সাইক্লোন আম্পফান-এ হাসনাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও জলের তলায়


  • May 30, 2020
  • (0 Comments)
  • 389 Views

গ্রাউন্ডজিরো রিপোর্ট, ৩০.০৫.২০২০

 

উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার হাসনাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাঁ পুকুর, জিয়ামারি, ট্যাংরামারী, ইত্যাদি গ্রামগুলি এখনও জলের তলায়। খাঁ পুকুর সংলগ্ন গায়েন পাড়া, হাউলি পাড়া, মাঝের পাড়া, মণ্ডল পাড়া, পাত্র পাড়া প্রভৃতি গ্রাম এখনও জলে ডুবে আছে। খিয়াবাড়ি ডাঁসা নদীর বাঁধ বেশ কিছুটা মেরামত করা গেলেও, বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাঁধের কাজ এখনও চলছে। নতুন করে কিছু অঞ্চলের বাঁধ ভেঙ্গেছে। ওদিকে মোহনপুরের বাঁধ ঝড়ের পরেই দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হলেও একাধিক জায়গায় সেই তৎপরতা সরকারি স্তরে দেখা যায়নি।বহু জায়গায় বাঁধ মেরামত না হওয়ায় জোয়ারের সময় জল ঢুকে গ্রাম নতুন করে ভেসে গেছে। পারঘাটা, ভুলভুলি বাঁধ, পানসি ঘাটায় এখনও বাঁধ সম্পূর্ণ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসীর প্রথম দাবী অতি দ্রুত বাঁধ মেরামত করা হোক, যাতে নতুন করে ক্ষতির সম্মুখীন না হতে হয়। ট্যাংরামারি, বাইনারা, হাঁটগাছার বাঁধের কাজ চলছে, কিন্তু তা অতি দ্রুত করা জরুরি। নদীর এপার ওপার দুই দিকেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

চারিদিকে জল, গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, সাপের উপদ্রব, এর মধ্য রাস্তায় ক্যাম্প করে থাকতে হচ্ছে। সেখানে গাড়ি চলছে, ফলে সন্তান পরিবার নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে বহু গ্রামবাসীর। খাঁ পুকুরের সুকুমার সরকার জানালেন, “বাড়িঘর ছেড়ে এক সপ্তাহ রাস্তায় স্ত্রী সন্তান দের নিয়ে রাত কাটাচ্ছি। বাঁধ যত তাড়াতাড়ি মেরামত হবে ফিরতে পারবো। এখন সরকারি ও বেসরকারি ত্রান ভরসা। আধপেটা খেয়ে কোনক্রমে চলছে। ওষুধ, খাদ্য, পানীয় জল, বাসস্থান খুব জরুরী।”

 

আনসারি পাড়ার জাকির হোসেন বললেন, “দাদা খুব আতঙ্কিত হয়ে আছি। ৩০০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গেছে প্রায় আমাদের ওদিকে। প্রায় ১৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত। থাকার জায়গা নেই, বেসরকারি ত্রান কিছু আজ এসেছে। ত্রিপল, খাবার আরও বেশি করে দিলে ভাল হয়।”

 

সর্বগ্রাসী ডাঁসা নদীর পাড়ে মাথায় হাত দিয়ে বসেছিলেন কালিদাসি মণ্ডল, নদীর দিকে চেয়ে কি যেন ভাবছিলেন? কি অবস্থা মাসিমা আপনার? বলতেই হা হা করে উঠলেন, পিছনে হাত দিয়ে একটা ভাঙ্গাচোরা মাটির বাড়ি দেখালেন, অর্ধেক এখনও জলে ডুবে। “বাবা, এক রাতের মধ্যে সবটা ভেসে গেল, কিছুই বার করতে পারলাম না, রাস্তায় আছি, সাপের উপদ্রব, সরকারি স্তরে বাবুরা এসে এনকুওয়ারি করবে কবে? কি তাঁরা দেবে সেই ভরসায় আছি।”

কালিদাসি মণ্ডল

ওদিকে হাউলি পাড়ার বাসিন্দা কেশব চন্দ্র কয়াল, গীতা কয়াল জলে ডুবে ধূলিসাৎ হওয়া ঘরের সামনেই ত্রিপল টাঙিয়ে আছেন টানা এগারো দিন। গ্রামে ১০০ পরিবারের বাস প্রায়, বললেন “বাড়িটা দেখছ বাবা, এক রাতে সব ধ্বংস হয়ে গেছে, গরু বাছুর সব ভেসে গিয়েছে, প্রান বাঁচাতে গিয়ে কিছু বার করতে পারলাম না বাড়ি থেকে, সবটা ভেসে গিয়েছে। পুকুরে নোনা জল ঢুকে মাছ মরছে, জমিতে নোনা জল ঢুকে সব নষ্ট। কোনটা পুকুর আর কোনটা ভেড়ি আর কোনটা রাস্তা কিছু বোঝার উপায় আছে বল? সবচেয়ে আগে সরকারের কাছে অনুরোধ বাঁধটা মেরামত হোক। আর খাদ্যবস্ত্র বাসস্থান এ তো অবশ্যই জরুরি। ভেড়ির উপর ত্রিপল খাঁটিয়ে আছি। এভাবে আর কতদিন?”

কেশব চন্দ্র কয়াল, গীতা কয়াল

দাশা, কালিন্দী, ইছামতীর সংলগ্ন গ্রামগুলির অবস্থা ভয়াবহ। সরকারি ত্রান যেটুকু মিলেছে তা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন অনেক। তাই নাগরিক উদ্যোগ, বেসরকারি সহায়তা একইসঙ্গে খুব জরুরী।

 

রিপোর্ট ও ছবি : সন্দীপ রায়

 

Share this
Leave a Comment