পড়ুয়াদের বেধড়ক পেটাল পুলিশ, কোমরে দড়ি বেঁধে হাজির করা হল আদালতে


  • February 8, 2022
  • (0 Comments)
  • 577 Views

গ্রাউন্ডজিরো প্রতিবেদন, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২

 

ফেসবুকের একটি পোস্টের জন্য দলিত আন্দোলনের শীর্ষ স্থানীয় কর্মী শরদিন্দু উদ্দীপনকে তাঁর বাড়ির থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার একাধিক গণতান্ত্রিক সংগঠন, ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন এবং নারী সংগঠন কামালগাজি ব্রিজের কাছে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। প্রতিবাদ সভার শুরুতেই নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ছ’জনকে আটক করে। এবং মাইক এবং আন্দোলনকারীদের ভাড়া করা একটি টোটো বাজেয়াপ্ত করে। অভিযোগ এই সময় থানা চত্বরে উপস্থিত অন্যান্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অকথ্য দুর্ব্যবহার করে পুলিশ।

 

রাত সাড়ে নটা নাগাদ ওই ছ’জনকে ব্যক্তিগত বন্ডে থানা থেকে ছাড়া হয়। এই সময় পড়ুয়াদের সংগঠন আইসার (এআইএসএ) কর্মীরা প্রতিবাদী স্লোগান তোলায় পুলিশ তাদের চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলে নৃশংসভাবে মারতে শুরু করে বলে অভিযোগ। মারের হাত থেকে রক্ষা পাননি মহিলারাও। আরও অভিযোগ, বুকে-পেটে লাথি মারা থেকে শুরু করে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের কর্মী মলয় তেওয়ারিকে মাটিতে ফেলে তাঁর মাথা বুট দিয়ে চেপে ধরে এক পুলিশ কর্মী। এবং ফের আরেকবার থানার বাইরে থেকে ১২ জনকে তারা গ্রেফতার করে। এই সময় গ্রেফতার হয় মূলত আইসা, সিপিআই (এমএল) লিবারেশন এবং মহিলা সংগঠন এআইপিডব্লিউএ-র সদস্যরা।

 

রাত আড়াইটে নাগাদ লিবারেশানের মলয় তেওয়ারি এবং মহিলা সংগঠনটির সদস্য চন্দ্রাস্মিতা চৌধুরীকে মুক্তি দেওয়া হলেও আটক করে রাখা হয় আন্দোলনের বাকি কর্মীদের। মলয় তেওয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উনি জানান, “আমাদের মিছিলের ইন্টিমেশন পুলিশকে আগে থেকেই দেওয়া ছিল। তারপরেও তারা এই মিছিলকে আটকায় এবং কর্মীদের গ্রেফতার করে। পরে রাত সাড়ে ন’টায় ছাড়বার পর আবার যখন আমাদের গ্রেফতার করে তখন থানার ভিতরে ও বাইরে প্রচণ্ড মারধোর করে। এবং আমার সামনে আমার তিন জন নারী কমরেডকে ধর্ষণের হুমকি দেয় পুলিশ।” আইপওয়া সদস্যা চন্দ্রাস্মিতা চৌধুরী মনে করেন, এই গোটা ঘটনার পিছনে কাজ করেছে ‘হিন্দু সংহতি’-র প্রভাব। তিনি আরো জানান যে, এই পুলিশ থানার ভিতরে আন্দোলনকারীদেরকে ‘নিচু জাত’ বলেও গালিগালাজ করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইপিসি ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩, ৫০৬, ৫০৯, ৩৪ নং ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের সদস্যা সঞ্চিতা আলি বলেন, “রাতে থানার ভিতরেও আইসার সদস্যদের মারধোর করে পুলিশ। আজ আদালত চত্বরে অনেকেরই শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।” মলয় বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের দাগি অপরাধীদের মতো কোমরে দড়ি বেঁধে আজ আদালতে নিয়ে আসা হয়। অথচ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো এও মানবাধিকার বিরোধী এবং বেআইনি।

 

আজ বারুইপুর আদালত অভিযুক্তদের জামিন না দিয়ে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে। আগামিকাল আবার তাঁদের আদালত পেশ করা হবে। অন্যতম অভিযুক্ত বর্ষা বড়ালের আগামিকাল পরীক্ষা থাকায় আদালত জেলের ভিতরেই তাঁকে ল্যাপটপ এবং ডঙ্গেলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে।

 

বুধবার পুলিশি অত্যাচার, বেআইনি ভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে হাজির করা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের গ্রেপ্তার ও হেনস্থার প্রতিবাদে কলেজ স্ট্রিট থেকে প্রতিবাদী মিছিলের ডাক দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-সহ অন্যান্য গণসংগঠন।

Share this
Leave a Comment