সারা পশ্চিমবঙ্গের আশাকর্মীরা গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। কী পরিস্থিতিতে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন আশাকর্মীরা, জানা গেল তাঁদেরই মুখ থেকে।
সুদর্শনা চক্রবর্তীর প্রতিবেদন
সারা পশ্চিমবঙ্গের আশাকর্মীরা গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন। সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন এআইইউটিইউসি-র নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন রাজ্যব্যাপী আন্দোলন-কর্মসূচী ও কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি তাঁরা স্বাস্থ্যভবন অভিযান করেন ও প্রতিনিধি দল রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে আশাকর্মীদের ন্যায্য পাওনা ও তাঁদের দাবি মতো বেশ কিছু বকেয়া দ্রুত মেটানোর কথা বলা হয় ও সেগুলি চালুও হয়েছে। কিন্তু মূল দাবি ভাতা বৃদ্ধি – বর্তমান মাসিক ৫২৫০ টাকা বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৫,০০০ টাকা করা তা এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে মানা হয়নি। তাই আশাকর্মীদের সকলের সিদ্ধান্তে চলছে কর্মবিরতি। আগামী ২১ জানুয়ারি সরকারি আধিকারিকদের কথা মতোই আবারও তাঁরা স্বাস্থ্যভবনে যাবেন। ঠিক কী পরিস্থিতিতে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন আশাকর্মীরা, জানা গেল তাঁদেরই মুখ থেকে। সুদর্শনা চক্রবর্তীর প্রতিবেদন।

গত ৭ জানুয়ারি আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান
মুনিরা খাতুন – রঘুনাথগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ: “আমি একজন নারী, আমার বয়স ষাটোর্দ্ধ হতে পারে, আমার সুগার, প্রেশার থাকতে পারে, আমি যখন রাত্রে প্রসূতী মা-কে নিয়ে বেরোই, আমার নিরাপত্তা কোথায়? আমার জন্য বাথরুম কোথায়? আমার বসার জায়গা কোথায়? হাসপাতালে আমাদের নার্সদের বাথরুম পর্যন্ত ইউজ করতে দেয় না। রোগীকে ভর্তি করার পরই চলে যেতে বলে। ভয়ে আমরা জল খাই না। অথচ মায়েদের দিনে তিন লিটার জল খাওয়ার পরামর্শ দিই। আমাদের যেভাবে টাকা দেওয়া হয়, সেটাকে ভিক্ষা দেওয়া ছাড়া কিছু মনে করি না আমরা। অফিসের বাথরুমে তালা দিয়ে রাখছে, যাতে আমরা ইউজ না করি, এতটা নির্লজ্জ হয় আধিকারিকেরা। আমাকে জল টেস্ট করতে হচ্ছে, আমাকে মেলায় ডিউটি করতে হচ্ছে, স্কুলে খেলায় ডিউটি করতে হচ্ছে – অথচ সেখানে আমাদের সম্মানজনক একটা টিফিন পর্যন্ত দেওয়া হয় না, পারিশ্রমিক তো দূরের কথা। চাইলে জলের বোতল দেয় কি দেয় না। ওই জায়গায় সিভিক ভ্লেন্টিয়ারকে বিরিয়ানির প্যাকেট দেওয়া হয় আর আমাদের বেলায় কিছু নয়। কাজ যখন করব তখন আমি স্বাস্থ্যকর্মী, টাকা যখন চাইব, তখন আমি ভলান্টিয়ার। আমার কোনোও মূল্য নাই। লাখ লাখ টাকা বেতন পায় যারা তারা আমাদের দশ টাকা পর্যন্ত কাটে, হাত কাঁপে না। আমি কাজ করি, কাজের দাম চাই। ব্যাস।“
প্রণতী মুখার্জী – গোহাট, হুগলি: “৫২৫০ টাকা পাই। সেই টাকায় সংসারের কিচ্ছু চলে না। অনেকেই বিধবা হয়েছেন। অনেকের ছেলে নাই, মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। তারপর এত পরিশ্রম করে কাজ করার পর এই টাকায় কিছু চলে না। আমরা আমাদের সব দাবি-দাওয়া সর্বস্তরে জানিয়েছি। টর্চার করে, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি। একটা সময়ের পর আমরা অধৈর্য্য হয়ে গেছি। আমরা আর পারছি না। আমাদের তো বয়স হচ্ছে। আমরা আর পেরে উঠছি না। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের অনেক কিছু উপাধি দিয়েছেন – বীরাঙ্গনা, বঙ্গজননী। করোনার সময় কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউনিসেফ থেকে আমাদের জন্য সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছেন। সেই সার্টিফিকেট উনি নিয়ে এসেছেন, হেলিকপ্টার থেকে ফুল বৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আমাদের পেটের ভাত জড়ো হয়নি। না মমতা ব্যানার্জি, না নরেন্দ্র মোদি – কোনোও সরকার আমাদের জন্য একদম ভাবেননি। উনি খেলা, মেলাতে টাকা ওড়াচ্ছেন, উনি দুর্গা পুজোয় টাকা ওড়াচ্ছেন, ওনারা ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করছেন। কিন্তু আমরা গ্রামীণ এলাকার আশাকর্মীরা যে সংসার চালাতে পারছি না, বাচ্চার শিক্ষা-স্বাস্থ্য কিচ্ছু করতে পারছি না, সেদিকে কেউ নজর দিচ্ছে না। উনি প্রশংসা ছাড়া আমাদের আর কিছুই দিচ্ছে না। আমরা ভেবেছিলাম সরকার অন্তত মা, শিশুর স্বাস্থ্যর বিষয়টায় গুরুত্ব দেবেন। আমার বাড়ির শিশুর স্বাস্থ্যও বিপন্ন। কোনোও আশাকর্মী মা হলে তিনি তাঁর সন্তানকে ছ’মাস বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন না, অথচ তিনিই গ্রামের সদ্য মায়েদের এই পরামর্শ দেন। আশাকর্মীর সন্তান হলে পরের মাসেই কাজে যোগ দিচ্ছেন। দু’জন প্রসূতি মা কি আলাদা? আমার মনে হয়, ওনার এটা উদাসীনতা। উনি তো সুপ্রিম কোর্টের রায়ও মানেন না। এই টাকার মধ্যে কারোর স্বামীর রেডিয়েশান চলছে, কারোর কেমো চলছে, কেউ হার্টের রুগী, সংসার যদি না চালাতে পারি, নিজের স্বামীকে, পরিবারের লোককে কীভাবে বাঁচাব! কর্মবিরতিতে আমরা ভালো নেই, কারণ আমরা সব সময়ে কাজের মধ্যে থাকি। দু’টোর সময় ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। রাতে ঘুমোতে পারি না। কিন্তু আমাদের পেটেও তো খিদেও আছে।“
আভা প্রধান, ঝর্ণা মান্না – দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর: “যে হারে আমাদের খাটুনি, আমাদের কোনো সময়সীমা নেই, আমাদের সব সময়েই বাইরে বাইরে কাজ করতে হয়। সেই অনুপাতে আমরা যে ইনসেনটিভ, যে ভাতা পাই তা খুবই কম। এইটা আমাদের সংসার চালানোর পক্ষে খুব অসুবিধা হচ্ছে। আমাদের নির্দিষ্ট কাজ তো শুধু ছিল মা, শিশুকে নিয়ে। কিন্তু এখন তো আমরা স্বাস্থ্য দপ্তরের যত রকমের কাজ, গ্রামের ক্ষেত্রে…গ্রাম হোক, বাইরে হোক, সুগার, প্রেশার, কোলেস্টরাল মাপা, বা যে বিভিন্ন জাতীয় প্রোগ্রাম হয়, ভিটামিনের প্রোগ্রাম, পালস-পোলিও প্রোগ্রাম – সব বাচ্চাকে পাই-টু-পাই ধরে খাওয়াতে হয়, আবার ওইগুলোর হিসাব দিতে হয়। আবার ধরুন টিন-এজ প্রেগন্যান্সি – সেগুলোর হিসেব, সেগুলো কেন হচ্ছে, সেগুলো প্রতিরোধ করা, বিভিন্ন মিটিং মানে অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম ছাড়াও, কোথায় খেলা হচ্ছে, কোথায় মেলা হচ্ছে, কোথায় পরীক্ষা হচ্ছে, এইসব বিভিন্ন জায়গায় ডিউটি দিতে হয়। আমাদের কাজ থাকলেও সেখানে যেতে হয়, তখন খুবই সমস্যার সৃষ্টি হয়। বারেবারে সরকার কথা দিচ্ছে, কিন্তু কথা শুনছে না। দীর্ঘদিন আমাদের ইনসেনটিভ বন্ধ, কিন্তু কাজ চাপিয়েই যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মিশন স্বীকার করেছেন যে আশা-রা হচ্ছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের স্তম্ভ। এই স্তম্ভ যদি কোনো কারণে বসে যায়, তাহলে স্বাস্থ্য দপ্তর বিঘ্নিত হবে। আমাদের কর্মবিরতিতে যদি কোনোও ক্ষতি হয়, সে দায় সরকারের।”
সুলতানা বেগম – মগরাহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: “সরকার উদাসীন আমাদের প্রতি। আমরা যে এত কাজ করে বেড়াচ্ছি গ্রামে, শহরে, মা ও শিশুর পরিষেবা থেকে শুরু করে – এক কথায় বলা যায়, শিশুর ভ্রূণ থেকে শুরু করে একেবারে বার্ধক্য পর্যন্ত আমরা প্রত্যেকটা মানুষের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমাদের ‘দিদিমনি’ আমাদের দিকে কোনোও দৃষ্টিপাত করছেন না। এই যে অবজ্ঞা, অবহেলা…। সমস্ত আধিকারিকেরা যে যেমন পারেন আমাদের খাটিয়ে নেন। খেলায়, মেলায়, স্কুলে ডিউটি। তারপরে দুয়ারে সরকার, মানে এ টু জেড। এই যে এখন মন্দির করছে, ২৫০ কোটি টাকা, সেই জায়গায় দিদিমনি টাকা দেবেন। কিন্তু যাঁরা খেটে খাচ্ছেন, সত্যি যাঁদের পয়সার দরকার দিদিমনির সেদিকে কোনো গুরুত্বই নেই।“
মৃণ্ময়ী সর্দার মন্ডল – জয়নগর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: “প্রথমত, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি দেয়নি। আমাদের মাইনে বিগত কয়েক বছর বাড়ানোও হচ্ছে না। কাজের পর কাজ চাপানো হচ্ছে, সব জায়গায় ডিউটি। জোরপূর্বক, করতেই হবে। যেগুলো আমাদের করার কথা নয়। বলে, ‘এগুলো না করলে হবে কী করে? তোমরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছো।‘ এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি বলে কি আমরা সব কাজ করব! আমরা দিন-রাতের যেকোনো সময় মা-বাচ্চাকে পরিষেবা দেওয়ার পরেও আমাদের মাইনেগুলো আটকে থাকে।“
তহমিনা বিবি, তাঞ্জিলা খাতুন – বসিরহাট, উত্তর ২৪ পরগণা: “কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি পেটের দায়ে। আমরা যে কাজ করি ২৪ ঘন্টা তার নিয়ম মতো পারিশ্রমিক পাই না। যাঁদের উপর ভিত করে স্বাস্থ্য সমস্ত দাঁড়িয়ে আছে, তাঁদের জন্য ‘উনি’ কিছু করতি পারছেন না। ক্লাবে ক্লাবে টাকা দিচ্ছে। ওসবগুলো তো অপচয় করছে। যাঁরা অরিজিনাল পাওনাদার তাঁদের কিচ্ছু দিচ্ছে না। আমাদের তো কিছুই দিচ্ছে না। আমরা নিয়োগ হওয়ার পর থেকে মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার অনেক কমে গেছে, ‘হোম ডেলিভারি’ আমাদের মোটেও নেই। আমরা সব হসপিটালে ডেলিভারি করার চেষ্টা করি। ওনারা যাই আমাদের ঘাড়ে চাপান আমরা সব ফুলফিল করে দিই। ওনাদের নাম আছে আমাদের জন্য। কিন্তু আমাদের দিকে দেখে না। আমাদের তো একটা পেটের জ্বালা আছে। ৫২০০ টাকায় কী হয়? বাড়িতে যাই হয়ে যাক, পরের বাচ্চা সামলাতে হচ্ছে। আমাদের কোলের বাচ্চাকে রাতে বাড়িতে শুইয়ে রেখে গর্ভবতী মা-কে হসপিটালে ডেলিভারি করাতে নিয়ে যাই।”
মীনা মুন্ডা, জিতা গুরুং – কালচিনি, আলিপুরদুয়ার: “মজবুরন হামলোগোকো রাস্তে পে আনা পড়া। ইস সে হাম খুশ নেহি হ্যায়। লেকিন হাম ভি মজবুর হ্যায়। হামারে ঘর মে ভি বালবাচ্চা হ্যায়। উনকো পড়ানা হ্যায়, খিলানা হ্যায়, সবকুছ তো করানা হ্যায় না? সনসার তো নেহি চলতা হ্যায় না। হাম ভি মজবুর হ্যায় ইস আন্দোলন কো উঠানে কে লিয়ে। হামকো ভি সমঝ মে নেহি আ রহা হ্যায়, মমতাদিদি কিঁউ নেহি সমঝ রহি হ্যায় কে হামলোগো কে উপর অত্যাচার হো রহা হ্যায়। গরম, পানি, তুফান সব নিপট কে আপনা ডিউটি নিভাতে হ্যায় হামলোগ।“
স্বপ্না সর্দার, সইফুন্নিসা – মালদা: “যাঁরা স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে তাঁদের অন্তত পরিষেবাটুকু দেওয়া উচিৎ। প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছে, কাজে করছে না। আমাদের কাজকে গুরুত্ব দেবে কী করে? ক্লাবগুলোকে তো দিয়ে দিচ্ছে। লাখ লাখ টাকা সেখানে দিয়ে দিচ্ছে তো আশাদের দেবে কী! হাত তো খালি। সেইজন্যই আমাদের রাস্তায় নামতে হচ্ছে। মন্দির তৈরি হচ্ছে অত টাকা দিয়ে, আমাদের সামান্য বেতন দিতে পারছে না?”
অষ্টমী মাহাতো – পুঞ্চা, পুরুলিয়া: “আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে দিদি। আমরা সমকাজে সমবেতন পাইনি। ৫২৫০ টাকায় বর্তমান দিনে কিচ্ছু হয় না। আমাদের গ্রামের মায়েরাও বলেছে – এই টাকায় তোমাদের কী হবে? আমরা যদি লেবার খাটতে যাই তাহলেও ৫০০ টাকা দিনে কম করে পাই, এই টাকায় তোমাদের কিছুই হবে না। তোমরা আন্দোলন করো। আমরা পাশে আছি। সরকার আমাদের পেটে লাথি মারছে।“
সেলিনা বিবি – মুর্শিদাবাদ, লতিকা বর – দক্ষিণ ২৪ পরগ্ণা: “সরকার অবহেলা করছে আশাদেরকে, কোনোও গুরুত্ব দিচ্ছে না। কেন দিচ্ছে না সেটাই প্রশ্ন আমাদের। সেইজন্যই রাস্তায় নামা। ওরা যা বলছে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেটা পালন করছি বলে, ওরা আমাদের অগ্রাধিকার কিচ্ছু দিচ্ছে না। আমাদের ২৪ ঘন্টা সার্ভিস, বাড়িতে যে পরিস্থিতিতেই থাকি না কেন। যেহেতু মহিলারা সব সময়ে একটু নরম থাকে। আমাদের হয়তো ভেবেছে – এরা তো মহিলা এদের যতসামান্য কিছু দিলেই হবে। অনেক রাজ্যে মাইনে বেড়েছে, কিন্তু আমাদের বাড়েনি।“
শকুন্তলা সিং – খিদিরপুর: “ওনারা অফিসে বসে যখন যা রিপোর্ট চাইছেন পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ফিল্ডে তো আমাদেরই খাটতে হচ্ছে। আশাকর্মীদের জীবনে সুখ বলে কিছু নেই। মহিলা বলে যে দুর্বল সেটা ভাবা ঠিক নয়।“
মিনতি সরকার – উত্তর দিনাজপুর: “মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিপন্ন হচ্ছে। ওনারা তো অফিসে বসে রিপোর্ট-টা পাচ্ছেন না, গ্রামের লোক তো নিজেরা এসে রিপোর্ট দেবে না। আমাদের তো বাড়ি গিয়ে গিয়ে রিপোর্টটা কালেক্ট করতে হয়। আমরা যেহেতু ফিল্ডে কাজ করি, সম্পূর্ণ গ্রাম আমাদের ভরসা করে। গ্রামের মানুষেরা আমাদের সঙ্গে আছেন। বলছেন – ‘তোমরা এত কাজ করো, তোমাদের টাকা দেয় না? এদিকে খেলার মাঠে, মেলার মাঠে দেখছি প্রচুর টাকা আসছে!’ গ্রামের মানুষেরা, আমরা বলি, কম বোঝে, অথচ তাঁরা নিজেদের মতো করে বুঝে ঠিক বলছেন। আমরা যারা সরকারের কাজ করে দিচ্ছি তাদের এই টাকা দিচ্ছে? বড় বড় ঘরের লোকেরা তো একদিন রেস্টুরেন্টে গেলেই ৫০০০ টাকা বিল করে ফেলে। আর তা দিয়ে আমাদের সংসার চালাতে হচ্ছে। সবার আর্থিক অবস্থা তো ভালো থাকে না, সেইজন্যই তো কাজে নেমেছে। আমাদের পেটে গামছা বেঁধে রাস্তায় নামতে হয়েছে। গৃহবধূরা যেমন বাড়ির সমস্ত কাজ করেন, কোনোও পয়সা পান না, শুধু দুই বেলা খাওয়া – এই কাজটাও যেন ঠিক সেরকম হয়ে গেছে।”

