প্রশ্ন তোলায় মার দুই সাংবাদিককে, ফের এসসি-এসটি আইনে মামলা


  • October 14, 2023
  • (0 Comments)
  • 639 Views

Groundxero Report | দেবাশিস আইচ

 

কিল, চড়, লাথি, ঘুষি মেরেও আশ মেটেনি। কালিম্পঙের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের উপর নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ দায়ের করা হল। খড়্গপুরের সাংবাদিক দেবমাল্য বাগচীর পর আবার এমন ধারায় অভিযোগ আনা হল কালিম্পঙের খবর ম্যাগাজিন-এর সম্পাদক ও সাংবাদিক মনোজ বোগাতি ও কালিম্পং টিভির সাংবাদিক উমেশ পরিয়ারের বিরুদ্ধে। আদিবাসী সম্প্রদায়কে অপমান, গালমন্দ এবং আক্রমণ ও মারধরের দু’টি পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হলেও জিটিএ প্রধান অনিত থাপার নেতৃত্বধীন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (বিজিপিএম)-র কালিম্পং শাখাও ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তফসিলি জাতি-জনজাতি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

 

গত ১০ অক্টোবর গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান অনিত থাপা তিস্তার হরপা বানে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত কালিম্পঙের গেলিখোলা প্রদর্শনে যান। জানা গিয়েছে এই সময় ওই দুই সাংবাদিক অনিত থাপাকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং তাঁর সঙ্গে এনএইচপিসি ও সেবক-রংপো রেলপথের নির্মাণকারী সংস্থার বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করলে তাঁর দলীয় কর্মীরা মনোজ ও উমেশের উপর চড়াও হয়। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় (যার সত্যতা গ্রাউন্ডজিরো পরীক্ষা করেনি) দুই সাংবাদিককে মারধর করতে করতে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 

গত ১০ অক্টোবর গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান অনিত থাপা তিস্তার হরপা বানে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত কালিম্পঙের গেলিখোলা প্রদর্শনে যান। জানা গিয়েছে এই সময় ওই দুই সাংবাদিক অনিত থাপাকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং তাঁর সঙ্গে এনএইচপিসি ও সেবক-রংপো রেলপথের নির্মাণকারী সংস্থার বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করলে তাঁর দলীয় কর্মীরা মনোজ ও উমেশের উপর চড়াও হয়। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় (যার সত্যতা গ্রাউন্ডজিরো পরীক্ষা করেনি) দুই সাংবাদিককে মারধর করতে করতে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 

 

১১ অক্টোবর কালিম্পং থানায় দুটি আলাদা আলাদা অভিযোগ দায়ের করেন দার্জিলিং জেলার সোনাদার প্রবীণ সুব্বা ও টুং-এর অনুপ ঠাকুরি। প্রবীণের অভিযোগ, ওই দুই সাংবাদিক সুব্বা জনজাতির নামে গালমন্দ করেছে এবং তাঁকে অপমান করেছে। অনুপ ঠাকুরির দাবি, সাংবাদিকরা লাঠি, খুকরি নিয়ে তার উপর হামলা চালায় এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সম্ভবত, দুই অভিযোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে হওয়ায় বিজিপিএম-এর কালিম্পং জেলা কমিটির সভাপতি দলীয় প্যাডে কালিম্পং থানার আইসি-কে লেখা চিঠিতে ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি-জনজাতি আইনে গ্রেফতার করার দাবি জানায়।

 

 

কালিম্পং প্রেস ক্লাবের সম্পাদক প্রজ্জ্বোল বোগতি গ্রাউন্ডজিরোকে জানান, রেল ও এনএইচপিসির সঙ্গে অনিত থাপার বৈঠক এবং তিস্তা সম্পর্কিত বিষয়ে জিটিএ-র সমালোচনামূলক ভিডিও প্রচারিত হওয়ায় বিজিপিএম নেতৃত্ব খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছিল এমনকি বিজিপিএম নেতা বারুদ থাপা ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ’ করার নিদান দেন। প্রজ্জ্বোলের মতে যা একরকম মারধর করার হুমকি। এর পরই এই ঘটনা ঘটে। দার্জিলিঙের বিধায়ক নীরজ জিম্বা মুখে এই একই সুর শোনা যায়, তিনি সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা করে বলেন, যখন তিস্তার তাণ্ডব নৃত্যে মানুষের ঘর, জানমাল বিপর্যস্ত তখন জিটিএ প্রধান এনএইচপিসি ও রেলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন। অভিযোগ, সে বৈঠকে এই বিপর্যয়ের পরেও বাঁধ ও রেলপথ নির্মাণে সব রকমের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন অনিত থাপা। প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাজ্য প্রশাসন, জিটিএ, এনএইচপিসি-সহ বিভিন্ন দফতরের এক বৈঠক হয়। জিটিএ প্রধান অনিত থাপা এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, “তিস্তার বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত নদী বাঁধ, গার্ডওয়ালের জন্য এনএইচপিসিকে বলা হয়েছে।”

 

 

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, গজমুমুর সভাপতি বিমল গুরুং-সহ পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলি। কালিম্পং প্রেস ক্লাব ইতিমধ্যেই নিন্দা করে সাংবাদিক নিগ্রহে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এই মর্মে প্রেস ক্লাবের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দলীয় আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিজিপিএমকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় কালিম্পং প্রেস ক্লাব।

 

Share this
Leave a Comment