সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের শিকার ভেনেজুয়েলা


  • February 3, 2019
  • (0 Comments)
  • 333 Views

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সদ্যপ্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আগ্রাসন লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্র পাল্টে ফেলার পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ মাত্রভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের পরবর্তী টার্গেট কিউবাকিউবার উপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা চালাচ্ছে ট্রাম্প সরকার এবং কিউবাকে “আতঙ্কবাদী রাষ্ট্র” ঘোষণা করার পরিকল্পনাও প্রায় শেষকিউবার পর নিশানা নিকারাগুয়া, দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালেরগত নভেম্বরে ভেনেজুয়েলা-কিউবা-নিকারাগুয়াকে “অত্যাচারী ত্রিকোণ (Troika of Tyranny)” বলেছিলেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা আধিকারিক  জন বোল্টনগত সপ্তাহে আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশের মাটিতে আমেরিকার নাক গলানো পছন্দ করে না, “পশ্চিম গোলার্ধ বাদে”ভেনেজুয়েলার বর্তমান সঙ্কটের প্রেক্ষিতে পিছনে ফিরে তাকানো যাক আমেরিকান মহাদেশে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাসের দিকে। একটি গ্রাউন্ডজিরো প্রতিবেদন। 

 

ভেনেজুয়েলার মাদুরো-বিরোধী দক্ষিণপন্থী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার ন্যায্য ‘প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করে আমেরিকান সরকার। আমেরিকান ব্যাঙ্ক-এ ভেনেজুয়েলা সরকারের সমস্ত অ্যাকাউন্ট-এর কর্তৃত্ব গুয়াইদোকে হস্তান্তর করা হয়, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় ভেনেজুয়েলার সরকারি তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-র উপর। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন হলে বর্তমান মাদুরো সরকারকে উৎখাত করে গুয়াইদোকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট করার জন্য আমেরিকা যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত বলে দাবি করে। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি আমেরিকার বাজারে তেল রফতানির উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরকারি পিডিভিএসএ-র ক্ষেত্রেই জারি করা হয়েছে। অন্যান্য আমেরিকান প্রাইভেট তেল কোম্পানি, যেমন শেভ্রন বা হ্যালিবারটন-এর উপর ভেনেজুয়েলার সাথে তেল বেচাকেনা নিয়ে কোনো নিষেধ নেই। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আমেরিকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ভেনেজুয়েলার মাদুরো-বিরোধী নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেন। একই দিনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে লেখা একটি টুইটে বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার আমার দেশকে লাতিন আমেরিকার ভিয়েতনাম করে তোলার চেষ্টা করছে। আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি এই চক্রান্তের বিরোধিতা করার।”

 

 

মাইক পেন্স এবং গুয়াইদোর লোকজনের মিটিংটিতে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের সদ্য নিযুক্ত “স্পেশাল এনভয় টু ভেনেজুয়েলা” এলিওট এব্রামস। এব্রামস আমেরিকান রাষ্ট্রযন্ত্রের পুরনো দক্ষিণপন্থী যন্ত্রী। ১৯৯১ সালে এব্রামস আমেরিকান সংসদে মিথ্যা বয়ান দেওয়ার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হন। তারপর অবশ্য জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ এব্রামসকে “ক্ষমা” করায় তাকে সেই শাস্তিভোগ করতে হয়নি। ভেনেজুয়েলায় ২০০২ সালের হুগো শাভেজ বিরোধী (ব্যর্থ) ক্যু-এর পিছনেও ছিল এব্রামস। “ট্রাম্পের লোক” বলে উড়িয়ে না দিয়ে এলিওট এব্রামস-এর তিন দশকের ইতিহাসের দিকে তাকালে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায় আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের ছবি।

 

ট্রাম্পের নিজস্ব যুদ্ধ

 

বিশেষজ্ঞ সাংবাদিকদের মতে স্পেশাল এনভয় হিসেবে এলিওট এব্রামস-এর চয়ন সবথেকে বড়ো প্রমাণ যে বর্তমান ভেনেজুয়েলায় প্রয়োজনে সশস্ত্র আক্রমণ করতে পিছপা হবে না আমেরিকান সরকার। প্রাথমিক চেষ্টা হবে “কোভার্ট অপারেশান”, যেমন একটি দ্রুত গোপন ক্যু। সিআইএ-র প্রধান মার্ক পম্পেও নিজেই যুদ্ধব্যবসায়ীদের একটি মিটিঙে প্রকাশ্যে বলেন,  প্রয়োজন হলে প্রতিবেশী কলম্বিয়ার বন্ধু সরকারের সাহায্য নিয়ে  ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকারকে সরানো হবে। গত পরশু (তারিখ দিন) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ফাঁস করে যে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করার আগে মাইক পেন্সের সাথে টেলিফোনে আলোচনা হয় হুয়ান গুয়াইদোর। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন “প্রোৎসাহ” দেওয়া শুরু হয়েছে মাদুরোর দিক ছেড়ে আমেরিকার দিকে দলবদল করার জন্য। কিন্তু এই পদ্ধতি যদি কাজ না করে, তাহলে আমেরিকান সরকার সশস্ত্র আক্রমণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালের প্রচারপর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরাকের প্রসঙ্গে বলেছিল, “টু দ্য ভিক্টর বিলং দ্য স্পয়েলস।” প্রাগৈতিহাসিক যুদ্ধনীতির মতো শুনতে এই কথাটার অর্থ যুদ্ধে যে জিতবে, সমস্ত সম্পদ তার। বিশেষত ইরাকের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বক্তব্য, যখন এত কাঠখড় পুড়িয়ে ইরাক আক্রমণ করাই হল, তখন আমেরিকার উচিত ইরাকের তেলের উৎপাদন নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা। অর্থাৎ ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জেতার অর্থ ভেনেজুয়েলার তেলের উপর অধিকার কায়েম করা। আরব দুনিয়ার নয়, ভেনেজুয়েলার মাটির তলায় আছে পৃথিবীর বৃহত্তম পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভ। যদিও “আমেরিকার যুদ্ধ এবং বিদেশনীতির মূল ফ্যাক্টর তেলের খনির দখলের প্রশ্ন” – এই আপ্তবাক্য অনেক ক্ষেত্রেই ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, কিন্তু ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে সত্যিই তেলের খনির কব্জা এই যুদ্ধের পিছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কাজেই প্রয়োজনে যে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, একথা ট্রাম্প প্রথম থেকেই বলে এসেছে। এছাড়াও, এই মুহূর্তে দেশের অন্দরে বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে উঠতে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এই মুহূর্তে হারানো রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতে একটা নিজস্ব যুদ্ধর প্রয়োজন।  আমেরিকান ইতিহাসবিদদের মধ্যে একটা কথা চালু আছে: “নিজস্ব একটা যুদ্ধ ছাড়া কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ‘মহান প্রেসিডেন্ট’ হতে পারেন না”। এতদিন ধরে ট্রাম্পকে ওবামা এবং বুশের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়েছে। এখন ট্রাম্পের নিজের নতুন একটা যুদ্ধের প্রয়োজন। গ্রেনাডা ও পানামার মতো সফল এবং দ্রুতগতি (কয়েক সপ্তাহের) মার্কিনি আক্রমণের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অর্থনৈতিক আধিপত্য কায়েম করতে পারলে বর্তমান ‘ট্রাম্প বিরোধী’ রাজনীতিক বা সংবাদমাধ্যমের অনেকাংশই (যেমন সিএনএন বা এমএসএনবিসি) ট্রাম্পের গুণগান করতে শুরু করবে, এবং জনমতের একাংশও যে তার ফলে ট্রাম্পের দিকে ফিরে আসবে, সেটা ডোনাল্ড ট্রাম্প জানেন। এমনিতেই ক্ষমতায় আসার পরে ট্রাম্প সিআইএ, পেন্টাগন ইত্যাদিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে রেখেছে যে যুদ্ধের অছিলায় অসামরিক সাধারণ মানুষের উপর শক্তিপ্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনোরকম চিন্তা করার প্রয়োজন নেই, কোনোরকম যুদ্ধনীতি, জেনিভা কনভেনশান, মানবাধিকার ইত্যাদির বালাই রাখার দরকার নেই, আইনি দিক থেকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আফগানিস্তানে “মাদার অফ অল বম্বস” নিক্ষেপ করে অসংখ্য সাধারণ নিরস্ত্র মানুষ খুন করে ট্রাম্পের আস্ফালন ও বিজয়োল্লাসের মাধ্যমেই পরিষ্কার হয়ে গেছিল যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি এবং আইন, যেটুকুও এতদিন চক্ষুলজ্জার খাতিরে খাতায় কলমে ছিল, সে সব বাধ্যবাধকতাও এখন থেকে আর নেই। ধ্বংসক্ষমতার নিরিখে পরমাণু বোমার পরেই এই “মাদার অফ অল বম্বস”। কাজেই ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরকার পরিবর্তন করে বেরিয়ে আসা – এইরকম কিছুই ট্রাম্প-এর স্বপ্ন।

 

শাভেজের ভেনেজুয়েলা, মাদুরোর ভেনেজুয়েলা

 

অবশ্য আক্রমণ করার স্বপ্ন দেখা এবং সফলভাবে এই ধরনের আগ্রাসন পরিচালনা করে সত্যি সত্যি যুদ্ধ জেতা – এর মধ্যে বিস্তর ফারাক। কারণ ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে লড়বেন। যদি সেনাবাহিনীর একাংশ আমেরিকার পক্ষও নেয়, তাহলেও এই ধরনের আক্রমণকে মানুষের প্রতিরোধ ভেঙে এগোতে হবে। আবার এটাও সত্যি যে ভেনেজুয়েলার আজকের পরিস্থিতি বলিভারীয় সংগ্রামের সময়কার থেকে অনেক আলাদা। এটা মাথায় রাখতে হবে যে ভেনেজুয়েলার বলিভারীয় সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা আমেরিকা প্রথম থেকেই করে চলেছে। এবং “মাদুরো সরকার অগণতান্ত্রিক” বলে আমেরিকান প্রশাসন বা জনমত যতই চিৎকার করুক, এনিয়ে কোনো সন্দেহ থাকতে পারে না যে ‘গণতন্ত্র’ বা মানুষের বাঁচা মরা নিয়ে আমেরিকান প্রশাসনের কিচ্ছু আসে যায় না। তাই যদি হত তাহলে নিজেদের প্রশাসনের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পুলিশি জুলুমের ভারে ক্রমশ ভাঙতে থাকা ভেনেজুয়েলা সমাজের যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটার টুঁটি চেপে ধরত না মার্কিন প্রশাসন। এই কিছুদিন আগেও গুয়াইদোর সঙ্গে মিলে আমেরিকান সরকার ভেনেজুয়েলাকে তার নিজের সঞ্চিত ১.২ বিলিয়ন ডলার অর্থমূল্যের সোনা ব্যবহার করা থেকে বঞ্চিত করে। এই সোনা লন্ডনের একটি ব্যাঙ্কে রাখা আছে এবং আমেরিকান সরকারের এই হস্তক্ষেপের ফল হচ্ছে ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ ইত্যাদির সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এবং শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, এই কিছুদিন আগেও আমেরিকান সরকার হন্ডুরাসের স্বৈরাচারী রাষ্ট্রনেতা হেরনান্দেস কে স্বীকৃতি দেয়। সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে নিজেকে দ্বিতীয়বার ‘নির্বাচিত’ করার প্রক্রিয়ায় হেরনান্দেসকে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে আমেরিকান উপরাষ্ট্রপতি মাইক পেন্স। ২০০২-এ ভেনেজুয়েলার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত বলিভারীয় নেতা হুগো শাভেজকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য মিলিটারি ক্যু-এর চেষ্টা করে আমেরিকান প্রশাসন। তখনো বলা হয় “শাভেজের নির্বাচন অগণতান্ত্রিক”। অথচ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্ট অনুযায়ী ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন প্রক্রিয়া যথেষ্ট গণতান্ত্রিক এবং আইনি ভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল, কোনো রিগিং হয়নি। শাভেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলায় খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি, খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার উন্নতি, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি – এই সমস্ত কিছু অস্বীকার করে, বরং বলা ভালো হয়তো এইসব কিছুর কারণেই – ২০০২ সালে হুগো শাভেজকে সরাবার চক্রান্ত করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। কিছুদিনের জন্য শাভেজকে ক্ষমতাচ্যুত করলেও সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের ফলে এবং সেনাবাহিনীর শাভেজের পক্ষ নেওয়ায় শাভেজ প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসেন। শুধু আমেরিকান ক্যু নয়, ভেনেজুয়েলার মানুষকে সেই সময় সরাসরি লড়তে হয়েছিল পুঁজিবাদ এবং স্বদেশী ধনিক শ্রেণির বিরুদ্ধেও। ব্যর্থ ক্যু-এর পর শাভেজ ক্ষমতায় ফিরে এলে ভেনেজুয়েলার ধনিকশ্রেণি এবং তার গোষ্ঠীতন্ত্র (Oligarchy) বস্তুত ‘পুঁজির হরতাল’ করে। নিজেদের সমস্ত ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় তারা, এবং প্রায় রাতারাতি দেশটার জিডিপি-র ২৭% উধাও হয়ে যায়। কিন্তু এই ‘অর্থনৈতিক ক্যু’ দিয়েও শেষমেশ তারা শাভেজকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারেনি। সাধারণ খেটে খাওয়া ভেনেজুয়েলার মানুষের কাছে সাময়িকভাবে হলেও হেরে যায় পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ। কিন্তু আজকের ভেনেজুয়েলা শাভেজের ভেনেজুয়েলার থেকে আলাদা।

 

গ্রাফিতিতে শাভেজ। ছবির সূত্র – https://www.greenleft.org.au/

 

শাভেজ-এর পক্ষে যে ধরনের জনমত ছিল, তাঁর উত্তরাধিকারী নিকোলাস মাদুরোর গ্রহণযোগ্যতা তার ধারেকাছেও নয়। মাদুরোর সরকার গোটা দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী ক্রিয়াকলাপের যুক্তি দেখিয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত সরকারি নীতি, আকাশ ছোঁওয়া দুর্নীতি এবং এসবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা মানুষদের উপর পুলিশ ও সেনা লেলিয়ে দিয়ে অকথ্য অত্যাচার – বছরের পর বছর এসব চালিয়ে বর্তমানে মাদুরো সরকারের পক্ষে জনমত তলানিতে এসে ঠেকেছে। বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলায় ‘বিরোধী পক্ষ’ বলতে ছিল বস্তুত সেদেশের দক্ষিণপন্থী ধনিক শ্রেণি, তাদের গোষ্ঠীতন্ত্র, বড় ব্যবসাদার, এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশ। কিন্তু আজকের ভেনেজুয়েলায় ‘বিরোধী পক্ষে’ সামিল হয়েছেন সে দেশের খেটে খাওয়া গরিব মানুষজনের একটা বড় অংশ। যার অর্থ, মাদুরো সরকার সত্যিই দেশ্যের মধ্যে কোণঠাসা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এবং আমেরিকান মেইনস্ট্রিম মিডিয়া যতই “ভেনেজুয়েলার গরিব মানুষও মাদুরোর বিপক্ষে” বলে আস্ফালন করুক, এমনটা ভাবার একেবারেই কোনো কারণ নেই যে আমেরিকা সমর্থিত গুয়াইদো সরকার সেদেশের গরিব মানুষের সরকার হয়ে উঠবে, বা হতে চায়। এমন কোনো সরকারের কোনো মানবিক নীতিই আমেরিকা মেনে নেবে না। আমেরিকার দরকার দক্ষিণপন্থী ধনিক শ্রেণির সরকার, যা ওয়াশিংটনের অঙ্গুলিহেলনে চলবে। এমনটা মনে করার কী কারণ? এখানেই দেখা দরকার লাতিন এবং মধ্য আমেরিকায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস। এখানেই বার বার ফিরে আসতে থাকে এলিওট এব্রামস-এর নাম।

 

এলিওট এব্রামস এবং আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস

 

রোনাল্ড রেগান প্রশাসনের মধ্য আমেরিকান ‘বিদেশনীতি’র “কি ম্যান” ছিল এলিওট এব্রামস। গুয়াতেমালার নৃশংস গণহত্যার প্রধান কারিগর ছিল এই এব্রামস। এল সালভাদোরে আমেরিকার মদত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এল সালভাদোরিয়ান সেনার “ডেথ স্কোয়াড” একের পর এক গণহত্যা চালায়। অসংখ্য মানুষের হত্যার নেপথ্যে এব্রামস। কুখ্যাত “কন্ট্রা ফোর্স”-এর মাধ্যমে নিকারাগুয়ায় আমেরিকান আক্রমণের ‘কি ম্যান’-ও এই এলিওট এব্রামস। “সফট টার্গেটস”-এর নামে নিকারাগুয়ার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, তাঁদের গড়ে তোলা কোঅপারেটিভ গুলোর অপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মার্কিন সরকার। এর পরে আবার এব্রামস ফিরে আসে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর সদস্য হিসেবে। ২০০৬ সালের আমেরিকার মদতে গাজায় ইজরায়েলি আক্রমণ চালানোর “কি ম্যান” আবার সেই এব্রামস। গাজার নির্বাচনে হামাসের জয় মেনে নিতে পারেনি আমেরিকা, তাই পাশবিক আক্রমণ দেগে গাজার মানুষকে মেনে নিতে বাধ্য করা হল মহম্মদ দাহলান-এর ফাতাহ সরকারকে। গুয়াতেমালার ক্ষেত্রে গুয়াতেমালীয় সেনাবাহিনীকে অস্ত্র, টাকাপয়সা, ইন্টেলিজেন্স এবং রাজনৈতিক সমর্থন সরবরাহ করে গেছে এব্রামস এবং রেগান সরকার। এরই মদতে উত্তর পশ্চিম গুয়াতেমালার মায়া জনজাতির উপর হামলা করে গুয়াতেমালার সেনাবাহিনী। নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয় কম করে ৬৬২টি গ্রাম, আমেরিকান ব্যাঙ্কের টাকায় ‘কফি ক্যাপিটালিজম’ কায়েম করতে শিশুদের মাথা কেটে নেওয়া হয়, ক্রুশবিদ্ধ করা হয় বহু মানুষকে। আজকের দিনে এই ধরণের যুদ্ধবিবরণ শুনলে লোকে ভাবেন আইসিস। ১৯৮৫ সালে “রিলেটিভস অফ দ্য ডিসাপিয়ারড”-এর এক রাজনৈতিক কর্মী, রোজারিও-কে অপহরণ করে গুয়াতেমালীয় সেনা এবং তাঁকে ধর্ষণ করে। রোজারিওর ক্ষতবিক্ষত শরীর পাওয়া যায় রাস্তার ধারে, পাশে তাঁর শিশুসন্তানের দেহ। শিশুটির আঙুলের নখগুলি উপড়ে নেওয়া হয়েছিল। গুয়াতেমালীয় আর্মি বলে, “পথ দুর্ঘটনায় মারা গেছে রোজারিও।” এলিওট এব্রামস-এরও বক্তব্য ছিল এক – “পথ দুর্ঘটনা”। গত সেপ্টেম্বর মাসে গুয়াতেমালার কোর্ট শেষ পর্যন্ত রায় দেয় যে মায়া জনজাতির উপর গুয়াতেমালীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণ আসলে ছিল গণহত্যা। উল্লেখনীয়, কোর্টের রায়ে এও বলা হয় যে এই গণহত্যা সংগঠিত করা হয় আমেরিকান প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদত এবং ইচ্ছার ভিত্তিতে।

 

পানামা যখন সিআইএ সমর্থিত ডিক্টেটর এবং ড্রাগ লর্ড নরডিয়েগা পানামানিয়ান স্বৈরতন্ত্র বিরোধী এক্টিভিস্ট হুগো স্পাদাফোরাকে অপহরণ করে ছুরি দিয়ে তাঁর মাথা কেটে নেয়, তখন এব্রামস ওয়াশিংটনে নরডিয়েগার উপর তদন্ত করতে বাধা দেয়, এবং বলে, “নরডিয়েগাকে আমাদের দরকার। নরডিয়েগা আমাদের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে।” এল সালভাদোর, এল মোযোতে আমেরিকান ট্রেনিং প্রাপ্ত সালভাদোরীয় সেনার একটি ব্যাটালিয়ন অন্ততপক্ষে ৫০০ সাধারণ নিরস্ত্র মানুষকে খুন করে। গলা কেটে হত্যা করা হয় শিশুদের। সালভাদোর ‘ট্রুথ কমিশন’-এর নিজের তদন্তেও ধরা পড়ে এল মোযোতে গণহত্যায় অন্তত ৮৫% সন্ত্রাসের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী সেনাবাহিনী এবং তাদের ‘ডেথ স্কোয়াডস’। সালভাদোরীয় সেনার ‘ডেথ স্কোয়াড’গুলির হত্যাকাণ্ডের একটি নৃশংস পদ্ধতি ছিল মৃত ব্যক্তির যৌন অঙ্গ কেটে তার মুখের মধ্যে পুরে দিয়ে রাস্তার ধারে সার দিয়ে মৃতদেহ ফেলে রাখা, নৃশংসতার প্রদর্শনী হিসেবে। অথচ এলিওট এব্রামস যে গণহত্যার কথা শুধু অস্বীকার করে তাই নয়, এল সালভাদোরে তার এবং রেগান প্রশাসনের নীতির ‘সাফল্যের’ কৃতিত্ব পর্যন্ত দাবি করে। ১৯৯৫ সালে বিখ্যাত সাংবাদিক আলান নায়ার্ন যখন পিবিএস চ্যানেলে একটি ডিবেটে সরাসরি এব্রামসের কুকীর্তির ফিরিস্তি দিয়ে দাবি করেন যে তার এবং তার মতো আর সকলের যুদ্ধ অপরাধের জন্য ন্যুরেমবার্গ রীতিতে বিচার হওয়া উচিত, এব্রামস অট্টহাসি হেসে নায়ার্নের দাবি উড়িয়ে দিলেও তাঁর দেওয়া যুদ্ধ অপরাধের তালিকাকে খণ্ডন করার চেষ্টাও করেনি। “কোল্ড ওয়ার”-এর প্রেক্ষিতে এইজাতীয় ‘পদক্ষেপ’ প্রয়োজন ছিল” – মূলত এই ছিল এব্রামসের ‘যুক্তি’। একদিকে যখন মধ্যও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আমেরিকার তৈরি ডেথ স্কোয়াডস হিংস্র আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে গরিব খেটেখাওয়া অসহায় মানুষের উপর, এব্রামস তখন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ‘ডিবেটে’ গিয়ে এইসব গণহত্যার সমর্থনে গলাবাজি করত। এল সালভাদোরের গণহত্যা চলাকালীন এরকম একটি টিভি বিতর্কে ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টি’র প্রতিনিধিকে এব্রামস প্রশ্ন করে, “এল সালভাদোরকে যদি কম্যুনিস্ট হয়ে যাওয়া থেকে রুখতে হয় তাহলে প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তেকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে হবে। এবং সেটা তখনই সম্ভব যখন দুয়ার্তের সেনাবাহিনীকে সমস্ত রকম আমেরিকান সাহায্য দেওয়া যাবে। সালভাদোরীয় সেনাকে মদত বন্ধ করার নামে ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টি কি তাহলে বলছে যে এল সালভাদোর কম্যুনিস্ট হয়ে যাক?” স্বভাবতই ডেমোক্র‍্যাটিক পার্টি’র মুখপাত্রটির কাছে এর কোনো জবাব ছিলনা, আজও নেই। কারণ পার্টি নির্বিশেষে আমেরিকান রাষ্ট্রশক্তি একটি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রশক্তি, এবং এর মূল ঐতিহাসিক প্রতিপক্ষ হল যে কোনো রকম বামপন্থী বা গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাজনীতি। আমেরিকা মহাদেশ ‘সোভিয়েত’ হয়ে যেতে পারে, এই জুজু দেখিয়ে একের পর এক নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে মার্কিনি রাষ্ট্র। আসলে প্রশ্ন ছিল (এবং আছে) এই সমস্ত দেশগুলির স্থানীয় ধনিকশ্রেণির বাণিজ্যিক স্বার্থ। যে ধনিকশ্রেণি এইসব দেশগুলির গরিব কৃষক এবং শ্রমিকশ্রেণির কোটি কোটি মানুষকে প্রতিনিয়ত ঠেলে দিয়েছে নিরন্ন, নৃশংস মৃত্যুর দিকে। যেসব মানুষ এই ধনিকশ্রেণি এবং তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন, তাঁদের অপহরণ করে, খুন করে, তাঁদের উপর ডেথ স্কোয়াড লেলিয়ে দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয় সমস্ত গণতান্ত্রিক সংগ্রাম সালভাদোরীয় ডেথ স্কোয়াডের ‘স্রষ্টা’ জেনারেল মেদ্রানোকে হোয়াইট হাউস থেকে রুপোর মেডেল দেওয়া হয় তার “একসেপশ্যনালি মেরিটোরিয়াস সার্ভিস”-এর জন্য।

 

অবশ্য এব্রামসকে যে একেবারেই কোনো বিচারের সম্মুখীন হতে হয়নি তা নয়। ১৯৯১ সালে এব্রামস আমেরিকান সংসদে মিথ্যা বয়ান দেওয়ার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হয়। ‘মিথ্যা বয়ান’ মানে নিকারাগুয়ায় ‘কন্ট্রা ডেথ স্কোয়াড’-এর একটি অপারেশনে আমেরিকান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এব্রামস মিথ্যে বলেছিল যে, “অমুক অপারেশনে আমাদের কোনো হাত ছিল না।” পরে জানা যায় যে এব্রামস সেই অপারেশনে জড়িত ছিল। শুধু তাই নয়, সেই সময় জনরোষের ফলে আমেরিকান সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল যে নিকারাগুয়ায় মার্কিন সরকার সেনাসংক্রান্ত বিষয়ে টাকা ঢালবে না। কিন্তু রেগান প্রশাসন এবং এব্রামস নিকারাগুয়ান ডেথ স্কোয়াডের পিছনে গোপনে টাকা ঢালতে থাকে। এবং পরে এও জানা যায় যে এই গোপন অর্থসাহায্য  জোগাড় করা হয় ইরান থেকে, বিভিন্ন জটিল বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে। রেগান সরকারের টাকার জোরে ‘কন্ট্রা’ ডেথ স্কোয়াডগুলি সফলভাবে নিকারাগুয়ার সান্দানিস্তা সরকারের অন্তত সাময়িক পতন ঘটাতে সক্ষম হয়। কিন্তু মূল বক্তব্য এই যে, আমেরিকান সংসদে কোনো একটি নির্দিষ্ট ‘কন্ট্রা অপারেশন’-এ টাকা জোগান দেওয়া নিয়ে এব্রামসের ‘মিথ্যা বয়ান’ – গোটা ‘ডেথ স্কোয়াড’ পদ্ধতি, বিভিন্ন স্বতন্ত্র দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে বন্দুকের জোরে উপড়ে ফেলা, এবং গোটা মধ্য ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিনি সাম্রাজ্যবাদ এবং তার নৃশংসতার নিরিখে নিতান্তই তুচ্ছ একটি অপরাধ। টাকার ‘নয় ছয়’ করাই ছিল এব্রামসকে নিয়ে অ্যামেরিকান সংসদের সমস্যা, আতঙ্কবাদীদের অস্ত্র জোগানো নয়। আজকেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার সাথে আঁতাত থাকা বা না-থাকা নিয়ে আইনি তদন্ত এবং তাকে ঘিরে আমেরিকা এবং বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক হইচই – এইসব ‘অপরাধ’ এবং সেই বিষয়ক তদন্তের মুখোশের আড়ালে আমেরিকান রাষ্ট্র এবং প্রশাসন বিনা বাধায় চালিয়ে চলেছে তার সাম্রাজ্যবাদী খুনি আগ্রাসন। গত বছর আমেরিকার বায়ুসেনা সরকারিভাবে, সংসদের সায় নিয়েই, ৯টি দেশে বোমাবর্ষণ করেছে – মালি, সোমালিয়া, লিবিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইত্যাদি। এছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমেরিকান মিলিটারি ‘ড্রাগ কন্ট্রোল’ প্রভৃতি বিভিন্ন অছিলায় দৈনন্দিন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যেমন কলম্বিয়া, একুয়েডোর ইত্যাদি। মধ্য আমেরিকায় এখনো তাদের সেনাবাহিনীর বকলম রাজত্ব, যেমন হন্দুরাসে এখনো বড়ো সংখ্যায় মজুত আমেরিকান সৈন্য। এবং এই সমস্ত যুদ্ধ শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ নয়, এর আগে এগুলো ছিল ওবামার যুদ্ধ, তার আগে বুশের, তার আগে ক্লিনটনের, তার আগে বুশের বাবার, তার আগে রেগানের।  এর কোন শুরু বা শেষ নেই। কিন্তু বছরের পর বছর যুদ্ধ এবং যুদ্ধের নামে গণহত্যা চালানোর জন্য বারাক ওবামার ন্যুরেমবার্গ-সুলভ বিচারের কথা ভাবতেও পারে না মার্কিনি ‘গণতন্ত্র’ বা সমাজ। রাশিয়ার সাথে আঁতাতের ফলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ যাবে কি যাবে না তা সময়ই বলবে, কিন্তু এটা আমরা সকলেই জানি যে গণহত্যা বা যুদ্ধ অপরাধ, বা “মাদার অফ অল বম্বস” নিক্ষেপ করার অপরাধের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনোরকম বিচার যে শুধু হবে না তাই নয়, বরং ঠিক এই কারণগুলোর জন্যই ট্রাম্পকে মাথায় তুলে নাচবে মার্কিন  রাষ্ট্র, সংবাদমাধ্যম এবং বিচারব্যবস্থা। অর্থাৎ আমেরিকার বিচার এবং সংসদীয় ব্যবস্থার স্পষ্ট অবস্থান – এমন কোনো ছোটখাটো ‘বেআইনি’ কাজ কোরো না, বা করলেও অন্তত ধরা পড়ো না, যার ফলে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ উঠতে পারে, বা পশ্চিমি গণতন্ত্রের চকচকে মুখোসের পিছনের সাম্রাজ্যবাদের কুৎসিত মুখ, দাঁত, নখ ধরা পড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সাজা হবে। কিন্তু যদি ‘নিষ্কলঙ্ক’ ভাবে গণহত্যা ও আতঙ্কবাদ চালিয়ে যেতে পার তাহলে শুধু যে শাস্তির কোনো প্রশ্ন নেই তা-ই নয়, বরং মহান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইতিহাস বইয়ে তোমার জায়গা পাকা। এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন নিয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রের এত সমস্যা এবং এই কারণেই আমেরিকান উদারবাদের কাছে গণহত্যাকারী ওবামা বা রেগান ছিল সোনার প্রেসিডেন্ট। গুয়াতেমালা কোর্টের গত বছরের রায়ের ভিত্তিতে আজকের দিনে এলিওট এব্রামসের ন্যুরেমবার্গ রীতির বিচারের দাবি যখন আরও জোরালো হয়ে ওঠার কথা, ঠিক তখনই গুয়াতেমালা, এল সালভাদোর, পানামা, নিকারাগুয়া, প্যালেস্তাইনের পর এব্রামস এখন ভেনেজুয়েলায় আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের ‘স্পেশাল এনভয়’। “সকল মানুষের অধিকার এবং মুক্তির প্রশ্নে এলিওট-এর আবেগতাড়িত ভূমিকার জন্য, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র এবং সমৃদ্ধি কায়েম করার জন্য, তিনিই সবচেয়ে যোগ্য লোক,” জানিয়েছেন আমেরিকান সেক্রেটারি অভ স্টেট মাইক পম্পেও।

 

এব্রামস ও ট্রাম্প। ছবির সূত্র – https://www.thetimes.co.uk/, https://www.forbes.com/

 

ইতিহাস থেকে বর্তমান ভেনেজুয়েলায় ফিরে আসা যাক।

 

তেলের খনির দখল

 

ফক্স নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি অফিসার জন বোল্টন বলেন, “আমেরিকার তেল কোম্পানিরা যদি ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনে ঢুকতে পারে, তাহলে আমেরিকার অর্থনীতির জন্য সেটি একটি বড় ব্যাপার হবে।” এখানে বোল্টন শুধু শাভেজের বলিভীয় পেট্রোলিয়াম নীতি উপড়ে ফেলার কথাই শুধু বলছে না, বলছে তারও আগের আমেরিকা সমর্থিত রক্ষণশীল ভেনেজুয়েলীয় সরকারি নীতি উলটে দেওয়ার কথা। শাভেজ যখন ক্ষমতায় আসেন, তার আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনের রাষ্ট্রীয়করণ হয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলার তেল রফতানির ৪১% যায় আমেরিকায়। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়িত তেল কোম্পানি বহুদিন ধরে আমেরিকার বাজারে চুটিয়ে ব্যবসা করেছে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের সব নিয়ম মেনেই। আমেরিকার সমস্ত শহরে, শহরতলিতে দেখতে পাওয়া যায়  সিটগো নামক তেল এবং গ্যাস কোম্পানির পেট্রোল বা গ্যাস পাম্প। এটি হল ভেনেজুয়েলার সরকারি তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র মার্কিন সাবসিডিয়ারি। বোল্টনের উক্তি আরও গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে একদিকে যেমন ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন রাষ্ট্রায়ত্ত হওয়ার ফলে এমনটা একেবারেই হয়নি যে, ভেনেজুয়েলার তেল নীতি আন্তর্জাতিক বাজারের বাইরে, বা পরিপন্থী হিসেবে টিকে থেকেছে। অন্যদিকে তেমনই আজকের বাজারে যে কোনো শত্রুরাষ্ট্রও নিজের তাগিদেই ‘খোলা বাজারের’ নিয়ম মেনেই একে অপরকে তেল বেচাকেনা করবে। কাজেই আমেরিকার কোম্পানিগুলির ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ  করার মধ্যে দিয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে নতুন বিশেষ কিছু পাওয়ার নেই। নিজে তেল উৎপাদন করা বা তেলের খনির মালিকানা হাসিল করা এবং অন্য উৎপাদকের থেকে খোলা বাজারের হিসেবে তেল কেনা – এই দুইয়ের মধ্যে বিশেষ কোনো আর্থিক ফারাক নেই। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের নিজের লজিক দিয়ে ঠিক হয়। উৎপাদকের নিজস্ব রাজনৈতিক ইচ্ছা সেখানে অপ্রাসঙ্গিক। কাজেই, বোল্টনের উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক। অর্থাৎ, তেলের খনি নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য মূলত লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আরেকটি চেকপোস্ট তৈরি করা, ভেনেজুয়েলার তেল কাকে বেচা হবে এবং কাকে হবে না তা ঠিক করতে পারা, তেল বিক্রি করে উপার্জিত টাকা কোন খাতে ব্যয় হবে তা নিয়ন্ত্রণ করা। শাভেজ পরবর্তী ভেনেজুয়েলায়, যা কিছুটা হলেও মাদুরো সরকারের অধীনেও বহাল থেকেছে, তেলের থেকে উপার্জিত টাকা নীতিগত ভাবে ব্যয় করা হয় সরকারি সামাজিক খাতে, মূলত দারিদ্রসীমার নীচে বাস করা  মানুষদের জন্য। মূলত শাভেজের এই নীতির বিরোধিতাতেই ভেনেজুয়েলার ধনিকশ্রেণি তাঁকে সরাবার জন্য ক্যু-এর চেষ্টা করে। তেলের উপার্জন ওদের পকেটে যেতে হবে, সামাজিক খাতে নয়। এছাড়া শাভেজ পরবর্তী ভেনেজুয়েলা তেলের উপার্জন বিভিন্ন বিদেশনীতির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছে। উদাহরণ, হেইটিকে তেল সরবরাহ করে ভেনেজুয়েলা হেইটির আন্তর্জাতিক তেল-ঋণ শোধ করে দেয় একার হাতে। খোদ আমেরিকার বুকে, বোস্টন শহরের কংগ্রেসম্যান জো কেনেডি তাঁর নির্বাচনক্ষেত্রের গরিব মানুষদের শীতের সময় ঘর গরম রাখার জন্য সস্তায় তেলের জোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় সস্তা দামের তেল সরবরাহ করতে এগিয়ে আসেনি কোনো আমেরিকান তেল কোম্পানি, যাদের কথা বোল্টন বলছে – এসেছিল সিটগো। কথা হল, ভেনেজুয়েলার তেলের খনি দখল করতে পারলে এই ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা যাবে। সারবত্তা হল এই যে আমেরিকার ভেনেজুয়েলা আক্রমণ শুধু তেলের অর্থনীতির প্রশ্ন নয়, এই আগ্রাসনকে মার্কিন রাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী দক্ষিণপন্থি রাজনীতি কায়েম করার রাজনৈতিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখা দরকার।

 

এই প্রেক্ষিতে আমেরিকান সংবাদমাধ্যমের লাগাতার প্রোপাগান্ডা – “ভেনেজুয়েলার সরকার কম্যুনিস্ট (বা সোশ্যালিস্ট), কাজেই তাকে উৎখাত করা প্রয়োজন” – এই নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির খানিক ধারণা থাকলেই পরিষ্কার হয় এই গুজবের ভিত্তিহীনতা। দেশের “প্রাইভেট কর্পোরেট ইক্যুইটি”র এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে দেশের সরকার। সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ (জিডিপি’র শতাংশ হিসেবে) মার্কিন সরকারের থেকে কিছুটাই বেশি। বহু প্রাইভেট বিজনেস খোলা বাজারের হিসেবেই ভেনেজুয়েলায় ব্যবসা চালায়। দেশের ধনিকশ্রেণির একটা বড়ো অংশ মাদুরো বিরোধী হলেও সাম্প্রতিককালে, বিশেষত বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট গোটা দেশকে গ্রাস করার সাথে সাথে এই ধনিকশ্রেণির একটা অংশের সঙ্গে মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠতা ক্রমশ বেড়েছে, বিভিন্ন আর্থিক বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে। কাজেই ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি আক্ষরিক অর্থেই একটি “মিশ্র অর্থনীতি”। যে বিধ্বংসী মনেটারি পলিসির কারনে দেশটার আজকের অর্থনৈতিক সঙ্কট আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেই পলিসি আদতে আমেরিকান দক্ষিণপন্থী রাজনীতিবিদ রন পল-এর প্রস্তাবের ভিত্তিতে। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে আর্থিক সঙ্কটের দোহাই দিয়ে ভেনেজুয়েলার ধনিক গোষ্ঠীতন্ত্র এবং মার্কিন সরকার “রেজিম চেঞ্জ”-এর দাবি তুলছে, সেই সঙ্কটের ফলে বস্তুত এই ধনিকশ্রেণির সম্পত্তি শুধু বেড়েইছে।

 

পরিশেষে   

 

মার্কিন সমাজ এবং সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের সভ্যতার শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন গুয়াতেমালার থেকে। যুদ্ধ অপরাধের জন্য বিচার করা উচিত লিন্ডেন জন্সন থেকে রোনাল্ড রেগান,  বারাক ওবামা থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমেত সমস্ত গণহত্যাকারীর। গণহত্যার প্রধান নেতা হিসেবে প্রাক্তন ডিক্টেটর জেনারেল রিওস মন্ত-কে গত বছর দোষী সাব্যস্ত করে গুয়াতেমালার বিচারব্যবস্থা। এবং এমন আদৌ নয় যে গুয়াতেমালার বিচারব্যবস্থার কাছে এটা কোনো একটা সহজ কাজ। গুয়াতেমালার বর্তমান সরকার একটি পুরোপুরিভাবে দক্ষিণপন্থী দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, যা সারাক্ষণ চেষ্টা করে যাচ্ছে গণহত্যা সংক্রান্ত আইন রদবদল করার যাতে অভিযুক্তরা আইনি রেহাই পেতে পারে। গুয়াতেমালা সরকারের এই চেষ্টার একজন বড়ো সমর্থক এবং সাহায্যকারী সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধান নেতানিয়াহু এবং আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স-এর মাধ্যমে গুয়াতেমালান সরকার ট্রাম্পের সাথে “লবি” করে চলেছে যাতে গণহত্যা সংক্রান্ত তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া যায়। শুধু গণহত্যাই নয়, দেশব্যাপী দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়াও বন্ধ করে দিতে চায় এরা। উল্লেখযোগ্য, সে দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোরালেস এবং ধনিকশ্রেণির অনেকেই এই তদন্তে অভিযুক্ত। আইনজীবীদের দেশ থেকে বার করে দেওয়া হচ্ছে, কেস ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, আইনজ্ঞ এবং বিচারকদের পুলিশি সুরক্ষার ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়ে ড্রাগ ব্যবসায়ী এবং মাফিয়াদের সামনে তাদের অসহায় করে ফেলা হচ্ছে। অথচ এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়েই এব্রামসদের নৃশংসতার শিকার পরিবারগুলির সাহসী লড়াই এবং কিছু সৎ এবং নির্ভীক আইনজ্ঞের লড়াইয়ের ফলে গত সেপ্টেম্বর মাসের ঐতিহাসিক আইনি জয়। সে তুলনায় আমেরিকা তো নাকি ‘উন্নত গণতন্ত্র’। সেখানে তাহলে মধ্য ও লাটিন আমেরিকায় গণহত্যার জন্য রোনাল্ড রেগানের বা আফগানিস্তানে নির্বিচার প্রায়-পরমাণু হত্যাকাণ্ডের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের বা ড্রোন আক্রমণের মাধ্যমে গণহত্যা করা বারাক ওবামার যুদ্ধ অপরাধের বিচার হবে না কেন?

 

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী রাশিয়া এবং চীনের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে স্বঘোষিত ‘প্রেসিডেন্ট’ গুয়াইদো। রাশিয়া এবং চীন ভেনেজুয়েলার প্রধান দুই আর্থিক ঋণদাতা, এবং এখনো অবধি তারা গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মাদুরো সরকার সরকারি ভল্ট থেকে আরব আমিরশাহিকে সোনা বেচার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নগদ টাকার বিনিময়ে। এর কারণ আমেরিকার লাগানো টাটকা আর্থিক নিষেধাজ্ঞা। দীর্ঘসময় ধরে  সফলভাবে ব্যবসা চালানর পর ভেনেজুয়েলান সরকারি তেল কোম্পানি সিটগো দেউলিয়া হয়ে যেতে চলেছে। বৃহস্পতিবার সরকারি তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র কয়েকশো কর্মচারী রাজধানী কারাকাসে র‍্যালি করেন ভেনেজুয়েলার তেলের খনির উপর মার্কিন আক্রমণের বিরুদ্ধে। “ইয়াংকি হ্যান্ডস অফ আওয়ার অয়েল ইন্ডাস্ট্রি” – এই ছিল তাঁদের স্লোগান। ভেনেজুয়েলার মানুষের এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে অবিলম্বে প্রয়োজন আমেরিকান রাষ্ট্রের উপর বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা। আমেরিকাকে বাধ্য করতে হবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে। বাধ্য করতে হবে সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা পরিত্যাগ করতে এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বে এবং অর্থনীতিতে নাক গলানো বন্ধ করে নিজের গণ্ডির মধ্যে থাকতে শিখতে। আমেরিকার রাজনীতিকদের একাংশ বলছে মার্কিন সরকারের উচিত যুদ্ধ ছেড়ে বরং মাদুরো এবং বিরোধীপক্ষের মধ্যে আলাপ আলোচনার প্রক্রিয়া তৈরি বা পরিচালনা করা, এবং একটি ‘রাজনৈতিক’ সমাধান খুঁজে বার করা। এর থেকে হাস্যকর কী হতে পারে! সকলেই জানে যে ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন পরিস্থিতির মতো এক্ষেত্রেও আমেরিকান সরকার কোনো ‘নিরপেক্ষ’ সংস্থা নয়, যে সে আলোচনার প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। প্যালেস্তাইনের ক্ষেত্রে যেমন মার্কিন সরকার নগ্নভাবে ইজরায়েলের পক্ষে এবং প্যালেস্তাইনের বিপক্ষে, এখানেও একইরকম নগ্নভাবে তারা মাদুরো সরকারের বিপক্ষে এবং ভেনেজুয়েলার ধনিকগোষ্ঠীর পক্ষে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক এবং বামপন্থী আন্দলনের প্রয়োজন ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে অবিলম্বে দাঁড়ানোর এবং দেশের অভ্যন্তরে মাদুরো বিরোধী খেটে খাওয়া গরিব মানুষদের আন্দোলনের হাত শক্ত করার। নয়তো আবার গণহত্যা, আবার যুদ্ধ এবং আবার এব্রামস ও ট্রাম্পের মতো ক্রিমিন্যালদের রুপোর পদক জয়।

 

এই লেখায় উল্লিখিত তথ্যাদি প্রধানত সাংবাদিক আলান নায়ার্নের দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ফসল। এছাড়াও “ডেমোক্র‍্যাসি নাউ”-এর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে। ফীচার ছবির (গুয়াইদো ও মাদুরো) সূত্র – https://www.radionz.co.nz/

Share this
Leave a Comment