রাষ্ট্র যখন সন্ত্রাসবাদী


  • April 18, 2023
  • (0 Comments)
  • 690 Views

তবে কি মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষের যে বাতাবরণ উত্তরপ্রদেশ তথা সারা দেশ জুড়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা হয়েছে তারই ফলশ্রুতি এই জোড়া হত্যাকাণ্ড? তাই কি একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠনের সদস্য এবং ঘোষিত অপরাধী তিন যুবক স্রেফ বাহবা পেতে, বিখ্যাত হতে এবং দাগী মুসলমানকে খুন করে ‘পুণ্য’ অর্জন করতে চেয়েছে। যে ‘পুণ্য’র ফলে তারা ভবিষ্যতে যোগী সরকারের বা হিন্দুত্ববাদী নীতিগুলির সুফল পাবে? না কি এরা এক বৃহৎ রাষ্ট্রীয় চক্রান্তের বোড়ে? প্রশ্ন তুললেন দেবাশিস আইচ

 

 

মাফিয়া জগতের এক ‘বেতাজ বাদশা’কে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া্ হচ্ছে হাসপাতালে। সঙ্গে তাঁর সহোদর। একটি ভিডিওতে দেখা গেল অভিযুক্ত দুই ভাই আতিক ও আশরফ আহমেদকে নামানো হল একটি গাড়ির পিছনের আসন থেকে। হাতে গোনা ছ’-সাত জন পুলিশ কর্মী তাঁদের ঘিরে রয়েছেন। পরবর্তীতে দেখা গেল একই হাতকড়ায় বাঁধা দু’জন পাশাপাশি হেঁটে এগোচ্ছেন। গা ঘেঁষে দু’পাশে দু’জন, পিছনে দু’-তিন জন পুলিশকেও দেখা গেল। এরপরই সামনে থেকে, ডানদিক-বাঁদিক থেকে এগিয়ে এল একাধিক টিভি বুম। আতিক বলতে শুরু করলেন, কয়েকটি শব্দ “এক বাত ইয়ে হ্যায় কি হিন্দু-মুসলিম…”, কথা শেষ হল না। তাঁর বাঁদিকের পুলিশ কর্মীর মাথার পিছন থেকে গর্জে উঠল পিস্তল। একদম খুলিতে ঠেকিয়ে, যাকে বলা হয় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ। যদিও দু’হাত পিছনেই ছিলেন আরও এক পুলিশ কর্মী। ছিটকে সরে গেলেন তিনি। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর টুইট করা এক ভিডিও ক্লিপিংয়ে দেখা গেল এই দৃশ্য।

 

এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার হাতে হাতকড়া, সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, অন্তত ২০ জন পুলিশের ঘেরাটোপ টপকে, এক গুচ্ছ চলন্ত টেলিভিশন ক্যামেরাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অনায়াসে খুন করে দিল তিন দুষ্কৃতী। খুন করে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি তুলে আত্মসমর্পণও করল। আতিক যে খুন হয়ে যেতে পারেন সে সন্দেহ শুধু আতিক নয়, মিডিয়াতে বলাবলি, লেখালেখিও হয়েছে। গুজরাতের আহমেদাবাদ থেকে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ আসার পথেই কিছু একটা ঘটতে পারে এমন এক সন্দেহের বশেই পুরো যাত্রাপথে পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে সমান তালে দৌড়েছে সাংবাদিকরাও। বিশালকায় কনভয়ের সে এক চোখ ধাঁধানো দৌড়। খুন হয়ে যেতে পারেন এই আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন শোনেইনি শীর্ষ আদালত। ২৮ মার্চ মৌখিক ভাবে আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, “রাষ্ট্রযন্ত্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে।” তিন সপ্তাহও কাটল না। সেই ‘রাষ্ট্রযন্ত্র’র হেফাজতেই খুন হয়ে গেলেন আতিক। প্রশ্ন উঠেছ, জীবনের আশঙ্কা রয়েছে এমন এক অপরাধীকে জেল হেফাজতেই তো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যেত চিকিৎসককে ডেকে পাঠানো কিংবা ভিডিও কনফারেন্স করা যেত, তা কেন করা হল না। দ্বিতীয়ত, যখন নিয়ে আসাই হল তখন হাসপাতালের ভিতরেই কেন নেওয়া গেল না পুলিশের গাড়ি? কেন তাঁকে অচেনা ভীড়ের মধ্য দিয়ে গদাইলস্করি চালে হাঁটাতে হাঁটাতে নিয়ে আসা হল? কেন সাংবাদিকদের পরিচয় পত্র আগেভাগে খতিয়ে দেখল না পুলিশ? যাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১০০টি ফৌজদারি মামলা, এবং ইতিমধ্যেই একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেল হেফাজতে, তাঁকে কেন একটি মামলার জন্য গুজরাত থেকে তুলে আনতে হল? বাকি অভিযোগগুলির যথাযথ নিষ্পত্তির জন্য কি আতিক, আশরফদের বাঁচিয়ে রাখার দরকার ছিল না? তার জন্যই কি উচিত ছিল না আরও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা? মোদী-যোগী-হিমন্তদের রাজত্বে এইসব প্রশ্ন আজ অবান্তর, অর্থহীন। হাতে হাতে মূল্য চুকিয়ে দেওয়াই সেখানে দস্তুর। গ্যাংস্টারের আবার জীবনের অধিকার কী?

 

আতিকের খুনের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যান আতিকের পুত্র আসাদ আহমেদ ও তারই এক সঙ্গী গুলাম। ইতিমধ্যেই এটি সংঘর্ষ না কি ঠান্ডা মাথায় খুন তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে চর্চা শুরু হয়েছে। একগুচ্ছের অতি সঙ্গত প্রশ্ন তোলা হয়েছে যার উত্তর মেলেনি। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে যোগী ক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১৮৩টি সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে আহতের সংখ্যা ৪,৯৪৭ জন। পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে মৃতদের ৩৭% মুসলমান, এরপরই অধিকাংশ মৃতই দলিত কিংবা ওবিসি শ্রেণিভুক্ত। উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত মাফিয়া ও বাহুবলীরাজ খতমের প্রতিজ্ঞা করেই ক্ষমতায় বসেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর এই খতম অভিযানের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠল কুখ্যাত ইউপি গ্যাংস্টার আইন (১৯৮৬)। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের হাতে প্রশ্নহীন যথেচ্ছ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হল। এবং প্রতিটি তথাকথিত সংঘর্ষের ঘটনাকে বুক চিতিয়ে সাহস ও সমর্থন জুগিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ‘ঠোক দো’ শাসন নীতির সমর্থন জুটেছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকেও। আসাদ ও গুলামের মৃত্যুর পর উল্লাসে ফেটে পড়েছিল যোগী ভক্তরা। বিলি করা হয়েছিল মিষ্টি। মুখ্যমন্ত্রী বাহবাও দিলেন পুলিশকে। আইন-আদালত, বিচার ব্যবস্থা এখানে ব্রাত্য। আইনের শাসন এখানে যেন কোনও এক সুদূর জগতের কল্পকাহিনি। যোগীরাজ্য, রাজ্যের আইন, তার আইনসভার আচরণ পৃথিবীর যে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা সামরিক জুন্টা শাসিত রাষ্ট্রকেও এখন লজ্জায় ফেলে দেবে।

 

আতিকের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিকতম অভিযোগ ছিল, বহুজন সমাজ পার্টির বিধায়ক রাজ পাল হত্যার (২০০৫) প্রধান সাক্ষী আইনজীবী উমেশ পাল ও তাঁর দুই নিরাপত্তা রক্ষীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার। এ বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি উমেশ পাল খুন হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি আদিত্যনাথ শপথ নেওয়ার পরে বিধানসভায় বলেন, “ইস হাউস মে কে রহা হুঁ, ইস মাফিয়া কো মিট্টি মে মিলা দেঙ্গে।” ৯ মার্চ প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ হরিনারায়ণ রাজভর ঘোষণা করেন, “আতিক আহমেদকে জেল থেকে বার করে এনকাউন্টার করা উচিত। যে অফিসার আতিককে এনকাউন্টারে মারবে স্বর্গের দ্বার তার জন্য খুলে যাবে।” এই সময়ই রাজ্যের আর এক মন্ত্রী জেপিএস রাঠোর মন্তব্য করেছিলেন, আহমেদকে যে গাড়িতে আনা হচ্ছে তা ‘উল্টে যাওয়া উচিত’। রাঠোর আসলে ২০২০ সালে গ্যাংস্টার বিকাশ যাদবের ভুয়ো এনকাউন্টারে মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। বিকাশ যাদবের মৃত্যুর পর পুলিশ বলেছিল, পুলিশ ভ্যান উল্টে যাওয়ায় বিকাশ যাদব পালানোর চেষ্টা করছিল।

 

২৫ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর ‘মিট্টি মে মিলা দেঙ্গে’ শপথের পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। ২৭ ফেব্রুয়ারি উমেশ পাল হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আরবাজের গুলিতে মৃত্যু হয়। অভিযোগ, হত্যাকারীদের গাড়ির চালক ছিলেন আরবাজ। ৭ মার্চ আরও এক অভিযুক্ত বিজয় চৌধুরী তথাকথিত সংঘর্ষে মারা যান। এরপরই আতিক আহমেদ সুপ্রিম কোর্টে এক আবেদনে তাঁকে গুজরাত থেকে উত্তরপ্রদেশের জেলে নিয়ে যাওয়ার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন তাঁকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ খুন করবে। তাঁর কৌঁসুলি আদালতকে বলেন, তাঁর মক্কেলকে নিরাপত্তা দিক আদালত বা তাঁর এই খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাটি রায়দানের সময় আদালত যেন লিখিত ভাবে উল্লেখ করে। আমরা আগেই জেনেছি শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ কোনও রায় দিতে অস্বীকার করে। এবং মামলা ফিরিয়ে দেওয়ার আগে মৌখিক ভাবে জানায়, আহমেদ যেহেতু বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের শাসনযন্ত্র (স্টেট মেশিনারি) তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে (স্ক্রোল ডট ইন, ১৬ এপ্রিল ২০২৩)।

 

এখানেই শেষ নয়। জোড়া খুনের পরে যখন বিজেপি সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করল, তখনও বিজেপি মন্ত্রীরা এই হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানিয়ে গিয়েছেন। মন্ত্রী স্বতন্ত্র দেব সিং টুইট বার্তায় লিখেছেন, “পাপ ঔর পুণ্য ইসি জনম মে হোতা হ্যায় (পাপ ও পুণ্য এক জন্মেই হয়)”। আরেক মন্ত্রী সুরেশ খান্না তো আবার এই হত্যাকাণ্ডে “আশমানি ফয়সালা (মহাজাগতিক সিদ্ধান্ত)” দেখতে পেয়েছেন।

 

তবে কি মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষের যে আবহ উত্তরপ্রদেশ তথা সারা দেশ জুড়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা হয়েছে তারই ফলশ্রুতি এই জোড়া হত্যাকাণ্ড? তাই কি একই সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি সংগঠনের সদস্য এবং ঘোষিত অপরাধী তিন যুবক স্রেফ বাহবা পেতে, বিখ্যাত হতে এবং দাগী মুসলমানকে খুন করে ‘পুণ্য’ অর্জন করতে চেয়েছিল। যে ‘পুণ্য’র ফলে তারা ভবিষ্যতে যোগী সরকারের বা হিন্দুত্ববাদী নীতিগুলির সুফল পাবে? না কি এরা এক বৃহৎ চক্রান্তের বোড়ে? ছকটা কি এই যে, এমন এক চমকে দেওয়ার মতো, তাক-লাগানো দৃশ্য তৈরি করা্‌, যা দেখে শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, সারা দেশ বিশেষ ভাবে মুসলমানরা যেন শিউরে ওঠে। এবং হিন্দুত্ববাদীদের সকলেরই বুকের ছাতি চওড়া হতে হতে ৫৬ ইঞ্চিও ছাপিয়ে যায়। টিভি ক্যামেরা নিজের অজান্তে নাটকীয় ভাবেই সে দৃশ্য তৈরিতে, সে বার্তা পৌঁছে দিতে দারুণ ভাবে সক্ষম হয়েছে সন্দেহ নেই। এই সন্দেহ তাই থেকেই যাবে, এই তিন হত্যাকারীকে সুপারি দিয়েছে সরকার তার শাসন যন্ত্রের মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই তো শোনা যাচ্ছে উল্লাসে ফেটে পড়া সঙ্ঘীনিনাদ। জয়ধ্বনি উঠছে তিন ‘হিন্দুবীর’-এর নামে। কতদিন আর জেল হেফাজত? গাঁদাফুলের মালায় ঢেকে দিয়ে স্বাগত জানানো তো স্রেফ সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

 

ছি ছি বলবেন যাঁরা, মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন যাঁরা, যাঁরা মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন ভারতীয় সংবিধান তার ২১ ধারায় বলেছে, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার সর্বোত্তম মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগীয় পদ্ধতি ছাড়া তা খেয়ালমাফিক, নিয়মবহির্ভুত ভাবে কেড়ে নেওয়া যায় না। এক জন কুখ্যাত গ্যাংস্টার হলেও না। মোদী-যোগীদের রাজত্বকে যাঁরা সঠিক কারণেই মুসলমান বিদ্বেষী বলে, শুধু ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে নয়, গো-রক্ষার নামে, রাম-হনুমানের নামে, ৩৭০ ধারা বাতিল থেকে এনআরসি-সিএএ-র নামে, দেশদ্রোহীতার নামে, এনকাউন্টারের নামে ভারতের মাটি থেকেও মুছে ফেলতে চায় বলে আবারও সরবে আঙুল তুলবে; তাঁদের কণ্ঠস্বর মুছে দিতে একতরফা ভাবে যোগী-মোদীর “শাস্ত্র ও শস্ত্র’র জয়গানে মাতবে গোদী মিডিয়া। তাদের তীব্র ও তীক্ষ্ণ প্রচারে কেবলই মুসলমান, শুধু মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বর্ষিত হতে থাকবে—গোলি মারো, ঠোক দো। প্রশ্ন উঠবে না, প্রশ্ন তুলতে দেওয়া হবে না—কীভাবে ২০০২-এর গুজরাতে মুসলিম নারীদের ধর্ষণকারী, দাঙ্গাবাজরা সাজা পাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অঙুলি হেলনে ছাড়া পেয়ে যায়। কেন মোদীর রাজত্বে দাঙ্গার পর দাঙ্গায় যারা মার খেল, যারা মরল, ঘরবাড়ি-ব্যবসা হারালো তাদেরই দোষী সাজিয়ে বুলডোজার লেলিয়ে দেওয়া হল মহল্লায় মহল্লায়। কেন একটি মুসলমান সম্প্রদায়কে গণহত্যার ডাক দেওয়ার পরও শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে না ভেকধারী সাধু-সন্ন্যাসীদের উপর? কেন এখনও সেই তারস্বর ঘৃণা ভাষ্যে ঢাকা পড়তে থাকবে গণতন্ত্রের সত্য, সংবিধানের সত্য, সুবিচারের সত্য, রাজধর্মের সত্য!

 

Share this
Leave a Comment