প্রাথমিক শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে রাজ্য সরকারের পুলিশি আক্রমণ


  • February 19, 2021
  • (0 Comments)
  • 642 Views

গ্রাউন্ডজিরো রিপোর্ট

১৯.০২.২০২১

 

রাজ্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে পৌঁছানোর লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচীর উপর আবারও সম্পূর্ণ অনভিপ্রেতভাবে পুলিশি হেনস্থার ঘটনা ঘটল ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে। এবারে আক্রমণের মুখে পড়লেন নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকেরা। এই আন্দোলনের মূল আহ্বায়ক উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁরা যখন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কলকাতার সল্টলেকে করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিকাশভবন পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ মহামিছিল করে যাওয়ার জন্য জমায়েত হতে শুরু করেন, তখন আচমকাই এই মিছিলে যোগ দিতে আসা শিক্ষকদের সল্টলেকের বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করতে শুরু করে রাজ্য সরকারের পুলিশ বাহিনী। মিছিল শেষে মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকে কোনও আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অবিরাম ধর্ণার কর্মসূচী ছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের।

 

অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ধীমান চৌধুরি যেমন জানালেন শিক্ষকেরা একসঙ্গে বা আলাদাভাবে সল্টলেকের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনো মাত্র সাদা পোশাকের পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার্স পরিচয় জানতে চেয়েছেন ও শিক্ষক জানামাত্রই তাঁদের আটক করেছেন। আটক শিক্ষকদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিধাননগর ইস্ট ও সেন্ট্রাল থানায়। অন্যান্যদের সঙ্গে আটক হন অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ। তাঁর সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তিনি জানান থানার মধ্যেই তাঁরা আমরণ অনশন শুরুর ঘোষণা করেছেন। প্রায় ১০,০০০ শিক্ষকের এদিনের কর্মসূচীতে যোগদানের পরিকল্পনা ছিল। পুলিশি ধরপাকড়ে তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ায় কর্মসূচী পালন সম্ভব হয়নি। আজ মোট ৬০০ থেকে প্রায় ১৫০০ জন আটক হয়েছেন। রয়েছেন বহু মহিলা শিক্ষকও। আটকের সময় পুরুষদের কলার ধরে, মহিলাদের চুলির মুঠি ধরে পুলিশ ভ্যানে তোলার অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ১৫০ জনের উপরে মহিলা শিক্ষককে আটক করা হয়। অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও এনেছেন আন্দোলনকারীরা, তাঁদের দাবি মহিলাদের জন্য মহিলা পুলিশের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধীমান চৌধুরি বলেন, “সরকারের এই বর্বরতম পুলিশদের ধিক্কার জানাই, যারা শিক্ষকদের সম্মান দিতে জানেন না। কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশনের পক্ষে আমাদের জানানো হয়েছিল আমাদের দাবি আইনত ন্যায্য। তারপর পুলিশের এরকম ব্যবহার ও ন্যক্কারজনক ভাষা ব্যবহার আমরা শিক্ষকরা মেনে নিতে পারছি না। এরকম সরকার থাকার থেকে না থাকা ভালো বলে আমরা মনে করছি। আমরা একদমই এরকম আচরণ আজ আশা করিনি। গত দু’বছর ধরে আমরাও যেমন শান্তি বজায় রেখেছি, প্রশাসনও সহযোগিতা করেছে। তাই আজকের এই আক্রমণের কারণ আমরা বুঝতে পারছি না।”

 

১.১.২০০৬ থেকে ন্যশোনাল এফেক্ট এবং কাউন্সেলিং এবং পূর্বে শিক্ষকদের সিনিয়রিটি-র ভিত্তিতে দ্রুত বদলির দাবিতে ১৯ তারিখ করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে সল্টলেক চত্ত্বরে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচীর পরিকল্পনা ছিল আন্দোলনরত শিক্ষকদের। উল্লেখ করা যেতে পারে ২০১৯-এর জুলাই মাসে এই শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য ও অন্যান্য বঞ্চনার বিরুদ্ধে অবস্থান ও আমরণ অনশনের মাঝে রাজ্য সরকার তাঁদের দাবিগুলিকে মান্যতা দিয়ে বেতন-শ্রেণীর উত্তরণ ঘটান। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি এই সংক্রান্ত আদেশনামাটি ছিল সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট ও তা ব্যবহার করে পরবর্তীতে তাঁদের আরও বঞ্চনার মধ্যেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষত কোভিড ১৯ ও তা পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিষয়টি জটিল হয়েছে। অথচ রাজ্য সরকার উদাসীন। গত ২৮ জানুয়ারি কলকাতায় একটি মিছিল করেন এই শিক্ষকেরা, যার পরেই কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশনের সঙ্গে বৈঠকে ডাকা হয় তাঁদের, যিনি তাঁদের দাবিগুলিকে মান্যতা দেন। তারপর ১৯ তারিখ প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবিগুলির প্রতি সরকারের অনমনীয় মনোভাবই স্পষ্ট করে।

 

প্রেস রিলিজ-এর কপি

প্রেস রিলিজ

 

Share this
Leave a Comment