এআইকেএসসিসি-র ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী কৃষক বিক্ষোভ ও ২৬-২৭ নভেম্বর “দিল্লী চলো” আহ্বান


  • September 29, 2020
  • (0 Comments)
  • 508 Views

এআইকেএসসিসি-র ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক কৃষক বিক্ষোভ ও ২৬-২৭ নভেম্বর “দিল্লী চলো” আহ্বান।

স্বৈরাচারী কৃষি বিল পাশ হয়ে গেছে সংসদে। ২৫ সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে কৃষকদের প্রতিবাদে সারা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তাঁরা কার্যত ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছিলেন এবং দেশের নানা প্রান্তে কৃষক সমাজ ও নাগরিক সমাজ এই বিল-এর বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছেন জোরদার প্রতিরোধে। এই প্রেক্ষাপটেই অখিল ভারতীয় কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি (এআইকেএসসিসি) ২৯ সেপ্টেম্বর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে তাদের পরবর্তী কর্মসূচী। যার মধ্যে প্রধান হচ্ছে ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন ব্যাপক কৃষক বিক্ষোভ শুরু করা এবং ২৬-২৭ নভেম্বর ‘দিল্লী চলো’ কর্মসূচি। ২ অক্টোবর থাকে সেইসব রাজনৈতিক নেতা-প্রতিনিধিদের সামাজিক বয়কট  করা হবে যাদের দল কৃষি আইনের বিরোধীতা করেনি। ১৪ অক্টোবর পালিত হবে এমএসপি অধিকার দিবস। কর্মসূচী শেষ হবে ২৬-২৭ নভেম্বর দিল্লীতে জাতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচীর মাধ্যমে।ই প্রেস বিজ্ঞপ্তির বাংলা সংস্করণ আমরা প্রকাশ করলাম। 

 

অখিল ভারতীয় কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি (এআইকেএসসিসি): প্রেস স্টেটমেন্ট |

দিল্লি, 29 শে সেপ্টেম্বর 2020

 

এআইকেএসসিসি-র ২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক কৃষক বিক্ষোভ ও ২৬-২৭ নভেম্বর “দিল্লী চলো” আহ্বান

 

২৫ সেপ্টেম্বর দেশের কৃষক, কৃষি মজুর এবং সাধারণ মানুষ যে ঐতিহাসিক ভারত বনধ ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করেছে, তার জন্য এআইকেএসসিসি তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষকবিরোধী, জনবিরোধী আইন ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ কর্মসূচি সমন্বয় সাধনের জন্য সকল সংগঠনকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। ইতিহাসে এই প্রথমবার কোন কেন্দ্রীয় আইন পাশ হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই দেশজুড়ে কৃষকরা প্রতিবাদ করল। এই তীব্র প্রতিবাদ, যা কৃষকদের জীবন ও জীবিকার উপর হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, ২০ টি রাজ্য জুড়ে দেখা গিয়েছে। দশ হাজারেরও বেশী জায়গায় প্রায় দেড় কোটি কৃষক “চক্কা জাম”, “ধর্না” বা বিল পোড়ানো ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার মিথ্যা প্রচার করছে যে কৃষক বিক্ষোভ শুধুমাত্র উত্তর ভারতে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এই বনধ এবং বিক্ষোভের সর্বভারতীয় চরিত্রটা পরিষ্কার বোঝা গেছে যখন দেশের দক্ষিণতম রাজ্য তামিলনাড়ুতে ৩০০-রও বেশি জায়গায় প্রতিবাদ হয়েছে, ৩৫,০০০–এরও বেশী কৃষক রাস্তায় নেমেছে এবং ১১,০০০–এরও বেশি কৃষককে রাজ্যের বিজেপি’র বন্ধু সরকার গ্রেপ্তার করেছে! এমনকি অন্যান্য সংগঠন এবং কোনও সংগঠনের সাথে জড়িত না থাকা কৃষকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বনধ পালন করেছে। এই বনধ দেখিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের এই তিনটি কালো আইনকে দেশের কৃষকরা প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

এটি মনে রাখতে হবে যে এআইকেএসসিসি ৯ আগস্টের আগে থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেছিল এবং তিনটি আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা করেছিল। কেন্দ্রীয় সরকার যেহেতু কৃষকবিরোধী এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এমএসপি/ফসলক্রয় সম্পর্কিত ভুল তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে, এআইকেএসসিসি কৃষকদের এই লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং এই আইনগুলিকে কার্যকর করতে দেবে না।

 

এআইকেএসসিসি কৃষকদের দাবিগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে এবং এই আইনগুলো কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর যে রাজ্য সরকারগুলো রয়েছে, যারা কৃষকদের এই অবস্থানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে, তাদের রাজ্যে এই আইনগুলো যাতে কার্যকর না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আইনি উপায় বার করার জন্য এআইকেএসসিসি আহ্বান জানাচ্ছে। অধিকন্তু, এআইকেএসসিসি এই রাজ্যগুলোর বিধানসভায় আইনগুলো কার্যকর না করার জন্য প্রস্তাব গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে কারণ এই আইনগুলো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ক্ষুণ্ণ করে এবং কৃষকের অধিকারের উপর মারাত্মক আক্রমণ হানে।

 

এআইকেএসসিসি কৃষক বিরোধী এই কালো আইনগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে এবং ক্রমশ তা জোরালো করবে। কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা কৃষকদের প্রতারণাকে উন্মোচিত করার জন্য এআইকেএসসিসির বেশ কয়েকটি রাজ্য ইউনিট ইতিমধ্যে গ্রামাঞ্চল এবং ব্লক স্তরে বা ম্যান্ডি স্তরে সভা, সেমিনার, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, রিলে অনশন, অনশন ইত্যাদির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এআইকেএসসিসি পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ এবং কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও তেলঙ্গানার আন্দোলনসহ সমস্ত সংস্থা এবং তার নিজস্ব রাজ্য ইউনিটগুলির সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং এদের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও কর্মসূচি ঘোষণা করতে চলেছে এবং এরই মধ্যে এআইকেএসসিসি-র জাতীয় কার্যনির্বাহী সমিতি সমস্ত রাজ্য পর্যায়ের কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছে, যথা:

 

~ পাঞ্জাব কৃষক সংস্থার ডাকা রেল রোকো;

~ হরিয়ানার উপ-মুখ্যমন্ত্রী দুস্মন্ত চৌতলার পদত্যাগের দাবীতে তার বাড়ির বাইরে ৬ই অক্টোবর বিক্ষোভের ডাক;

~ কর্ণাটক কৃষক সংগঠনগুলোর আহ্বানে কৃষক বিরোধী কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য আইন প্রয়োগ করার বিরুদ্ধে বনধ, প্রতিরোধ সভা ইত্যাদি।

 

এই স্থানীয় বিক্ষোভের সাথে জাতীয় স্তরের কর্মসূচি যুক্ত হবে, যার কয়েকটি নিম্নরূপ:

 

~ ২রা অক্টোবর, ভারতের কৃষকরা সেই রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিনিধিদের সামাজিক বয়কট করার প্রতিশ্রুতি নেবে, যাদের দলগুলো এই কৃষক বিরোধী আইনগুলোর বিরোধীতা করেনি। এছাড়া, কেন্দ্রীয় কৃষক বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণের জন্য গ্রামে গ্রামে সভা করবে;

 

~ ১৪ই অক্টোবর ভারতের কৃষকরা *এমএসপি অধিকার দিবস* হিসাবে পালন করবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মিথ্যা প্রচার যে কৃষকরা স্বামীনাথন কমিশন প্রস্তাবিত এমএসপি পাচ্ছে, তার পর্দা ফাঁস করবে;

 

সমস্ত প্রতিবাদ কর্মসূচী শেষ হবে ২৬শে ও ২৭শে নভেম্বর দিল্লিতে এক জাতীয় প্রতিবাদের মাধ্যমে। এআইকেএসসিসি দেশের সমস্ত কৃষকদের “দিল্লি চলো” আহ্বান জানাচ্ছে যাতে এই কৃষকবিরোধী কেন্দ্রীয় সরকার, কৃষকদের ভবিষ্যত এবং জীবিকার উপর তার অমানবিক আক্রমণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ভারতের কৃষকরা বিজয় না পাওয়া পর্যন্ত এআইকেএসসিসি বিশ্রাম নেবে না – আমরা লড়ব, আমরা জিতব!

 

মিডিয়া সেল | এআইকেএসসিসি
যোগাযোগ: সত্তম – ৮৩৩৮ ৯৩৯৩৯৩

 

Share this
Leave a Comment