প্রান্তিক যৌনতার মানুষদের প্রথম বন্ধুত্বযাত্রার বিশ বছর উদ্‌যাপন


  • June 30, 2019
  • (0 Comments)
  • 166 Views

বহু প্রতিক্ষীত আকাশধোয়া বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে শহরের রাজপথ। মানুষের ভিড়, ব্যস্ত ট্রাফিক সব কিছুকে তুচ্ছ করে গভীর চুম্বনরত এক সমকামী যুগল। পথচারীদের কৌতুহলী দৃষ্টি, ঈষৎ ভ্রূকুঞ্চন পাশে সরিয়ে মিছিলে হাঁটতে থাকা সহযোদ্ধাদের উল্লাসধ্বনি মনে করিয়ে দেয় আমাদের দেশে ৩৭৭ ধারা উঠে গিয়ে সমপ্রেম স্বীকৃত। সমকামী, রূপান্তরকামী মানুষদের নিয়ে আয়োজিত মিছিল, অনুষ্ঠান ও আলোচনাসভার মধ্যে দিয়ে উদ্‌যাপিত হল কলকাতায় আয়োজিত বন্ধুত্ব পদযাত্রার কুড়ি বছর। যার নাম দেওয়া হয়েছিল – ‘বিস সাল বাদ’। লিখেছেন সুদর্শনা চক্রবর্তী 

 

 

হ্যাঁ, জীবন চলে গেছে কুড়ি, কুড়ি বছরের পার। নব্বইয়ের দশকের শেষ বছরে ১৯৯৯ সালে ১৫ জন মানুষ ২রা জুলাই তারিখে কলকাতায় প্রথম নিজেদের যৌন ও লিঙ্গ পরিচিতি প্রকাশ করে পথে হেঁটেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন বন্ধুত্ব যাত্রা, ‘ফ্রেন্ডশিপ ওয়াক’। তাঁরা হেঁটেছিলেন তারও ত্রিশ বছর আগে আমেরিকা’র নিউ ইয়র্ক-এ ২৯জুন তারিখে ঘটে যাওয়া ‘স্টোনওয়াল রায়ট’-এর স্মৃতিতে যেখানে গে মানুষদের অনৈতিক ও বেআইনিভাবে ম্যানহাটান-এর স্টোনওয়াল ইন থেকে পুলিশি আটকের প্রতিবাদে প্রথমবারের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলন করেন সমকামী মানুষেরা। উদ্দেশ্য ছিল যৌন ও লিঙ্গ পরিচিতির নিরিখে যাঁরা সংখ্যালঘু সেই মানুষগুলিকে প্রকাশ্যে আসতে সাহায্য করা ও সেইসঙ্গে মানবাধিকার, লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে যে ব্যক্তি বা সংগঠনেরা কাজ করেন তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রাথমিক সচেতনতা তৈরি করা। এর থেকেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় কলকাতা রেইনবো প্রাইড ওয়াক। এখন তো দেশের নানা শহর তাদের প্রাইড ওয়াক-এর আয়োজন করে। দেশে ২০১৪ সালে এসেছে নালসা রায়, যাতে রূপান্তরকামী মানুষদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে ও নিজেদের লিঙ্গ পরিচিতি স্বনির্ধারণের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সদ্য রদ হয়েছে ৩৭৭ ধারা।

 

আজকের সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে বোঝা যায় সেই সময়ে এই ধরনের একটি পদযাত্রা করা আদপেই সহজ ছিল না। আজ তরুণ প্রজন্ম নিজস্ব পোশাক, প্রসাধন ও শ্লোগান-এ সোচ্চারে ঘোষনা করছেন যৌন ও লিঙ্গ পরিচিতি। মাত্র ১৫ জন মানুষ কতটা দ্বিধা ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে ২০ বছর আগে যাবতীয় প্রশ্ন, কৌতুহল, সমালোচনা পেরিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভর করে সামনের লড়াইয়ের কথা চিন্তা করে পথে নেমেছিলেন তা অনুমান করা যায়। হায়দ্রাবাদ শহরে ‘ইয়ারিয়া ৯৯’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এধরনের একটি পদযাত্রার কথা মাথায় আসে ওয়াইস খান নামে এক ব্যক্তির। রাজর্ষি চক্রবর্তী ১৯৯৭ সাল থেকে আন্দোলনের সঙ্গে থাকলেও ’৯৯-এর প্রথম বন্ধুত্ব পদযাত্রায় তিনি হাঁটেননি, “কারণ আমি পারিনি। তখন একটা স্কুলে পড়াতাম। একটা দ্বিধা, ভয় কাজ করেছিল। যদি কেউ কিছু বলে। ধীরে ধীরে সেটা কাটিয়ে উঠেছি। আমাদের সময়ে কেউ যদি লেসবিয়ান, গে হত তাহলে সে ভাবত সে একা, তার মতো আর কেউ নেই। বাড়ির লোকেরাও বলত যে অ্যাবনর্মাল ও তার সাইক্রিয়াটিক চিকিৎসা দরকার। এখন সোশ্যাল মিডিয়া, মিডিয়া, হাতে হাতে স্মার্টফোন-এর দৌলতে সবাই সবটা জানে। কেউ আর নিজেকে একা মনে করে না। এত মানুষ এখন ‘কাম আউট’ করতে পারছে। বাড়ির লোকেরাও মেনে নিচ্ছেন কতটা জানি না, কিন্তু অন্তত জানতে পারছেন। কুড়ি বছর আগের থেকে লাগাতার আন্দোলন ও প্রকাশ্যে আসার কারণে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।”

 

এ বছর ২৯ জুন প্রথম জমায়েতটি হয় পার্ক সার্কাস ময়দানে, যেখান থেকে ২০ বছর আগে পদযাত্রা শুরু হয়েছিল, ছিলেন আগেরবারের ১৫ জনের মধ্যে রফিকুল খান দৌউজাহ্‌, পবন ঢাল, সতীশ, আদিত্য, পিটার-এর মতো সাত জন (যাঁরা এসেছিলেন ২০ বছর আগের মতোই একইরকম হলুদ টি-শার্ট পরে) এবং সমকামী, রূপান্তরকামী, উভকামী বহু মানুষ যারা নবীন ও প্রবীন প্রজন্মের প্রতিনিধি। জমায়েতের শুরুতেই উল্লাসধ্বনী উঠল কলকাতার জন্য, যে শহরে প্রথম এরকম বন্ধুত্বপূর্ণ পদযাত্রা হয়েছিল। একদিকে যেমন চলছিল বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তোলা, গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে পোজ দেওয়া, তেমনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষেরা ভাগ করে নিচ্ছিলেন পরস্পরের সঙ্গে নানা অভিজ্ঞতা। সদ্য নিজের যৌন পরিচয়ে প্রকাশ্যে আসা তরুণ যেমন প্রেরণা খুঁজে নিচ্ছিলেন আন্দোলনের পরিচিত মুখের কাছ থেকে। তারই ফাঁকে সেই ২০ বছ আগের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছিলেন সেদিনের বন্ধুরা।

 

এরপর জমায়েত পৌঁছায় রাণুছায়া মঞ্চে। সেখানে রামধনু পতাকা যেন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে শহরের বর্ষার প্রথম কালো আকাশের নীচে। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শুরু হয় ছোট্ট প্রতীকী পদযাত্রা। উচ্ছাস তখন বাঁধভাঙা। কখনও রবীন্দ্রনাথের ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’-এর সুর, কখনও ‘আজাদি’র শ্লোগান, কখনও ‘ছেলেয় ছেলেয় চুমু খেয়েছে/বেশ করেছে বেশ করেছে – মেয়েতে মেয়েতে বিয়ে করেছে/বেশ করেছে করেছে’-র সহর্ষ চিৎকার, কখনও ‘আমার দেহ, আমার মন/দূর হটো রাজশাসন’-এর দৃপ্ত গর্জনে রাস্তা মুখর করে উজ্জ্বল পোশাক, নজরকাড়া প্রসাধন, রামধনু পতাকায় সেই মিছিল তখন যেন কুড়ি বছর আগের শান্ত মিছিলটির যোগ্য উত্তরসূরী।

 

প্রথম বন্ধুত্ব পদযাত্রার সঙ্গী আদিত্য বলছিলেন, “কুড়ি বছর আগের সঙ্গে আজকের পার্থক্য হল সেদিন আমরা মাত্র ১৫ জন ছিলাম আজ অসংখ্য। দৃশ্যমানতা বাড়ার জন্য আমরা চোখে পড়ছি নিয়মিত। প্রথম পদযাত্রাটি ছিল খুবই চুপচাপ ও মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন ও সমমনস্ক সংগঠন ও সরকারী সংস্থার সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি করা আর এখন বিষয়টি হল সারা পৃথিবীকে জানানো যে আমরা আছি। সুতরাং হাঁটার উদ্দেশ্যটা ২০ বছরে অনেক বদলে গেছে। কুড়ি, পঁচিশ বছর আগে ক্যুইয়ার মানুষদের এটা জানাই খুব জরুরি ছিল যে তারা একা নন, তাদের মতো আরও অনেকে আছেন, তারা আলাদাও নন। এখন সেটার আর দরকার নেই। এখন তারা জানেন যে সত্যিই তারা একা নন, আলাদা নন।” নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখনও পরিবার, বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক স্টিগমা-র মুখোমুখি হন, সেগুলি কাটানো যাবে কীভাবে? আদিত্য মনে করেন, “দেখুন ক্যুইয়ার মানুষদের ইনক্লুসিভ ও ধৈর্য্যশীল হতে হবে, তাহলেই সচেতনতা বাড়বে। তুমি যদি সমাজের থেকে কিছু আশা কর, তোমাকে তাহলে নিজে সেটা হতে হবে। আমি সৌভাগ্যক্রমে যখন বড় হয়েছি বাড়িতে, বন্ধুদের মধ্যে, স্কুলে, কলেজে আমাকে মনে করানো হয়নি যে আমি আলাদা। আমি তখনও সমকামী শব্দটা হয়তো জানতাম না, কিন্তু জানতাম যে আমি যা পছন্দ করি তা অন্যদের থেকে আলাদা, কিন্তু সেটা আমাকে আলাদা করে দেয়নি। এই যে মানুষ একে অন্যকে আলাদা ভাবে এই বিভেদটা বন্ধ হওয়া দরকার।” এধরনের আন্দোলনকে এখন তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়া বেশি প্রয়োজন কি না জানতে চাওয়ায় তিনি বললেন যে তার তুলনায় প্রান্তিক যৌন ও লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বৈষম্য শহুরে শিক্ষিত উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিসরে অনেক বেশি। কারণ তৃণমূলস্তরে প্রতিদিনের লড়াইটা যখন জীবিকানির্বাহের হয়, তখন অন্য মানুষটির যৌন বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে ভাবার মতো সময় থাকে না। এটাই সেই স্তরে বিষয়টিকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলে। “অনেক আগে থেকেই গ্রামেগঞ্জে সমাকামীতাকে কোনও লেবেল না দিলেও বিষয়টি সম্পর্কে মানুষ জানতেন। বরং শহরের আধুনিক সমাজে বন্ধ দরজার ভিতরে বিষয়টিকে নিয়ে বৈষম্য করা হয়। যদিও তারা এখন সমকামিতাকে মানতে বাধ্য, কিন্তু অনেকেই এখনও পেছনে কথা বলেন। এটা তখনই দূর হবে যখন এই সমাজের কাছে সার্বিকভাবে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সহাবস্থান বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হবে,” বক্তব্য আদিত্যর।

 

এই পদযাত্রায় হাজির ছিলেন লোক আদালতে বিচারক হিসাবে নিযুক্ত হওয়া দুই রূপান্তরকামী অধিকার আন্দোলন কর্মী জয়ীতা মন্ডল ও সিন্টু বাগুই। অভিভাবক ও সমাজের মধ্যে রূপান্তরকামীতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কী করা উচিত জানতে চাওয়ায় জয়ীতার উত্তর – “দেখুন পোলিও নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে যেমন সরকার বিজ্ঞাপন দিত ও তারজন্যই পোলিও নিয়ে ভয় কেটেছে, তেমনি রূপান্তরকামীতা বিষয়েও সরকারী তরফে বিজ্ঞাপন বানিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমাদের যে অধিকারগুলো রয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা সেগুলোর বিষয়েও প্রচার হওয়া দরকার। নারী-নারী, পুরুষ-পুরুষ সম্পর্কও যে একটা স্বাভাবিক বিষয় তা টিভিতে, কাগজে, হোর্ডিং-এ বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো সম্ভব। এক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। লোক আদালতে বিচারক হওয়ার পর যখন আমি একটি টিভি শো-তে কয়েকজন মহিলা প্রতিযোগীর সঙ্গে অংশ নিলাম তখন থেকেই আমার পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে গেল। সমকামী, রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের বাইরে, বৃহত্তর পরিসরে কথা বলতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলেই সচেতনতা বাড়বে।” সিন্টু মনে করেন পরিবারের কাউন্সেলিং খুব জরুরি, কিন্তু সেটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিজের বাড়ির উদাহরণ দিয়ে বললেন, সকলেই তাঁর রূপান্তরকামী অস্তিত্ব মেনে নিলেও এখনও বিয়ে বা পোশাক নিয়ে মাঝেমধ্যেই ভিন্ন মন্তব্য শুনতেই হয়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “কুড়ি বছরে নিশ্চয়ই আমরা অনেকটা পথ এগিয়েছি। নালসা রায় থেকে ৩৭৭ রদ – পেয়েছি অনেক। কিন্তু সমাজের চিন্তাভাবনা এখনও অনেকটা বদলাতে হবে। তারজন্য শুধু কলকাতার মতো বড় শহরে প্রাইড ওয়াক করলে চলবে না, পৌঁছতে হবে গ্রামগঞ্জ, মফস্বলে, জেলাস্তরে পৌঁছতে হবে। আমরা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছি তাদের কাজেও বাস্তবে অনেক ফাঁক থাকছে, সেটা পূরণ করতে হবে। এতবড় সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেল কিছু দল নির্বাচনী ইস্তেহারে আমাদের কথা বলেছেন, কিন্তু আপ ছাড়া কেউই প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেয়নি। কেন? আজও কোনও হোর্ডিং-এ আমাদের মুখ থাকে না। কেন? এই পদক্ষেপগুলি নিলে, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে আমাদের দৃশ্যমানতা বাড়লেই সমাজ, পরিবার আমাদের সহজে মেনে নেওয়ার মতো সচেতন হবে।”

 

এই মিছিলেই দেখা হয়ে গেল ছ’ বছর সম্পর্কে থাকা সমকামী যুগল অঙ্কিতা দে ও প্রিয়াঙ্কা দত্তর সঙ্গে। দু’জনের পরিবার তাদের সমকামিতার কথা জানলেও কোনওভাবেই স্বীকার করতে রাজি নন। পারিবারিকভাবে দু’জনের কথা বলাও নিষিদ্ধ। লুকিয়ে দেখা ও কথা বলেন। মিছিলেও এসেছেন বাড়িতে না জানিয়ে। একজন কর্মরত, অন্যজন চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বাড়ি, পরিবার ছেড়ে একে অন্যের সঙ্গে থাকবেন স্থির করেছেন। তবে চোখে-মুখের অস্থিরতা বুঝিয়ে দেয় ভবিষ্যতের অশান্তির চিন্তা তাদের ভাবিয়ে তোলে। প্রসেনজিৎ আর অভিজিৎ-এর বাড়িতে আবার সকলেই মেনে নিয়েছেন তাদের সমকামী সম্পর্কের কথা। সম্পর্কের বয়স আট মাস। আপাতত প্রসেনজিৎ, অভিজিৎ-এর সঙ্গে তাঁর বাড়িতেই থাকেন। প্রসেনজিৎ মনে করেন বুঝিয়ে বললে, নিজের যৌন ও লিঙ্গ পরিচয় গোপন না করলে এবং একই সম্প্রদায়ের বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে যাতায়াত বজায় রাখতে পারলে অভিভাবকেরা একটা সময়ে বুঝতে ও মানতে পারেন। তারা এভাবেই এগিয়েছেন। প্রসেনজিৎ চাকরি করেন, অভিজিৎ চাকরির জন্য তৈরি হচ্ছেন। দু’জনেই স্বপ্ন দেখেন নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে একসঙ্গে থাকবেন ও ভবিষ্যতে সন্তান দত্তক নেবেন।

 

উদীত্য বৈদ্য, সোনি সেন, সানি রায়-রা সমকামী, রূপান্তরকামী পরিচয় প্রকাশ করেছেন সমাজে, পরিবারে। কেউ নৃত্যশিল্পী, কেউ পড়ুয়া, কেউ হেয়ার স্টাইলিস্ট। সচেতনতা বাড়াতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের পরিচিতি সামনে নিয়ে আসা ও যেকোনও চ্যালেঞ্জ, প্রতিরোধ বা প্রশ্নের মাথা উঁচু করে মুখোমুখি হওয়াটাই সেরা উপায় বলে মনে করেন তাঁরা। আরও একটি বিষয়ে তাঁরা একমত – নিজেদের যৌন ও লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে সসম্মানে সমাজে বাঁচার জন্য স্বাবলম্বী হওয়া সবচেয়ে জরুরি।

 

কুড়ি বছর আগে যে পথচলা শুরু হয়েছিল দৃশ্যমানতা তৈরির জন্য, আজ কুড়ি বছর পর তার উদ্‌যাপন হল অধিকার বুঝে নেওয়ার তুমুল দাবিতে।

 

লেখক সুদর্শনা চক্রবর্তী সাংবাদিক এবং ডকুমেন্টারি নির্মাতা। ছবির সুত্রঃ লেখক।  

 

Share this
Leave a Comment