রাজ্য প্রশাসনের ভূতের ভয়


  • February 18, 2019
  • (2 Comments)
  • 596 Views

এক চূড়ান্ত অসহিষ্ণু সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা রাজ্য, রাজনীতির ভার যাঁদের হাতে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের সেই সরকারই যদি অসহিষ্ণু হয় , শুধুই সমর্থকদের কথা শোনায় উৎসাহী হয়, তাহলে সন্দেহ নেই যে শিল্পের স্বাধীনতার জন্য লড়াই আরও জোরদার  করার সময় এসেছে লিখছেন সুদর্শনা চক্রবর্তী

 

নজিরবিহীনভাবে একটি সেন্সর সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত সিনেমার প্রদর্শন আটকে দেওয়া হল কলকাতার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে। অনীক দত্ত পরিচালিত ‘ভবিষ্যতের ভূত’ সিনেমাটিকে ঘিরে এই ঘটনা ঘটেছে মাত্রই দিন কয়েক আগে খাস কলকাতায়। বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্স-এ নানা অজুহাতে সিনেমাটি দেখানো হচ্ছে না, যে দর্শকেরা উপস্থিত হচ্ছেন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আগে থেকে টিকিট কাটা থাকলে ফেরত দেওয়া হচ্ছে টিকিটের মূল্য। গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। শনিবার বিকেল থেকেই বন্ধ হতে থাকে প্রদর্শন! কারণ? অজানা।

 

এই ঘটনার সঙ্গে সরকারি নির্দেশ জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে নির্দেশ ছাড়া এভাবে কোনও মুক্তি পাওয়া সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে দেখানো বন্ধ করা সম্ভব নয়। যদিও কোনও লিখিত প্রমাণ রাখা হয়নি। সব নির্দেশই রয়েছে মৌখিক। ফলত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অসুবিধাজনক হতে পারে। তবে সরকারি রোষের মুখে এভাবে সেন্সর পাওয়া সিনেমা বন্ধ করে দেওয়ার উদাহরণ পশ্চিমবঙ্গে, কলকাতায় সাম্প্রতিক সময়ে কমই নজরে এসেছে। দর্শকদের ভালো-মন্দ বোধের বিচারের উপর আস্থা হারিয়ে, সমালোচিত হওয়ার ভয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতায় থাকা দলের এই আচরণ নিয়ে সাড়া পড়েছে দর্শক, শিল্পী মহল, সিনেমা জগতে। শুরু হয়েছে প্রতিবাদ।

 

গণতন্ত্রের কন্ঠরোধের, শিল্পীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের এই ইতিহাস নতুন নয়। কিছুদিন আগেই সারা দেশে ‘পদ্মাবত’ সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ করার জন্য রাজনৈতিক দলের ধর্মান্ধ রোষের যে চেহারা দেখা গেছিল, ‘মণিকর্ণিকা’ মুক্তির আগে প্রদর্শন বন্ধের যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তাই বাস্তবে কার্যকর হতে দেখা গেল ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর ক্ষেত্রে। সরকারি মদতপুষ্ট পুলিশ ও আধিকারিকদের দিয়ে সংগঠিতভাবে সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আশ্চর্য করে দেওয়ার মতো। সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হল সরকারের তরফ থেকে প্রত্যক্ষভাবে কোনও মন্তব্য না করলেও তাদেরই অঙ্গুলিহেলনে যে ঘটনাটি ঘটছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে মুখ্যমন্ত্রী পদ্মাবত বন্ধের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছিলেন তিনি এখন অদ্ভূতভাবে চুপ।

 

রাজ্যের শাসক দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এ রাজ্যের সিনেমা ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় অংশকে বর্তমান সরকারের ঘনিষ্ঠ হতে দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্যের এই ট্র্যাডিশন নতুন না হলেও, বর্তমান সরকারের দুই দফার রাজত্বকালে এই পরিস্থিতি অনেক বেশি প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে। বিশেষত টলিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বা টলিউডের বিভিন্ন পরিচালক, প্রযোজক সংস্হা, অভিনেতাদের সরকারি অনুষ্ঠানের, ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক মঞ্চে যেভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়, তা অতীতে বাস্তবিকই দেখা যেত না।

 

বাম জমানায় বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী শিল্পী, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের শাসক দলের ঘনিষ্ঠ জন হিসাবে দেখা গেলেও, একটা সীমারেখা বজায় ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে ক্ষমতার বৃত্তে নিরাপদে থাকার জন্য, যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য, পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য, আর্থিক দিক থেকে ফুলে-ফেঁপে ওঠার জন্য এর থেকে নিশ্চিন্ত উপায় আর ছিলও না সম্ভবত। বিশেষত মুখ্যমন্ত্রীর বাণিজ্যিক বাংলা চলচ্চিত্র ও তথাকথিত ফিল্মি গ্ল্যামার-এর প্রতি মুগ্ধতা যখন প্রথম থেকেই স্পষ্ট ছিল, তখন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে কেউই ছাড়েননি। এমনকি এক সময়ে চলচ্চিত্র জগতের যারা পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন ও পরবর্তী সময়ে রাজ্যের নব্য শাসক দলের দুর্নীতি ও আরও নানাবিধ কারণে তার পাশ থেকে সরে যান তাঁরাও ধীরে ধীরে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতার স্রোতে গা ভাসান। আর শিবির পরিবর্তন তো শুরু থেকেই অনেকে করে ফেলেছিলেন।

 

টলিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি-র এক বিশেষ প্রযোজক সংস্থার উপর সরকারের স্নেহদৃষ্টির কথা সকলেই জানেন। কীভাবে তারা একচেটিয়াভাবে ব্যবসা করে ও অন্যান্য সংস্থাকে অনেকটাই তাদের উপর নির্ভর করতে হয় তা বুঝতে বিশেষ দক্ষতা লাগে না। সেই প্রযোজনা সংস্থার অন্যতম কর্তা আপাতত সরকারের নাম জড়ানো আর্থিক তছরূপের কান্ডে গ্রেফতার হয়ে আছেন। আর কয়েক মাস পরেই নির্বাচন। এমতাবস্থায় একটি সিনেমায় যা না কি রাজনৈতিক স্যাটায়ার, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি যদি ব্যঙ্গ থাকেও তার প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানো, শিল্পীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় আস্থা রাখার ধৈর্য দেখানো গেল না। সবচেয়ে বড় কথা, সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক দিনের মধ্যে, দর্শক বা পরিবেশকদের তরফ থেকে কোনও অভিযোগ ছাড়াই তা টেকনিকাল সমস্যা ও আরও নানা অপ্রাসঙ্গিক কারণে দেখানো বন্ধ করা হচ্ছে। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতা-নেত্রীরা সম্ভবত জানেনও না, সিনেমাটিতে আসলে কি দেখানো হয়েছে, স্রেফ ভয় ও বিরূদ্ধ স্বর শুনতে না চাওয়ার জায়গা থেকে অগণতান্ত্রিকভাবে প্রদর্শন আটকে দেওয়া হচ্ছে। আর তা করা হচ্ছে মূলত কলকাতা-কেন্দ্রীক হলগুলিতেই।

 

সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হল সিনেমাটি আটকানোর পন্থাটি। সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে মুক্তির আগে পরিচালক ও প্রযোজকের কাছে সিনেমাটি দেখতে চাওয়া হয়, এই কথার ভিত্তিতে যে তাতে রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য থাকতে পারে। অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গতভাবে পরিচালক, প্রযোজক সেন্সরপ্রাপ্ত সিনেমার এভাবে ব্যক্তিগত প্রদর্শন সম্ভব ও উচিত নয় জানিয়ে, এই প্রস্তাবে অসম্মত হন। তারপরেই রাজনৈতিক উপরতলার মৌখিক নির্দেশ যেতে থাকে হল মালিকদের কাছে সিনেমাটি না দেখানোর জন্য, সাদা পোশাকের আধিকারিকেরা হল থেকে দর্শকদের ফিরিয়ে দিতে থাকেন। এভাবেই এক গণতান্ত্রিক দেশে সিনেমার মতো একটি মাধ্যমের টুঁটি চিপে ধরা হল অনৈতিকভাবে।

 

বর্ষীয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্তকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করায় জানালেন, “যা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই বিষয়ে সকলের মুখ খোলা উচিত। যে ছবি সেন্সরড, যে ছবি রিলিজ করে গেছে তা এভাবে আটকানো যায় না। এই গোটা বিষয়টার মধ্যে পুলিশ আসে কোথা থেকে। পুলিশ এই সাহস পায় কোথা থেকে? রাজ্য সরকার সরাসরি কিছু বলছে না। কিন্তু এই পুলিশ কার? এ তো গণতন্ত্রের উপরেই আঘাত। অবশ্যই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে যাওয়া উচিত। আমরা এই রাজ্যে এমন একটা ভয়ংকর সময়ে এখন রয়েছি যেখানে কোনও শিল্পী, মিডিয়া কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। নিশ্চিতভাবে আমাদের সকলের প্রতিবাদ করা উচিত। অবিলম্বে মিছিল বের করা উচিত।”

 

অভিনেতা কৌশিক সেন, যিনি ভবিষ্যতের ভূত-এ অভিনয়ও করেছেন জানালেন, “আমরা যাঁরা কোনওভাবে সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত তাঁরা প্রত্যেকেই পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত। সেন্সর-এর ছাড়পত্র পাওয়া একটি সিনেমা কীভাবে এরকম করে আটকাতে পারে? খুব সূক্ষ্মভাবে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও প্রযোজক এরকম কাজে বিনিয়োগ করতে দু’বার ভাবেন। কিন্তু তা বলে কাজ আটকে থাকবে না। আমাদের কাজ চলতে থাকবে। পলিটিকাল সিনেমা, থিয়েটার বানানো চলবেই। এভাবে সিনেমা দেখানো আটকাতে পারবে না। সেরকম হলে, আমরা অনীকদাকে বলব সিনেমাটি নেটফ্লিক্স বা এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম-এ দিয়ে দিতে।”

 

ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও মানুষ এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। পরিচালক মৃণাল সেন-এর পুত্র কুনাল সেন এই ঘটনার সমালোচনায় এক দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। যেখানে জরুরি অবস্থার সময়ে মৃণাল সেন পরিচালিত ‘কোরাস’ সিনেমাটি দূরদর্শনে দেখানোর সময়ে কীভাবে তাঁকেও বাধার মুখে পড়তে হয় ও কীভাবে তিনি তার বিরূদ্ধে দাঁড়িয়ে নিয়ম অনুযায়ী দূরদর্শনে সিনেমাটি দেখান সেই বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম সোসাইটি তাদের ফেসবুক পেজ-এ জানিয়েছে –“সাম্প্রতিক ঘটনায় রাজ্যের রাজনীতিকদের সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিবেশক এবং প্রদর্শকদের আঁতাতের জায়গাটি নগ্নভাবে প্রকাশ্যে এসে পড়লো। স্বাধীনভাবে চলচ্চিত্রচর্চা এবং বিকল্প পরিবেশনার পথ প্রস্তুত করার প্রয়োজনীয়তা ঠিক এই কারণেই।” কলকাতার মেট্রো চ্যানেল-এ গত রবিবার এক প্রতিবাদ সভা হয়, যেখানে পরিচালক অনীক দত্ত-ও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন পোস্টারে উঠে আসে ক্রমশ তামাশায় পরিণত হওয়া ক্ষমতাসীন দলের সর্বেসর্বা নেত্রীর অনুপ্রেরণাঋদ্ধ বাংলা সিনেমা, শিল্পের হতাশাজনক চেহারা। একজোট হন অনেক বিরূদ্ধ স্বর ও প্রতিবাদী শিল্পী মানুষেরা।

গত রবিবার কলকাতার মেট্রো চ্যানেল-এ এক প্রতিবাদ সভা /pic courtsey facebook

 

যাঁর সিনেমা ঘিরে এই ঘটনা পরিচালক অনীক দত্ত’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি যা বললেন-

 

প্র: মূলত শহর কলকাতা কেন্দ্রীক প্রেক্ষাগৃহ, মাল্টিপ্লেক্স-এ সিনেমাটির প্রদর্শন বন্ধ করা হচ্ছে? ছোট শহর বা অন্য জেলায় ততটা নয়। এর কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন?

উঃ দেখুন, এই ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করেনি। যদি ঘটনাক্রম দেখে ধরে নেওয়া হয় যে, রাজনৈতিক ক্ষমতার উপরতলার লোকেদের নির্দেশে এগুলি ঘটছে তাহলে বলতে হবে যে, ওনারা যেখানে মনে করেছেন দর্শক প্রভাবিত হতে পারেন, সেখানে প্রদর্শন আটকেছেন। যেমন বারাসাতের একটি হল-এ সিনেমাটি চলছিল, সেখানে অনেক মানুষ গিয়ে সিনেমাটি দেখেছেন গতকাল। ফলত এরপর সেখানেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী জানালেন তিনি সোদপুরে সিনেমাটি দেখেছেন ও কোনও সমস্যা হয়নি। যদিও কোনও কোনও জেলা থেকে খবর আসছে সিনেমাটি দেখাতে না দেওয়ার। আসলে এই যে ‘উপরতলা’র কথা বলা হচ্ছে, তারা হয়তো ভাবছেন কোথাকার দর্শক সিনেমাটি বুঝবেন, কারা বুঝবেন না…।

 

প্রঃ আপনারা কি আইনি পথে এগোচ্ছেন।

উঃ হ্যাঁ। আমি মানে আমার প্রযোজক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এটা তো একটা লম্বা বিষয়। শুরু হয়ে গেছে।

 

প্রঃ টলিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটা বড় অংশ এই বিষয়ে নিশ্চুপ। কিছু বলবেন তা নিয়ে?

উঃ না, কিছু বলব না। কারণ এটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। এটাও তো ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রশ্ন। তাঁরা যদি ভেবে থাকেন সহমত নন, তা তাঁরা ভাবতেই পারেন। আমার কিছু বলার নেই। আমার কোনও ক্ষোভ, অভিযোগও নেই। আমি নিজে থেকে কাওকে ফোন বা কারওর সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। তবে অনেক মানুষ, অনেক সিনিয়র মানুষ নিজে থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, বক্তব্য রেখেছেন, বিদেশ থেকেও যোগাযোগ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন আমার ছবিটিকে উপলক্ষ করে একটি বৃহত্তর প্রেক্ষিতকে টার্গেট করা হচ্ছে।

 

এক চূড়ান্ত অসহিষ্ণু সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা। রাজ্য, রাজনীতির ভার যাঁদের হাতে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের সেই সরকারই যদি অসহিষ্ণু হয় ও দাবিয়ে রাখায়, শুধুই সমর্থকদের কথা শোনায় উৎসাহী হয়, তাহলে সন্দেহ নেই যে শিল্পের স্বাধীনতার জন্য লড়াই আরও জোরদার হওয়ার সময় এসেছে। পূর্বতন সরকারের আমলেও অন্য রাজ্য বা ভিন্‌ দেশের সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ করা, নিজের রাজ্যের সিনেমা, নাটক বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। সমস্যা হল, রাজ্যের যাঁদের সঙ্গে এগুলি ঘটেছিল, তাঁরাই এখন শাসক দলের মন্ত্রী, ঘনিষ্ঠ জন। ফলত, সেই ট্র্যাডিশন তাঁরাও বজায় রাখলেন। ভূত, ভবিষ্যত, বর্তমানের সামনে তাই প্রতিবাদ ছাড়া আর পথ রইল না।

 

লেখক সাংবাদিক এবং ডকুমেন্টারি নির্মাতা।

Share this
Recent Comments
2
  • comments
    By: Shubhankar Mazumdar on February 19, 2019

    স্বাধীন শিল্পচর্চা এবং শিল্পী স্বাধীনতা সমাজ ও সরকার কে আয়না দেখায়। তাদের কর্তব্য পালন করতে বাধ্য করে। এই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ মানে সমাজ ও সরকার কে অপমান করা। এই প্রবৃত্তি একবার শুরু হয়ে গেলে, সুদূর ভবিষ্যতে এই সমাজের জন্য অমঙ্গল। তাই এর প্রতিবাদ জানিয়ে, সরকারের সুবুদ্ধির কামনা করি।

  • comments
    By: santosh banerjee on February 19, 2019

    Ugly face of fascist power!Let us fight this on the street! Our weapons are theatre,songs,cinemas.

Leave a Comment