“আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে সাজানো” – স্ট্যান স্বামী 


  • September 4, 2018
  • (0 Comments)
  • 239 Views

২৮ অগাস্ট সুধা ভরদ্বাজ, স্ট্যান স্বামী, ভারাভারা রাও, গৌতম নওলাখা, ভার্ন‌ন গন্সালভেজ, অরুণ ফেরেইরা, আনন্দ তেলতুম্বলে প্রমুখ সামাজিক কর্মী ও আইনজীবীর বাড়িতে পুলিশি রেইড এবং নানা ভিত্তিহীন অভিযোগে তাঁদের গৃহবন্দী করে রাখার প্রেক্ষিতে সুধা ভরদ্বাজের বিবৃতির পর এবার প্রতিবাদ জানালেন স্ট্যান স্বামী। গ্রাউন্ডজিরো থেকে তার বাংলা অনুবাদ করা হল।

 

৩১ অগস্ট ২০১৮ মহারাষ্ট্র পুলিশ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে। মহারাষ্ট্র পুলিশের অতিরিক্ত প্রধান অধিকর্তা (আইনশৃঙ্খলা) মি. পরমবীর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ভীমা কোরেগাঁও এর ঘটনার পর প্রথমে ৮ জানুয়ারি ২০১৮ তে একটি এফআইআর নথিভুক্ত হয়। তাঁর কথা অনুযায়ী ২৩ অগস্ট তারিখে পূর্বোক্ত এফআইআরে স্ট্যান স্বামীর নাম ঢোকানো হয়, যেখানে তার সঙ্গে ঢোকে অরুণ ফেরেইরা, ভারাভারা রাও, ভার্নন গন্সালভেজ, গৌতম নওলাখা, সুধা ভরদ্বাজ এবং আনন্দ তেলতুম্বের নামও। ওই সাংবাদিক সম্মেলনেই এডিজি পরমবীর সিং একটি চিঠির প্রসঙ্গ তোলেন, পুলিশী অভিযোগ মোতাবেক যেটি সুধা ভরদ্বাজের লেখা। মহারাষ্ট্র পুলিশের মতে এই চিঠিতে উল্লেখ আছে যে, কমরেড প্রশান্ত পিপিএসসির কাজের জন্য স্ট্যান স্বামীকে নিযুক্ত করেছেন। চিঠিতে নাকি এও লেখা আছে যে, সুধা ভরদ্বাজ স্ট্যান স্বামীকে সিপিআই(মাওবাদী) সংগঠনের কাজকর্মের জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলেন, যদিও স্ট্যান এ বাবদে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন না।

স্ট্যান স্বামীর বিবৃতি

উল্লেখিত চিঠির বক্তব্য বিষয়ে আমার দিক থেকে আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই যে সুধা ভরদ্বাজ আমার কাছে এ জাতীয় কোনো তহবিল তৈরির আবেদন জানান নি। মহারাষ্ট্র পুলিশ সম্পূর্ণ সাজানো মিথ্যে কথা রটাচ্ছে। সুধা ভরদ্বাজও বারবার এই চিঠির সত্যতা অস্বীকার করছেন এবং জানিয়েছেন, চিঠির বিষয়টা পুরোপুরি বানানো।

সেইসঙ্গে আরো জানাতে চাই, আমার ও সুধা ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে এই মামলা সাজিয়ে তোলার খুব সম্ভাব্য কারণ হল এই যে আমি ২০১৫ ডিসেম্বরে গড়ে ওঠা পারসিকিউটেড প্রিজনার্স সলিডারিটি কমিটির (পিপিএসসি) আহবায়ক। সেক্ষেত্রে এ কথাও খুব স্পষ্ট করে জানাতে হয় যে পিপিএসসি বিচারাধীন বন্দীদের সহায়তার উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে; কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রশ্ন অবান্তর। ঝাড়খণ্ডের জেলে পচতে থাকা বন্দীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আমি রাঁচিতে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও করেছিলাম। আমার মামলায় সাড়া দিয়ে মহামান্য ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ৮ জানুয়ারি ২০১৮ তে ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকারকে রাজ্যের সমস্ত জেলগুলি থেকে যাবতীয় প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী যোগাড় করতে আদেশ দেন, যাতে বিচারাধীন বন্দীদের বিচারে অহেতুক দেরির কারণগুলো স্পষ্ট হয়। ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে এই মামলার কাজকর্ম এখনো চলছে।

এই জনস্বার্থ মামলা ছাড়াও, আদিবাসী ও দলিতদের ভারতীয় সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার – বিশেষত পঞ্চম তফশিল আদিবাসী জনজাতিকে যেসব অধিকার দিয়েছে এবং পিইএসএ ধারা অনুসারে গ্রামসভার মাধ্যমে তাদের স্বশাসনের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি কাজ করেছি। ‘জমির মালিক জমির নিচের খনিজেরও মালিক’- সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের মর্মবস্তু তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টাও আমি করেছি। জমি ব্যাঙ্ক তৈরির বিরুদ্ধেও আমি জনমত গঠনের চেষ্টা করেছি, কেননা এতে করে পরম্পরাগতভাবে সাধারণের ব্যবহারের রাস্তা, নদী, পুকুর, গোরস্থান, বন-জঙ্গল ইত্যাদির মতো যৌথ সম্পত্তি বা ‘কমন্স’ বেদখল হয়ে যাবে।

আমার ভয় হচ্ছে যে আমার এসব কাজে সরকারের ক্ষমতাশালী স্বার্থে আঘাত লেগেছে, এবং তার ফলে ঝাড়খণ্ডে আমার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনেই তারা থামেনি, এখন অন্য আরো সমাজকর্মী, আইনজীবী আর বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে একটা মিথ্যে মামলায় আমায় ফাঁসানো হয়েছে যে আমাদের সাথে জাতীয় স্তরে নিষিদ্ধ সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে। মনে রাখতে হবে যে, আমরা অপরাধী কারণ আমরা দরিদ্রের চেয়েও দরিদ্রতম মানুষদের অধিকারের কথা বলছিলাম, শুধু ঝাড়খণ্ডেই নয়, সারা দেশ জুড়ে।

স্ট্যান স্বামী
রাঁচি
৩/৯/১৮

Share this
Leave a Comment