মজা কী জানেন, কৃষিঋণ মকুবের প্রশ্ন উঠলেই যে যুক্তিগুলো সার বেঁধে আসে সেগুলো আমাদের মুখস্থ — এতে ঋণ-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়, চাষি অভ্যাস খারাপ করে ফেলবেন, করদাতার টাকার অপচয় হয়। অথচ কর্পোরেট রাইট-অফের বেলায় সেই একই জিনিস হয়ে যায় ব্যালান্স শিট পরিচ্ছন্ন করার প্রযুক্তিগত পদ্ধতি — কোনও নৈতিক বিপদ নেই, শৃঙ্খলাভঙ্গ নেই, নাম প্রকাশেরও দরকার নেই।
টিংকু খান্না
গত ২৫ অগস্ট দিল্লির ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের তৃতীয় সদস্য নীলেশ শর্মা যে মতামতটি দিলেন, তাতে গোটা দেশের অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা সেদিন এক ধাক্কায় থমকে গিয়েছিল। এসেল তথা জ়ি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত দেউলিয়া মামলায় স্বীকৃত দাবি ২২,০০৬ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা; অনুমোদিত পুনঃপরিশোধ পরিকল্পনায় ঋণদাতাদের জন্য বরাদ্দ ৬ কোটি ২৫ লক্ষ; প্রক্রিয়ার খরচ ধরে সব মিলিয়ে সাড়ে ছ’ কোটি। শতাংশের হিসেবে আদায় ০.০৩, ছাড় ৯৯.৯৭। মামলাটা অবশ্য নতুন নয়, ইন্ডিয়াবুলস হাউজিং ফিনান্স সেই ২০২২ সালেই বিধির ৯৫ ধারায় প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, কারণ সুভাষ চন্দ্র এসেল-সংশ্লিষ্ট গোটা কয়েক কোম্পানির ঋণের ব্যক্তিগত গ্যারান্টার ছিলেন। কিন্তু ২৫ অগস্টের পরের দশটা দিনে যা যা ঘটল, সেটাই আসলে এই লেখার বিষয়। কারণ এটা কেবল একজন মিডিয়া-মালিকের আর্থিক পরিণতির গল্প নয় — এ দেশে ঋণ জিনিসটা কার বেলায় কেমন আচরণ করে, তার প্রায় নিখুঁত একটা পাঠ।
এক।
ব্যাখ্যা এল চব্বিশ ঘণ্টায়
খবর ছড়ানোর একদিনের মধ্যেই “সরকারি সূত্র” মারফত ব্যাখ্যার একটা বেশ গোছানো সেট বাজারে চলে এল। এটা ঋণ মকুব নয়; তিনি নিজে ঋণ নেননি, গ্যারান্টার ছিলেন মাত্র; মূল ঋণ মঞ্জুরির সময়ে দেওয়া ব্যক্তিগত গ্যারান্টির অঙ্ক ২,৫৭৪ কোটি, বাইশ হাজার নয়; কোম্পানির কাছ থেকে আদায় চলতেই থাকবে; আর সবশেষে, এটা নেহাতই একটা ব্যতিক্রমী ঘটনা, দেউলিয়া বিধির সাধারণ চেহারা নয়।
সুভাষ চন্দ্র নিজেও চুপ করে থাকেননি — ২৭ থেকে ২৯ অগস্টের মধ্যে পরপর বিবৃতি আর ভিডিও বার্তায় তিনি জানালেন, এসেল গোষ্ঠী তাদের প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার দায়ের মধ্যে ৪৩ হাজার কোটিই শোধ করে দিয়েছে, আপত্তি জানানো ঋণদাতাদের আসল দাবি বাইশ হাজার কোটি নয় বরং প্রায় ৩,৯৯২ কোটি, এবং তাঁর দেওয়া অধিকাংশ গ্যারান্টি সই হয়েছিল ২০১৯-এর ২৪ জানুয়ারির পরে, যখন গোষ্ঠীর ঋণ খেলাপ ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে আর ব্যাঙ্কগুলোই কর্মীদের ভবিষ্যতের কথা বলে তাঁর কাছে গ্যারান্টি চেয়েছিল। নিজের ঋণ, খেলাপ আর পরিশোধের একটা স্বাধীন নিরীক্ষার দাবিও তিনি তুলেছেন। বক্তব্যগুলো নথিভুক্ত থাকা দরকার, এবং সেগুলো নিয়ে তর্কও করা দরকার।
তার আগে একটা কথা। এ দেশে বেকারত্বের হিসেব নিয়ে, এনসিআরবি-র পরিসংখ্যান নিয়ে, জনগণনার তারিখ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পেতে মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর লেগে যায়। অথচ একজন সংবাদমাধ্যম-মালিকের দেউলিয়া সংক্রান্ত আদেশের গায়ে ব্যাখ্যার প্রলেপ পড়তে লাগল এক দিন। রাষ্ট্র কার সম্মান রক্ষার জন্য কত তৎপর সেটাও একটা তথ্য, আর সেই তথ্যটা কোনও পরিসংখ্যান-দপ্তরের প্রকাশনায় খুঁজে পাবেন না। ব্যাখ্যার পিছু পিছু নেমে পড়লেন অনুগামীর দল — আগে আইন জানুন, না জেনে মন্তব্য করাই এদের স্বভাব, ফেক নিউজ ছড়াবেন না ইত্যাদি ইত্যাদি। এঁদের কাজের ধরনটা লক্ষ করার মতো, কারণ এঁরা মিথ্যা বলছেন না; এঁরা সঠিক তথ্য দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছেন। কোনও একটা শিরোনামের অসতর্ক শব্দ ধরিয়ে দিয়ে গোটা প্রশ্নটাকেই অবৈধ প্রমাণ করার চেষ্টা, ফ্যাক্ট-চেকের ভাষায় সাজানো একটা প্রতিরক্ষা-ব্যূহ। ফল যা হয় তা হল, আলোচনা প্রশ্নের বিষয়বস্তু থেকে সরে গিয়ে প্রশ্নকর্তার যোগ্যতায় গিয়ে ঠেকে। বিতর্কের খুব পুরনো কৌশল, এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে খুবই কার্যকর।
তা ব্যাখ্যায় যা ঢাকা পড়ে না, সেগুলো বলি। ব্যক্তিগত গ্যারান্টি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয় — সরকারি হিসেব মেনে নিলেও ২,৫৭৪ কোটির দায়ও তো মিটছে সাড়ে ছ’ কোটিতে। বড় কর্পোরেট ঋণে ব্যাঙ্ক যে ঝুঁকিটা নেয়, তার একটা বড় ভিত্তিই হল প্রোমোটারের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, অর্থাৎ কোম্পানি ডুবলেও ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে কিছুটা উদ্ধার হবে এই বিশ্বাস; কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের গবেষকরাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এটা খুবই চেনা উপকরণ। সেই উপকরণের বাস্তব মূল্য যদি শূন্যের কাছাকাছি দাঁড়ায়, তবে ব্যাপারটা একজনের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় নয়, ব্যবস্থার ভিতরের একটা ফাটল। আর আপত্তিটা তুলেছেন কারা, সেটাও মনে রাখা দরকার — বামপন্থীরা নয়, ঋণদাতারা নিজেরাই। এলআইসি হাউজিং ফিনান্স, ক্যানারা ব্যাঙ্ক, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (ইউকে) আর এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল, যদিও তাদের ভোটের ভাগ কুড়ি শতাংশেরও কম, আর পরিকল্পনা পাশ হয়ে যায় ৮০.৮১ শতাংশ ভোটে। আপত্তির কারণ সম্পদের অঙ্ক: আদালতের নথিতে ২০১৭ আর ২০১৮ সালের নিট সম্পদের শংসাপত্রে যে হিসেব — প্রচারিত সংখ্যা অনুযায়ী ৪৫,৮৮৮ কোটি আর ৪০,৫৬২ কোটি — তার পাশে ঘোষিত বর্তমান সম্পদ ৩১ কোটি ৭৯ লক্ষ। সুভাষ চন্দ্রের পাল্টা বক্তব্য, ওই পুরনো হিসেব আসলে গোষ্ঠীর কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ধরে করা, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের প্রতিফলন নয়। তর্কটা বৈধ, এবং সেই তর্ক মেটাতেই ঋণদাতারা সম্পদের বিশদ ফরেনসিক তদন্ত চেয়েছিলেন। তৃতীয় সদস্য মনে করলেন, নিছক এই ব্যবধানই সম্পদ গোপন করার প্রমাণ নয় এবং পরিকল্পনা বিবেচনার আগে তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। মূল দুই সদস্যের বেঞ্চেও মত মেলেনি; বিভক্ত রায়ের পরেই তো তৃতীয় সদস্য বসাতে হয়েছিল। অর্থাৎ প্রক্রিয়াটা যতটা নিষ্কণ্টক বলে দেখানো হচ্ছিল, ততটা কোনও দিনই ছিল না।
আর “এতে সরকারি টাকা যাচ্ছে না” কথাটা অর্ধসত্য। রাজকোষ থেকে সরাসরি এক পয়সাও যাচ্ছে না, ঠিক; কিন্তু ক্যানারা আর ইউনিয়ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, এলআইসি হাউজিং ফিনান্সের প্রোমোটার রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বিমা নিগম। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লোকসানের তলায় থাকে আমানতকারীর টাকা — মাসের শেষে যে বৃদ্ধা পেনশনের কিছুটা ফিক্সড ডিপোজিটে রাখেন, তাঁরই টাকা — আর মূলধন ঘাটতি মেটানোর দায় গত এক দশকে বারবার কোষাগারের ঘাড়েই এসে পড়েছে। এর সঙ্গে যোগ করুন খুচরো বিনিয়োগকারীর কথা: এসেল ইনফ্রাপ্রোজেক্টসের যে ডিবেঞ্চারগুলো ২০২০-তে খেলাপ হল, তার পিছনেও ছিল সুভাষ চন্দ্রেরই ব্যক্তিগত গ্যারান্টি, আর সেই কাগজ ধরে রেখেছিল ফ্র্যাঙ্কলিন টেম্পলটনের যে ঋণপত্র প্রকল্পগুলো ওই বছরেরই এপ্রিলে গুটিয়ে ফেলা হয়, যাতে মার খেয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ ইউনিটহোল্ডার। তাঁরা অলিগার্ক নন, অবসরের সঞ্চয় ঋণপত্র তহবিলে রাখা মধ্যবিত্ত।
দুই।
তারপর ব্যবস্থা নিজেই ঠোক্কর খেল
এখানে একটা কথা গোড়াতেই স্পষ্ট করে নেওয়া দরকার, কারণ এর উপরেই বাকিটা দাঁড়িয়ে আছে। ২৫ অগস্টের ওই ছাড় আসলে চূড়ান্তই হয়নি। ৩১ অগস্ট বিচারবিভাগীয় সদস্য অশোক কুমার ভরদ্বাজ আর কারিগরি সদস্য রীনা সিনহা পুরীর মূল বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তৃতীয় সদস্যের মত মূল বেঞ্চের কারও সঙ্গেই মেলেনি, ফলে কোম্পানি আইনের ৪১৯(৫) ধারার অর্থে কার্যকর করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ মত তৈরিই হয়নি এবং চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টা ফিরে যায় ট্রাইব্যুনালের সভাপতির কাছে, আর সভাপতি বিচারপতি (অবসরপ্রাপ্ত) অনুপিন্দর সিং গ্রেওয়াল গঠন করেন পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ — এনসিএলটি-র ইতিহাসে যা প্রথম।
১ সেপ্টেম্বর সেই বেঞ্চ ২৫ অগস্টের আদেশে স্থগিতাদেশ দেয়, সব পক্ষকে নোটিস পাঠায়, আর ব্যক্তিগত গ্যারান্টার হিসেবে সুভাষ চন্দ্রকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনও উপায়েই সম্পত্তি হস্তান্তর করতে নিষেধ করে; নতুন করে শুনানির দিন ২৩ সেপ্টেম্বর। পাশাপাশি এলআইসি হাউজিং আর অন্য আপত্তিকারীরা আপিল ট্রাইব্যুনালে গেছেন, যেখানে ৩১ অগস্ট জরুরি শুনানি চেয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন যে এই আদেশ বহাল থাকলে দেউলিয়া বিধির উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে; ২ সেপ্টেম্বর আপিল ট্রাইব্যুনাল আবেদনটা মুলতুবি রেখে পরের শুনানি ধার্য করেছে ৭ অক্টোবর।
এখান থেকে কয়েকটা কথা বেরিয়ে আসে। এক, ২৫ অগস্টের পর গোটা দেশের সংবাদমাধ্যম লিখেছিল “এনসিএলটি অনুমোদন করেছে”, এবং সেদিনের নিরিখে কথাটা ভুলও ছিল না — কিন্তু আজ আর তা সঠিক নয়, আর তথ্য বদলে গেলে বিবরণটাও বদলে নেওয়াই রীতি; যাঁরা “ফেক নিউজ” বলে চিৎকার জুড়েছিলেন তাঁদের কাছ থেকেও একই সততা আশা করা যায় কি না, সে অবশ্য আলাদা প্রশ্ন।
দুই, এই সংশোধনে মূল বক্তব্য দুর্বল হয় না, বরং শক্ত হয়, কারণ যে নিষ্পত্তি নিয়ে মূল বেঞ্চ বিভক্ত হল, তৃতীয় সদস্যের মতও কারও সঙ্গে মিলল না, ইতিহাসে প্রথমবার পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বসাতে হল, আর সরকারেরই সর্বোচ্চ আইন-কর্মকর্তা আদালতে দাঁড়িয়ে বললেন যে এতে আইনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হচ্ছে — তাকে “স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া, আপনি বুঝতে ভুল করেছেন” বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না। ব্যবস্থাটা নিজেই এই প্রস্তাব হজম করতে পারেনি।
তিন, যে সরকারি সূত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বলে দিয়েছিল বিতর্কটা অতিরঞ্জিত, সেই সরকারেরই সলিসিটর জেনারেল এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে দাঁড়িয়ে বলছেন এই আদেশে বিধির উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। প্রশ্নটা তাহলে অতিরঞ্জিত ছিল, না ব্যাখ্যাটাই তাড়াহুড়োর?
চার নম্বর কথাটা সবচেয়ে জরুরি। প্রক্রিয়াটা আপনা থেকে সংশোধিত হয়নি। হয়েছে কারণ এলআইসি হাউজিং, ক্যানারা, ইউনিয়ন, এইচডিএফসি-র মতো প্রতিষ্ঠান লড়ে গেছে, আর কারণ বিষয়টা নিয়ে প্রকাশ্যে যথেষ্ট হইচই হয়েছে। যেখানে লড়ার কেউ নেই, যেখানে কোনও হইচই হয় না, সেখানে গভীর ছাড় নিঃশব্দেই অনুমোদিত হয়ে যায় — বিশেষত অপারেশনাল ক্রেডিটরদের বেলায়, যাঁদের বড় অংশ ছোট ও মাঝারি শিল্প, সরবরাহকারী, কিংবা বকেয়া মজুরির দাবিদার ঠিকা শ্রমিক। আর এই লেখার শেষে যে চল্লিশ হাজার টাকার কথা আসবে, তার জন্য কোনও পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ বসে না। বসার মতো একটা বেঞ্চও নেই।
তিন।
ব্যতিক্রম, না নিয়ম
সুভাষ চন্দ্রের মামলাটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা হচ্ছে। সেই দাবির পরীক্ষা সরকারের নিজের দেওয়া সংসদীয় হিসেব দিয়েই করা যায়। ২০২৫-এর মার্চে লোকসভায় সাংসদ আমরা রামের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, গত দশ অর্থবর্ষে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলো ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ রাইট-অফ করেছে, যার প্রায় ৯ লক্ষ ২৬ হাজার কোটিই বড় শিল্প ও পরিষেবা খাতের। ২০২৬-এর অগস্টে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীর উত্তরে আরও সাম্প্রতিক ছবি মিলেছে: ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬, এই বারো বছরে কেবল বড় কর্পোরেট আর পরিষেবা খাতেই রাইট-অফ ৯ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, একক বছরে সর্বোচ্চ ২০১৮-১৯ সালে এক লক্ষ আটচল্লিশ হাজার সাতশো তিপ্পান্ন কোটি, আর সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সংখ্যাটা নেমে ২০২৫-২৬ সালে ২০,৪৮৫ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যাগুলো এত বড় যে মাথায় ধরে না; একটা তুলনা দিই — পশ্চিমবঙ্গের একটা গোটা অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট এই অঙ্কের একটা ভগ্নাংশ মাত্র।
প্রতিবার একই বুলি শোনা যায়: রাইট-অফ মানে মকুব নয়, এটা নিছক হিসাবরক্ষণের পদ্ধতি, দায় থেকে যায়, আদায় চলবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। তো কত্তা, বলি আদায় হল কত? সরকারের নিজের হিসেবেই, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলো পাঁচ অর্থবর্ষে রাইট-অফ করা ঋণ থেকে ফেরত পেয়েছে ১ লক্ষ ৩ হাজার কোটির মতো, যেখানে ওই পাঁচ বছরেই তারা মুছেছে ৬ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি; ২০২৫-এর মার্চে রাজ্যসভায় অর্থমন্ত্রী দীর্ঘতর সময়সীমা ধরে যে ২ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি আদায়ের কথা বলেছেন, তাতেও অনুপাত মোটামুটি একই জায়গায় দাঁড়ায় — মোছার তুলনায় ফেরত এক-পঞ্চমাংশ থেকে এক-ষষ্ঠাংশের আশপাশে। যে টাকা এক দশকেও ফেরে না, তাকে “ফিরবে” বলে চালিয়ে যাওয়ার নাম ব্যাখ্যা নয়, বাগাড়ম্বর, গ্যাসলাইটিং।
এদের নিজস্ব পরিসংখ্যানও একই দিকে আঙুল তোলে: আইবিবিআই-এর তথ্য বলছে ২০২৫-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুমোদিত সমাধান পরিকল্পনার আওতায় ঋণদাতারা পেয়েছেন ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি, স্বীকৃত দাবি যেখানে ১২ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি, অর্থাৎ ছাড় প্রায় ৬৭ শতাংশ; আর ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইক্রা-র হিসেবে আদায় নেমে ২৩ শতাংশে, গড় ছাড় উঠে ৬৮ শতাংশে।
সরকারের যুক্তি — এবং যুক্তিটা একেবারে ফেলনা নয় — যে বিধির উদ্দেশ্য “রিকভারি নয়, রেজলিউশন”, ধুঁকতে থাকা সংস্থাকে বাঁচিয়ে রাখা; আরও বলা হয় যে স্বীকৃত দাবির সঙ্গে আদায়ের যান্ত্রিক তুলনা করলে ছাড়ের চেহারা বাস্তবের চেয়ে ভয়াবহ দেখায়, কারণ দাবির ভিতরে থাকে বহু বছরের জমা সুদ আর অর্থনৈতিক মূল্য হারানো সম্পদের হিসেব। যুক্তিটা মেনে নিয়েও প্রশ্নটা থেকে যায়, এবং প্রশ্নটা হিসাবরক্ষণের নয়: ৬৮ শতাংশ গড় ছাড়ের একটা ব্যবস্থায় ৯৯.৯৭ শতাংশ ছাড়ের প্রস্তাব ঋণদাতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পায় কী করে, আর সেই ভোটের যুক্তি কেন কোথাও লেখা থাকে না।
টাকাটা কারা নিলেন জানতে চাইলে উত্তর আসে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আইনের ৪৫E ধারায় ঋণগ্রহীতার তথ্য গোপনীয়, নাম প্রকাশ করা যাবে না; অর্থমন্ত্রী সংসদে সরাসরিই জানিয়েছেন যে কোম্পানি-ভিত্তিক হিসেব দেওয়া সম্ভব নয়। ২০২৪-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাজার কোটি বা তার বেশি অনাদায়ী ঋণ আছে এমন ২৯টি কোম্পানির মোট বকেয়া ৬১,০২৭ কোটি — এটুকু জানা যায়, কিন্তু কোন ২৯টি, জানা যায় না। শীর্ষ পঞ্চাশ জন ইচ্ছাকৃত খেলাপির ৬৮,৬০৭ কোটি টাকা যে মুছে দেওয়া হয়েছে, সেটুকুও দেশ জেনেছে একটা তথ্যের অধিকার আবেদনের জোরে, সরকার স্বেচ্ছায় বলেনি। “ইচ্ছাকৃত খেলাপি” মানে যিনি ফেরত দিতে সক্ষম হয়েও দেননি; তাঁদের নামও গোপন। এবার ভাবুন, গোপনীয়তার আইনটা ঠিক কার স্বার্থে কাজ করছে। আপনার নামে ব্যাঙ্কের পঞ্চাশ হাজার টাকা বকেয়া থাকলে সিবিল স্কোরে সেটা গোটা দেশ দেখতে পাবে, নতুন ঋণ পাবেন না, কারও গ্যারান্টার হতে পারবেন না, অনেক জায়গায় চাকরির প্রাক-নিয়োগ যাচাইয়েও সেটা উঠে আসবে। আর পঞ্চাশ হাজার কোটির খেলাপির নাম রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার আওতায়।
মজা কী জানেন, কৃষিঋণ মকুবের প্রশ্ন উঠলেই যে যুক্তিগুলো সার বেঁধে আসে সেগুলো আমাদের মুখস্থ — এতে ঋণ-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়, moral hazard তৈরি হয়, চাষি অভ্যাস খারাপ করে ফেলবেন, করদাতার টাকার অপচয় হয়; অর্থনীতিবিদরা সন্ধ্যার টেলিভিশনে গম্ভীর মুখে বলে যান, ঋণ মকুব সমস্যার সমাধান নয়। অথচ কর্পোরেট রাইট-অফের বেলায় সেই একই জিনিস হয়ে যায় ব্যালান্স শিট পরিচ্ছন্ন করার প্রযুক্তিগত পদ্ধতি — কোনও নৈতিক বিপদ নেই, শৃঙ্খলাভঙ্গ নেই, নাম প্রকাশেরও দরকার নেই। ভাষার এই দ্বৈততা ঋণের গোটা শব্দভাণ্ডার জুড়ে ছড়ানো: উপরতলায় বেশি ধার করার নাম leverage, দক্ষ পুঁজি ব্যবস্থাপনা, সাহসী উদ্যোগ; নিচতলায় ঠিক সেই আচরণের নাম over-indebtedness, অসংযম, বেহিসেবিপনা। কর্পোরেট দেউলিয়া হল restructuring, গ্রামীণ খেলাপ হল default। এক জিনিস, দু’রকম নাম, আর নামটা ঠিক হয় কার ঘাড়ে দায়টা চাপছে তার উপর। এটাই শ্রেণির রাজনীতি, এবং এটা অর্থনীতির প্রশ্ন যতটা, সমাজতত্ত্বের প্রশ্ন তার চেয়ে কম নয়।
চার।
চুয়াত্তর হাজারের ফাঁস
এবার ওই সংখ্যাগুলোর পাশে অন্য কয়েকটা সংখ্যা রাখুন। জাতীয় অপরাধ নথিভুক্তি সংস্থার সাম্প্রতিকতম প্রতিবেদন, যা বেরিয়েছে ২০২৬-এর ৭ মে, বলছে ২০২৪ সালে কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ১০,৫৪৬ জন আত্মহত্যা করেছেন — ৪,৬৩৩ জন জমির মালিক চাষি আর ৫,৯১৩ জন খেতমজুর, দিনে গড়ে প্রায় আটাশ জন, ঘণ্টায় প্রায় একজন। আগের বছর সংখ্যাটা ছিল ১০,৭৮৬, তার মধ্যে ৪,৬৯০ জন কৃষক আর ৬,০৯৬ জন খেতমজুর। কমার হার নগণ্য, কিন্তু ভিতরের প্রবণতাটা তাৎপর্যপূর্ণ: ২০১৯ সালে কৃষিক্ষেত্রের মোট আত্মহত্যার ৪২ শতাংশ ছিলেন খেতমজুর, ২০২৪-এ তা বেড়ে ৫৬ শতাংশ। ভূমিহীন মজুরের সংখ্যা জমির মালিক চাষিকে ছাড়িয়ে গিয়ে সেখানেই থিতু হয়ে বসেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত এ দেশে কৃষিক্ষেত্রে আত্মহত্যার মোট সংখ্যা প্রায় চার লক্ষ। এর পাশে ঋণের ছবিটা রাখুন। জাতীয় নমুনা সমীক্ষার ৭৭তম রাউন্ড বলছে দেশের প্রায় অর্ধেক কৃষিপরিবার ঋণগ্রস্ত, গড় বকেয়া ৭৪,১২১ টাকা। নাবার্ডের নিজের গ্রামীণ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সমীক্ষা (২০২১-২২) দেখাচ্ছে, ঋণগ্রস্ত গ্রামীণ পরিবারের অনুপাত পাঁচ বছরে ৪৭.৪ থেকে বেড়ে ৫২ শতাংশ হয়েছে, আর একই সময়ে গড় জমির পরিমাণ ১.০৮ হেক্টর থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ০.৭৪ হেক্টরে; মাসিক আয় বেড়েছে ৮,০৫৯ থেকে ১২,৬৯৮ টাকায়, কিন্তু মাসিক ব্যয় বেড়েছে ৬,৬৪৬ থেকে ১১,২৬২ টাকায় — অর্থাৎ উদ্বৃত্ত বলতে প্রায় কিছুই নেই, আর একটা খারাপ মরসুম কিংবা একটা হাসপাতালের বিল ওই পরিবারকে সোজা ঋণের দিকে ঠেলে দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের নাগাল না পেয়ে বহু পরিবার আজও মহাজনের কাছে যায়, যেখানে সুদ ২৪ থেকে ৬০ শতাংশ। দুটো সংখ্যা পাশাপাশি রাখলে বাক্যটা নিজেই লেখা হয়ে যায়। বাইশ হাজার কোটির দায় থেকে রেহাইয়ের প্রস্তাবিত মূল্য সাড়ে ছ’ কোটি। চুয়াত্তর হাজার টাকার দায় থেকে রেহাইয়ের মূল্য — রেহাই নেই।
দেউলিয়া বিধির ১১৪ ধারা বলছে, একজন ব্যক্তি রেজলিউশন প্রফেশনালের সাহায্যে পুনঃপরিশোধ পরিকল্পনা বানাতে পারেন, ঋণদাতারা ভোটে মানলে আদালত সিলমোহর দেয়, বাকি দায় মুছে যায় — সুভাষ চন্দ্রের মামলা ঠিক এই পথেই এগিয়েছে। প্রশ্ন হল, সুন্দরবনের কোনও ভাগচাষি কিংবা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর যে মেয়েটি কিস্তি মেটাতে না পেরে ঘরের চাল বিক্রি করেছেন, তিনি কি একজন রেজলিউশন প্রফেশনাল নিয়োগ করে এমন একটা পরিকল্পনা পেশ করতে পারেন? উত্তরটা কেবল “না” নয়, উত্তরটা আরও নির্দিষ্ট এবং আরও অস্বস্তিকর। ওই একই বিধির তৃতীয় ভাগে, ৮০ থেকে ৯৩ ধারায়, ঠিক তাঁদের জন্যই একটা ব্যবস্থা লেখা আছে — Fresh Start Process, নতুন করে শুরু করার প্রক্রিয়া। যাঁর বার্ষিক আয় ষাট হাজার টাকার কম, সম্পদ কুড়ি হাজারের কম আর যোগ্য ঋণ পঁয়ত্রিশ হাজারের কম, তিনি ঋণ আদায় ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে ওই দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। কাগজে এ এক অসাধারণ প্রগতিশীল ব্যবস্থা, গরিব মানুষের মর্যাদার সঙ্গে ঋণমুক্তির স্বীকৃত পথ। কাগজেই। ২০১৯-এর ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার যে বিজ্ঞপ্তিতে তৃতীয় ভাগ কার্যকর করল, সেখানে ৭৮ ধারা চালু হল “fresh start process সংক্রান্ত অংশটি বাদ দিয়ে”, আর ৯৪ থেকে ১৮৭ ধারা চালু হল কেবল কর্পোরেট ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত গ্যারান্টারদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত দেউলিয়া আইনের যে অংশটা প্রোমোটারের কাজে লাগে সেটা চালু হয়েছে, আর যে অংশটা ভূমিহীন মজুর বা গোষ্ঠীঋণে আটকে পড়া মেয়েটির কাজে লাগত সেটা আজ দশ বছর পরেও ঘুমিয়ে আছে; এমনকি যে সীমাগুলো লেখা হয়েছিল — ষাট হাজার টাকা আয়, পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ — সেগুলো ২০১৬-র পর একবারও সংশোধিত হয়নি, ফলে চালু হলেও আজকের বাজারে তা প্রায় কাউকেই ছোঁবে না। একে গাফিলতি বলুন, অগ্রাধিকারের প্রশ্ন বলুন, প্রশাসনিক জটিলতা বলুন — ফলাফল একটাই: একই আইনের একই ভাগের ভিতরে দুই শ্রেণির নাগরিকের জন্য দু’রকম সময়সূচি, উপরতলার জন্য ২০১৯, নিচতলার জন্য অনির্দিষ্টকাল। মেয়েটির জন্য যা বরাদ্দ তা হল সারফেসি আইন, রিকভারি এজেন্ট, গোষ্ঠীর বাকি সদস্যদের চাপ, আর পাড়ার লোকের সামনে অপমান।
পাঁচ।
যে মেয়েটির নামে ঋণ
চল্লিশ হাজার টাকা। সুন্দরবনের একটা ব্লকে একটা গোষ্ঠীর এক সদস্যের বকেয়া ছিল ওইটুকুই। কিস্তি আটকে যাওয়ার পর সপ্তাহে দু’দিন তাঁর বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতে শুরু করেন গোষ্ঠীরই বাকি মেয়েরা, কারণ তিনি না দিলে তাঁদেরই দিতে হবে। এই ছোট সংখ্যাটার উপরেই আসলে গোটা ব্যবস্থাটা দাঁড়িয়ে আছে, আর সেটা বুঝতে গেলে গোড়ায় একটা পার্থক্য পরিষ্কার থাকা দরকার। স্বনির্ভর গোষ্ঠী আর মাইক্রোফিনান্স সংস্থা কথ্য বাংলায় গুলিয়ে যায়, কিন্তু দুটো আলাদা জিনিস। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মডেল শুরু হয়েছিল সঞ্চয় দিয়ে — দশ-বারোজন মেয়ে নিজেদের টাকা জমাতেন, নিজেরাই ঠিক করতেন কাকে কত ধার দেওয়া হবে, তারপর নাবার্ডের ব্যাঙ্ক-সংযোগে ব্যাঙ্কঋণ আসত; এর মধ্যে সত্যিকারের একটা মুক্তির উপাদান ছিল, এবং সেটা অস্বীকার করার কিছু নেই, কারণ ঘরের বাইরে বেরিয়ে টাকা গোনা, হিসেব রাখা, সই করা, দলবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া বহু মেয়ের জীবনে প্রথম স্বাধীন কাজ। মাইক্রোফিনান্স সংস্থার যৌথ দায়বদ্ধ গোষ্ঠীর মডেলটা আলাদা: এখানে সঞ্চয় নেই, শুরুই হয় ঋণ দিয়ে, আর গোষ্ঠীটা তৈরিই হয় ঋণ পৌঁছে দেওয়ার বাহন হিসেবে। কিন্তু ভাষাটা ধার করা হয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাছ থেকেই — দিদি, গোষ্ঠী, ক্ষমতায়ন। মুক্তির শব্দভাণ্ডার দিয়ে মোড়া একটা ঋণ-বিতরণ যন্ত্র।
বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ঋণ দেওয়া হয় জামানত ছাড়াই, আর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ২০২২-এর নির্দেশিকাতেও স্পষ্ট লেখা আছে যে কোল্যাটারাল নেওয়া যাবে না। কিন্তু জামানত আছে, তার নাম সামাজিক জামানত — একজন কিস্তি না দিলে বাকিদের দিতে হবে। অর্থাৎ আদায়ের কাজটা সংস্থা নিজে করে না, করায়; যিনি টাকা দিতে পারেননি তাঁর উপর চাপ আসে ব্যাঙ্কের অফিস থেকে নয়, তাঁর প্রতিবেশী আর আত্মীয়ের কাছ থেকে। ভদ্র পরিভাষায় একে বলে peer accountabilityaccountability; সরল বাংলায় বলা উচিত, লজ্জাকে জামানত বানানো। আর ঋণটা মেয়ের নামেই কেন? সংস্থার হিসেবে মেয়েরা ভালো পরিশোধকারী — কথাটা সত্যি, কিন্তু কেন সত্যি তা নিয়ে কেউ কথা বলে না। মেয়েরা ভালো পরিশোধ করেন কারণ তাঁরা সবচেয়ে সহজে লজ্জা পান, সবচেয়ে কম পালাতে পারেন, আর তাঁদের চাপ দিলে গোটা পরিবারকে চাপ দেওয়া হয়ে যায়। টাকাটা প্রায়ই খরচ করেন বাড়ির পুরুষ, তাগাদা শোনেন মেয়েটি। “নারীর ক্ষমতায়ন” নামে যা চলে, তার অনেকটাই আসলে দায়ের হস্তান্তর। কর্পোরেট জগতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ভাঙলে আছে ট্রাইব্যুনাল, আইনজীবী, সলিসিটর জেনারেল, পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ; গ্রামে যৌথ দায় ভাঙলে দরজায় এসে দাঁড়ায় রিকভারি এজেন্ট।
২০২৩ সালে যে ছয়শো তেষট্টি জন মহিলা খেতমজুর আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের কেউ কোনও ট্রাইব্যুনালে যাননি। আর একটা কথা — পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড বহু বছর ধরে সরকারিভাবে শূন্য কৃষক-আত্মহত্যা রিপোর্ট করে আসছে, আর কৃষক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন বলছে যে এ হিসেব বিশ্বাসযোগ্য নয়, কারণ মৃত্যুর শ্রেণিবিন্যাস বদলে দেওয়া হয় এবং ভাগচাষি ও খেতমজুর অনেক ক্ষেত্রে “কৃষক” হিসেবে গোনাতেই আসেন না, জমির দলিলে তাঁদের নাম নেই বলে। যাঁদের নাম নথিতে ওঠে না, তাঁদের ঋণও কোনও পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না, আর যে দুঃখ পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না তার জন্য কোনও নীতিও তৈরি হয় না।
এই সংকট নতুন নয়, তার একটা নথিভুক্ত পূর্বসূরিও আছে। ২০১০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে চড়া সুদ আর জবরদস্তির আদায়ের চাপে দুশোর বেশি মানুষের মৃত্যুর পর রাজ্য সরকার অর্ডিন্যান্স আনে, আর তারপর পরিশোধের হার ৯৫ শতাংশ থেকে নেমে ২০১২ সালে দাঁড়ায় প্রায় ১ শতাংশে — ভারতীয় মাইক্রোফিনান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভাঙন। ২০২৫ সালে কর্ণাটকে প্রায় একই ঘটনা ফিরে এসেছে: ধারাবাহিক আত্মহত্যা আর লক্ষাধিক অভিযোগের পর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া অর্ডিন্যান্স ঘোষণা করেন এই বলে যে মাইক্রোফিনান্স সংস্থার সুদখোরি আর জবরদস্তির আদায় মৃত্যু ডেকে এনেছে, আর খসড়ায় বলা হয় যে আদায়ের কাজ বাইরে ঠিকা দেওয়া যাবে না কারণ সেই কাজে গুন্ডা নিয়োগ করা হচ্ছে, বিকেল পাঁচটার পর আদায়ে যাওয়া চলবে না, অনিবন্ধিত ঋণদাতাদের দেওয়া ঋণ বাতিল বলে গণ্য হবে। বেলগাভি, বিদার, মহীশূর আর রামনগরে একাধিক এফআইআর হয়; অর্ডিন্যান্স শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যপালের সম্মতি পায় আর পরে বিধানসভায় বিল হিসেবে পাশ হয়; তামিলনাড়ুও ২০২৫-এ আলাদা আইন এনেছে।
দুটো প্রতিক্রিয়া এখানে লক্ষ করার মতো। প্রথমটা রাজভবনের: রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট প্রথম দফায় অর্ডিন্যান্সটা ফেরত পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রণের বাড়াবাড়ির কথা বলেন আর শাস্তির পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানান — এই সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা ঋণ দিতে পারে, সেখানে পাঁচ লক্ষ টাকার জরিমানা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অর্থাৎ যুক্তিটা সমানুপাতিকতার, শাস্তি ঋণের অঙ্কের সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত। সমানুপাতিকতার এই সূক্ষ্ম বোধটি ঠিক কোথায় থাকে, যখন বাইশ হাজার কোটির দায় সাড়ে ছ’ কোটিতে মেটার প্রস্তাব ওঠে? দ্বিতীয়টা বাজারের, আর এটাই বেশি বলার মতো: অর্ডিন্যান্স ঘোষণার পর রেটিং সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানাল, এতে “customer discipline”-এ প্রভাব পড়তে পারে। আরেকবার পড়ুন। গরিব মানুষকে গুন্ডার হাত থেকে বাঁচানোর আইনকে মাপা হচ্ছে ঋণ-শৃঙ্খলার সম্ভাব্য ক্ষতির নিরিখে। যে ভাষায় ৯৯.৯৭ শতাংশ ছাড় একটা “বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত”, সেই একই ভাষায় বিকেল পাঁচটার পর আদায়ে না যাওয়ার নির্দেশ একটা “ঝুঁকি”।
এর পরিণতি এখন সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে, এবং সেটাও এই লেখার যুক্তিরই অংশ। দেশে মাইক্রোফিনান্স ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ছয় কোটি ষাট লক্ষেরও বেশি, ঋণের প্রায় ৭৬ শতাংশ গ্রামীণ, আর মোট পোর্টফোলিওর অর্ধেকেরও বেশি জমা মাত্র পাঁচটা রাজ্যে — বিহার, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ আর কর্ণাটক। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে গুণমানের অবনতি স্পষ্ট হল: পোর্টফোলিও ৪.২৪ লক্ষ কোটি থেকে নেমে ৩.৭৫ লক্ষ কোটি, ৩১ থেকে ১৮০ দিনের বকেয়া ২ থেকে বেড়ে ৬.২ শতাংশ, অনাদায়ী ঋণ প্রায় ৫৫ হাজার কোটি অর্থাৎ মোট ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ। তারপর যা ঘটেছে তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। মাইক্রোফিনান্স ইনস্টিটিউশনস নেটওয়ার্কের হিসেবে ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে পোর্টফোলিও এক বছরে ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩.৩৯ লক্ষ কোটিতে, টানা ষষ্ঠ ত্রৈমাসিক পতন, আর ডিসেম্বরে আরও নেমে ৩.১৪ লক্ষ কোটি; সংস্থাটির নিজের অনুমান, এই সংকোচনে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক অর্থব্যবস্থার বাইরে ছিটকে গেছেন। লক্ষ করুন, এঁরা ঋণ শোধ না করা মানুষ নন — সংস্থাটির নিজের হিসেবেই ৩১ থেকে ৯০ দিনের বকেয়ার হার নেমে এসেছে ১.০৯ শতাংশে আর ৯৮ শতাংশ গ্রাহক নির্ধারিত সীমার মধ্যে আছেন। শৃঙ্খলা ফিরেছে, টাকা আসেনি; ব্যাঙ্কগুলো ঝুঁকি এড়াতে এই খাতে ঋণ কমিয়ে দিয়েছে, আর তার ফলে পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ কোনও আদেশ ছাড়াই, কোনও শুনানি ছাড়াই, একটাও নোটিস না পেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের বাইরে চলে গেলেন। তাঁরা ধার করা বন্ধ করেননি, তাঁরা ফিরে গেছেন মহাজনের কাছে, যেখানে সুদ ২৪ থেকে ৬০ শতাংশ আর যেখানে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কোনও নির্দেশিকা পৌঁছয় না। এটাই দুই ব্যবস্থার আসল ফারাক: উপরতলায় সংকটের নিষ্পত্তি হয় আলোচনার টেবিলে, ভোটাভুটিতে, পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে; নিচতলায় নিষ্পত্তি হয় প্রত্যাহারে — ঋণটাই তুলে নেওয়া হয়।
ছয়।
হাতির লড়াই, আর আইনের রাজনীতি
এসবের মধ্যেই, ২৮ অগস্ট, জ়ি নিউজ়ে ভিডিও বার্তা দিয়ে সুভাষ চন্দ্র সরাসরি মুকেশ আম্বানির উদ্দেশে বললেন, রিলায়েন্সের নেটওয়ার্ক১৮ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে, আম্বানি একসময় জ়ি-কে দখল করতে চেয়েছিলেন, আর ২০১৯-এর শেয়ার-ধসের পিছনে পরোক্ষে ছিল শেল কোম্পানি; রিলায়েন্স স্টক এক্সচেঞ্জে বিবৃতি দিয়ে অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছে। যিনি এই অভিযোগ করছেন, তিনি ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত হরিয়ানা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন বিজেপি বিধায়কদের সমর্থনে, আত্মজীবনীতে নিজের সঙ্ঘ-যোগের কথা লিখেছেন, আর এর আগে সেবি-র চেয়ারপার্সনকে প্রকাশ্যে দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রতিহিংসাপরায়ণ বলেছেন — ক্ষমতার সঙ্গে যাঁর সম্পর্ক এতটা ঘনিষ্ঠ, তিনিও এখন ক্ষমতার আর এক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার অভিযোগ আনছেন। একই সময়ে তিনি জানিয়েছেন, হাতে থাকা সাড়ে ছ’ কোটি ঋণদাতাদের দিয়ে দেওয়ার পরেও তিনি নিঃস্ব নন, একটা ছোট বাড়ি আছে যার একাংশ ভাড়া দিয়ে সংসার চলে, আর তিনি সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিনিয়োগ-সহযোগীদের সঙ্গে নতুন করে কাজ শুরু করবেন, দরকারে পরিবারের কাছ থেকে দুই-চার কোটি ধার নিয়ে স্টার্ট-আপে লগ্নি করবেন। “আমি আবার রোজগার করব,” তিনি বলেছেন। বাক্যটা নিয়ে ব্যঙ্গ করা সহজ, কিন্তু ব্যঙ্গের চেয়ে জরুরি হল বাক্যটার ভিতরে যে ধরে-নেওয়া সত্যটা আছে সেটা লক্ষ করা — ব্যর্থতার পর আবার শুরু করার অধিকার। বাণিজ্যিক সাহিত্যে একেই বলে entrepreneurial risk, দ্বিতীয় সুযোগ, দেউলিয়া আইনের নৈতিক ভিত্তি। কথাটা সত্যি এবং কথাটা ভালো। প্রশ্ন শুধু এইটুকু: চল্লিশ হাজার টাকায় আটকে থাকা মেয়েটির জন্য “আমি আবার রোজগার করব” বাক্যটা কোন আইনের কোন ধারায় লেখা আছে, আর যদি থাকে, তাহলে সেই ধারাটা আজ পর্যন্ত চালু হল না কেন।
কে ঠিক আর কে ভুল, দুই ধনকুবেরের ওই ঝগড়ায় সেটা গৌণ। মুখ্য হল, দেশের দুটো বৃহত্তম সংবাদ নেটওয়ার্ক এখন প্রকাশ্যে একে অপরের মালিকের বিরুদ্ধে সম্প্রচার-সময় খরচ করছে, আর উপলক্ষ একটা দেউলিয়া সংক্রান্ত আদেশ। খবরের চ্যানেল আসলে কী কাজে লাগে, তার এর চেয়ে স্বচ্ছ প্রদর্শনী পাওয়া মুশকিল। আর বিতর্কটা যদি দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপান্তরিত হয়ে যায়, তবে সুবিধেটা কার হয় ভাবুন — প্রশ্নটা তখন আর “ব্যাঙ্কের টাকা কোথায় গেল” থাকে না, হয়ে যায় “কে কাকে কী বলল”। হাতির লড়াই দেখতে দেখতে দর্শক ভুলেই যায়, ঘাসটা তারই ছিল।
গ্রন্থপঞ্জি ও সূত্র
১. Barkha Mathur, “How NCLT approved Subhash Chandra’s ₹6.5 cr payout against ₹22,006 cr claims”, Business Standard, ২৭ অগস্ট ২০২৬। https://www.business-standard.com/companies/news/how-nclt-approved-subhash-chandra-s-6-5-cr-payout-against-22-006-cr-claims-126082700586_1.html
২. “NCLT bars Subhash Chandra from disposing of properties in insolvency case”, Business Standard, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। https://www.business-standard.com/companies/news/nclt-bars-subhash-chandra-from-disposing-of-properties-in-insolvency-case-126090100367_1.html
৩. “NCLT sends Subhash Chandra insolvency plan back to chairperson as benches fail to reach majority”, Business Today, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬। https://www.businesstoday.in/latest/corporate/story/nclt-sends-subhash-chandra-insolvency-plan-back-to-chairperson-as-benches-fail-to-reach-majority-552420-2026-09-01
৪. “NCLAT keeps creditors’ appeal pending in Subhash Chandra insolvency case”, ANI, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। https://aninews.in/news/business/nclat-keeps-creditors-appeal-pending-in-subhash-chandra-insolvency-case-five-member-bench-to-hear-repayment-plan-afresh-on-september-2320260902123426/
৫. “Subhash Chandra disputes ₹22,000 cr insolvency claims, says lenders’ claims are ₹3,992 cr”, exchange4media, ২৮ অগস্ট ২০২৬। https://www.exchange4media.com/media-tv-news/subhash-chandra-disputes-rs22000-cr-insolvency-claims-says-lenders-claims-are-rs3992-cr-157709.html
৬. “‘Essel Group repaid ₹43,000 crore debt’: Subhash Chandra seeks independent audit”, Business Today, ২৯ অগস্ট ২০২৬। https://www.businesstoday.in/latest/corporate/story/essel-group-repaid-rs43000-crore-debt-subhash-chandra-seeks-independent-audit-to-examine-his-debt-552027-2026-08-29
৭. “Rs 17.5 lakh crore bad loans written-off in past 10 years by Indian banks”, লোকসভায় অর্থমন্ত্রীর লিখিত উত্তর, মার্চ ২০২৫; সংকলিত InsolvencyTracker। https://insolvencytracker.in/2025/03/20/rs-17-5-lakh-crore-bad-loans-written-off-in-past-10-years-by-indian-banks-govt/
৮. “Banks write off loans close to Rs 10 lakh cr given to large corporates in last 12 years”, অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীর সংসদীয় উত্তর, অগস্ট ২০২৬; Millennium Post। https://www.millenniumpost.in/business/banks-write-off-loans-close-to-rs-10-lakh-cr-given-to-large-corporates-in-last-12-years-671746
৯. “Public Sector Banks recover ₹2.27 lakh crore in written-off loans”, রাজ্যসভায় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, News on AIR, ১৮ মার্চ ২০২৫। https://www.newsonair.gov.in/public-sector-banks-recover-%E2%82%B92-27-lakh-crore-in-written-off-loans-fm-sitharaman
১০. Ruchika Chitravanshi, “Haircuts touch 67% under IBC as creditor recovery stays low till Sep 2025”, Business Standard, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ (IBBI Newsletter-এর তথ্য)। https://www.business-standard.com/industry/news/ibc-haircuts-2025-creditor-recovery-cirp-delays-ibbi-data-125112300278_1.html
১১. “Recovery Falls to 23%, Haircuts Rise to 68% under IBC in FY26: ICRA”, Moneylife, ৩ জুন ২০২৬। https://moneylife.in/article/recovery-falls-to-23-percentage-haircuts-rise-to-68-percentage-under-ibc-in-fy26-icra/80655.html
১২. Insolvency and Bankruptcy Code, 2016, তৃতীয় ভাগ, দ্বিতীয় অধ্যায় (ধারা ৮০–৯৩, Fresh Start Process); এবং ১৫ নভেম্বর ২০১৯-এর কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি, যেখানে ৭৮ ধারা “fresh start process সংক্রান্ত অংশ বাদ দিয়ে” কার্যকর করা হয়। বিশ্লেষণ: Mondaq, “Insolvency Of Personal Guarantors To Corporate Debtors”। https://www.mondaq.co.uk/india/insolvencybankruptcy/1401300/
১৩. National Crime Records Bureau, Accidental Deaths and Suicides in India 2024, প্রকাশিত ৭ মে ২০২৬। বিশ্লেষণ: “Farm suicides dipped marginally in 2024 but continue at rate of one every hour”, Down To Earth। https://www.downtoearth.org.in/agriculture/farm-suicides-dipped-marginally-in-2024-but-continue-at-rate-of-one-every-hour-in-india-ncrb
১৪. NABARD, All India Rural Financial Inclusion Survey (NAFIS) 2021-22, প্রকাশিত ৯ অক্টোবর ২০২৪। https://www.nabard.org/PressReleases-article.aspx?id=25&cid=554&EID=91
১৫. National Sample Survey, ৭৭তম রাউন্ড, Situation Assessment of Agricultural Households (২০১৯) — কৃষিপরিবারের গড় বকেয়া ঋণ ৭৪,১২১ টাকা।
১৬. MFIN, Micrometer, Q4 FY25, Q2 FY26 ও Q3 FY26। সংবাদ-প্রতিবেদন: “Microfinance portfolio drops 17% in Q2; 5 million borrowers exit credit”, Business Standard, ২৮ নভেম্বর ২০২৫। https://www.business-standard.com/finance/news/microfinance-portfolio-q2-drop-formal-credit-exit-125112800920_1.html
১৭. “Microfinance credit quality dips in FY25; NPAs rise to ₹55,000 crore”, Business Standard, ১১ জুন ২০২৫। https://www.business-standard.com/finance/news/microfinance-portfolio-quality-dips-par-npas-rise-fy25-mfin-125061101166_1.html
১৮. “Karnataka Governor returns microfinance ordinance, government provides clarifications”, Deccan Herald, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। https://www.deccanherald.com/india/karnataka/karnataka-governor-returns-microfinance-ordinance-government-provides-clarifications-3394753
১৯. “Explained: Karnataka microfinance ordinance — no coercive recovery, ban on pawn”, The South First, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। https://thesouthfirst.com/karnataka/explained-karnataka-microfinance-ordinance-no-coercive-recovery-ban-on-pawn/
২০. Reserve Bank of India, Master Direction — Regulatory Framework for Microfinance Loans, ১৪ মার্চ ২০২২।
২১. All India Democratic Women’s Association, Women’s Rising Indebtedness and the MFI Loot: Report of Nationwide Survey and National Public Hearing, January 2026

