মুসাফিরের প্রস্থান


  • July 10, 2021
  • (0 Comments)
  • 519 Views

 মুসাফির জীবনকে আলবিদা জানিয়ে রাজা আজ সত্যিকারের বিদায় নিলেন ইটকাঠের এই পার্থিব শহর থেকে। যেখানে ব্যাধি নেই, হাহাকার নেই, বিয়োগান্তক দৃশ্য নেই, অমনস্কাম জন্মান্তর নেই — আলবিদা ইউসুফ খান। আপনার সফর সুহানা হোক।লিখেছেন ঊর্ণনাভ তন্তু ঘোষ।  

 

রাজা —

লক্ষ লক্ষ ইটকাঠের ঘরবাড়ি। তার ভিতর অগণিত মানুষের ঠাসাঠাসি বসবাস। তাদের সুখদুঃখ, হাসি-কান্নার নির্বাক দর্শক এই মৌন ঘর। যেন মুসাফিরের জীবন — পথ চলতি মানুষ আসে, জিরোয়, অতঃপর চলে যায়। এখানেই কারও জন্ম, কারও বিবাহ, কারও মৃত্যু; — বলরাজ সাহানির কণ্ঠে এস্টাবলিশিং শট থেকে ক্যামেরা শিফট করছে একটি অপরিচ্ছন্ন ঘরের দিকে। এরপর শুরু হয় মুসাফিরের জীবনচিত্র —

 

বোম্বেতে থাকাকালীন ঋত্বিক ঘটক যে দুটি ছবির চিত্রনাট্য লেখেন তার একটি বিমল রায়ের পরিচালিত ‘মধুমতী’ অন্যটি হৃষিকেশ মুখার্জির ডিরেক্টোরিয়াল ডেবিউ  ‘মুসাফির’। ১৯৫৭ তে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির অভিনয় ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন চলচ্চিত্র জগতের একঝাঁক তারকা —  দিলীপ কুমার, কিশোর কুমার, ঊষা কিরণ, নিরূপা রায়, কেষ্ট মুখার্জি ও সুচিত্রা সেন। সঙ্গীত পরিচালনায় সলিল চৌধুরী সহ আরও অনেকে। ছবিটির কাহিনি মূলত সমসাময়িক পরিকাঠামোয় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ঘরকে কেন্দ্র করে। ঘরটি যেন নির্বাক থেকেও ভাড়াটিয়াদের বিচিত্র সব আশা-আকাঙ্ক্ষা যন্ত্রণার বর্ণনা দেয় এই ছবির মাধ্যমে। বিবরণ দেয় জীবনচক্রের তিন অধ্যায়ের—বিবাহ-জন্ম-মৃত্যু। এক ভাড়াটে চলে যায় অন্য ভাড়াটে আসে। টাইমট্রাভেলের স্থানিক একটি বিন্দুর মত ঘরটা রয়ে যায়। অন্ধকার গুহার নিষাদে, নদীর শুকানো জমিতে অথবা মাটির তলায় যেমন আমাদের সভ্যতার উপচীয়মান কথকতার জীবাশ্ম ধুলোর নীচে থেকে যায়। টু লেট বোর্ড সভ্যতার প্রতিটি অধ্যায়কে স্বাগত জানায়। খেই হারানো পাথরগুলোকে স্তরে স্তরে সাজিয়ে বাঙ্ময় করে তোলে। ঋত্বিক এই অচর্চার দুর্নিরীক্ষ্য ভাষা পড়তে জানতেন। জানতেন, বেহাল সমাজব্যবস্থার কলুর ঘানিতে বাঁধা শহুরে কপোত-কপোতীরা ঠিক কতখানি অসহায় —

প্রথম পর্যায়, বিবাহ

 

এক নববিবাহিত দম্পতি। শকুন্তলা বর্মা (সুচিত্রা সেন), অজয় শর্মা (শেখর)। বাড়ির অমতে বিবাহ করে বাবার ভয়ে এই ভাড়া বাড়িটিতে আশ্রয় নেয়। শকুন্তলা স্বপ্ন দেখে একদিন সে তার স্বামীর ঘরে স্ত্রীর যথাযথ সম্মান নিয়ে ফিরে যাবে। এই মনস্কামনায় একটি বীজ (sanctified seed) উঠানের এক কোণায় রোপন করে। বীজ ফেটে একদিন অঙ্কুর বেরিয়ে আসবে। পৃথিবীর আলো ছায়া দাবি করবে। বড় হবে। আকাশ ছেয়ে তার ডালিতে ডালিতে ফুটে থাকবে রঙিন ফুল। অন্যথায় সব বৃথা। শকুন্তলাও বৃথা। তাঁকে যেনতেন স্বামীগৃহে ফিরতেই হবে। এরপর কিছুদিনের অপেক্ষার মধ্যে অজয়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর বাবা-মা ( বিপিন গুপ্তা, দুর্গা খোটে) এসে ওঠেন সে বাড়িতে। বৌমার সংস্কারে তাঁরা বিমোহিত, এমন ওয়েলব্রেড পুত্রবধূকে কিনা এতদিন দূরে সরিয়ে রেখেছেন! সব রাগ অভিমান ভুলে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। বাড়ির মালিক নতুন ভাড়াটের জন্য টু লেট বোর্ড উল্টে দেয়। শ্যামল মিত্রের কণ্ঠে বাজতে থাকে,

— এক আয়ে এক যায়ে মুসাফির / দুনিয়া এক সরায়… জীবন, শহর, সময় থেমে থাকে না। অবিনশ্বর। বহমান। ধ্রুব।

দ্বিতীয় পর্যায়, জন্ম

 

অবসরপ্রাপ্ত এক বৃদ্ধ (নাজির হুসেন) তাঁর সন্তানসম্ভবা বিধবা পুত্রবধূ (নিরূপা রায়) ও ভানু (কিশোর কুমার) এ বাড়িতে আশ্র‍য় নেয়। নিরাশা শোক যন্ত্রণার তারে তারে বাঁধা মানুষের জীবন। সকলেই চায় নিস্তার। মাধববাবু চায় জীবনঝঞ্ঝা থেকে শান্তি। তাঁর পুত্রবধূ চায় আত্মমুক্তি। ভানু চায় চাকরি। একটি চাকরি হয়তো জীবন মৃত্যুর যুযুধান সংগ্রাম থেকে নিষ্কৃতি দিতে পারে। অথবা সাময়িক অব্যাহতি। অথচ, নির্মম ভাগ্য এবং ভোগবাদের দুনিয়া ভানুকে নিরাশার শেষ সোপানে কপর্দকশূন্য আছাড় মারে। যেখান থেকে শূন্যে কেবল অন্ধকার কুয়াশা। ভানু ঝাঁপ দেয়। বিষের বোতল তুলে নেয়, অথচ সে বিষও নাকি নকল। এমতাবস্থায় বেঁচে ওঠার অভিশাপ এবং বেঁচে থাকার আশীর্বাদ দুই যেন ভাগ্যের পরিহাস। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আসে। ভানু চাকরি পায়। অন্যদিকে তাঁর বৌদিরও সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। মাধববাবুর বুকের পাথর নেমে যায়। তারাও ফিরে যায় — এভাবেই ‘চক্রবৎ পরিবর্ত্তন্তে দুঃখানি চ সুখানি চ’। সুখ দুঃখের চাকায় জীবন বদলায়। পার্থিব ভৌত অবস্থান কখনোই চিরস্থায়ী হয় না।

তৃতীয় পর্যায়, মৃত্যু ও পুনর্জন্ম

 

তৃতীয় ভাড়াটিয়া হলেন একটি ক্র্যাবি ব্যারিস্টার (পল মহেন্দ্র), তাঁর বিধবা বোন উমা (ঊষা কিরণ) এবং তার প্রতিবন্ধী শিশু রাজা (ডেইজি ইরানি)। আগের দুটি পর্বে একটি রহস্যময় বেহালা প্লেয়ারের কথা উঠে আসে। তাঁকেই পরিচয় করানো হয় এই পর্বে। নাম রাজা। যদিও দোকানের চা-ওয়ালা তাঁকে ডাকে পাগলাবাবু নামে। তাঁর চালচুলোহীন যাপন। আপনা মর্জিকা মালিক, ইচ্ছে হলে বাজায় নয়তো রাতদিন চোলাইয়ের সাগরে ডুবে থাকে, মৃত্যুর অপেক্ষায়। এই উমাকে একদিন রাজা ভালোবেসেছিল। কিন্তু নিজের মারণরোগের কথা শুনে সব ছেড়ে চলে যায়। উমার দাদা তাঁর বিবাহ দেন। অতঃপর অকালে স্বামী হারিয়ে সন্তানের পঙ্গু দুটি পায়ের চিকিৎসার জন্য তারা এ ঘরে আসে। এখানেই প্রকাশ হয় রাজা চরিত্রটি। উমা তাঁকে আজও ভোলেনি। সে চায় তাঁকে সারিয়ে তুলতে যত্ন করতে। রাজা মেনে নেয়। উমার ছেলে রাজার সঙ্গে গল্পে গানে দিন কাটতে থাকে। তাঁর শিশু মনকে আশা দেখায় একদিন নিশ্চয় সে হাঁটবে। উঠানের কোণায় গাছটায় যেদিন লাল লাল ফুল ফুটবে সেদিন… এখানে ও’হেনরি-র ‘দ্য লাস্ট লিফ’ -এর কথা মনে পড়ে যায়।

It is the last one…I thought it would surely fall during the night. I heard the wind. It will fall today, and I shall die at the same time. The night passed, but the leaf was still there.

সেদিন রাতভর ভায়োলিনের আওয়াজে উমার দাদা তীব্র উন্মাদের মত ভায়োলিনটিকে ভেঙে ফেলে এবং ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। রাজা ভাঙা বেহালা আর ছড় হাতে দিলীপ কুমার, না, একজন ক্লান্ত বিধ্বস্ত মুসাফির জীবনের সব লেনাদেনা চুকিয়ে ফিরে যাচ্ছেন মহাযাত্রার উদ্দেশ্যে। অন্ধকারে ঝড় তুফানের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে তার ছায়া। ছিঁড়ে পড়ছে অতিথি গৃহের সাইনবোর্ড। ঝরে যাচ্ছে শেষ ফুলটাও।

এরকম ঝড়-ঝঞ্ঝাহত রাত পেরিয়ে সকাল হয়। উমার ছেলে রাজা ঘুম থেকে উঠে দেখে জানালার বাইরে লাল টকটকে আলোর আকাশটার পাশে অসংখ্য ফুল ফুটে আছে; সে হেঁটে এগিয়ে যেতে চায়। পা-জোড়া স্ব-ইচ্ছায় বাড়িয়ে দেয়। দৈবাৎ পা’দুটির প্যারামবুলেটিং ক্ষমতা ফিরে আসে। সে আনন্দে জানালার দিকে আঙুল তুলে মাকে ডাক দেয়। অথচ সে গাছ ঝড় জলে গতরাতেই মারা গেছে। একইসঙ্গে রাজাও। রাতের অন্ধকারে রাজা ফুল-সহ একটি ডাল হাতে সারারাত বসে থেকেছে জানালার নীচে। সেখানেই শুয়ে থাকতে থাকতে ভোররাতে মারা গেছে। ঠিক যেমন বেহরম্যান অবিরাম তুষারপাতের মধ্যে একটি পাতা এঁকে জনসিকে বাঁচিয়ে তুলেছিল। রাজাও ওই বাচ্চা শিশুটিকে পঙ্গু জীবন থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেল। শেষবারের মত ক্যামেরা একবার মৃত গাছটির ক্লোজশট আরেকবার রাজার মৃত মুখটির ক্লোজশট নিয়ে মুভ করে বারান্দার উপর। ছোট্ট রাজা হেঁটে যাচ্ছে আলোময় আকাশটার দিকে। যেন আরেক নবজন্মের সূচনা হল একই সকালে।

 

মুসাফিরের রাজা ও ঋত্বিক

 

খেয়াল করলে দেখা যাবে, রাজা চরিত্রটি অনেকটা দেবদাসেরই আদল। দিলীপ কুমার সুচিত্রা সেন অভিনীত বিমল রায়ের দেবদাস। ঋত্বিক সেসময় কাজের ফাঁকে ফাঁকেই দেবদাস-এর সেটে যেতেন, আড্ডা দিতেন। তার অন্যতম কারণ ছিল রমা (সুচিত্রা সেন) এবং বিমল রায়। দুজনেই তাঁর মাতৃভূমির মানুষ। অতএব এটা পরিষ্কার যে তিনি সেখান থেকেই দেবদাসের পুনর্জন্ম ব্যাপারটিকে রাজার সত্তায় ইনপুট করেছেন। খেয়াল আছে, শেষ একটা প্রতিশ্রুতি রাখতে দেবদাস ফিরে এসেছিল পার্বতীর গ্রামে। কিন্তু দেবদাসকে সেবা করার সুযোগ সে পায়নি। নাম পরিচয়হীন ভিনদেশে সে মারা যায় পার্বতীর চৌকাঠে। এই সিকোয়েন্সটা রি-ইনস্টেট করতেই রাজা ও উমার প্রথম শটে রাজাকে দেখানো হয়েছে ঘরের বারান্দায় বসে ভায়োলিন বাজাতে। এখানে উমা অর্থাৎ পার্বতী, তাঁর কাছে মরণাপন্ন দেবদাসকে আরেকবার ফিরিয়ে দেওয়া অপূর্ণ বাসনাস্বরূপ।

এবার দেখা যাক রাজা নামটির বক্তব্য কী? সাল ১৯৪৮, ঋত্বিক তাঁর ‘রাজা’ গল্পে লিখেছেন— রাজা কবি। রাজা পকেটমার। কিন্তু হৃষিকেশ মুখার্জির ছবির জন্য মুসাফির গল্পটাকে ভাঙতে হয়। সে আফসোসের কথা তাঁর স্ত্রী সুরমা ঘটককে চিঠিতে জানিয়েছিলেন। বোম্বের আদবকায়দায় রাজাকে ভাঙতে হল। পোয়েটিক মেজরের নাটকীয়তা বজায় রেখে। এখানে রাজা চোর নয় বরং বেহালা বাদক। অন্তিম পথের পথিক। তাঁর বেপরোয়া মুসাফির জীবন যার স্বপ্ন নেই মৃত্যু যন্ত্রণা নেই বেঁচে থাকার বাসনা নেই এরকম নিরাসক্ত নিরাভিমান অপেক্ষার মাঝখানে উমার প্রত্যাবর্তন। ষাট সত্তরের ছবিতে এই ধরনের উচ্ছন্নতার একটা মনোটনিক ফ্রেম অনেক হিন্দি ছবিতেই উঠে আসে। যার মূল হোতা দিলীপ কুমার। সফট-স্কেলে ছোট ছোট উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে একটা আইকনিক ইমেজ ততদিনে রমরমিয়ে চলছে। সেখানে হৃষিকেশ সলিল বিমল রায়ের মতো বাঙালিদের চেষ্টা ছিল বম্বে চলচ্চিত্রকে অভিনব আঙ্গিকে তুলে ধরা। ‘মুসাফির’ ডিরেকশন এর দিক দিয়ে যতখানি ওয়েল-ফ্রেমড তার চেয়েও অনেক বেশি আলোচ্য ছবির প্লট ও কাহিনির বিষয়টি। সেটাই অমরত্ব দিয়েছে ছবিটিকে। তবু ঋত্বিকের মন গলেনি। নাম যশ সব ত্যাগ দিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ রূঢ় বাস্তবের যে অন্ধকার গলি থেকে তিনি রাজাকে নিছক গদ্যে তুলে এনেছিলেন সেকথা বলার সুযোগ বোম্বের মাটিতে এক্কেবারেই নেই। পরিচালক ব্যাডলি ফ্লপ খেতে পারে। বলা ভাল, সাম্রাজ্যবাদী অনুগত্য স্বীকার করে রাজার মতো লোডেড ক্যারেকটার ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব। তাছাড়া সে দুরূহ সাহস ঋত্বিক ছাড়া আর কেউ দেখাবেন না। আফটার অল, ছবি করিয়েদের কাটা পকেটগুলো তো ভরতে হবে। তারচে’ হালকা প্রেমের টোপ খাওয়া পাতলা লুজমোশনের গল্প দিব্যি চলতে পারে। হৃষিকেশ মুখার্জির এইসব সফট মেলোড্রামাটিক ছবিগুলো সমসাময়িক দর্শক কণ্ঠ ভরে পান করেছেন।

মুসাফির ও দ্য ট্রাজেডি কিং

 

বিমল রায়ের দেবদাস ছবির করার পর এ ছবির ক্যারেকটার স্টাডি করতে দিলীপ কুমারের বিশেষ একটা অসুবিধা হয়েছে বলে মনে হয়নি। কারণ তৃতীয় পর্যায়ের চিত্রনাট্য দেবদাস আধারিত একটি শ্যাডো ক্যারেকটার। কেবল একটি ভায়োলিনের অপেক্ষা। এব্যাপারে তিনি সিদ্ধহস্ত। চমকে দেওয়ার ব্যাপার ছিল, তাঁর নিজস্ব কণ্ঠে গাওয়া প্রথম প্লে-ব্যাক। সেও কিনা ক্যুইন মেলডি দ্য লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ক্লাসিকাল ডুয়েট। পিলু রাগাশ্রিত ঠুমরি ‘লাগি নাহি ছুটে রামা..’। যেমন ধীর স্থির তেমন মেজমেরিক। যেন সুরের পানপেয়ালা কণ্ঠে ধারণ করেছেন। অন্যদিকে ফ্রেমে উঠে আসছে উমা ও রাজার রোমান্টিক সিকোয়েন্স —

‘ইয়াদ হে ম্যায় উস দিন দের সে আয়া থা ঔর তুনে জলদি জলদি কাপড়ে বদল লিয়ে থে। ফির ম্যায়নে ডুবতে সূরজকে সামনে তেরি ইয়ে তসবির লি থি। কেয়া দিন থে কসক বনকে সমা গ্যয়ী…’

দিলীপ কুমারের দক্ষতা, মেথড অ্যাকটিং মৃদুস্বর রাজার মত বোহেমিয়ান চরিত্রের জন্য ডোসাইল ট্রিটমেন্ট, মস্তিষ্কের স্নায়ুস্পন্দন থেমে যায়। মনের মধ্যে নিঃশব্দ একটা হাহাকার ছড়িয়ে দেয়। এ জন্যই হয়তো তিনি ট্রাজেডি কিং। আমাদের আজীবন মনে থাকবে তাঁর শেষ বিয়োগাত্মক দৃশ্যটি, যেখানে ঝড় বাদলের নিস্কৃত রাতে অসুস্থ শরীরে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, চোখে মুখে মৃত্যুর রেখাঙ্কিত ছাপ। হয়তো আর কিছুক্ষণ, তারপরেই সমস্ত ক্লান্তির যবনিকা নামিয়ে এক মুসাফির ডুবে যাবে তরল অন্ধকারের সরণিতে —

— ‘বাহারকা তুফান আন্দারকা তুফান শায়েদ এক হো যানা চাহতে হ্যায়… অ্যায়সে মহামিলন কে সময় ইয়ুঁহি অন্ধকার হোতা হ্যায়। ইয়ুঁহি বাদল গরজতে হ্যায়। ইয়ুঁহি বিজলিয়া কন কন পড়তে হ্যায়। ঔর জীবন কে পথ পর এক থকে হরে মুসাফির ইসিতরহ টুট টুট পড়তে হ্যা…’

 

মুসাফির জীবনকে আলবিদা জানিয়ে রাজা আজ সত্যিকারের বিদায় নিলেন ইটকাঠের এই পার্থিব শহর থেকে। যেখানে ব্যাধি নেই, হাহাকার নেই, বিয়োগান্তক দৃশ্য নেই, অমনস্কাম জন্মান্তর নেই — আলবিদা ইউসুফ খান। আপনার সফর সুহানা হোক।

লেখক — ঊর্ণনাভ তন্তু ঘোষ
বোলপুর,  শান্তিনিকেতন,  ৭৩১২৩৫

 

Share this
Leave a Comment