আনন্দ তেলটুম্বদের একটি সাক্ষাৎকার : ভারতে ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী শাসন প্রসঙ্গে


  • April 5, 2020
  • (0 Comments)
  • 459 Views

২৮ আগস্ট ২০১৮-এ ভারত জুড়ে কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী এবং লেখকের বাড়ি খানাতল্লাশি করে মহারাষ্ট্র পুলিশ, অভিযোগ তাদের সাথে মাওবাদী ‘যোগাযোগ’ রয়েছে। ২০১৮-র ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের পুনেতে ভীমা-কোরেগাঁও সমাবেশের ঘটনায় যক্ত থাকার অভিযোগে এদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়ে। এরা দেড়-দু’ বছর ধরে বন্দি রয়েছেন।

 

যে নয়জনের বাড়ি খানাতল্লাশি চলেছে তাদের মধ্যে একজন আনন্দ তেলতুম্বদে। আনন্দ তেলটুম্বদে গোয়াবাসী একজন বুদ্ধিজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী। তিনি অনেক বই লিখেছেন, ওনার অনেক প্রবন্ধও আছে। কয়েকটি বই হল: Dalits: Past, Present and Future, Mahad: The Making of the First Dalit Revolt, The Presistence of Caste: The Khairlanji Murders and India’s Hidden Apartheid এবং তার সাম্প্রতিকতম বই হল Republic of Caste

 

বিশ্বজুড়ে নোয়াম চমস্কির মতো ৫০০০-এর বেশি মানুষ আনন্দের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারি রোধে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তার না-করার আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করে গত ১৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চ তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছিল আত্মসমর্পণে। সেই মেয়াদ শেষ ৫ এপ্রিল। এবার নতুন করে বন্দি হতে চলেছেন আনন্দ তেলটুম্বদে ও গৌতম নওলখা। মোদি সরকারের এনআইএ এবার তাদের হাতে পেতে চলেছে। হামলা, দলিত হত্যা নিয়ে মূল এফআইআর-এ নাম ছিল সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ শম্ভাজি ভিদে, মিলিন্দ একবোটে। তারা রয়ে গেলেন বহাল তবিয়তে।

 

আনন্দ তেলটুম্বদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিল Himal Southasian পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় https://himalmag.com সাইটে সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮-এ। এই সাক্ষাৎকারে তেলটুম্বদে বলেছেন, তার ওপর পুলিশি হেনস্তার কথা; বলেছেন,ভারত সরকারের ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী পদক্ষেপের পেছনে কারণটা কী এবং কেন ‘শহুরে নকশাল’ শব্দটি রাজনৈতিক মহলে এতখানি চলছে। তার বাংলা অনুবাদ এখানে রইল।

 

 

হিমল: ভারতে নানা শহরে যে যুগপত খানাতল্লাশি চলেছে তারই মধ্যে আপনার বাড়িও আছে। সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে আপনি কী মনে করেন?

 

আনন্দ: সত্যি বলতে কী আমি ভাবতেও পারি না এটা আমার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। আমি এর আগের দফার খানাতল্লাশির কথা জানতাম, জানতাম পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে; এদের একজন হলেন অধ্যাপক সোমা সেন, কমিটি ফর প্রোটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস-এর এক্সিকিউটিভ সদস্য; এই সংগঠনের আমি সাধারণ সম্পাদক। এটি একটি নাগরিক অধিকার সংগঠন, জরুরি অবস্থার পরে গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনটির তুঙ্গ সময়ে মহারাষ্ট্রের অনেক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এতে ছিলেন, যেমন, খ্যাতনামা বিজয় তেন্ডুলকর। অন্য একটি উল্লেখযোগ্য সংগঠনের সাথেও আমি আছি—সেটি হল অল ইন্ডিয়া ফোরাম ফর রাইটস টু এডুকেশন। এই সংগঠনটির সভাপতিমণ্ডলীর আমি একজন। ন’ বছরের পুরোনো এই সংগঠনটি সমস্ত শিশুরা যাতে কাছের স্কুলে শিক্ষার অধিকার পায় তা-ই নিয়ে লড়ে যাচ্ছে। এই সংগঠনটির সাথে হিংস্রতার সম্পর্ক নেই। বরং রাষ্ট্র কিংবা কোনো সংগঠিত দল যদি আক্রমণ করে তাহলে আমরা সেটাকে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলে মনে করি এবং সেই মতো ব্যবস্থা নিই।

 

এই ধরনের সক্রিয়তা আমার স্কুলজীবন থেকেই আছে। তার পাশাপাশি আমি লেখাপড়ায়ও ধারাবাহিকভাবে ভালো রেজাল্ট করে এসেছি। আমি বিশ্বেশ্বর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি। আইআইএম আমেদাবাদের মতো দেশের একটা মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিএ করেছি, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Cybernetics Modeling-এ পিএইচডি করেছি। আমার লেখাপড়ার জোরেই আমি কর্পোরেট সেক্টর ভারত পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশন লিমিটেডে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের পদে উন্নীত হয়েছিলাম। আমার কর্পোরেট জীবন শেষ হয় পেট্রোনেট ইন্ডিয়া লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও পদ দিয়ে। এটি সমস্ত বেসরকারি তেল কোম্পানি কর্তৃক তৈরি একটি পেট্রোলিয়ম পরিকাঠামো নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানি। কর্পোরেট জীবন শেষ হওয়ার পর মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি আমাকে আমন্ত্রণ জানায় তাদের B-স্কুলে অধ্যাপনার জন্য। সেখানে আমি পাঁচ বছর পড়াই। দু’ বছর আগে আমি গোয়ায় দেশের প্রধান B-স্কুলে সিনিয়র অধ্যাপক হয়ে এসেছি। এখানে আমি বিগ ডাটা অ্যানালিটিকস সেন্টার খুলেছি এবং এ বছর আমাদের দেশে একটি অভিনব কোর্স চালু করেছি।

 

কেউ তার ব্যাপকতম ভাবনা দিয়ে এই ধরনের ব্যক্তিত্বের সাথে মাওবাদকে মেলাতে পারেন? মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের রক্ষক এবং বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমার ভূমিকার সাথে আমার কর্পোরেট জীবন ও পরবর্তী পর্যায়ে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে নিয়মাফিক যোগসূত্রতার একটি বিরোধ আছে। তার একমাত্র সম্ভাব্য কারণ হল, ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলি-তে আমারে কলামে, নানা পুস্তিকা ও বইয়ে আমি সরকারের জনবিরোধী পলিসির সমালোচনা করে চলেছি। বিগত তিন দশক ধরে একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমি এই কাজ করছি। আমি মনে করি এটাই আমার একটা ভূমিকা এবং আমার প্রাথমিক অধিকার। যারা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বলছে তাদেরকে ভালো চোখে না দেখে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা নজিরের ভিত্তিতে অভিযোগ এনে এই সরকার তাদের বলি দিচ্ছে।

 

যে কোনো মাপকাঠিতে আমার সাথে মাওবাদী কাজকর্মের যোগ খুঁজে পাওয়া একটি উদ্ভট কথা। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে বুদ্ধিজীবী কাজকর্মের সাথে জড়িয়ে রাখি। প্রযুক্তির চরম একধরনের অ্যাকাডেমিক কোর্সে সর্বক্ষণ নিজেকে যুক্ত রাখাই একটা চ্যালেঞ্জ। এর পাশাপাশি বই এবং কলাম লেখার একটা কর্মপরিকল্পনা আছে। এছাড়া আমার সবকিছু—আমার লেখাপত্র, আমার মোবাইল নম্বর, ইমেল ঠিকানা—সবই চারদিকে ছড়িয়ে আছে। এই প্রেক্ষিতে আমাকে মাওবাদী গ্রুপের সাথে যুক্ত করা খুব নীচু মনের পরিচয় কিংবা স্বেচ্ছাচারপূর্ণ প্রমত্ততা।

 

হিমল: মহারাষ্ট্র রাজ্য পুলিশ এই খানাতল্লাশি চালিয়েছিল। রাজ্য সরকারে নেতৃত্বে আছে বিজেপি আবার কেন্দ্রীয় সরকারেও তা-ই। আপনি কি মনে করেন এই খানাতল্লাশি হয়েছে শাসক পার্টির নির্দেশে?

 

আনন্দ: জনবিরোধী পলিসির বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে তাকে খর্ব করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত যত্নের সাথে বাহ্যিক উৎকীর্ণতা দেখাতে ‘শহুরে মাওবাদী’ নামে এক অদ্ভূত পরিচয় গড়ে তুলেছে। একদিকে সরকার মাওবাদী আন্দোলনকে ধ্বংস করার কৃতিত্ব নিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে নেমে পড়েছে ছেঁড়া জামা পরা, অর্ধভুক্ত আদিবাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে যাদের মাওবাদী বলা হচ্ছে। তারা মধ্য ভারতে জঙ্গলের একাংশে লুকিয়ে লুকিয়ে শক্তিবৃদ্ধি করে চলেছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্র মাওবাদের ছায়ামূর্তি সামনে রেখে কঠোর আইনের অস্ত্রশস্ত্রগুলো হাতের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসছে, গণতান্ত্রিক অধিকারের আওয়াজকে দমন করছে। এইসব কুমতলবের সাথে তারা জঙ্গলে বন্দুকধারী মাওবাদীদের চেয়ে বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীদের ভয়ানক বিপজ্জনক রূপে চিত্রিত করছে। যাকে সরকার তাদের সমালোচক বলে মনে করবে তার ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য হতে পারে। এর জন্যে কিছু কাগজপত্র হাজির করতে হবে, যেটা তারা করছে, কোনো সমাজকর্মীর বাড়িতে খানাতল্লাশির সময় কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক থেকে পাওয়া গেছে বলে প্রচার করছে। তাই এই ধরনের লোকের বাড়ি খানাতল্লাশি চালানো এই কৌশলের অঙ্গ এবং পূর্বশর্ত।

 

আজকের এই উপাখ্যান এত বাজে ভাবে সাজানো যে, একজন শিশুও এর ফাঁকফোকর ধরতে পারবে। সরকারের মিথ্যাচার যত বেশি প্রকাশ হয়ে পড়ছে তত সে খ্যাপার মতো দৌড়ে বেড়াচ্ছে। আর যেসব শ্রদ্ধেয় সমাজকর্মী নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত, আরামপ্রদ জীবন জলাঞ্জলি দিয়ে নিপীড়িত মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন, সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করে তাদের ফাঁদে ফেলতে চাইছে। এটা শুরু হয়েছে এলগার সম্মেলন দিয়ে। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা দু’জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক—একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি বি সাওয়ান্ত, অন্যজন হাইকোর্টের বিচারপতি বি জি কোলসে পাতিল। দলিত, ওবিসি, মারাঠা এবং মুসলমানদের তিনশোরও বেশি সংগঠন এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী। দলিত-মারাঠা মিলিত শক্তি বিজেপি-র কাছে বিপদের পূর্বলক্ষণ বলে মনে হয়েছে। তাই বিজেপি তাদের দালাল মিলিন্দ একবোটে আর সাম্ভাজি ভিন্দেকে উস্কানি দিতে পাঠায়। শিবাজীর ছেলে সম্ভাজি মহারাজার সমাধিকে কেন্দ্র করে একধরনের বিবাদকে সামনে এনে তারা চেয়েছে ওই মিলনের অঙ্কুরকে ভেঙে দিতে। বলা হয়েছে, আওরঙজেব তাকে কেটে টুকরো টুকরো করেছিলেন। যাহোক, আঞ্চলিক স্তরে এই পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়। দলিত আর মারাঠারা মিলে সাময়িকভাবে বিবাদ মিটিয়ে ফেলে।

 

যাহোক, পরদিন ভিন্দে আর একবোটের পরিকল্পনা মতো তাদের গুন্ডারা ভীমা কোরেগাঁওতে সমবেত দলিতদের ওপর আক্রমণ হানে। এই উৎপীড়ন সরাসরি নামিয়ে আনা হয় দলিতদের ওপর এবং উৎপীড়কদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয় না। কিন্তু আক্রমণকারীদের উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযোগ তোলা হয় যে, সম্মেলনে হিংস্রতার কারণ হল জ্বালাময়ী বক্তৃতা। জিগনেশ মেভানি, গুজরাটে নব-নির্বাচিত এমএলএ এবং একজন সম্ভাবনাপূর্ণ নেতা এবং উমর খালিদ, জেএনইউ-এর পিএইচডি ছাত্র—এদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। এতে দলিতরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে  কারণ তারা একবোটে আর ভিদের গ্রেপ্তার দাবি করছিলেন। পুলিশ তখন কটাক্ষ করে বলতে শুরু করে যে, এই সম্মেলনে মাওবাদীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এটা নতুন নয় বরং পুনরাবৃত্তি। ২০০৬ সালে খাইরলাঞ্জিতে এক বিক্ষোভ আন্দোলন ফেটে পড়লে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেছিলেন, নকশালবাদীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

 

প্রথমে তারা গুজব ছড়াতে থাকে যে, এলগার পরিষদে মাওবাদীরা পয়সা ঢালছে। বিচারপতি কোলসে পাতিল তখন থেকে এই পুলিশি প্রচারের বিরোধিতা করে আসছিলেন কিন্তু কোনো ফল হয় না। এই ছুতোয় অনেক সমাজকর্মীর বাড়ি খানাতল্লাশি চলে, এদের মধ্যে অনেকেরই ভীমা কোরেগাঁওর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এই খানাতল্লাশি পুলিশের হাতে একটা সুযোগ এনে দেয়, পুলিশ দেখায় মাওবাদী নেতৃত্বের লেখা সেই অতিরঞ্জিত চিঠি যাতে শুধু ভীমা কোরেগাঁও ষড়যন্ত্রের কথা ছিল না, এর চেয়েও বড়ো মোদি হত্যা পরিকল্পনার কথাও ছিল। পুলিশ কিন্তু একবোটে আর ভিন্দে—এই দুই অপরাধীকে ছুঁয়েও দ্যাখেনি। একবোটেকে অ্যারেস্ট করা হলেও কিছু দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সে জামিন পায় আর মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং ভিন্দেকে স্বজ্জন মানুষের আখ্যা দেন। এর ভেতরের রাজনীতিটা খুব পরিষ্কার। কংগ্রেস আর প্রকাশ আম্বেদকার চেষ্টা করে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রে সমস্ত বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটা একতা তৈরি করার, তাই জনসমক্ষে ভিন্দের ভজনা করে, তাকে রক্ষা করে, মোদি ভিন্দের সাথে সরাসরি যোগসূত্র তৈরি করল।

 

ইতিমধ্যে গৌরী লঙ্কেশের খুনীদের কর্নাটক পুলিশের খুঁজে বের করার কথা। পরপর যে চারজন যুক্তিবাদী খুন হলেন তার শেষ ব্যক্তি ইনি। অন্যেরা হলেন, ড. নরেন্দ্র দাভোলকর, কমরেড গোবিন্দ পানসারে এবং অধ্যাপক এম এম কালবুর্গি। এরপর মহারাষ্ট্র অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড এই ভয়াবহ খুনের পরিকল্পনার সাথে সনাতন সংস্থা আর হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির যোগসূত্র প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। মোদি হত্যা পরিকল্পনায় শুধু সন্দেহবশত সরকার দশ-বিশজন বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে ইউএপিএ দিল অথচ যেসব অপরাধী চারজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হত্যা করল, যাদের কাছে প্রচুর বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেল তাদের অ্যারেস্ট করল না! সত্যি বলতে গেলে গুজরাটে এই   মোদি-হত্যার খেলা অন্তত চারবার হয়েছে যখন উনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এই নাটক শেষ করতে বহু নিরীহ ব্যক্তি সংঘর্ষের নামে খুন হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং টিম এইসব কথা প্রকাশ্যে এনেছে।

 

সনাতন সংস্থা আর হিন্দু জনজাগৃতি সমিতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি যত বেশি প্রতিধ্বনিত হয়েছে তত সরকার এইসব সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসায় ধাপে ধাপে আক্রমণ বাড়িয়েছে। এইবারের আক্রমণ একেবারে অবিশ্বাস্য ধরনের—সেইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী হিসেবে অনবদ্য সুখ্যাতি রয়েছে।

 

এই গড়াপেটার পেছনে আরেকটা কারণ হল বিজেপি-র ভোট কৌশল। ভোটের বছরে বিজেপি ‘করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে’ নীতি নিয়ে চলে। বিজেপি ভারতে হিন্দু রাষ্ট্র স্থাপনের দীর্ঘ-লালিত স্বপ্ন সুসম্পন্ন করতে চায়। বিজেপি নির্বাচনকেন্দ্রগুলো জাতীয় ধর্মমতের ভিত্তিতে দৃঢ় করতে চায় এবং যারা তাদের ভোট দেবে না তাদের মধ্যেকার ঐক্যে ভাঙন ধরাতে চায়। কাল্পনিক মাওবাদী জাল ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া এই কৌশলে কাজ দেবে। এতে নিজেদের নির্বাচনকেন্দ্রগুলো সুদৃঢ় হবে, কিছু মারাঠাদের নিজের দিকে নিয়ে আসা যাবে এবং দলিতদের মধ্যে যাদের কমিউনিস্টদের প্রতি একধরনের অ্যালার্জি আছে, তাদেরকে যুক্তিবাদীদের সংসর্গ থেকে ছাড়িয়ে বিজেপি-র দিকে নিয়ে আসার সম্ভাবনা বাড়বে।

 

আশা করি এবার পরিষ্কার যে, গোটা অপারেশনটা বিজেপি সরকারের কৌশল অনুযায়ী চলছে—কি কেন্দ্রে, কি মহারাষ্ট্রে, উভয় স্থানেই।

 

হিমল: ভারতে পুলিশ আর কোর্টের মাধ্যমে সমাজকর্মী ও লেখকদের হেনস্তা উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর সরকারের আর কী ধরনের আক্রমণ আসতে পারে বলে আপনার মনে হয়?

 

আনন্দ: এটা বলা কঠিন বিজেপি সরকার ভিন্নমত পোষণকারীদের দমাতে কী মাত্রায় আক্রমণ হানবে। কারণ ইতিমধ্যে ‘মাওবাদী’ আর ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা জুড়ে দিয়েছে মানুষকে জেলে অবরুদ্ধ করতে। এখনও অবধি খুব বিখ্যাত লোক নয় এইধরনের মানুষই লক্ষ্য ছিল, কিন্তু এইবার ওরা সেইসব মানুষের ওপর আক্রমণ এনেছে যারা দেশে জনসেবামূলক কাজে ও বুদ্ধিজীবী হিসেবে বেশ উচ্চস্থানে আছে। বার্তা খুব উচ্চকণ্ঠে অন্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে : সরকারের বিরুদ্ধে কথা বোলো না। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে, বিশেষত যোগী সরকারের উত্তরপ্রদেশে, সংঘর্ষে মৃত্যুর ঘটনা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তারপর সেখানে খুনি গ্যাং এবং জনতার রায়ে মৃত্যুদণ্ড-ঘোষক বাহিনী রয়েছে যারা মানুষ খুন করে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কোনোকিছুই বাদ নেই। ভবিষ্যতে আর কী হতে পারে সেই কথায় বলা যায় এসব ঘটনা তরাণ্বিত হতে থাকবে।

 

হিমল: ভিন্নমত পোষণকারীদের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে? এর সাথে আপনি কীভাবে এঁটে উঠবেন?

 

আনন্দ: ব্যক্তিগতভাবে আমার জগতটা হঠাৎই টুটেফুটে গেছে। তিন ভ্যান পুলিশ আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চত্বরে ঢুকল, দু’ডজন পুলিশ নিয়ে, চারপাশের মানুষকে সন্ত্রস্ত করল এবং আমাদের অনুপস্থিতিতে আমার ঘরের দরজা খুলল। বরিষ্ঠ অধ্যাপকরা বলেছিলেন ঘরের দরজা খোলার আগে প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর আসা অবধি অপেক্ষা করতে। আমার ছাত্ররা আমার দিকে বিহ্বল চোখে তাকিয়ে আছে। সৌভাগ্যবশত পুলিশের কার্যকলাপ এমন কিম্ভূত ধরনের যে, আমি মাওবাদী এই সরকারি গল্প কেউ বিশ্বাস করেনি। হয়তো আমার বন্ধুরা এবং কর্মসূত্রে জড়িত ব্যক্তিরা যারা নানা জায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে আছেন তাদের পক্ষে বিশ্বাস করা মুশকিল। আমার উচ্চাশার বিগ ডাটা প্রোগ্রামের জন্য উৎপাদন-শিল্পের সাথে নেটওয়ার্ক তৈরিতে যে বিনিয়োগ করেছি মনে হচ্ছে সেসব জলে গেল, এই কোর্সে আমার যে-ছাত্ররা ভর্তি হয়েছিলেন তাদের ভবিষ্যত বিপন্ন। পেশাদারী ক্ষেত্রে এর ছাপ পড়বেই। আমার পরিবারকে যে-হেনস্থা ও মানসিক উদ্বিগ্নতার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে সেটা আমার কাছে অনেক বেশি বেদনাদায়ক। আমার স্ত্রী বাবাসাহেব আম্বেদকরের নাতনি। মোদি ভুলবশতও আম্বেদকরের প্রতি ভক্তিপ্রদর্শন করেননি। যদি আমাদের দিক থেকে সামান্যতম ভুল থাকত তাহলে আমার স্ত্রী আমাদের এই দুরবস্থার জন্য ব্যতিব্যস্ত হতেন না। আমি নিশ্চিত গোটা পুলিশি ষড়যন্ত্র একদিন ফাঁস হবেই, হয়তো কয়েক বছর সময় লাগবে। যখন গোটা প্রক্রিয়াটাই শাস্তিদানের, তাই সুবিচারের আশা নেই। নথিপত্র ঘাঁটলে দেখা যাবে, মাওবাদী বলে অভিযুক্তদের ৯৯ শতাংশেরও বেশি প্রমাণাভাবে ছাড়া পেয়ে গেছে; কিন্তু সেখানে পাল্টা প্রশ্নের কোনো স্থান নেই, প্রথমেই কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হল, এই গ্রেপ্তারের জন্য দায়ী কে, তারা কেন কৈফিয়ত দেবে না, অন্তত নির্দোষ ব্যক্তিটির যে ক্ষয়ক্ষতি হল তা পুরিয়ে দেওয়া হোক। এমন এক অদ্ভুত অবস্থা, সংবিধান মানুষের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিচ্ছে, অথচ পুলিশ নিজেদের রক্ষা করতে দানবিক আইনের সাহায্যে নৃশংসভাবে সেই অধিকার পদদলিত করছে। কার্যত সর্বশক্তিমান রাষ্ট্রের সামনে একজন ব্যক্তির কোনো প্রতিরক্ষা নেই। আদতে ভারতে ক্ষমতাকে কারো কাছে কৈফিয়ত দিতে হয় না। দেশে গণতন্ত্রের যেসব মুখোশ আছে সেসব ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়!

 

ভবিষ্যত এমন ভীতিপ্রদ যে, ভাবতেই আমার গা শিউরে ওঠে।

 

হিমল: আপনি ভারতে আজকে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে জরুরি অবস্থার তুলনা করেছেন। এ দু’য়ের মধ্যে মিল কোথায় এবং কোনো পার্থক্য আছে কি?

 

আনন্দ: ভারতের মানুষের কাছে নিশ্চিত করে জরুরি অবস্থা দুঃস্বপ্নের মতো। এর নিন্দা করতে হবে। কিন্তু সেসময়ে যা বলা এবং করা হয়েছে সেটা সংবিধান মেনে। এটা ঘোষিত জরুরি অবস্থা ছিল যার এক সময়ে পরিসমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু আজকের অত্যাচার তার চেয়ে খারাপ কারণ এখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ওপর দমন নামানো হয়, কোনো বিশেষ অবস্থার কথা ঘোষণা করা হয় না। আজকের ঘটনা ১৯৩০-এর দশকের ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়, ১৯৪০-এর দশকের জার্মানিতে নাজিদের কথা মনে করিয়ে দেয়। আজকের নতুন স্বাভাবিকতা আসলে গণতন্ত্রের বৈপরীত্য।

 

হিমল: আপনি ভারতীয় গণতন্ত্রকে ‘ফ্যাসিস্ট গণতন্ত্র’ বলেছেন। এই শব্দবন্ধকে আপনি একটু ব্যাখ্যা করবেন?

 

আনন্দ: বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ গণতন্ত্র এখানে, ভারত এ কথা আকাশে-বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু আপনি যদি কাছ থেকে নজর করেন তাহলে দেখবেন, এখানে গোড়া থেকেই টাকার থলি আর বংশপরম্পরায় উঁচু-জাতের বাছাই করা মানুষের আইন বিরাজ করছে। গণতন্ত্রের মাত্রা বিচারের মাপকাঠি হল দেশে সময়মতো নির্বাচন হচ্ছে কিনা। গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার (সংখ্যাগুরু হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য) পরিকল্পনাটা এমনই যে, শুধু টাকা আর গায়ের জোরে নির্বাচন জেতা যায়। গরিব ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কার্যত বঞ্চনার শিকার। উপনিবেশ-পরবর্তী রাষ্ট্র শাসনকার্য চালাতে আগের গোটা ঔপনিবেশিক পরিকাঠামোকে সন্তান রূপে গ্রহণ করেছে, নতুন রাষ্ট্র ক্ষমতা চলে গেছে দেশীয় শাসকশ্রেণির হাতে, ক্ষমতার একাধিপত্য রয়েছে উঁচু জাতের হাতে যাদের খুঁটির জোর হল পয়সাওয়ালা ব্যবসায়ী। সামন্ত সংস্কৃতির ওপর প্রোথিত এই শক্তি গ্রামস্তর থেকে রাজধানী অবধি ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণ করে আছে।

 

হিমল: সামান্যতম ভিন্নমত পোষণকারীদের ‘জাতীয়তা বিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাহলে এই সপ্তাহে যাদের গ্রেপ্তার করা হল কিংবা যাদের বাড়ি খানাতল্লাশি চলল তাদের আবার কেন ‘নকশাল’, ‘শহুরে নকশাল’ তকমা দিচ্ছে?

 

আনন্দ: জাতীয়তা বিরোধী আখ্যা দেওয়া প্রচারের একটা স্তর, আইনে এরজন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। মাওবাদী একটা ভয়ংকর দাগা, কারণ মাওবাদী পার্টিটা নিষিদ্ধ। চূড়ান্ত জাতীয়তাবাদী চিন্তা থেকে কাউকে জাতীয়তা-বিরোধী বলা যায় যদি সেই ব্যক্তিটিকে সমাজে কলঙ্কিত করতে চাওয়া হয় এবং অবশ্যই তথাকথিত ‘জাতীয়তাবাদী’ গ্যাংকে দিয়ে তাকে সমুচিত শিক্ষা দিতে প্ররোচিত করা। কিন্তু ‘নকশাল’ আর ‘শহুরে নকশাল’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে যারা সরকার বিরোধী তাদের শাস্তি দিতে। উভয়েই বিরোধী, কিন্তু মাত্রায় ও প্রকৃতিতে তফাত আছে। যেকোনো মানুষকেই ইচ্ছেমতো দেগে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রথমজনকে শুধু জনসমক্ষে হেয় করার লক্ষ্যে আর দ্বিতীয়জনকে বাস্তবিক বিধ্বস্ত করে ফেলা।

 

হিমল: দেশে স্বৈরাচারের ঢেউ রুখতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হওয়া দরকার বলে আপনি মনে করেন?

 

আনন্দ: স্বৈরতন্ত্র ভারতীয় ব্যবস্থায় মজ্জাগত, কিন্তু এর প্রাবল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯৯০-এর দশক থেকে যখন সামাজিক ডারউইনবাদীরা নব্য-উদারনীতির তত্ত্ব নিয়ে এলেন। আগেকার স্বৈরতন্ত্র ছিল এক দিক থেকে খানিকটা নমনীয় প্রকৃতির, সেটা জাতপাতের সাংস্কৃতিক অন্তঃস্তর থেকে কাজ করত। একে এতটা নির্মম হতে হয়নি। কিন্তু ১৯৯০-এর দশক থেকে শাসকশ্রেণি যেকোনো প্রতিরোধকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করতে অতিরিক্ত নজরদারি চালু করেছে। এটা সর্বত্র দেখা যাবে, বিশ্বায়নের প্রথম দশকে পুলিশ আর সামরিক খাতে বাজেট বরাদ্দ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

 

সমস্ত কঠোর আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ব্যাপক গণ আন্দোলন দরকার। আদতে এই আইনগুলো মানুষকে সন্ত্রস্ত রেখে চুপ করিয়ে দেওয়ার অস্ত্র। আমি আশা রাখি, যেভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে, তাতে বাস্তবিক মানুষ একদিন জেগে উঠবে, একত্রিত হয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পরিকাঠামো তছনছ করে দেবে। একটা স্বাধীন কমিশন গড়ে তোলা দরকার, যে কমিশন ব্যক্তির মৌলিক অধিকারের মাপকাঠিতে পরিকাঠামোর সাংবিধানিক বৈধতা যাচাই করবে। যদি একটি ব্যক্তিবিশেষ ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে না পারে, তাহলে গোটা সাংবিধানিক উপরিকাঠামো অর্থহীন।

 

হিমল: আপনি কি কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের কথা ভাবেন যারা প্রতিরোধ করবে?

 

আনন্দ: দুর্ভাগ্যবশত এই মূহুর্তে তেমন কিছু হবে বলে আমি করি না। কিন্তু মানুষের মধ্যে বিপুল পুঞ্জীভূত ক্ষোভ রয়েছে যা প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দেবে এবং সেটা খুব একটা দূরে নয়। মোদি-শাহের দ্বৈত অভিভাবকত্বে বিজেপি নিজের নির্বাচনী অবস্থান শক্তিশালী করতে একটা বিপজ্জনক খেলা খেলছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় বিজেপি তার সমর্থকদের দূরে ঠেলে দিয়েছে। নোটবন্দি সমস্ত আর্থিক যুক্তিবোধকে হটিয়ে দিয়েছে, সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ ছাড়াই জিএসটি লাগু হয়েছে, হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডারা রাষ্ট্রযন্ত্রের আস্থা অর্জন করেছে, দলিত-আদিবাসী-নারী-মুসলমান এবং সেইসব ব্যক্তি যারা সরকার বিরোধী কথা বলেন তাদের ওপর উত্তরোত্তর আক্রমণ বেড়ে চলেছে। যারা সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি-কে সমর্থন করেছে তারা এইসবে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। যা দরকার সেটা হল এমন একটা নেতৃত্ব যে এই গণ বিক্ষোভকে একটা সুসঙ্গত প্রতিরোধ-শক্তিতে পরিণত করতে পারবে। আমি আশা রাখি খুব তাড়াতাড়ি এটা হবে।

 

 

বাংলা অনুবাদ : সমির পোদ্দার

 

Share this
Leave a Comment