রধান বা উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু জনসংখ্যা রয়েছে। সংখ্যালঘু প্রধান জেলা বা ব্লকগুলি যে শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে সে তথ্য সাচার কমিটির রিপোর্ট বা স্ন্যাপের সমীক্ষায় আগেই পেয়েছি। এখানে তা বিস্তারিত না থাকলেও অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের মুখবন্ধে উল্লেখ রয়েছে।

পাশ-ফেল প্রথা উঠে যাওয়ার পর রাজ্য জুড়ে চরম বিতর্ক কিছু কম হয়নি। এক গোষ্ঠীর বক্তব্য ছিল, শিশুরা যেহেতু বিনা পরীক্ষায় এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে উত্তীর্ণ হয়ে যাবে, তাই তার লেখাপড়ায় আগ্রহ থাকবে না। অপর গোষ্ঠীর মূল বক্তব্য, “যেহেতু শিশু নিজে নিজে শিখে উঠতে পারে না, তাই সে বিদ্যালয়ের সাহায্য নেয়। বিদ্যালয় শিশুকে বিদ্যাই নয় অনেক ক্ষেত্রে উচিৎ দিশা দেখায়। এটিই বিদ্যালয়ের মূল ও একমাত্র দায়িত্ব, বার্ষিক পরীক্ষা পদ্ধতির শিক্ষা পদ্ধতিতে এক চরম ফাঁকি হয়ে যাচ্ছিল। শিশুর সামগ্রিক বৃদ্ধি বিকাশ ধারাবাহিক ভাবে মূল্যায়িত হচ্ছিল না।…এই মূল্যায়ন পদ্ধতি বছরের শেষে ফেল করা ছাত্রকে এই বলে প্রতিপন্ন করছিল যে তার বুদ্ধিগত স্তর উপযুক্ত নয়। “

এই প্রয়োজনেই সামগ্রিক বিদ্যালয় মূল্যায়ন ব্যবস্থা বা সিসিই’র কথা ভাবা হয়েছিল। আলোচ্য রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘আদর্শ উপায়ে সিসিই খুব কম সংখ্যক বিদ্যালয়ে রূপায়িত ও চর্চিত হয়’। এর সঙ্গে রয়েছে আর্থিক সমস্যাও। যা ‘উদ্বেগজনক চেহারা নিয়েছে’ বলে সমীক্ষকরা মনে করছেন। ৩৭টি রূপান্তরিত বা বিশেষ ব্যবস্থা সম্পন্ন বিদ্যালয়ে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, সুষ্ঠুভাবে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য বছরে অন্তত ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা দরকার। এর সঙ্গে জরুরি অন্তত আংশিক সময়ের জন্য গান, আঁকা শেখা, খেলাধূলার জন্য শিক্ষক নিয়োগ। তা করতে হলে স্কুল পিছু গড়ে প্রতি বছর দরকার হয় অন্তত ৮১,৫০০ টাকা। অথচ, বরাদ্দ মাত্র ১২,৫০০ টাকা। ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ৬৯,০০০ টাকা।

স্কুল প্রতি দৈনিক খরচ ও ঘাটতি

বিবরণপ্রয়োজনীয় অর্থ (টাকা)
পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী
১৫০০
খেলাধূলার সামগ্রী
৬০০০
বিদ্যুতের বিল
৬০০০
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
৬০০০
স্টেশনারি
৩০০০
অভিভাবক সভা
৩০০০
ইন্টারনেট
৬০০০
মূল্যায়ন৬০০০
মেডিক্যাল কিট
২০০০
পুরস্কার
৬০০০
মোট খরচ৪৫৫০০
শিক্ষা দপ্তরের গ্র‍্যান্ট
১২৫০০
ঘাটতি৩৩০০০

উল্লেখযোগ্য যে, রূপান্তরিত বিদ্যালয়গুলিতে এই ঘাটতির পূরণ করা হচ্ছে শিক্ষক এবং অন্যান্যদের স্বেচ্ছা অর্থ দানের মাধ্যমে। সমীক্ষকদের মতে এতবড় একটি বন্দোবস্ত স্বেচ্ছাসেবা দিয়ে কার্যকরী হয় না।

রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষার মান, এই সময়ে উন্নতি এবং আরো উন্নতির সম্ভাবনা বিষয়ে প্রতীচী ইন্সটিটিউট ও শিক্ষা আলোচনা’র উদ্যোগে  ‘প্রাইমারি এডুকেশন ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল, দ্য স্কোপ ফর চেঞ্জ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন রচিত ও প্রকাশিত হয়েছে।  এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য এই যে, শিক্ষা ও শিক্ষানীতি নিয়ে এই প্রতিবেদনটি উঠে এসেছে মূলত তৃণমূল স্তর থেকে। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রয়াসে। অর্থাৎ, দীর্ঘ দিনের আলাপ-আলোচনা এবং ওয়ার্কশপের মধ্য দিয়ে। যে প্রাথমিক শিক্ষকরা এই প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন তাঁদের সংগঠনটির নাম ‘শিক্ষা আলোচনা’। উদ্যোক্তাদের ভাষায়, “নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে আসা বহু শিক্ষক এবং অন্যান্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা মঞ্চ ‘শিক্ষা আলোচনা’।”

ছবিঃ প্রতীচী ট্রাস্ট

আলাপ-আলোচনা কিংবা বিতর্ক সভা এখন নেহাতই গলার শির ফোলানো বাগযুদ্ধ। প্রতিপক্ষের মতকে যেনতেন প্রকারেণ ঘায়েল করাই একমাত্র উদ্দেশ্য। বৃহৎ সংবাদমাধ্যম কিংবা সামাজিক মাধ্যম থেকে এই চিত্রটি পরিষ্কার। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক, গবেষক, সারস্বত সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের যৌথ আলোচনার কর্ষণজাত ফসল তোলার দিনে, অধ্যাপক অমর্ত্য সেন তাঁর বক্তব্যে তাই আলোচনার গুরুত্ত্বের উপরেই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে বলেছেন, “জ্ঞান আহরণ শিক্ষক ও ছাত্রদের আলোচনার মধ্য দিয়েই হয়। আলোচনার মধ্য দিয়ে বোঝা যায় ভুলত্রুটি, ঘাটতি যা হচ্ছে, তা কোথা থেকে আসছে। সে কি উৎসাহে ঘাটতি, চিন্তাধারার ঘাটতি, কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঘাটতি না কি শ্লেট, চক, পাঠ্যবই এর সমস্যা। কোনটা কী দরকার তা বুঝতে গেলে আলোচনা করতে হবে।” আর ‘শিক্ষা আলোচনা’ ও প্রতীচীর এই প্রতিবেদন তার একটি নমুনা।

প্রতিবেদনটিতেও বার বার এই সুর এবং আলোচনার পরিসরের অভাবের জন্য আক্ষেপ শোনা গিয়েছে। সমীক্ষকরা মনে করেন, “শিক্ষা যেহেতু স্বাধীনতার কথা বলে, নিরন্তর স্বাধীন মত বিনিময় ছাড়া উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।” আক্ষেপ এই যে,”আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান সমস্যা হল আমাদের দপ্তরগুলির প্রশাসনিক গঠন। এই গঠনে গণতান্ত্রিক উপায়ে আলোচনা, পর্যালোচনার সুযোগ প্রায় থাকে না।”

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ও সাংসদ সুগত বসু’র অবশ্য আশা, রাজ্য সরকার এবং রাজ্যের শিক্ষা প্রণয়নকারীরা এই রিপোর্ট ‘ভাল ভাবে গ্রহণ করবেন’ এবং ‘নতুন প্রাথমিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করবেন’। তাঁর মতে, এই রিপোর্টে শিক্ষায় প্রগতির পাশাপাশি বেশ কিছু গঠনমূলক সমালোচনা রয়েছে। তাঁর মত, প্রশংসার চেয়ে গঠনমূলক সমালোচনা থেকেই বেশি শেখা যায়।

লেখক একজন স্বতন্ত্র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী

Share this
Leave a Comment