মিছিলে, প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতা। গ্রেপ্তার ৫৫। সিট-কে ‘না’ বললেন সালেম খান


  • February 22, 2022
  • (0 Comments)
  • 589 Views

পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সেই অনাস্থার ক্ষোভই যেন আজ আছড়ে পড়েছিল রাজপথে। আলিয়ার মিছিলটির গন্তব্য ছিল মহাকরণ। মহাকরণে রয়েছে সংখ্যালঘু দপ্তর। সে অবধি অবশ্য মিছিল কিংবা ছাত্র প্রতিনিধিদের পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। তবে, ‘মমতা-রেজিম’-এ সম্ভবত এই প্রথম পুলিশি বাঁধা গতে চলতে, বাঁধা পথে যেতে এবং বাঁধা স্থানে উপস্থিত হতে অস্বীকার করল কোনও রাজনৈতিক পতাকাহীন প্রতিবাদী মিছিল। গ্রাউন্ডজিরো প্রতিবেদন।

ফের পুলিশ লেলিয়ে দিল সরকার। লাঠি চালিয়ে, টেনে হিঁচড়ে গ্রেপ্তার করা হল ৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে। প্রতিবাদী ছাত্রনেতা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রণী সংগঠক, সমাজকর্মী ঠিক কতটা প্রিয় ছিলেন তাঁর সহযোদ্ধা, সাথি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিগত ৭২ ঘণ্টা ধরে রাজ্যের মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেছে। বিস্ফোরণ ঘটল মঙ্গলবার। দুপুর দুটোয় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র-ছাত্রী, যুবক-যুবতীদের উত্তাল স্রোত নামে রাজপথে। যাদবপুরে পালিত হয় ছাত্র ধর্মঘট। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন।

অন্যদিকে, সিটকে ফিরিয়ে দিলেন প্রয়াত আনিস খানের বাবা সালেম খান। সালেম এদিন সিটের প্রতিনিধি পুলিশ আধিকারিকদের কাছে কোনওরকম বয়ান দিতে অস্বীকার করেন। তিনি বার বার বলেন, একমাত্র সিবিআই তদন্ত হলেই তিনি মুখ খুলবেন কিংবা হাই কোর্টের কাছে তাঁর কথা বলবেন। রাতে সিট-এর আর একটি দল আনিসের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার আইনি নোটিশ দিতে আনিসের বাড়ি গেলে তাঁর বাবা ও দাদা নোটিশ নিতে অস্বীকার করেন। এবং আবারও জানিয়ে দেন যে সিবিআই কিংবা আদালত চাইলে তাঁরা মোবাইল জমা করবেন। সাংবাদিকদের সালেম বলেন, “পরিষ্কার বলে দিয়েছি। মোবাইল দিতে হলে সিবিআই-কে দেব, আদালতকে দেব। পুলিশকে দেব না।” সালেম বলে মোবাইল না দিলে যদি গ্রেপ্তার করে করবে। বার বার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তিতিবিরক্ত সালেম সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে বলে ফেলেন—আমিও খুন হয়ে যেতে রাজি। আনিসের বাড়ির সামনে বিক্ষোভের মুখেও পড়েন সিট-এর আধিকারিকরা।

পুলিশ এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সেই অনাস্থার ক্ষোভই যেন আজ আছড়ে পড়েছিল কলকাতার রাজপথে। আলিয়ার মিছিলটির গন্তব্য ছিল মহাকরণ। মহাকরণে রয়েছে সংখ্যালঘু দপ্তর। সে অবধি অবশ্য মিছিল কিংবা ছাত্র প্রতিনিধিদের পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। তবে, ‘মমতা-রেজিম’-এ সম্ভবত এই প্রথম পুলিশি বাঁধা গতে চলতে, বাঁধা পথে যেতে এবং বাঁধা স্থানে উপস্থিত হতে অস্বীকার করল কোনও রাজনৈতিক পতাকাহীন প্রতিবাদী মিছিল। মহাকরণমুখী ভরা কোটালের স্রোত উল্টো পথে হাঁটা দিল। মৌলালি থেকে এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে মিছিল যাওয়ার কথা ছিল ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিঙে। সেখানেই গার্ডওয়াল তৈরি করে উপস্থিত ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের মনে হয়েছিল এই মিছিলও অতীতের অনেকানেক ‘বাধ্য’ মিছিলের মতোই বাঁধা পথে ডোরিনা ক্রসিং পৌঁছবে। কিন্তু, মৌলালি থেকে মিছিল হঠাৎই বাঁক নেয় শিয়ালদহের দিকে। গাড়ি ভরা রাস্তায় মিছিল এঁকেবেঁকে এগোতে থাকে। কখনও রাস্তায় বসে পড়ে মিছিলকারীরা কখনও অল্প সংখ্যক দিশেহারা পুলিশের বাধা সরিয়ে মিছিল এগিয়ে যায়। এর পর মহাত্মা গান্ধী রোড ধরে এগোতে থাকে মিছিল। ততক্ষণে তিন জন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং ছ’জন ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্ব্রে মহাত্মা গান্ধী ও কলেজ স্ট্রিট ক্রসিঙে স্টিল ব্যারিকেড, র‍্যাফ, জলকামান নিয়ে তৈরি হয়ে যায় পুলিশ বাহিনী। মিছিল পৌঁছতে পৌঁছতে আরও অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়। ব্যারিকেডের মুখে রাস্তায় বসে পড়েন বিক্ষোভকারী ছাত্র-ছাত্রীর। কিছুক্ষণের মধ্যে ফের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলেই পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ে। রীতিমতো খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। বিপুল পুলিশ বাহিনী, র‍্যাফ লাঠি চালিয়ে এবার ছত্রভঙ্গ করে দেয় মিছিলকারীদের। টেনে হিঁচড়ে মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাতে তাঁদের ব্যক্তিগত বন্ডে লালবাজার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রাতেও ফের আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের সমর্থনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই সমর্থক ছাত্র-ছাত্রীরা যাদবপুর থানা অবধি মিছিল করে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা একই কারণে কিছুক্ষণের জন্য কলেজ স্ট্রিট্র অবরুদ্ধ করে দেন। অবরোধ হয় কোনা এক্সপ্রেস ওয়েতেও। আনিসের স্মরণে মোমবাতি মিছিল হয় আমতায়।

 

Share this
Leave a Comment