মিস তিলজলা: সুন্দরী হতে চাওয়ার আখ্যান


  • December 24, 2023
  • (0 Comments)
  • 1600 Views

কসমেটিক্স ইন্ডাস্ট্রির রমরমা এবং তার প্রভাব, নাটকের মূল উপজীব্য (মনে) হলেও সারা নাটক জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব, শো-বিজের হাতছানি, পুঁজির ক্ষমতা, বিস্থাপন, বাজারের খেল আর মানুষের আকাঙ্ক্ষা— এই বিষয়গুলো বার বার উঠে আসে। কিন্তু এই জরুরি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নাটকের ফুরফুরে ভাবের অভাব ঘটে না এক মুহূর্তও। স্বভাব মেয়েদের গানের দলের নাটক ‘মিস তিলজলা’ দেখে লিখলেন শ্রুতি ঘোষ

 

 

প্যাচপ্যাচে গরম, বর্ষা এখনো নামেনি। বম্বে শহর। ২০১২সাল। সন্ধের মুখ। অফিসের শাটার আর কিছুক্ষণের মধ্যেই খোলা হবে। অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে এক গুচ্ছ তরুণী। তাঁরা এসেছেন অডিশান দিতে। হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কোরাস নাচের দলে যোগ দেবেন বলে। ওঁরা আসলে এসেছেন নায়িকা হতে। নাম জিজ্ঞেস করলে কেউ বলছেন টিনা, কেউ মিনা, বা শিনা, কুক্কু, মিনাল…একটাও তাঁদের আসল নাম নয়। নাম বদল হয়েছে কারণ ফিল্মে যোগ দিতে গেলে নাম ছোট করতে হয়, নাম শুনতে সুন্দর লাগার মতো বানাতে হয়। হিন্দি ফিল্মে নামতে গেলে নাচতে হয়, হিন্দি ফিল্মে নামতে গেলে হিরোইনদের মত ফিট শরীর বানাতে হয়। ফিট শরীর বানাতে গেলে নাচা দরকার…

 

কাট টু…

২০২৩, কলকাতা শহর। ঠান্ডা পড়ছে না পড়ছে না করতে করতে হঠাৎ একদিন বৃষ্টি নামিয়ে দিয়ে কলকাতাবাসীকে হাল্কা শীতের আমেজে মজানো ডিসেম্বরের সন্ধে। এক্সাইডের মোড়। ঐপারে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ঢল। পাশাপাশি রোজের অফিসযাত্রীদের বাড়ি ফেরার সময়। এর মধ্যে এক লহমায় ২০২৩ থেকে ২০১২য় পোঁছে গেলাম, এক্সাইডের মোড়ের হরাইজন বিল্ডিং-এ স্বভাব মেয়েদের গানের দল-এর সাম্প্রতিক নাটক ‘মিস তিলজলা’ দেখতে দেখতে। আপাতদৃষ্টিতে এই নাটক আর বম্বের সেই সন্ধের মধ্যে অনেক ফারাক। আবার একটু নজর করলে মিলও অনেক। স্টার হতে চাওয়ার গল্পে সুন্দর হতে চাওয়া -পাওয়ার যে যাত্রাপথ সেই পথে আমি দেখতে পাই, বম্বের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক মেয়েরই ছুটকির সঙ্গে দেখা হয়ে যাচ্ছে।

 

তা আমি দেখতে পেলে বাকিদের কী? আমিই বা কে? আমি একজন দর্শক যে স্বভাবের কাজ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকি। তাদের কাজের অনুরাগীও বটে আবার তাদের কাজ দেখে দেখে নিজে পারফরম্যান্সের অনেক কিছু শিখে চলা একজন মানুষ। ফলে এই লেখাকে নাটকের রিভিউ বলতে আমি একটু নারাজ। এ লেখা হল, নাটকটি দেখে আমার যা অনুভূতি তারই কিছু অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা। নাটকের গল্প আমি বলব না। বলে দিলে, আপনারা দেখবেনটা কী!

 

স্বভাবের প্রায় গোড়া থেকে বেশিরভাগ কাজই আমি দেখেছি। কিন্তু স্বভাবদল কে, কারা, কেন, কী করে তৈরি হল এবং কীভাবে তারা মেয়েদের গানের দলে উপনীত হল সেই আলোচনা আমি করব না, তা এখানে নিষ্প্রয়োজন। পাশাপাশি, স্বভাবের লাগাতার কাজ দেখার সুবাদে তাদের কাজের ধারা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে ‘মিস তিলজলা’ নাটকটিকে দেখাটাও মুশকিল এবং কিছুটা ভুলও হবে আমার পক্ষে। তাই আলোচনার সূত্রে স্বভাবের অন্য কিছু নাটকের কথা থাকবে এই লেখায়।

 

ছুটকির সুন্দরী হওয়ার ইচ্ছে আর স্টার হয়ে ওঠার গল্পে, তার আব্বুর কিনে দেওয়া মোবাইল ফোনের বোতাম টিপতে টিপতে যেমন ছুটকির নিম্নবিত্ত পরিবার, পাড়া, বন্ধু পেরিয়ে সে পৌঁছে যায় শুটিঙের আলো আর স্টুডিওর আয়নার সামনে, তেমনি এক ঘণ্টার নাটকে ছুটকির জার্নির মধ্যে দিয়ে আমরা এক এক করে এমন সব দৃশ্য পেরিয়ে যাই যা দেখে মনে হয়— এইতো এটা কালই দেখলাম! ওমা ওটা তো সেদিনই শুনলাম!

 

নাটকে আব্বুর গ্যারাজ উঠে গিয়ে চাও মোমোর (নাকি ওয়াও মোমো?) দোকান দেখে মনে পড়ল আমাদের বাড়ির নীচে ওষুধের দোকান উঠে গিয়ে জামাকাপড়ের দোকান হয়েছে সদ্য। একটা মুদি দোকান বদলে গিয়ে জেরক্স মেশিন বসেছে। বদলটা নিত্য, বদলটা সবচেয়ে স্থির। কিন্তু প্রশ্নটা হল, বদলের আগে পরে লোকগুলোর কী হল? গ্যারেজের মেকানিকরা কি মোমোর দোকানে বসলেন? তাঁরা গেলেন কই? তাঁরা এবার খাবেন কী? আর মোমোর দোকানে যাঁরা এলেন তাঁরাই বা কোথা থেকে এলেন? কী কী ছেড়ে এলেন তাঁরা?

 

হলুদ হোর্ডিঙে কালো-লালের হরফের মাঝখানের এই ঝকঝকে আলোর আগে পরের মানুষগুলোর হিসেব কি রাখা হয়? না কি তাঁরা হাওয়ায় মিলিয়ে যায় ঠিক যেভাবে শহরে আসা ঠিকা শ্রমিক মন্টু বিশ্বকর্মা (স্বভাবের নাটক বিশ্বকর্মা’র চরিত্র) শপিং মলের মাথায় উঠে হোর্ডিং লাগাতে গিয়ে পিছলে পড়ে কোথায় যে মিলিয়ে গেল তার হদিশ মিলল না।

 

ডিসপ্লেসমেন্ট/ বিস্থাপন স্বভাবের কাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে বরাবর। উদাহরণ— মধুবাবুর বাজার, বিশ্বকর্মা, সুলতান, মিস্টার ইন্ডিয়া, মোদের কোনো দেশ নাই। মিস তিলজলা নাটকে সরাসরি সে বিষয় কথা না থাকলেও একটু নজর করলেই বোঝা যায় বিস্থাপনের জালের বিস্তার কতটা প্রশস্ত। আর চাও মোমোর (না কি ওয়াও মোমো?) উল্লেখে চমৎকার কিছু জিনিস ঘটে। পাড়ায় পাড়ায় এখন এই ব্র্যান্ড। এখানে অন্যান্য অনেক পরিচিত নাম/ ব্র্যান্ড আমাদের মনে পড়বে। পাড়াগুলো দেখতে অন্যরকম লাগে, পাড়াগুলো দেখতে সব যেন একরকম লাগে। উবের থেকে হোয়াটসঅ্যাপ, লোকেশান বা স্থান নির্ণয় করার চিহ্নগুলোও বদলে গেছে। ‘ওয়াও মোমোর ঠিক পাশের গলি’, ‘মিও আমোরের উল্টোদিকের বাড়ি’— প্রাত্যহিকে এগুলোই তো আমাদের পরিচিত পরিসর আর পরিচিতির চিহ্ন, তাই না! মিস তিলজলা নাটকের এটা একটা বিশাল জোরের জায়গা যে গল্পের সহজবোধ্যতা, চেনা শব্দ আর রোজকার জীবন থেকে উঠে আসা মুভমেন্ট দিয়ে গাঁথা এক চমৎকার কোরিওগ্রাফি, আর পারফর্মারদের সজীবতা ও সংবেদনশীলতা যার মাধ্যমে অনায়াসেই চরিত্ররা আমাদের প্রাত্যহিকের খুব পরিচিত জিনিসগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। তার পরের মুহূর্তেই তাঁরা প্রশ্ন জাগায়, বিপুল ইনফরমেশনের পাহাড়ের মাঝখানে হাবুডুবু খেতে খেতে আমরা রোজ অনেক কিছু দেখি-শুনি, কিন্তু তার কতটা আদতে পর্যবেক্ষণ করি? মনে রাখি? আত্মস্থ করি! না, নাটকের গল্প আমি বলব না। বলে দিলে, আপনারা দেখবেনটা কী!

 

কসমেটিক্স ইন্ডাস্ট্রির রমরমা এবং তার প্রভাব, নাটকের মূল উপজীব্য (মনে) হলেও সারা নাটক জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব, শো-বিজের হাতছানি, পুঁজির ক্ষমতা, বিস্থাপন, বাজারের খেল আর মানুষের আকাঙ্ক্ষা— এই বিষয়গুলো বার বার উঠে আসে। কিন্তু এই জরুরি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নাটকের ফুরফুরে ভাবের অভাব ঘটে না এক মুহূর্তও। ৮০-৯০ দশকের বলিউডের গানের সুর যেমন মাত করে রাখে আমাদের তেমনই একইসঙ্গে মিনিমাল আবার ইলাবোরেট রকমারি প্রপের ব্যবহার তাক লাগিয়ে দেয়! মিনিমাল কারণ সবগুলো প্রপ ভাঁজ করে কয়েকটা ব্যাগে পুরে ফেলা যায়, তার থেকে বেশি তামঝাম লাগে না। স্বভাবের অন্য নাটকের মত এই নাটকও ‘পোর্টেবল’। বিভিন্ন ধরনের স্পেসে— ছাদ, উঠোন, বসার ঘরে পোঁছে যেতে পারে নাটক যা স্বভাবের কাজের ‘লোকের কাছে পৌঁছে যাবার’ তাড়না আর দর্শনকেই প্রত্যক্ষ করে তোলে। ইলাবোরেট কারন প্রপের যা ডিটেলিঙ-এর কাজ, তার যত্ন আর কারিগরি প্রশংসার যোগ্য। বিশেষত নাটকে ব্যবহৃত বড় একটা পুতুল আর কসমেটিক সার্জারির জন্য ব্যবহৃত টুল কিট— সাদা কাপড়ে আঁকা ছুরি-কাঁচিগুলো এখনও জ্বলজ্বল করছে চোখের সামনে। আর অবশ্যই আলিয়া ভাটের মুখ দেওয়া মুখোশ! সুলতান নাটকের (স্বভাবের তৈরি করা নাটক) সলমন খানের মুখ দেওয়া মুখোশের কথা মনে পড়ল। কিন্তু এটা শুধু স্বভাবের কাজের বৈশিষ্ট্যর রেওয়াজি ব্যবহার নয়, আলিয়ার মুখ নির্বাচন, যাকে বলে— সহি জগা পর নিশানা মারা হ্যায়!

 

 

আলিয়া এই মুহুর্তের আইকনিক ফিগার; যার বিয়ে, বাচ্চা, পোশাকের নির্বাচন, ত্বকের যত্ন নেওয়ার রুটিন বাতলে দিচ্ছে একটা গোটা জেনারেশন। কী ভাবে নিজেদের দেখছে চাইছে, বাতলে দিচ্ছে কে/ কী প্রগতির বাহক আর কারা পিছিয়ে পড়েছে। আলিয়ার মুখ নির্ভুলভাবে এই মুহূর্তের পালসটাকে ধরিয়ে দেয় ঠিক যেভাবে চাও মোমো (না কি…) দোকানের উল্লেখ আমাদের বদলে যাওয়া পাড়ার গলির মুখে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করায় যেখানে রোয়াকের আড্ডা, পাড়ার ক্লাব, বাল্ব ঝুলিয়ে ক্যারাম খেলা প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে!

 

ঘটনার ক্রমকে অদল বদল করে ফ্ল্যাশব্যাকের ব্যবহার আছে এ নাটকে যা খুব সূক্ষ্ম এবং কার্যকর জেসচার ও মুভমেন্ট দিয়ে, খুব সহজেই বুঝিয়ে দেওয়া গেছে। বস্তির ঘিঞ্জি ঘর থেকে বিউটি পার্লার, অপারেশন থিয়েটার থেকে স্টারের ঘরের অন্দরমহল— নানান স্পেস তৈরি করেছেন পারফর্মাররা সামান্য কিছু প্রপ বদলে-বদলে আর কিছু মুভমেন্টের সাহায্যে—আর সেই চরিত্রদের সঙ্গে আমরাও কী অনায়াসে একটা থেকে আরেকটা স্পেসে পোঁছে গেছি! একটি দৃশ্যের কথা অবশ্যই উল্লেখ করতে চাই। আমাদের অক্লান্ত সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং আর অগণিত রিল দেখার অভ্যাস ফুটে উঠেছে এই দৃশ্যে। ছ’জন পারফর্মারের খুব সহজ এবং যৎসামান্য মুভমেন্টে তৈরি তিনটি রিল, আর ছুটকি (সপ্তম জন) এক একটা করে রিলে ক্লিক করলে এক একটার শব্দ বেজে উঠছে— কোথাও চোখের কাজলের বিজ্ঞাপন, কোথাও মেগা সিরিয়াল, কোথাও ভক্তিগীতি। এ দৃশ্যের হিউমার অনবদ্য! এরকম আরও অনেক দৃশ্য আছে। না সেগুলো আমি বলব না। বলে দিলে, আপনারা দেখবেনটা কী!

 

মিউজিকের নির্বাচন আর প্রয়োগরীতি এত সহজাত যে সেটা নাটকের আরেকটা মাত্রা সংযোজন করে। কোনও আলাদা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা রেকর্ড করা কোনও শব্দ নেই নাটকে। সংলাপ, গান, ইন্টারলিউড, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সাউন্ড এফেক্ট— নাটকের এই গোটা শব্দ জগতটা তৈরি করতে পারফর্মাররা ভরসা রেখেছেন নিজেদের কণ্ঠস্বর, একটি ডাফলির, ছোট ঘুঙুর আর একটা টয় জাইলোফোনের ওপর। আর সাথে কিছু প্রপ থেকে শব্দ উৎপন্ন করে। ব্রাভো! এই সহজতা এবং কার্যকারিতা নাটকের পোর্টেবিলিটির কথাই আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেয়। নাটক আরও আরও নির্ভার হয়ে ওঠে। আর সেই শুরু থেকে চলে আসা ফুরফুরে মেজাজে তখন এতটাই হাল্কা লাগতে থাকে দর্শক হিসেবে নিজেকে যে চরিত্রদের সংলাপগুলোর আসল ওজন গভীরে অনুভব করতে পারি।

 

সুন্দর আর ফর্সাকে সমার্থক করে রাখার যুগ যুগের রীতিকে শুধুমাত্র সমালোচ করে না এই নাটক। আমাদের ভাবায়, ছুটকির সুন্দরী হতে চাওয়ার ইচ্ছে কি তারই ইচ্ছে নাকি বাজারের রকমারি পসরার হাত ধরে চোরাগোপ্তা ঢুকে পড়া পুঁজির ইচ্ছে যা ক্রমাগত আমাদের ‘নিজেদের’ ইচ্ছে বলে মনে হতে থাকে? (আপাত) প্রগতিশীলতা এবং দ্রুত বদলের মাঝখানে আদতে কতটা কী বদলেছে এবং কাদের জন্য, সেই অস্বস্তিকর এবং অব্যর্থ প্রশ্ন তোলে মিস তিলজলার সাধ পুরণের এই নাটক। ‘সাফ’ শব্দের অর্থ হল পরিষ্কার। কিন্তু ‘সাফ চেহেরা’র বিজ্ঞাপনে যে সাফ/পরিষ্কার আদতে ফর্সারই আরেক নাম হয়ে দাঁড়ায় সেটা স্পষ্ট। মেয়েদের গানের দলের আরেকটি কাজ ‘খুশবু বদবু’ কোথায় যেন এসে ঢুকে পড়ে মিস তিলজলা নাটকে। খুশবুদের খুশামদিদের জন্য বদবুরা বাদ পড়লে যে কী গোল পাকে তার একটা চমৎকার মজাদার উপস্থাপনা রয়েছে খুশবু-বদবু নাটকে। গলি-পাড়া-রাস্তা-শহর-রাজ্য-দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা মানে কী? কাদের জন্য পরিচ্ছন্ন রাখা? কারা এই পরিচ্ছন্নতার প্রকল্পে দাম চোকায়? মিস তিলজলা মগজে এইসব প্রশ্নগুলোকে ঢুকিয়ে দেয়। চারপাশের সাফ-সাফাইয়ের কর্মকাণ্ডের আসল তাগিদ এবং তার পেছনে যে রাজনীতি সেটাকে তুলে ধরে।

 

আর ‘পরিচ্ছন্নতার’ গায়-গায় লেগে থাকে ‘পরিশীলন’ (বোধ), তাই না? এই পরিশীলনের ধার ধারে না এই নাটক। নাচ–গান-অভিনয়ের কোন ঘরানায় পড়ে এরা? কোনটা সহি তরিকা? কোনটা সঠিক বাক্স যাতে পুরে দেওয়া যায়— সদফ, কাইনু, আলিশা, ওয়ারিশা, কায়নাত, তলত, গুলাফসা, তৌসিফ, বর্তিকা এই ন’জন পারফর্মারদের? গুলিয়ে দেয়, গুলিয়ে যায় যখন এই ন’জন অফুরন্ত একটা প্রাণশক্তি নিয়ে দাপাদাপি করে পারফর্ম্যান্স স্পেসে গোটা নাটক জুড়ে। খুব সহজ, কিন্তু বিপুল সাহস আর শক্তির সাথে নিজেদের গল্প বলে নিজেদের মতন করে। সেই গল্পে আমরাও আছি, সেই গল্প আমরা ভুলে যাচ্ছি, সেই গল্পই মনে করিয়ে দেয়, সতর্ক করে দেয় মিস তিলজলা—

 

“মার্কেট কো জো পসন্দ হ্যায়, ওহি পাবলিক কো পসন্দ হ্যায়!

অউর পাবলিক কো জো পসন্দ হ্যায়, ওহি মার্কেট কো পসন্দ হ্যায়!”

 

 

শ্রুতি ঘোষ একজন নৃত্য ও নাট্য  শিল্পী। শ্রুতি নাচ শেখান। নিজের স্বাধীন কাজ ছাড়াও বিভিন্ন থিয়েটার দল ও ব্যক্তি শিল্পীদের সাথে কাজ করে থাকেন।

 

Share this
Leave a Comment