করোনাভাইরাস-কে মহামারীতে পরিণত করার জন্য দায়ী আমরাই


  • March 27, 2020
  • (0 Comments)
  • 777 Views

শুরুটা হয়তো হয়েছিল গুহাবাসী এক বাদুড়কে দিয়ে, কিন্তু মানুষের কার্যকলাপ তাকে ছড়িয়ে দিয়েছে। লেখক ডেভিড কুয়াম্মেন।

 

 

একেবারে হালের যে ভীতিপ্রদ ভাইরাস বিশ্বকে সন্ত্রস্ত করেছে, চিনে ৫.৬ কোটি মানুষকে গৃহবন্দি করে ফেলেছে, গোটা দুনিয়া জুড়ে যাবতীয় ভ্রমণসূচিকে ওলটপালোট করে দিয়েছে এবং ইউহান বা হুবেই প্রদেশ থেকে শুরু করে ব্রায়ান, টেক্সাস পর্যন্ত সর্বত্র ডাক্তারি মাস্ক বাজার থেকে উধাও করে দিয়েছে, তার অস্থায়ী নাম “এনকোভিড-২০১৯”। মারাত্মকএকটা বিপদের জবরজং ডাকনাম।

 

নামটা দিয়েছেন এই ভাইরাসকে খুঁজে পাওয়া চিনা বিজ্ঞানীর দল। এটা “নভেল করোনাভাইরাস ২০১৯”-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। এ থেকে বোঝা যায় যে এই ভাইরাসের মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটানোর কথা জানা গেছে গত বছরের শেষাশেষি নাগাদ – ঘটনাস্থল ইউহানের সামুদ্রিক খাবার-দাবার আর জ্যান্ত প্রাণীদের এক বাজার – এবং ইনি কুখ্যাত করোনাভাইরাস পরিবারের সদস্য। ২০০২-৩ সালে যে সার্স মহামারী গোটা দুনিয়া জুড়ে ৮,০৯৮ জন মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল, তার উৎসও ছিল করোনাভাইরাস, আর ২০১২ সালে আরব উপদ্বীপে শুরু হওয়া এবং এখনও চলতে থাকা (গত নভেম্বর পর্যন্ত ২,৪৯৪ জন সংক্রামিত ও ৮৫৮ জন মৃত) মার্স মহামারীর মূলেও ইনিই।

 

নতুন ভাইরাসটির নাম যা-ই হোক না কেন, এনকোভিড-২০১৯-কে যতটা নতুন বলে ভাবা হচ্ছে তা ততটা নতুন নয়। যাঁরা এর নামকরণ করেছেন তাঁরাও সে কথা ভালোই জানেন।

 

বছর কয়েক আগে ইউহানের মোটামুটি হাজার মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে ইউনান প্রদেশের এক গুহায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একদল গবেষক এর এক নিকটাত্মীয়ের খোঁজ পেয়েছিলেন এবং রীতিমতো উদ্বিগ্ন বোধ করেছিলেন। কাজেই প্রথম দফায় এন কোভিড-২০১৯-এর ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা – আজ পর্যন্ত ৪৯১,৬২৩ জন নিশ্চিতভাবে সংক্রমণের শিকার এবং তাঁদের মধ্যে অন্তত ২২,১৬৯ জন মৃত – (তাজা সংখ্যা, ২৬ মার্চ সন্ধ্যা অবধি) আকস্মিক হলেও কল্পনাতীত নয়। এই ভাইরাসের উৎস যে মনুষ্যকুলের বাইরের কোনও প্রাণী, সম্ভবত বাদুড়, এবং তা যে এর আগে আরেকটা কোনও প্রাণীর শরীর ঘুরে এসেছে, সে ব্যাপারটা কিঞ্চিৎ ভূতুড়ে মনে হতে পারে, কিন্তু এসব নিয়ে চর্চা করা বিজ্ঞানীদের কাছে এটা মোটেই চমকপ্রদ কোনও বিষয় নয়।

 

এরকমই একজন বিজ্ঞানী হলেন ইউহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি-র ঝেং-লি শি। যে গবেষণাপত্রে (নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত) এনকোভিড-২০১৯-কে চিহ্নিত করা হয় এবং তার নামকরণ করা হয়, শি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লেখক। এই শি এবং তাঁর সহযোগীরাই ২০০৫ সালে দেখিয়েছিলেন যে সার্স সংক্রমণের উৎস বাদুড় থেকে আসা একটা ভাইরাস এবং তা মানুষের শরীরে বাসা বাঁধছে। তাঁরা তখন থেকেই বাদুড়ের শরীরে করোনাভাইরাসের হদিশ করে চলেছেন। তাঁরা এই সতর্কবার্তাও শুনিয়েছেন যে এই ভাইরাসগুলোর মধ্যে কয়েকটা মনুষ্যকুলে বিশ্বমাহামারী বাঁধিয়ে তোলার অনন্য ক্ষমতার অধিকারী।

 

২০১৭ সালের এক গবেষণাপত্রে তাঁরা দেখিয়েছেন যে পাঁচ বছর ধরে ইউনান প্রদেশের গুহাবাসী বাদুড়দের বিষ্ঠার নমুনা সংগ্রহ করার পর তাঁরা চারটে আলাদা আলাদা প্রজাতির বহু বাদুড়ের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছেন। তার মধ্যে একটা প্রজাতির নাম ঘোড়ার-নাল বাদুড়, কারণ তার নাকের ফুটোগুলোর চারপাশে একটা আধা-ডিম্বাকৃতি চামড়ার ফালি ঝুলে থাকে। শি ও তাঁর সহকর্মীরা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে এই ভাইরাসের জিনোমের সঙ্গে হালে মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া ইউহান ভাইরাসের ৯৫ শতাংশ মিল আছে। এই দুটো ভাইরাসের জুটি সার্সের উৎস-ভাইরাস সহ আমাদের জানা অন্য যাবতীয় করোনাভাইরাসের থেকে একেবারে আলাদা। এক্ষেত্রে এনকোভিড-২০১৯ সত্যিই নতুন অতিথি – সম্ভবত এটা আর পাঁচটা করোনাভাইরাসের থেকে মানুষের পক্ষে অনেক বেশি বিপজ্জনক।

“সম্ভবত” কথাটা বলার কারণ হল, এটা কতটা বিপজ্জনক সে কথা যে আমরা এখনও পর্যন্ত জানি না তা-ই নয়, জানতে পারবও না। নতুন ভাইরাল রোগের আক্রমণের ব্যাপারটা অনেকটা পিনবল খেলার মেশিনের ইস্পাতের বলের মতো: আপনি আপনার হাত চালাতেই পারেন, মেশিনটার পাগুলো ঝাঁকিয়ে বলগুলোকে কম্পমান রিংয়ে পাঠাতেই পারেন, কিন্তু শেষমেশ বলগুলো কোথায় গিয়ে পড়বে সেটা আপনার দক্ষতার পাশাপাশি নির্ভর করে আকস্মিকতার ১১টা স্তরের উপর। এটা বিশেষ করে সত্যি করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে: প্রজননের সময় তারা আকছার নিজেদের জিনের গঠন পরিবর্তন করে এবং রাতের পিশাচের মতো দ্রুততায় রূপ বদল করতে থাকে।

 

মানুষ ও বন্যপ্রাণের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে কর্মরত নিউ ইয়র্কস্থিত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকো-হেলথ অ্যালায়েন্স-এর সভাপতি পিটার দাজাক শ্রীমতী শি-র দীর্ঘকালের সহকর্মীদের মধ্যে অন্যতম। গত শুক্রবার তিনি শান্ত হতাশার সঙ্গে আমাকে বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমরা এই সব ভাইরাসের প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছি। সেই সার্সের সময় থেকে।” ২০০৫ সালের বাদুড় ও সার্স বিষয়ক গবেষণাপত্রের এবং ২০১৭ সালের ইউনানের গুহার সার্স-গোত্রীয় বিভিন্ন করোনাভাইরাস বিষয়ক গবেষণাপত্রের তিনি অন্যতম সহলেখক।

 

দাজাক আমাকে জানিয়েছেন যে এই দ্বিতীয় গবেষণা-প্রকল্প চলাকালীন গবেষকদলটি ইউনানের হাজার দুয়েক মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে, তাঁদের মধ্যে ৪০০ জন সেই গুহার কাছেপিঠেই থাকতেন। তাঁদের মধ্যে মোটামুটি ৩ শতাংশ মানুষের শরীরে সার্স-জাতীয় করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির সন্ধান পাওয়া যায়।

 

“তাঁরা আগে কখনও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন কিনা সে কথা আমরা জানি না। ছোটবেলায় বা বড় বয়সে তাঁরা কখনও এই সংক্রমণের সম্মুখীন হয়েছিলেন কিনা তা-ও আমাদের জানা নেই। কিন্তু এর থেকে যেটা বোঝা যায় তা হল এই ভাইরাসগুলো বারবার বাদুড়দের শরীর থেকে মানুষের শরীরে এক ঝটকায় ছড়িয়ে পড়ছে।”

 

অন্যভাবে বললে, ইউহানের আপৎকালীন অবস্থা কোনও নতুন ঘটনা নয়। এটা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আকস্মিকতার পরম্পরার অন্যতম অংশ, তার মাথাটা অতীতে, আর পা-টা ভবিষ্যতের বুকে ক্রমশ প্রসারিত হতে থাকবে – অন্তত যতক্ষণ পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি জারি থাকছে।

 

সুতরাং বর্তমান মহামারী সম্পর্কে দুশ্চিন্তার পালা সারা হয়ে গেলে পরবর্তী মহামারী নিয়ে মাথা ঘামান। কিংবা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু একটা করুন।

 

আর এই বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে খাদ্যের জন্য বন্যপ্রাণের বিপজ্জনক ব্যবসাও আছে, যার জোগানের বিস্তার এশিয়া ও আফ্রিকা জুড়ে, আর কিছুটা কম মাত্রায় হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যত্র জুড়েও বটে। এই ব্যবসা বর্তমানে চিনে সাময়িকভাবে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে; কিন্তু সার্স মহামারীর সময়েও এই ব্যবসা বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল, তারপর আবার তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় – কাজেই ইউহানের মতো আরও পাঁচটা বাজারে বাদুড়, গন্ধগোকুল, শজারু, ঘুঘু, বাঁশবনের ইঁদুর, বিভিন্ন ধরনের পাখি ও আরও হাজারো প্রাণীদের স্তূপ এসে জমা হয়।

 

বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে ৭৬০ কোটি ক্ষুধার্ত মানুষও পড়ে : তাদের মধ্যে অনেকে দরিদ্র এবং খানিকটা প্রোটিন পাওয়ার জন্য মরিয়া; কেউ কেউ আবার স্বচ্ছল, অপচয়প্রবণ এবং বিমানযোগে যেখানে খুশি যেতে সক্ষম। এই বিষয়গুলো পৃথিবী নামক গ্রহটিতে অভূতপূর্ব : অন্য প্রমাণের অভাবে ফসিল থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক জানা যাচ্ছে যে আজকের দিনে মানুষ যতটা প্রাচুর্যের অধিকারী ততটা প্রাচুর্য এর আগে কোনও বড় আকারের প্রাণীর হাতেই ছিল না, আর আগ্রাসীভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ তছনছ করার ক্ষেত্রে মানুষ যতটা করিৎকর্মা সে কথা না হয় বাদই দিলাম। আর এই প্রাচুর্য, এই ক্ষমতা এবং তার ফলাফলজাত বাস্তুতান্ত্রিক গোলযোগের অন্যতম ফল ক্রমবর্ধমান হারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া : প্রথমে পশুদের থেকে মানুষের মধ্যে, তারপর মানুষের থেকে মানুষের মধ্যে, মাঝেমধ্যে সেটা বিশ্বমহামারীর মাত্রায়।

 

আমরা ক্রান্তীয় অরণ্য ও অন্যান্য বন্য ভূপ্রকৃতির বুকে হানা দিই, সে সমস্ত জায়গা অজস্র প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদদের আশ্রয়স্থল, আর সেই সমস্ত প্রাণ অজস্র অজানা ভাইরাসের আশ্রয়স্থল। আমরা গাছ কেটে সাফ করে ফেলি; আমরা পশুপাখিদের হত্যা করি, কিংবা তাদের খাঁচায় পুরে বাজারে পাঠাই। আমরা বাস্তুতন্ত্রকে তছনছ করে দিই এবং ভাইরাসদেরকে তাদের প্রাকৃতিক আশ্রয়দাতাদের বুক থেকে উপড়ে ফেলে ছড়িয়ে দিই। সেটা যখন ঘটে তখন তাদের নতুন আশ্রয়দাতার দরকার হয়ে পড়ে। আর বেশিরভাগ সময়েই সেই আশ্রয়দাতা হয়ে পড়ি আমরা।

 

এই জাতীয় ভাইরাসের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার খতিয়ান ভয়ঙ্কর: মাচুপো, বলিভিয়া, ১৯৬১; মারবার্গ, জার্মানি, ১৯৬৭; ইবোলা, জাইরে ও সুদান, ১৯৭৬; এইআইভি, নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ায় চিহ্নিত, ১৯৮১; এক ধরনের হান্টা (বর্তমানে সিন নম্ব্রে নামে পরিচিত), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল, ১৯৯৩; হেন্ড্রা, অস্ট্রেলিয়া, ১৯৯৪; বার্ড ফ্লু, হংকং, ১৯৯৭; নিপা, মালয়েশিয়া, ১৯৯৮; ওয়েস্ট নাইল, নিউ ইয়র্ক, ১৯৯৯; সার্স, চিন, ২০০২-৩; মার্স, সৌদি আরব, ২০১২; আবার ইবোলা, পশ্চিম আফ্রিকা, ২০১৪। এটা নেহাতই নির্বাচিত তালিকা। আর এখন এই তালিকায় নবতম সংযোজন এনকোভিড-২০১৯।

 

বর্তমান পরিস্থিতির অংশ সেইসব আমলারাও যাঁরা হামেশাই মিথ্যে কথা বলেন এবং খারাপ খবর গোপন করেন, আছেন সেইসব নির্বাচিত কর্তারাও যাঁরা জনতার সামনে জাঁক করে বলেন যে কাঠশিল্প ও কৃষিতে কর্মসংস্থানের খাতিরে জঙ্গল কেটে সাফ করা হচ্ছে, কিংবা যাঁরা বাজেটে গণস্বাস্থ্য ও গবেষণার উপর বরাদ্দ কাটছাঁট করা নিয়ে বড়াই করেন। ইউহান কিংবা অ্যামাজন থেকে প্যারিস, টরন্টো বা ওয়াশিংটনের দূরত্ব কোনও কোনও ভাইরাসের কাছে নেহাতই কম, কয়েক ঘণ্টার মামলা, কারণ তারা অতি সহজেই বিমানযাত্রীদের শরীরে চড়ে বসতে পারে। আর যদি আপনার ধারণা হয়ে থাকে যে অতিমহামারীর জন্য প্রস্তুতির খাতে খরচটা বড্ড বেশি পড়ে যাচ্ছে তাহলে এনকোভিড-২০১৯ বাবদ সাকুল্যে কত খরচ হয় সেই হিসেবটা আসা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করুন।

 

সৌভাগ্যের বিষয় যে এই বর্তমান পরিস্থিতিরই অংশ মেধাদীপ্ত ও একনিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা, আছেন মহামারীর আক্রমণে দ্রুত সাড়া দিতে তৈরি চিকিৎসকরা – তাঁরা ছড়িয়ে আছেন ইউহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি, ইকোহেলথ অ্যালায়েন্স, ইউনাইটেড স্টেট সেন্টার্স ফর ডিজিজ অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), চিনের সিডিসি এবং দুনিয়া জুড়ে আরও অজস্র প্রতিষ্ঠানে। তাঁরাই জীবন বাজি রেখে বাদুড়ের গুহায়, জলাভূমিতে আর কড়া নিরাপত্তাধীন পরীক্ষাগারগুলোতে গিয়ে হাজির হন, বাদুড়ের বিষ্ঠা ও রক্তের নমুনা এবং অন্যান্য মহামূল্য প্রমাণ সংগ্রহ করে আনেন, যাতে জেনোমের পরম্পরা সম্পর্কে গবেষণা চালানো যায় আর মূল প্রশ্নগুলোর উত্তরের হদিশ করা সম্ভব হয়।

 

এনকোভিড-২০১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা এবং তার সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর হার কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্থিতিশীল: ৩ শতাংশের আশেপাশে বা তার একটু নীচে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে সংক্রমণের শিকার এমন রোগীদের মধ্যে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে(এখন অনেক বেশি)। এটা তুলনামূলকভাবে সৌভাগ্যের বিষয় – ইনফ্লুয়েঞ্জার বেশিরভাগ প্রজাতির তুলনায় খারাপ, সার্সের তুলনায় ভালো।

 

তবে এই সৌভাগ্যের আয়ু হয়তো বেশিদিন নয়। পিনবল যে কোথায় গড়াবে সে কথা কেউ জানে না। আজ থেকে দিন চারেকের মাথায় হয়তো আক্রান্তের সংখ্যা হাজার হাজার হয়ে যেতে পারে। আবার আজ থেকে মাস ছয়েক পরে ইউহানের নিউমোনিয়া স্মৃতিতে বিলীনও হয়ে যেতে পারে। বা না-ও হতে পারে। আমরা এখন দুটো ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, একটা স্বল্পমেয়াদী, আরেকটা দীর্ঘমেয়াদী। স্বল্পমেয়াদীটা হল : আমাদের বুদ্ধিমত্তা, স্থৈর্য এবং হাতে থাকা সম্পদকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে আমরা এই এনকোভিড-২০১৯ মহামারীকে আটকে রাখার এবং নির্মূল করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব এবং সেটা এই মহামারী বিশ্বমহামারীর চেহারা নেওয়ার আগেই করব – কারণ সে সম্ভাবনা প্রবল। আর দীর্ঘমেয়াদীটা: এই ঘটনা যখন থিতিয়ে আসবে তখন এটা আমাদের মাথায় রাখতেই হবে যে এনকোভিড-২০১৯ কোনও নতুন ঘটনা বা আমাদের উপর আছড়ে পড়া কোনও আকস্মিক দুর্বিপাক নয়। আমরা মানুষেরা যা কিছু বেছে নিচ্ছি এটা সেই ছকেরই অংশবিশেষ।

 

ডেভিড কুয়াম্মেন লেখক ও সাংবাদিক, তাঁর অন্যতম বই স্পিলওভার: অ্যানিম্যাল ইনফেকশন্‌স অ্যান্ড দ্য নেক্সট্‌ হিউম্যান প্যানডেমিক। রোগ ও জনস্বাস্থ্য, এদের সঙ্গে পুঁজিবাদ এবং রাজনীতির সম্পর্ক বিষয়ে ক্ষুরধার বিশ্লেষণ এঁর কাজের বিশেষত্ব। এই লেখাটি, ২৮জানুয়ারি ২০২০, প্রকাশিত হয়েছিল  নিউ ইর্য়ক টাইমস পত্রিকায়।

https://www.nytimes.com/2020/01/28/opinion/coronavirus-china.html?action=click&module=Opinion&pgtype=Homepage

 

 অনুবাদঃ প্রসিত দাস।

 

Share this
Leave a Comment