এসআরএফটিআই-তে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের হামলা, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ, প্রতিষ্ঠানে শুরু ছাত্র ধর্মঘট


  • October 4, 2026
  • (0 Comments)
  • 46 Views

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট-এ হামলা চালাল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। তারা এসেই গেট ভাঙার চেষ্টা শুরু করে এবং এক নাগাড়ে পাথর, ইঁট, বোতল ইত্যাদি ছুঁড়তে শুরু করে। টানা প্রায় দু’ঘন্টা তারা একটানা এই ঘটনা ঘটিয়ে চলে।

 

সুদর্শনা চক্রবর্তীর প্রতিবেদন

 

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট-এ হামলা চালাল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। ৪ অক্টোবর, রবিবার তারা বিকেল চারটের কাছাকাছি সময়ে মিছিল করে এস আর এফ টি আই-এর  মূল গেট-এর সামনে পৌঁছায় ও সঙ্গে সঙ্গেই হিংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করে। টানা দু’ঘন্টা তারা গেট-এর সামনে যথেচ্ছ হিংসা সংঘটিত করে।

 

এস আর এফ টি আই-এর ছাত্র ইউনিয়ন-এর সভাপতি ব্লসম হাজারিকা এদিনের আক্রমণ বিষয়ে জানান, তাঁরা আগেই যেহেতু এই মিছিল ও জমায়েতের খবর পেয়েছিলেন ও পোস্টার ইত্যাদিও দেখেছিলেন, তাই পুলিস প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন, তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাঁদের শান্তি বজায় রাখতে বলেছিলেন এবং ক্যাম্পাসে থাকা সব শিক্ষার্থীরাই সেই পরামর্শ মেনেই ছিলেন।

 

“আমরা সবাই গেটের ভেতরে অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। গান গাইছিলাম। তারমধ্যেই স্লোগান শুনতে পাই যে ওরা আসচে। আমরা তখন জোট বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিলাম গেটের থেকে অনেকটা ভেতরে। ওরা এসেই গেট ভাঙার চেষ্টা শুরু করে এবং এক নাগাড়ে পাথর, ইঁট, বোতল ইত্যাদি ছুঁড়তে শুরু করে। টানা প্রায় দু’ঘন্টা তারা একটানা এই ঘটনা ঘটিয়ে চলে। আমরা কোনো রকম উসকানিতে পা দিইনি। গেট থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আমরা গান গেয়েছি।”

 

আক্রমণকারীদের মুখে ছিল “জয় শ্রী রাম”, ” দেশ কে গদ্দারো কো/গোলি মারো শালো কো” আর পাকিস্তান বিরোধী স্লোগান। বিপরীতে পড়ূয়ারা জয় ভীম, ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়েছেন শান্তিপূর্ণভাবে। এক সময়ে যখন তাঁরা ‘জনগণমন’ গাইতে শুরু করেন, এমনকি তখনোও লাগাতার পাথর ছোঁড়া চালিয়ে যায় আক্রমণকারীরা। গেট-এ ঝোলানো মহাত্মা গান্ধী ও বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর-এর ছবি ছিঁড়ে ফেলে তারা।

 

“দু’জন ছাত্র মাথায় চোট পায়, তাঁদের হাসলাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। তারজন্যও অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ৬.৩০-র আগে তা সম্ভব হয়নি। আরো অনেকেই দুষ্কৃতিদের ছোঁড়া পাথর, বোতলে আঘাত পেয়েছেন। আহত হয়েছেন উপস্থিত থাকা অধ্যাপকদের মধ্যে এক-দু’জনাও,” জানালেন ব্লসম।

 

প্রথমে ৫০-৬০ জন মিছিলকারী থাকলেও, পরে সেই সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ২০০ জন মতো হয়। গাড়ি নিয়ে এসে তার উপরে উঠে স্লোগান দেওয়া ও হামলা চালাতে থাকে তারা। গেটের সামনের দিকে ১৫-২০ জন পুলিসকে দেখতে পেয়েছিলেন ভেতরে থাকা পড়ুয়ারা। আগে থেকে চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো রকম বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না। মূল গেট-এর সামনে জমায়েত ও হামলা আটকাতে কোনো ব্যারিকেড-ও করা হয়নি। দুষ্কৃতিদের একজন গেট টপকে ভেতরে ঢুকেও পড়েছিলেন, যদিও তিনি তারপর একইভাবে বেরিয়েও যান।

 

সন্ধ্যা ৬’টার পর, প্রায় ৬.৩০টার কাছাকাছি পুলিস কিছুটা সক্রিয় হয়ে আক্রমণকারীদের সরাতে শুরু করে ও তারা ধীরে ধীরে চলে যায়। এরপর পড়ুয়ারা উপাচার্যকে ঘেরাও করেন ও আলোচনার পর একটি দাবিপত্র দিয়ে ঘেরাও তুলে নেন।

 

যে দাবিগুলি তাঁরা রেখেছেন:-

 

১) ৪ অক্টোবর ২০২৬ যে ঘটনা ঘটেছে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে তার দায়স্বীকার করতে হবে

২) এস আর এফ টি আই-এর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে তারজন্য ক্ষমা চাইতে হবে

৩) এই প্রতিষ্ঠানকে অতি দ্রুত সেই সংগঠনের নামে এফ আই আর করতে হবে, যারা এদিনের মিছিল ও পড়ুয়াদের উপর আক্রমণ সংঘটিত করেছে

৪) পুলিসের নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চার্জশিট দায়ের করতে বলতে হবে

৫) অখিল ভারত জাগরণ পঞ্চায়েত ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে হবে

৬) উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার-এর ইস্তফা।

 

দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাচর্চা বন্ধ ও ধর্মঘট শুরু করলেন বলে উপাচার্যকে জানিয়েছেন।

 

Share this
Tags :
Leave a Comment