আমি এই মুখের ভাষাটাতেই লিখতে চাই — মিঞা কবি কাজী নীল-এর সাক্ষাৎকার 


  • March 11, 2020
  • (0 Comments)
  • 840 Views

অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বাঙালি বংশোদ্ভূত গরিব মুসলমান সম্প্রদায় যারা চর- চাপোরি অঞ্চলে বসবাস করেন, তাঁদের সেই অঞ্চলের মুখের ভাষা মিঞা ভাষা। ‘চর চাপোরি সাহিত্য পরিষদ’এর প্রেসিডেন্ট হাফিজ আহমেদ ২০১৬ সালে লেখেন তাঁদের সেই মুখের ভাষায় ‘আমি একজন মিঞা’। কবিতাটি মহম্মদ দারভিস-এর ‘আই অ্যাম অ্যান আরব’ কবিতার অনুপ্রেরণায়। এই কবিতা এক বিতর্কের সৃষ্টি করে অসমে। প্রসঙ্গত চর চাপোরির নিজস্ব ভাষায়, যে ভাষায় তারা কথা বলেন তার কোনো লিপিবদ্ধ রূপ নেই, এবং তার যদি বা কোনো কবিতা বা গান থেকে থাকে তা ছিল চরের দৈনন্দিন জীবন যাপন ইত্যাদি নিয়ে। এর থেকে এখনকার মিঞা কবিতা আলাদা – মিঞা কবিতা এক নতুন প্রতিবাদী কবিতা যা তাঁদের এই মুহূর্তের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরছে। বরাকের বাঙালি হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালি পরিচিতি ধরে রাখলেও এই চর চাপোরি অঞ্চলের বাঙালি বংশোদ্ভূতরা অসমিয়া পরিচয় মেনে  নিয়েছিলেন ১৯৫১ সালে। তা সত্ত্বেও তাঁদের জাতিগত, শ্রেণিগত, ধর্মীয় কারণে তাঁরা মিঞা, ন অসমিয়া বা নব অসমিয়া, বাংলাদেশি ইত্যাদি নামে পরিচিত হতে থাকেন আজও, এবং তাঁদের বিভেদের চোখেই দেখা হয়। এই সম্প্রদায় থেকে আসা কিছু তরুণ তাঁদের সম্প্রদায়কে মিঞা সম্বোধনে যে অবজ্ঞা করা হয়, সেই পরিচিতিকে ব্যবহার করে লিখে ফেলেন মিঞা কবিতা। অসমের জাতীয়তাবাদীদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন তাঁরা, এমনকি তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করা হয়, কারণ তাদের মনে হয়েছিল এটা তাদের জাতিগত পরিচয়ের যে লড়াই তার ক্ষতি করছে। যদিও এই কবিদের বক্তব্য ছিল তারা অসমিয়া পরিচিতির বিরুদ্ধে নন বরং অসমের যে বহু জনজাতির পরিচয়ের বৈচিত্র্য তার মধ্যেই থেকে নিজেদের পরিচয় ঘোষণা করতে চেয়েছেন, নিজেদের প্রতি বঞ্চনা এবং অবজ্ঞার প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন। কলকাতায় আয়োজিত ‘জনতার সাহিত্য উৎসব’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত এমন এক তরুণ মিঞা কবি কাজি নীল-এর সঙ্গে কথা বলেছিলেন শুভদীপ মৈত্র তাদের এই কবিতা আন্দোলন সম্পর্কে বিশদে জানতে।

 

 

প্র: নীল, প্রথমেই জানতে চাইব তোমার কাছে মিঞা কবিতা কী?

 

উ: আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে দেখতে চাই তাহলে মিঞা কবিতা হচ্ছে যে লোকগুলোকে আমরা মিঞা বলে ডাকি, যাদের মিঞা বলে গালাগালি দেওয়া হয়, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয় বা বিভিন্ন সময় তারা কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি বলে, মিঞা বলে উপেক্ষিত হয় – এটা তাদের নিয়ে কবিতা, তাদের এক্সপ্রেশন। সেই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর যে যন্ত্রণা, তাদের যে ধরনের জীবন তাদের যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি তার যে এক্সপ্রেশনের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে তাকেই আমি মিঞা কবিতা বলি।

 

প্র: তুমি কী করে এই কবিতা লিখতে শুরু করলে?

 

উ: প্রথমত আমার বরপেটায় জন্ম, স্কুলিং ওখানে, তারপর বছর তিনেক কলকাতায় ছিলাম। এখন তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করছি কালচারাল স্টাডিজ নিয়ে। আমি কবিতার সঙ্গে যুক্ত চার, পাঁচ বছর – লেখার শুরুর দিক থেকেই আমি মিঞা কবিতার সঙ্গে যুক্ত, সেই ২০১৬-১৭ সাল থেকে। যে ভাষায় আমি কথা বলি বাড়িতে, সেই ভাষায় লেখার আমার বহুদিনের ইচ্ছে ছিল। লেখালিখি শুরু করার পর থেকে আমি এই ভাষাতেই লিখি। তো যখন হাফিজ আহমেদ, সালিম হোসেনরা মিঞা কবিতা লেখা শুরু করল তখন আমিও ভাবলাম আমিও পারব তো সেখান থেকেই মিঞা কবিতার সঙ্গে আমার জড়ানো।

 

প্র: তোমাদের এই মিঞা কবিতা নিয়ে সমস্যাটা কী, বিতর্ক কেন হল অসমে?

 

উ: এখন সমস্যার কথা বলতে গেলে এই কমিউনিটিটার কথা বলতে হবে। এদের যে জিওগ্রাফিকাল সেটিং সেটা একটা ভালনারেবল জায়গা। চর, চাপোরি এসব মানে তো — বন্যা আসল, নদীর পাড়ে ধস নামল, বাড়িঘর হারাতে হল এই নিত্য চলে – গরিব মানুষ এরা বেঘর হয়ে অন্য শহরে কাজ খুঁজতে যায়। তারপর তাদের সমস্যায় পড়তে হয় ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন নিয়ে শহরে যায় তা ভেঙে যায়, বাচ্চাকাচ্চাদের শিক্ষার সমস্যা হয়। তারপর শহরে গেলে তাকে মিঞা বলে বাংলাদেশি বলে গাল খেতে হয়। একটা ডিসক্রিমিনেশন রয়েছে এরা আসল অসমিয়া না। তারপর রাষ্ট্রের থেকেও ডি-ভোটার, এনআরসির ঝামেলা বেড়েছে। যেমন বলি প্রথমদিকে একটা পাইলট প্রজেক্ট হয়েছিল এনআরসি-র তাতে ছিল যে বাংলাদেশের কোথায় জন্ম বাবার তা লিখতে হবে – এখন আমার বাবার জন্ম তো বাংলাদেশে নয়, কী লিখব? তখন মিঞারা প্রতিবাদ করতে গেল এবং গুলি খেয়ে চারজন মরল। এসব সমস্যা কবিতায় উঠে আসছে…

 

প্র: এটা তাহলে একইসঙ্গে পরিচিতিগত এবং অর্থনৈতিক এক সমস্যা থেকে তৈরি হয়েছে?

 

উ: হ্যাঁ, এটা কমিউনাল বললেও আসলে শ্রেণিগত একটা সমস্যা। মিঞালোক যারা রয়েছে তারা কৃষিজীবী, শ্রমিক, শ্রমিক শ্রেণি – অন্যদিকে অসমের সমাজ বাজারমুখী ছিল না, সেই অর্থনীতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেনি। যখনই দেখছে এই মিঞারা সেই বাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় ভালো উৎপাদন করতে পারে – যেমন তিনবার খেতে ফসল ফলাতে পারে, যেখানে অসমের আদি লোকজন একবার চাষ করে নিজেদের দরকার মিটিয়েই তারা খুশি – তাতে মিঞারা এগিয়ে যাচ্ছে। তখনই বলতে শুরু করে মিঞারা আমাদের অর্থনীতি নষ্ট করছে, আর সঙ্গে সঙ্গে ভাষাগত যে প্রশ্ন সেটাকে নিয়ে আসে।

 

প্র: অর্থাৎ অর্থনীতি থেকে পরিচিতির একটা রাজনীতি চলে আসছেএর মধ্যে দাঁড়িয়ে কীভাবে পরিচিতি জিনিসটাকে দেখছ?

 

উ: পরিচিতি জিনিসটা আমার মনে হয় ফ্লুইড বস্তু – এখন অমন ধর্মের ভিত্তিতে, ভাষার ভিত্তিতে কারো পরিচিতি ডিফাইন করে দেওয়া চলবে না। আমরা যেটা বলতে চাইছি যে আমরা অসমিয়া তোমরা সেটা মানতে চাইছ না, অথচ আমাদের লোকও ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমাদেরও অবদান আছে। আমরা নিজেদের মুখের ভাষাকে স্বীকৃতি না দিয়ে অসমিয়া ভাষাকে মাতৃভাষা বলে স্বীকার করেছি, সে ভাষায় পড়াশোনা করেছি তারপরও যখন আমাদের ডিসক্রিমিনেট করা হয়, মিঞা বলে গাল দেওয়া হয় তখন আমরা সেই মিঞা পরিচিতিটাকেই ব্যবহার করব। কারণ এতদিনে এ পরিচিতি তৈরি হয়ে গেছে আমরা মিঞা মানুষ, আমাদের কমিউনিটির লোকজনও তাই বলে আমরা মিঞা মানুষ, তারা বলে না যে আমরা বাঙালি মুসলমান। তুমি চরে যাকেই জিজ্ঞেস করবে সে বলবে আমরা তো মিঞা।আমরা তো অসমিয়া হইই, যেভাবে বোড়োরা বা অন্য অসমিয়া ট্রাইবরাও হয়।

 

প্র: তাহলে একটা প্রশ্ন উঠে আসছে এই ভাষাটা কোন ভাষা, বাংলা না অসমিয়াদুটো স্বীকৃত ভাষার টানাপড়েনে পড়ে যাচ্ছ কি তোমরা?

 

উ: অসমিয়া মধ্যবিত্ত শ্রেণি তো আগে থেকেই মিঞা বিরোধী। তারা স্বীকার করতে চায় না মিঞা ভাষাটা তাদের নিজেদের। যখনই আর্গুমেন্ট করতে চাইবে যে আমাদের ভাষার মধ্যে অসমিয়া প্রভাব রয়েছে তারা মানতে চাইবে না, বলবে এটা বাংলাদেশির ভাষা। যদি বেঙ্গলের ইন্টেলেকচ্যুয়াল দেখো তারা টানছে যে এটা আমাদেরই ভাষা আমাদের এখান থেকেই এই লোকগুলো গেছিল। কিন্তু এই যাওয়ার প্রসেস একশ দেড়শ বছরের – কোনো বাঙালি এই মিঞাদের নিয়ে কথা বলেনি এই দেড়শ বছরে এখন হুট করে ‘চলো পালটাই’ করতে আসলে, বাংলা ভাষায় এদের দিয়ে লেখাব বললে আমার কমিউনিটি মেনে নেবে না, আমি অন্তত নেব না। আমাদের কবিতাকে চলো পালটাইয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা এখানকার লোকেদের ছিল, আবার অসমের জাতীয়তাবাদীরাও বলত মিঞারা এর মাধ্যমে ‘চলো পালটাই’ করবে। কিন্তু সেটা আমাদের উদ্দেশ্য না। আমাদের কথা হচ্ছে তখন কেউ দাবি করেনি বাংলা আমাদের শিকড় ছিল, আমরা বলে দিলাম অসমিয়া আমাদের ভাষা, সেই ব্যবস্থায় বড়ো হয়েছি – তাই আমরা অসমের মধ্যেই আমাদের যে কমিউনিটি তাকে তৈরি করতে চেয়েছি। আমরা অসমের সঙ্গেই জুড়তে চেয়েছি, বলে না অসমের বৈচিত্র্য অনেক তার মধ্যেই একটা জায়গা আমরা ক্লেইম করেছি। একটা মানসিকতা তৈরি হয়ে গেছে মান্য বাংলা মান্য অসমিয়া তারা তার বাইরে কোনো বৈচিত্র্য স্বীকার করতে রাজি নয়।

 

প্র: অসমের বামপন্থীরা কী ভাবছেন, অন্যদিকে হীরেন গোঁহাইয়ের মতো অসমের বুদ্ধিজীবীরা বলেন এটা কোনো ভাষাই না একটা কৃত্রিম কন্সট্রাকট

 

উ: তুমি যদি লিবারাল হও বা কমিউনিস্ট হও তাহলে কোনো ভাষাকে লেজিটিমাইজ করতে হবে, ব্যক্তিগতভাবে কেউই লেজিটিমাইজ করতে পারে না। কারণ এটা ব্যক্তির ব্যাপার নয় তবু স্বীকার করতে হবে সেটাই কাজ। সেক্ষেত্রে দেখতে গেলে বেশিরভাগ বামপন্থী একে স্বীকার করে না তারা ভাষাগত জাতীয়তাবাদের সঙ্গে থাকতে চায়। বামপন্থীরা যখন অসম আন্দোলন হয়েছিল সত্তরের দশকে তখন সাথ দিয়েছিল যেহেতু এরা ওয়ার্কিং ক্লাস তাই এদের সঙ্গে থাকা দরকার। সে জন্য অনেক বামপন্থী জাতীয়তাবাদীদের হাতে মারাও গেছে। কাজেই এটা সাফ সাফ দেখা যে ক্লাসের প্রশ্নটা আছে। এই ক্লাসের প্রশ্নটা বামপন্থীরা মেনে নেয়, কিন্তু কালচারাল প্রশ্নে পিছিয়ে যায় – তাদের কোথাও একটা অসমিয়া জাতীয়তাবাদী মাইন্ডসেট রয়ে গেছে।

 

প্র: এই মুহূর্তে তোমার অবস্থান কী দেশে চলা সিএএ বা এনআরসি নিয়ে?

 

উ: অসমের একটা ঐতিহাসিক কনটেক্সট রয়েছে এ ব্যাপারে। অসম মুভমেন্ট হয়েছে, অসমের একটা বড়ো সংখ্যক মানুষ দাবি করেছেন এনআরসি হওয়া দরকার – সেখানে আমাদের মিঞা মানুষেরাও যোগ দিয়েছে, কারণ এটা যদি একবার হয়ে যায় তাহলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলে হ্যারাসমেন্ট কমে যাবে। এই ধরো ডি-ভোটার বা কারো নামে নোটিস চলে এল যে হাজিরা দিতে হবে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে – এসব হবে না ভেবেছিল যদি এনআরসি হয়ে পাকাপাকি নাম উঠে যায় – সেই জন্য কাগজ দেখাতে হয়েছে। কিন্তু এটা মানি যে ভারতের ক্ষেত্রে এটা ডিসক্রিমিনেটারি সংখ্যালঘুদের জন্য। কিন্তু অসমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা ছিল।এখন এক সঙ্গে সিএএ এনে হিন্দু যারা তাদের ঢুকিয়ে নেবে এটা ডিসক্রিমিনেটারি।

 

প্র: সেই দিক থেকে মিঞা কবিতা সারা দেশের আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে?   

 

উ: দেখো আমার মনে হয় হামলা সবসময়ই হয় যেখানে যে সংখ্যালঘু তার উপর। যদিও আমি মুসলমান পলিটিক্সের সঙ্গে জড়িত নই বা সেই রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমার কাজ না, লক্ষ্যও নয় তবু কোথাও একটা মুসলমান কমিউনিটিকে টার্গেট করার চেষ্টা করছে স্টেট মেশিনারি বলে মনে হয়। সেদিক থেকে যে সব প্রতিবাদ হচ্ছে তার সঙ্গে মিঞা কবিতা মিশছে বলে মনে হয়। সারা দেশের কথা যদি বলি তো মিঞা কবিতা ওই অ্যাকাডেমিক ও লিবারাল স্পেসে রয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হবে কি না জানি না। তবে অসমের নতুন প্রজন্মের কাছে, যদিও আমরাও নতুন তবুও আমাদের পরের প্রজন্মর কাছেও ব্যাপকভাবে পৌঁছচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এই আন্দোলন শুরুও হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মিঞা কমিউনিটি থেকে যারা আসছে, পড়াশোনা করছে, তারাও সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছে। তাদের কথা আমরা বলতে পেরেছি বলেই একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।

 

প্র: তুমি নিজে অসমিয়া ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা করেছ, এবার বলো এই মিঞা ভাষা নিয়ে কতদূর এগোনো যায় তা যতক্ষণ না লেখার ভাষা, শিক্ষাদানের ভাষা হয়ে উঠছে?

 

উ: আমি এটাকে প্রপার ভাষা হিসেবে ব্যবহার করতে চাই। তার জন্য স্ক্রিপ্ট লাগবে ব্যাকরণ লাগবে জানি। অসমিয়া ভাষার স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করেই লেখা হচ্ছে। তা যেভাবেই হোক আমি এই মুখের ভাষাটাতেই লিখতে চাই। আমরা অসমিয়া স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করি কারণ সেটাতে আমরা সড়গড়। কিন্তু ভাষাটা মিঞা ভাষাই।

 

 

Read Also: Interview with Hafiz Ahmed, who sparked the Miya Poetry Movement in Assam

 

Share this
Leave a Comment