বনগ্রামের চার-পাঁচশো পাট্টার রেকর্ড নেই প্রশাসনের কাছে : শ্রমজীবী মঞ্চ


  • June 24, 2022
  • (0 Comments)
  • 635 Views

একটি গ্রাউন্ডজিরো প্রতিবেদন

 

বনগ্রামের বাসিন্দাদের মহামিছিলের পর যেন টনক নড়ল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের। ১৫ জুলাই আলিপুরদুয়ারে রাভা, ডুকপা, নেপালি, আদিবাসীদের এক বর্ণাঢ্য প্রতিবাদী মিছিল হয়। এর পরই ১৭ জুলাই রাজাভাতখাওয়ার গারোবস্তিতে ক্যাম্প বসিয়ে ওই অংশের জমির খতিয়ান দেওয়ার কাজ শুরু করে প্রশাসন। উত্তরবঙ্গ বনজন শ্রমজীবী মঞ্চ-র আহ্বায়ক লালসিং ভুজেল জানান এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৬৫ জনের জমির খতিয়ান মিলেছে। এখনও কাজ চলছে। ১৫ তারিখের প্রতিবাদ মিছিলের কারণেই প্রশাসনের এই তৎপরতা বলে মনে করছেন তিনি।

 

লালসিং আরও জানান, ২০১০-১২ সালে অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলার বনগ্রামবাসীদের প্রায় শ’পাঁচেক পাট্টা বিলি করা হয়। বর্তমান আলিপুরদুয়ার প্রশাসন জানাচ্ছে সেই ‘রেকর্ড’ দপ্তরে নেই। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের জুন মাসে জলপাইগুড়ি জেলা ভেঙে আলিপুরদুয়ার জেলা তৈরি হয়। এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে লালসিং বলেন, “জমিজমা, পাট্টা, খতিয়ান-দাগের রেকর্ড তো ‘কম্পিউটারাইজড’ হয়ে গিয়েছে। তাহলে আলিপুরদুয়ার অফিসে তা না থাকার কথা নয়!”

 

পাট্টা দেওয়া হয়েছে অথচ জমির খতিয়ান মেলেনি। বনাধিকার আইন অনুযায়ী রেভিনিউ ভিলেজ বা রাজস্বগ্রামের মর্যাদা পায়নি এক গুচ্ছের বনগ্রাম। যে গ্রামে খতিয়ান মিলেছে সেখানে গ্রামবাসীর জমি ও বনের জমির সীমানা নিয়ে বিতর্ক বেঁধেছে। অভিযোগ, বক্সাপাহাড়ে বনবস্তির মানুষের লাগানো কমলালেবুর বাগিচাও বনের জমি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ বনজন শ্রমজীবী মঞ্চের নেতৃত্বে এমনই আধ ডজন সমস্যার সমাধানের জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেন ১০টি বনগ্রামের প্রতিনিধিরা।

 

অন্যদিকে, জেলার উত্তর ও দক্ষিণ মেন্দাবাড়ি, খয়েরবাড়ি ও দক্ষিণ খয়েরবাড়ি, জয়ন্তী এবং বক্সা পাহাড়ের সদরবাজার, খাটালাইন, লালবাংলা, ওচলুং ও তোড়িবাড়ি বনগ্রামগুলি আজও রাজস্বগ্রামের মর্যাদা পায়নি। এবং এর ফলে এই গ্রামগুলির প্রায় ২০-২৫ হাজার বাসিন্দার জমির পাট্টা মিলছে না। মঞ্চের প্রতিনিধি স্বরূপ সাহা বলেন, “বনাধিকার আইন, ২০০৬ অনুযায়ী বনগ্রাম, টঙিয়াবস্তি, এফডি হোল্ডিং সহ বনাঞ্চলের অবস্থিত সব ধরনের গ্রামের, এমনকি অনথিভুক্ত, অসমীক্ষিত গ্রামগুলিকে রাজস্বগ্রামে রূপান্তর এখন একটি অধিকার। “রাজস্বগ্রামে রূপান্তরিত হওয়ার পর, সরকার ওই খাসজমি ঘোষণা করার পরই বনগ্রামের গ্রামসভার পরামর্শমাফিক পাট্টা বিলি করবে বলে তিনি জানান।

 

অন্যদিকে, বক্সার বনবস্তিবাসীদের জীবনে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো এক নতুন যন্ত্রণা দেখা দিয়েছে। ৩০ মে জাতীয় পরিবেশ আদালত এক রায়ে বলেছে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ‘বাণিজ্যিক কাজ’-এর অনুমতি নেই। আগামী দু’মাসের মধ্যে সমস্ত হোটেল, রিসর্ট ও রেস্তরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে। এই রায়ের পর বক্সা বনদপ্তর স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘হোম স্টে’-গুলিকেও নোটিশ ধরাতে শুরু করেছে। অথচ, কেন্দ্রীয় বা এ রাজ্যের পর্যটন আইনে হোম স্টে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে না। ফলত, বাণিজ্যিক কর যেমন দিতে হয় না, তেমনি বিদ্যুতের বিলের ‘টারিফ’ও সাধারণ গৃহস্থের মতোই। মঞ্চের অন্যতম দাবিগুলির মধ্যে এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “বনগ্রামবাসীদের রুজি-রুটি-উপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বন্ধ করতে হবে।”বনদপ্তরের ‘নির্বিচার বনকাটাই’ বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছে উত্তরবঙ্গ বনজন শ্রমজীবী মঞ্চ।

Share this
Leave a Comment