শিক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই বিধাননগরের ফুটপাতে অনশন আন্দোলনে প্রাথমিক শিক্ষকরা।


  • July 16, 2019
  • (0 Comments)
  • 2101 Views

প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো সদর্থক বার্তা নাআসায় বা বলা যেতে পারে শিক্ষামন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী ধর্না মঞ্চে নাআসায় উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সংগঠনের তরফ থেকে গত ১৩ জুলাই আমরণ অনশনের কর্মসূচি গ্রহণ করে উউপ্তা।

 

গ্রাউন্ডজিরো: প্রাথমিক শিক্ষকদের ধর্না আন্দোলন পঞ্চম দিনে পড়ল। এই প্রতিবেদন লেখা অবধি অনশন আন্দোলন গড়িয়েছে ৭০ ঘণ্টায়। এখনও পর্যন্ত সরকারি তরফে কোনও নড়াচড়া চোখে পড়ছে না।

 

গত ২৪ জুন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দেখা করেন এবং তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রদানের মৌখিক কথা দেন বলে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা উউপ্তা’র দাবি। এবং সাম্প্রতিক অতীতে বেতন বঞ্চনা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ১৪ জন শিক্ষকের বদলি যে অনৈতিক ছিল, তা কার্যত শিক্ষামন্ত্রী মেনে নেন এবং তাঁদের পুনরায় পুরোনো বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত করা হবে বলেও কথা দেওয়া হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সেই মৌখিক প্রতিশ্রুতি কার্যকর করার জন্য ওই সংগঠনের তরফ থেকে সরকারকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

 

প্রসঙ্গত পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বঞ্চনা ও বৈষম্যকে কেন্দ্র করে অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বিগত দেড় বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। গত ২৪ জুন সেই আন্দোলন এক বৃহত্তর মাত্রা নেয়। অভিযোগ, সম্পূর্ণ শান্ত মিছিলে সেদিন নিরীহ শিক্ষকদেরকে সেদিন ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখে চলে জলকামান, পুলিশের লাঠিচার্জ। গ্রেপ্তার হন ৫৯ জনের মতো শিক্ষক (https://www.groundxero.in/2019/07/10/primary-teachers-movement-in-west-bengal/)

 

সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ১০ জুলাই সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয় যে, সরকার ওই সময়সীমার মধ্যে কোনোরকম সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তাই আগামী ১২ জুলাই থেকে তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ করবে। প্রশাসনের কাছে তাঁদের আরও দাবি ছিল যে শিক্ষামন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে তাঁদের কাছে এসে সরকারের মনোভাব স্পষ্ট করুক। গত ১২ জুলাই সল্টলেকের করুণাময়ী থেকে মিছিল করে বিকাশভবনের পিছনে উন্নয়ন ভবনের সামনে ধর্না কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো সদর্থক বার্তা না-আসায় বা বলা যেতে পারে শিক্ষামন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী ধর্না মঞ্চে না-আসায় —  উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সংগঠনের তরফ থেকে গত ১৩ জুলাই আমরণ অনশনের কর্মসূচি গ্রহণ করে উউপ্তা। এই আমরণ অনশনে যোগ দেন উউপ্তা সংগঠনের রাজ্য সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস সহ কুড়িজন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ১৪ জন সহকর্মীর বদলির আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে এবং সঠিক বেতন কাঠামো প্রস্তুত করার জন্য শিক্ষামন্ত্রী পে-রিভিউয়ের যে মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার ধোঁয়াশা দূর করে এ বিষয়ে এ রাজ্যের সর্ববৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। যদিও তাদের এই দাবির পক্ষে প্রশাসনের তরফ থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো সদর্থক ভূমিকা  নেওয়া হয়নি বলে জানান সংগঠনের প্রতিনিধিরা। অভিযোগ, উল্টে শিক্ষামন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাস্তায় নেমে আন্দোলনে কোনো লাভ হবে না।

 

উপস্থিত শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা যায় প্রশাসনের তরফ থেকে তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। নূন্যতম পানীয় জলের ব্যবস্থা প্রথম দিন করা হলেও আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন থেকে এই পরিষেবা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ। ফলে প্রচুর টাকার জল কিনে তাঁদেরকে পিপাসা মেটাতে হচ্ছে। এমনকী মহিলা শিক্ষিকাদের শৌচালয় ব্যবহারেও প্রচুর অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

 

এদিকে অনশনরতদের পাশে থাকতে সাড়া রাজ্যজুড়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা দলমত নির্বিশেষে অনশন মঞ্চে আসছেন প্রতিদিন। আমরণ অনশনে বসা শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করতে গত ১৪ জুলাই বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী এবং বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা অনশন মঞ্চে আসেন। আক্রান্ত আমরা’র তরফ থেকে অম্বিকেশ মহাপাত্র, অনীক দত্ত, মন্দাক্রান্তা সেন অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন। এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনও তাদের বার্তা নিয়ে অনশন মঞ্চে হাজির হন বলে আন্দোলনকারীরা জানান।

 

এখন দেখার আন্দোলনকারীদের চাপে প্রশাসন কোনো সদর্থক বার্তা নিয়ে আসে নাকি রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকেরা উন্নয়ন ভবনের সামনের ফুটপাতে দিনের পর দিন অনশনরত অবস্থায় মশা মাছি ও জলকষ্টে পড়ে থাকেন। আন্দোলনকারীদের মতে, “আপাতত এটুকু বলা যায় রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষার বুনিয়াদ যাঁদের হাতে তৈরি তাঁদের দুরবস্থা প্রমাণ করে এ রাজ্যের বেহাল শিক্ষাব্যবস্থার হাড়-কঙ্কাল দেখার জন্য কোনো স্ক্যানারের প্রয়োজন নেই।” উন্নয়ন ভবনের সামনের রাস্তা ও ফুটপাত জুড়ে পড়ে থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দেখলেই তা বোঝা যাবে।

 

 

ছবি সৌজন্য : রাজীব দত্ত, আন্দোলনকারী প্রাথমিক শিক্ষক ।

 

Share this
Leave a Comment