গত ৩০ অগাস্ট কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উচ্ছেদের সামনে দাঁড়ানো বস্তিবাসী, চা-বাগান শ্রমিক, হোসিয়ারি শ্রমিক, ভিবিগ্রামজি প্রকল্পের কর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন যাঁরা এমন প্রতিনিধিরা অংশ নেন এই সাংবাদিক সম্মেলনে। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের ১০০ দিনের উদযাপনের পরেও বাকি আছে অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য নীতি ঘোষণা ও রূপায়ণ, যার মধ্যে পড়ে আবাসন বিধি, ন্যায্য মজুরি, গ্রামে গ্রামে কাজ।
সুদর্শনা চক্রবর্তীর প্রতিবেদন
অসংগঠিত ক্ষেত্রের প্রায় ৩০০ মানুষকে নিয়ে গত ২৯ অগাস্ট কলকাতার ভারত সভা হলে “আবাসন ও জমির অধিকারঃ কাজের ও ন্যূনতম মজুরির অধিকার” শীর্ষক এক গণ কনভেনশন-এর আয়োজন করে অসংগঠিত ক্ষেত্র শ্রমিক সংগ্রামী মঞ্চ ও ভুখা মানুষের অধিকার অভিযান। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে এই কনভেনশন-এ যোগ দেন ১২টি গণ সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন। ছিলেন কৃষি শ্রমিক, রাস্তার ধারে বসে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র বিক্রেতারা, গৃহ পরিচারিকারা, চা বাগান শ্রমিকেরা, হোসিয়ারি শ্রমিকেরা, মিড-ডে মিল কর্মীরা, যৌন কর্মীরা এবং শহরের বস্তির বাসিন্দারা – যাঁরা প্রত্যেকেই এই মুহূর্তে রাজ্যে নব নির্বাচিত সরকার আসার পরই জীবন-জীবিকা-বাসস্থান হারানোর আশঙ্কার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন।
কনভেনশন-এ সম্মিলিতভাবে মেনে নেওয়া হয়, শ্রমিকেরা ক্ষুধা, উচ্ছেদ, বকেয়া মজুরি, চুরি যাওয়া পিএফ, অনিশ্চিত রোজগার বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ মেনে নেবেন না, স্রেফ বেঁচে থাকার মূল্য চোকাতে গিয়ে।
এই কনভেনশন-এর পরবর্তী ধাপ হিসাবে ৩০ অগাস্ট কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উচ্ছেদের সামনে দাঁড়ানো বস্তিবাসী, চা-বাগান শ্রমিক, হোসিয়ারি শ্রমিক, ভিবিগ্রামজি প্রকল্পের কর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন যাঁরা এমন প্রতিনিধিরা অংশ নেন এই সাংবাদিক সম্মেলনে।
পশ্চিমবঙ্গ চা মজুর সমিতি থেকে এসেছিলেন তোর্সা জমি উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ মরিয়ম ওঁরাও। ৪০ দিনের বেশি চলছে তাঁদের উচ্ছেদ বিরোধী ধর্না। ভারত-ভূটান সীমান্তে শেষ চা-বাগান তোর্সা। দেড়শ-দু’শো বছর ধরে এখানে বসবাস তাঁদের। পূর্বপুরুষেরা চা-বাগানের শ্রমিক হিসাবে এই জমিতে বসবাস করতে শুরু করেন। তারপর কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানেই বাস। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে চূড়ান্ত কম মজুরিতে তাঁদের দিয়ে কাজ করানো হত স্বাধীনতার আগে থেকেই, যা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫০ টাকায়। মালিক পক্ষ আত্মসাৎ করেছে ন্যায্য প্রাপ্য পিএফ-এর টাকাও। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও যেহেতু কোনোও সরকারই জমির মালিকানা তাঁদের দেননি, তাই এই জমি তাঁরা দখল করে রেখেছেন এই মর্মে ল্যান্ড পোর্ট করার জন্য সরকার জানিয়েছে তাঁদের থেকে জমি নিয়ে নেওয়া হবে। জঙ্গলের পশুদের আক্রমণের কারণে অন্য কিছু চাষ না করলেও সুপারি গাছ লাগান তাঁরা। অথচ বিডিও জানিয়েছেন, ড্রোন দিয়ে তারা না কি দেখে নিয়েছেন এই জমি ফাঁকা!
তাঁদের বক্তব্য এই জমিতে পূর্বপুরুষদের ঘাম, রক্ত মেশা। রয়েছে তাঁদের সমাধি। বলা হচ্ছে এর আগে রাস্তা তৈরির জন্য জমি দিতে পারলে পোর্ট তৈরিতে দেবে না কেন? মরিয়মদের সাফ কথা, “রাস্তা আমাদেরও দরকার ছিল, পোর্ট আমাদের কী দরকার?” বলছেন তাঁরা বিকাশের বিরোধী নন, কিন্তু যা হবে তা আইনি হতে হবে। তাঁরা ভোট দেন, অথচ নেতারা কেউ কথা বলছেন না। বিধায়কও নন।
মরিয়ম বললেন,
“হামে লগতা হ্যায় জমিন হামারি হ্যায়। লেকিন কোয়ি সরকার মালিকানা, অধিকার নেহি দিয়া। নয়া সরকার পাট্টা দেঙ্গে বোল কর, হামারি ভোট সে জিতকে আকে, আভি বুলডোজার চালা রাহে হ্যায়। সরকার নেতাও সে বাত কর রহে হ্যায়। হামলোগ, জিসকা জমিন হ্যায় উসসে বাত নেহি কর রহে হ্যায়। জমিন তো হাম কিসি ভি তারহা নেহি দেঙ্গে।”
আরেক চা শ্রমিক বন্ধু ওঁরাও বললেন,
“২৯টি চা-বাগানে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা শ্রমিকদের ডিউ। ১৩টি চা-বাগানের সব ক’টিতে সমস্যা। অ্যাম্বুলেন্স নেই, জল নেই, মজুরি বকেয়া, পিএফ জমা পড়ছে না। মহিলারা এক দিনে ২০০০০ পাতা তোলেন, ন্যূনতম ২৫০ টাকা মজুরিও দিতে চায় না মালিক পক্ষ।”
চা প্ল্যান্টেশন-এর যে জমি পতিত পড়ে রয়েছে সেখানে পোর্ট করতে দিতে তাঁদের কোনোও সমস্যা নেই। ১৬০০ চা-শ্রমিক পরিবাকে উচ্ছেদের মুখে ঠেলে দিলে তা তাঁরা প্রতিরোধ করবেন বলেই জানালেন।
অসংগঠিত শ্রমিক অধিকার ও বস্তি উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনে শরিক যাঁরা তাঁরা যেমন এদিন স্পষ্টতই জানান, তাঁরা কেউই সরকারের উন্নয়নের নীতির বিরোধী নন। কিন্তু তারজন্য কোনোওভাবেই আর্থ-সামাজিকভাবে প্রান্তিক মানুষদের বেআইনিভাবে উচ্ছেদের মুখে ঢেলে দেওয়া যাবে না। তা রুখতে যেমন আইনি পথে লড়াই হবে, তেমনি প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আন্দোলনও লাগাতার চালিয়ে যাওয়া হবে। দাবি থাকবে একটাই – “আগে পুনর্বাসন/পরে উচ্ছেদ”। এদিন বার্তা দেওয়া হয় – “সরকার তুমি আইন মানো/আমরা তোমার সঙ্গে আছি।” রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকারকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের ১০০ দিনের উদযাপনের পরেও বাকি আছে অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য নীতি ঘোষণা ও রূপায়ণ, যার মধ্যে পড়ে আবাসন বিধি, ন্যায্য মজুরি, গ্রামে গ্রামে কাজ।
সম্মেলনে হোসিয়ারি ইউনিয়ন-এর প্রতীক নাগ জানান – এ রাজ্যে এই মুহূর্তে হোসিয়ারি শ্রমিকের সংখ্যা ৪ থেকে ৫ লক্ষ। যা আগে শুধু কোলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণা কেন্দ্রীক ছিল, এখন তা নদীয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুরের বড় অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই শ্রমিকদের একটা বড় অংশ ন্যূনতম মজুরি পান না। অতিরিক্ত সময়ের কাজের যে মজুরি যা হওয়া উচিৎ, অর্থাৎ ৪ ঘন্টায় ৮ ঘন্টার মজুরি, তা বড় ব্র্যান্ড থেকে ছোট কারখানা কেউই দেয় না, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ৪ ঘন্টার জন্য ৪ ঘন্টার মজুরি দেওয়া হয়। শোভাবাজার ও হাওড়ার বহু কারখানায় অতিরিক্ত ৪ ঘন্টার জন্য দ্বিগুণ তো নয়ই, ১৩০ টাকা দেওয়া হয়। দেওয়া হয় অর্ধেকেরও কম। আইন অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরির বেসিক প্রতি ৫ বছর অন্তর সংশোধন হওয়ার বিষয়টি সং গঠিত ক্ষেত্র শ্রমিক সংগ্রামী মঞ্চের তিন দিনের ধর্নার ফলস্বরূপ গত ২০১২ সালে শেষবারের মতো হয়। তারপর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন-এর তরফ থেকে শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা হলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। হাওড়া ও অন্যান্য বহু কারখানায় শ্রমিকেরা সপ্তাহে ৭ দিন ১২ ঘন্টা কাজ করেন ও তাঁদের চরম শোষন করে মাসে ১২০০০-১৫০০০ টাকা দেওয়া হয়। এবং অন্যতম উল্লেখযোগ্য হল মহিলারা, মূলত যাঁরা সুতো গোটানোর কাজ করেন, তাঁদের এই ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরি প্রাপকদের তালিকায় এমনকি অন্তর্ভুক্তও নন। প্রতীক বলেন,
“বর্তমান সরকারের শ্রমমন্ত্রীকে ন্যূনতম মজুরি যে কারখানাগুলি দিচ্ছে না, তাঁদের তালিকা দেওয়া হয়েছে, উপযুক্ত ব্যবস্থা সরকারি স্তরে না নেওয়া হলে সমস্ত ইউনিয়ন ও মঞ্চের তরফ থেকে আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে।”
ভুখা মানুষের অধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন উত্তম গায়েন। বলেন, “ভেবেছিলাম ডবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের স্বর্গের সিঁড়িতে পৌঁছে দেবে। বাংলার শোষিত, বঞ্চিত মানুষেরা বর্তমানে সরকার গঠন করেছে যে দল, তাকে ঢেলে ভোট দিয়েছিল। অথচ তার ফলাফল চোখের সামনেই ১০০ দিনের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।“ এমজিএনআরইজিএ তুলে দিয়ে যে ভিবিগ্রামজি প্রকল্প চালু হয়েছে যেখানে ১০০ দিনের বদলে ১২৫টি কর্মদিবসের কথা বলা হচ্ছে, তা এখন পশ্চিমবঙ্গে কোনোভাবেই এগোচ্ছে না বলে তিনি জানান। চূড়ান্ত অনিয়মের পাশাপাশি চলছে দূর্নীতি। গায়েন বলেন, “ডিএম-রা কোনো কথাই বলছেন না। বিডিও, ডিএম-রা সরকারের দাসে পরিণত হয়েছেন। পঞ্চায়েত সদস্যরা এতটাই দূর্নীতিগ্রস্ত যে তারা পঞ্চায়েতেই আসছেন না। ফলে গ্রামসভা হচ্ছে না। তার ফলস্বরূপ স্কিম তৈরি হচ্ছে না ও সেইজন্য কাজও দেওয়া যাচ্ছে না। সরকারি আধিকারিকেরা বলছেন এই প্রকল্পে কাজ দেওয়া এত জটিল হয়ে গেছে যে, গ্রামবাসীদের কাজ দেওয়া যাচ্ছে না।” বক্তব্যে উঠে আসে ক্রমহ্রাসমান রোজগারের জন্য এ রাজ্যের প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষ সুস্থ থেকে কাজ করতে পারবেন না।
তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য সরকারের দূর্নীতির কথা বলে একশ দিনের প্রকল্পে দীর্ঘদিন বকেয়া টাকা বন্ধ রাখা ও কাজ বন্ধ রাখা হয়। বেড়ে যায় পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা। নতুন সরকার আসার পর পরিস্থিতি কেমন দেখছেন তাঁরা? এই প্রশ্নের উত্তরে উত্তম বলেন, ”আগের সরকারের দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার জন্য গ্রামেগঞ্জে, পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে লোকেরা বিভিন্ন রাজ্যে, এমনকি বিভিন্ন দেশেও চলে গেছে, কাজের জন্য। আমরা এক্সপেক্ট করেছিলাম, কোর্টের রায়ে হোক, নতুন সরকারের জন্য হোক কাজটা শুরু হচ্ছে এবং বেশি কাজ হচ্ছে ও মজুরিও বেড়েছে। আমরা ভেবেছিলাম সব্ব মানুষ ফিরবে, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছিলাম। তারা খুব কষ্টে আছে। আমাদের বলছিল, যদি দাদা কাজ ঠিক হয়, আমরা ফিরে আসব। কিন্তু এখানে তো কোনোও লক্ষণই নেই। যারা আছে, তারা কাজ পাচ্ছে না, তো বাকিরা ফিরে করবেটা কী! যখন কাজ চালু ছিল তখন তাও জোর করলে, ঘেরাও করলে কাজ পাওয়া যেত। আগের সরকারে কাজ বন্ধ ছিল, কিছু করতে পারলাম না। আর এবারের সরকার তো দরখাস্তই নিচ্ছে না। আরোও বরং খারাপ হচ্ছে।”
এই পরিস্থিতিতে আদপে ক্ষতি ক্রমশই বাড়ছে শ্রমজীবী গোষ্ঠীরই। পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারের বিশেষত মহিলারা গ্রামে কাজের অভাবে আরোও বেশি সংখ্যায় শহরে আসছেন গৃহ পরিচারিকার কাজে। শহরে আগে যারা এই পেশায় ছিলেন তারা প্রয়োজনে কাজ অনুযায়ী বেতন নিয়ে যেটুকু কথা বলতে পারতেন ক্রমশ এই পেশায় আসা মহিলার সংখ্যা বাড়তে থাকায় কারোরই মালিক পক্ষের সঙ্গে আর দরদস্তুর করার সুযোগ থাকছে না। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে তাঁদের। এছাড়া আরোও যে বিষয়টি সামনে চলে আসে তা হল গত কয়েক মাসে বিভিন্ন জেলা থেকে আরব, ইরাক, ইরানে কাজের খোঁজে কিশোর ছেলের স্কুলছুট হয়ে চলে যাওয়া এবং তাই নিয়ে তাঁদের পরিবারে ক্রমেই দুশ্চিন্তা ও আশংকা বাড়ছে। এই প্রতিটি সমস্যাই পরস্পর সম্পর্কিত, যার ভুক্তভোগী সমাজের দরিদ্র, প্রান্তিক মানুষগুলি।
অসংগঠিত ক্ষেত্র শ্রমিক সংগ্রামী মঞ্চর পক্ষ থেকে যে কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে তা হল –
- ৬ সেপ্টেম্বর হাসিমারায় চা বাগান শ্রমিকদের জমি আইন নিয়ে কনভেনশন
- পুরুলিয়ার ৬টি ব্লকে অন্নপূর্ণা যোজনা ও ১২৫ কর্মদিবসের দাবিতে ধর্না
- শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য সরব্রাহ, নগরোন্নয়ন, গ্রামোন্নয়ন, ভূমি সংস্কার ও অন্যান্য দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়া
- যেখানেই আইনি সহায়তা প্রয়োজন তা দেওয়া
অসংগঠিত ক্ষেত্র শ্রমিক সংগ্রামী মঞ্চ-এর পক্ষ থেকে অনুরাধা তলওয়ার জানান, প্রতিটি শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেই কনভেনশন ও সাংবাদিক সম্মেলনে যে বক্তব্য উঠে আসে তা হল, নতুন সরকার আসার পরে সামগ্রিক ও সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে তাঁদের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান,
“সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে উচ্ছেদ। কোথাও কোনো আইন মানা হচ্ছে না। অথচ পাঁচটি উচ্ছেদের মামলাতেই স্টে অর্ডার পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মহিলারা তা তাঁরা গৃহ পরিচারিকা হোন বা যৌনকর্মী, বা মহিলাদের পারিবারিক শ্রম – মহিলাদের শ্রমকে শ্রম হিসাবে না দেখার ধারা চলছেই। এমতাবস্থায় নতুন সরকারকে ২০০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৭ নভেম্বর বেশ হবে রাজ্য সরকারের কাজের রিপোর্ট কার্ড। এবং তারমধ্যে শ্রমজীবী ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের মানুষদের অধিকার সংক্রান্ত দাবিপূরণ না হলে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের পথে যাওয়া হবে।”

