থিয়েটারে মেয়েদের নিরাপত্তা


  • November 4, 2018
  • (0 Comments)
  • 356 Views

২৭ অক্টোবর কলকাতার রাণু ছায়া মঞ্চে থিয়েটার কর্মীদের একটি ছোট জমায়েতে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট‌ প্রসঙ্গে আলোচনা হল। থিয়েটার প্রচলিত অর্থে চাকরিজগত নয়। উপরন্তু এতে শরীর-মনের যৌথ উপস্থিতিতে সৃষ্টির একটি ধরন রয়েছে, যা  হ্যারাসমেন্ট‌ সম্পর্কিত ঘটনাগুলিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই থিয়েটার জগতে এই প্রসঙ্গে প্রকৃত অর্থে খোলাখুলি যুক্তিসম্মত আলোচনা হয়ে ওঠে না। এই প্রথাকে প্রশ্ন করেই এই জমায়েত একটি পদক্ষেপ। লিখেছেন নাট্যকর্মী শ্রাবস্তী ঘোষ

 

সারা ভারতের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে যখন #মি টু নিয়ে ঝড় চলছে, তখন থিয়েটার জগতের নৈঃশব্দ আমাদের অনেকের কাছেই খুব অস্বস্তিকর লেগেছিল। ভারতের অন্যান্য জায়গার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা থিয়েটারও কেমন যেন না বলার চাদরে ঢাকা। এতো বছরের বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে কান পাতলে যদিও নানা ঘটনার ফিসফাস শোনা যায়। আমার বারেবারে মনে হয়েছিল, কেন এই না বলা? ভয়? যদি তাইই হয়, তাহলে কিসের ভয়? কাজ না পাওয়ার? কাজের জগতে হারিয়ে যাওয়ার? মনে হয়েছিল, এই ভয়গুলোকে চিহ্নিত করার সময় এসেছে।

 

এইসকল প্রশ্নের উত্তর খোঁজা ও দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে কথোপকথন শুরু করার উদ্দেশ্য ছিল ২৭ অক্টোবরের রাণু ছায়া মঞ্চে জমায়েতের কারণ। ফেসবুকে ইভেন্টের মাধ্যমেই সকলকে জানানো হলেও, থিয়েটারের কিছু সিনিয়র মানুষদের আমি ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলাম আলোচনায় যোগ দিতে। আমি চেয়েছিলাম, কিছু নাম উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে, একটি সংগঠিত পদ্ধতির কথা ভাবার। প্রত্যেক দলে যাতে একটি করে কমিটি থাকে, যাদের কাছে সেক্সুয়াল- মেন্টাল যে কোনো হ্যারাসমেন্ট সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো যাবে, এইরকম একটা ভাবনাই আমরা পৌঁছে দিতে চেয়েছিলাম। এর সঙ্গে সঙ্গে যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন, তাঁরা যাতে তাঁদের কথা জানাতে পারেন, সেরকম একটি কমিটিও থাকা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। যে সকল মেয়েরা দলের মধ্যে থাকা কমিটির কাছে তাদের অভিযোগ নিয়ে পৌঁছতে পারছেন না, তারাও জানতে তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন সেই ব্যবস্থাও রাখা প্রয়োজন। এইরকম সার্বিকভাবে একটি নিয়মের মধ্যে পুরো বিষয়টিকে যাতে নিয়ে আসা যায়, তা নিয়েই আমরা কথা বলি সেদিন। আমরা চেয়েছিলাম, এই কথাগুলিই পৌঁছে দিতে। যাঁরা কলকাতায়, পশ্চিমবাংলায় দলের প্রধান, বা, বাংলা থিয়েটারের পরিচিত মুখ, যাদের হাতে ক্ষমতা, আমরা চেয়েছিলাম কথাগুলি তাঁদের বলতে। কারণ, কোনো পরিবর্তন যখন আনতে হয়, যখন কোনো দাবিকে কার্যকরী করতে হয়, সেই কথাগুলি নিচের প্রান্ত থেকে উঠে এলেও, ক্ষমতা থেকে যায় উপরের হাতেই। সেই ওপরের মানুষগুলির কাছেই আমরা যেতে চেয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, তাঁদের বেশিরভাগের সাড়া পাওয়া যায়নি। তাঁদের নীরবতার উপেক্ষাই আমরা পেয়েছি। কয়েকজন আসতে চেয়েও আসতে পারেননি, সেকথা সত্যি। কিন্তু, তাঁদের সংখ্যা নিতান্তই হাতে গোনা। তাহলে, এই যে না-বলা, আর, এই যে উপেক্ষা দুটোই কি এক সুতোতে বাঁধা? বড়োরা ছাড়াও বাংলা থিয়েটার জগতের বেশ কিছু মানুষ যে এলেন না, কোন সাড়াই দিলেন না অনেকে, তার কারণ কী? আমরা সকলেই কী ভবিষ্যতের কারণে অন্ধ হয়ে থাকতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি? অন্ধত্বের অনিবার্য কারণ হিসেবে নীরবতার আড়াল দিয়ে সব শব্দকে ঢেকে ফেলাই কী আমাদের এখন লক্ষ্য?

 

সেদিন যে হাতে গোনা ক’জন মানুষ এসেছিলেন, তাঁরা মূলত ছিলেন স্ট্রিট থিয়েটার ও ইয়ুথ থিয়েটারের কর্মী। বাংলা থিয়েটারে মেনস্ট্রিম থিয়েটারের গণ্ডিভুক্ত তারা নন। কিন্তু, তাঁদের কথা থেকেও উঠে আসে নানা কথা। এইসব ক্ষেত্রে দলে বড়ো কেউ না থাকলেও, সমবয়সীদের মধ্যেই ক্ষমতার লড়াই চলে বলে জানা গেল সেদিনের সভায়। তাঁদের কাছ থেকে উঠে আসে, দলের মধ্যে কেমনভাবে তাঁদের নানানসময়ে হেনস্থা হতে হয়। মূলত তা শুরু হয়, সমবয়সীদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই দিয়েই। চলে আসে লিঙ্গ রাজনীতি, যার ফল হয়ে দাঁড়ায় যৌন হেনস্থা। তাঁরাও মনে করেন বাংলার মেনস্ট্রিম গ্ৰুপ থিয়েটারের মতো করে, ইয়ুথ থিয়েটার ও স্ট্রিট থিয়েটারে হ্যারাসমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলি উঠে আসা প্রয়োজন। ঠিক একইভাবে প্রয়োজন কমিটির যাঁদের কাছে নির্যাতনের ঘটনা পৌঁছনো যাবে এবং একইসঙ্গে, যাঁরা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

 

২৭-এ আমাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নাট্যসমালোচক, গবেষক অংশুমান ভৌমিক। তিনি এই প্রসঙ্গে তুলে আনেন, বাংলা থিয়েটারে অভিনেত্রীদের আসার শুরুর দিকের ইতিহাস। সেই সময়ে বাবুদের থিয়েটারে, অভিনেত্রীদের কোনো না কোনো বাবুর সঙ্গে কাজ করতে হতো। এই থিয়েটারে কখনও বাবুরা ছিলেন অভিনেত্রীদের শিক্ষক, কখনও থিয়েটারের পৃষ্ঠপোষক, প্রযোজক। ফলে, শিক্ষালাভ ও কাজ পাওয়া উভয় ক্ষেত্রেই বাবুদের বশ্যতা স্বীকার করাই ছিল অভিনেত্রীদের একমাত্র উপায়। বাবুদের যৌন চাহিদা মেটানো সেই বশ্যতারই আরেক দিক ছিল। এতো বছর পরে, বাংলা থিয়েটারে যখন নির্দেশনা, অভিনয় ছাড়াও আরো নানান দিকে মেয়েরা এগিয়ে আসছে, কিছু দলের প্রধান যেখানে নারী, সেখানে বাংলা থিয়েটারের পরিসরে যৌন হেনস্থার নিবারণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেই অংশুমান ভৌমিকের মত। তাঁর মতে, সকল দলগুলি একত্র হয়ে কথা বলা প্রয়োজন, সেক্সুয়াল ও মেন্টাল হ্যারাসমেন্টের বিষয়গুলি একটি পদ্ধতির মাধ্যমে নিয়ম করে পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার।

 

থিয়েটার এমন একটি শিল্পমাধ্যম, যেখানে শরীর ও মনের যৌথ উপস্থিতিতে শিল্পের উপস্থাপন ঘটে, শিল্প নির্মিত হয়। থিয়েটার একই সঙ্গে একটি সমষ্টিগত কাজ, যেখানে মঞ্চে একইসঙ্গে একাধিক শরীরের উপস্থিতিতে শিল্প নির্মিত হয়। আরও একটি বিষয় হলো, থিয়েটার কোনো কোনো পরিসরে এক অর্থে গুরুমুখী শিক্ষা, গুরু ও শিষ্যের মধ্যে ভাবের আদানপ্রদান শিক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে। শরীর ও মন আসে একইসঙ্গে, নিয়ম মতো, আবার ইনফরমাল ভাবে। যার ফলে, সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট এই ধরণের শিল্পমাধ্যমে কখনও চিনতে পারা যায় না, কখনও সম্মতি ও হ্যারাসমেন্টের মধ্যেকার দূরত্ব এতটাই সূক্ষ্ম হয় যে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

 

ভারতের বেশিরভাগ জায়গার মতনই বাংলার দলগুলিরও একটি কাঠামো আছে। যে কাঠামোয় দলের প্রধানের, সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। কিছু কিছু দলের ক্ষেত্রে এই সব অধিকারের ক্ষমতা থাকে দলের আর্টিস্টিক ডিরেক্টরের। অর্থাৎ, এই ক্ষমতার মাপকাঠি হলো, কার কাজ দেওয়ার ক্ষমতা কতখানি। এই ক্ষমতাকে কেন্দ্র করেই প্রত্যেক দলের মধ্যেই একধরণের উঁচুনিচু ভেদ তৈরি হয়ে থাকে। যতই বলা হোক, থিয়েটার দল সকলরকম ভেদাভেদের ঊর্ধে, কার্যক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই তার বিরূপ কাঠামোই চোখে পড়ে। কাজ দেওয়া, কাজ শেখানো এই ধরণের দেওয়ানেওয়ার সম্পর্ককে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে মানসিক ও শারীরিক হ্যারাসমেন্টের ঘটনা ঘটে থাকে। এখানে, একটি মনস্ত্বাত্ত্বিক দিক কাজ করে। যিনি হ্যারাসড হচ্ছেন, তিনি অনেক সময়েই ভেবে নেন, যেহেতু তিনি কাজ পাচ্ছেন, বা শিখছেন , অর্থাৎ, যেহেতু তিনি ঋণী অন্য মানুষটির কাছে, সেহেতু তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলার অধিকার তার নেই, বা, কথা বলতে নেই। আর অন্যদিকে, কাজ শেখানো বা কাজ দেওয়াকেই সেক্সুয়াল বা মেন্টাল হ্যারাসমেন্টের অধিকারের চাবি বলে মনে করেন অনেকে। দুর্ভাগ্যবশত, এই সকল মানুষকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষক হিসেবে দেখি, তাদের হাতেই থাকে ক্ষমতা, তাঁরাই সমাজ ও শিল্পের মাথা হয়ে ‘বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে পরিচিত হন। ক্ষমতার হাত ধরেই রাজনৈতিক উচ্চস্তরও এঁদের করায়ত্ত্ব। ফলে, হ্যারাসমেন্ট এদের মাধ্যমে খুব সহজে আসে, কারণ, ক্ষমতার চাদরেই এঁরা আবৃত, যেখানে উল্টোদিকের কণ্ঠকে খুব সহজেই চুপ করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এঁদের আছে।

 

তবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, শুধু বয়োজ্যেষ্ঠ, যাঁরা ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছে গেছেন, তাঁরাই একমাত্র ফিজিক্যাল বা মেন্টাল হ্যারাসমেন্ট ঘটিয়ে থাকেন। আমাদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজে, ক্ষমতার কাঠামোই এমনভাবে তৈরি, যেখানে মিসোজিনিস্ট মন্তব্য, মহিলাদের প্রতি নানান অসম্মানজনক আচরণ খুব সাধারণ চোখে দেখা হয়ে থাকে। তাকে ঘিরে নানা প্রতিবাদ নানান দিকে হলেও, যেন আমরা সকলে একরকম অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি ঘটনাগুলোতে। তাই, নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা তার প্রতিবাদ করতে উঠেপড়ে লাগি ঠিক কোথায়, কিন্তু কোনো একটি নিয়মিত পদ্ধতির মাধ্যমে তা নিরাময়ের কথা ভাবি না। ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানিকে আমরা সামাজিক ব্যধি বললেও, আজও আমরা একটি মেয়েকে ধর্ষণের কারণ হিসেবে দায়ী করেই থাকি। মুখে না বললেও, মনে মনে এমন সন্দেহের ইঙ্গিত যে আসে না, তাইই বা মাথা সোজা রেখে ক’জন বলতে পারি? আর তাই, বয়সের তোয়াক্কা না করেই, যেখানেই ক্ষমতা, সেখানেই লিঙ্গ-রাজনীতি একটি অবশ্যম্ভাবী উপকরণ হিসেবে এসে পড়ে। থিয়েটারও এক্ষেত্রে একই আসনে রয়েছে।

 

আমাদের দেশের অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে সেক্সুয়াল প্রিভেনশন অ্যাক্ট রয়েছে, সেখানে হ্যারাসমেন্টের কোনো ঘটনা ঘটলে তা নথিভুক্ত করে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। হ্যাঁ, এখন প্রশ্ন উঠবেই, সেই কমিটিগুলি কতটা নিজের কাজ করে? সেই বিতর্ক আছেই। কিন্তু, অন্ততপক্ষে, এ ব্যবস্থা আছে, যেখানে একটি মেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় পৌঁছতে পারে। অন্যদিকে, থিয়েটার একটি ইনফরমাল কাজের জায়গা হিসেবে পরিগণিত হয়। সেখানে অর্থের প্রাচুর্য সব দলে নেই বা মাস গেলে টাকা পাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। এই ইনফরমাল জায়গায় টাকা না দিয়ে বা যৎসামান্য কাজ করিয়ে নেওয়ার একটা রীতি আছে। একইভাবে, ইনফরমাল হওয়ার কারণে, এখানে কোনো কমিটি নেই, যেখানে কোনো হ্যারাসমেন্টের ঘটনা জানানো যায়, বিচার চাওয়া যায়, বা পাওয়া যায়। সবই চাপা পড়ে যায়, বা চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। দু-তিনজনের গল্পের মধ্যে, ফিসফিস করে সে খবর ছড়িয়ে পড়ে মাত্র। ক্ষমতার সুতীব্র আওয়াজে তা শোনা যায় না। একদল ভীত হয়েই দিন কাটাতে বাধ্য হয়, আর আরেকদলের অন্যায়গুলি  ক্ষমতার অধিকারে, শিল্পের দোহাইয়ে দিনের পর দিন চাপা পড়তে থাকে। আর বলতে এতটুকু দ্বিধা নেই যে, সেই অন্যায়ের কেন্দ্রস্থলে এসে পড়ে নারী। যে নারীকে এই সমাজ প্রাথমিক ভাবে একটি যৌন বস্তু হিসেবে দেখতে শেখায়। আর সেই কারণেই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে শিল্প, শিক্ষা সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়ে নারী হয়ে থাকে ভোগ্য উপাদান, যৌন লালসা মেটানোর মাধ্যম।

 

এই এতক্ষণ ধরে যা যা বললাম, আজ কেউ এসে বলতেই পারেন, থিয়েটারে এমন তো ঘটেই না। জানি না, ঘটে কি না সেটা প্রমাণ করার কোনো দায় বা দরকার আমাদের আছে কি না? আমার বাংলা থিয়েটারে কাটানো দশ বছরের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে ওপরের প্রতিটা শব্দ। শুধু আমি না, আমার আশেপাশে থাকা অসংখ্য ফিসফাসের মধ্যে থেকে জন্ম নিয়েছে ওপরের বাক্যগুলি।

 

আমি জানি না, আমাদের জমায়েত সফল না ব্যর্থ। আমি জানি না, যে জমায়েতে দশজন উপস্থিত হয়, তাকে কী বলা যেতে পারে। তবে এই জমায়েতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ছোট ছোট ওয়ার্কশপ করানোর। যেখানে আমরা মেয়েদেরকে সেই নিরাপদ স্থান দিতে পারি, যেখানে তাঁরা তাঁদের ঘটনা জানাতে পারেন। একইসঙ্গে, এই ওয়ার্কশপগুলিতে লক্ষ্য থাকবে, সেক্সুয়াল ও মেন্টাল হ্যারাসমেন্টের যে ঘটনাগুলি ঘটে থাকে, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা। হ্যারাসমেন্টের ঘটনাগুলি চিহ্নিতকরণ যাতে করা যায়, তাই হবে লক্ষ্য। এই জমায়েতের সাফল্যের থেকেও প্রয়োজন কথা বলা শুরু হওয়া। এই অসম্ভব নীরবতার আগল ভাঙা একান্ত জরুরি। কারণ, চুপ করে থাকা তো কোনো সমাধান হতে পারে না। যাঁরা চুপ করে আছেন তাঁদের জোর করা যেমন লক্ষ্য নয়, তেমনি তাঁদের কথা বলার মতো পরিবেশ, নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা আমাদের সকলের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সেখান থেকেই থিয়েটারকে সকলের জন্য একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত কাজের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 

ছবির সূত্র – লেখক

Share this
Leave a Comment