সমকামী সম্পর্কের অধিকার প্রসঙ্গে আশার ক্ষীণ আলো দেখিয়েছে দেশজোড়া আন্দোলন, আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা


  • August 20, 2018
  • (0 Comments)
  • 705 Views

২০১২-১৩ সালে জাস্টিস সিংভি এবং জাস্টিস মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ২০০৯ সালের দিল্লী হাই কোর্টের সমকামিতার পক্ষে দেওয়া রায়-কে ভুল ‘প্রমাণ’ করে একে আরও একবার অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে, এ বছর দাখিল করা একটি পিটিশনের নিরিখে জুলাই মাসে পাঁচজন জজের কন্সটিটিউশন বেঞ্চ যে পর্যালোচনা করে, তাতে পিটিশনকারী মানুষরা নিজেরা বহুলাংশে এগিয়ে এসেছেন জনসমক্ষে, এবং অনেক বেশি সংখ্যক আইনজীবী এর বিলুপ্তিকরণের পক্ষে জোরদার বক্তব্য রেখেছেন। তবু কোনো সমাধান উঠে আসেনি। লড়াই জারি থাকবে এখনও অনেক দিন। লিখেছেন পাঞ্চালী কর

এ যাবৎ চলে আসা রাজনৈতিক হিংসা এবং আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির নিরিখে ২০১৮ সাল ভবিষ্যৎ ভারতের ইতিহাসে একটা ভয়ঙ্কর সময় হিসেবে চিহ্নিত হবে। আমরা এক অন্ধকার সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছি যেখানে খেটে খাওয়া গরিব মানুষের অবস্থা তলানিতে এসে ঠেকেছে, যেখানে মানুষ খুন হয়ে যাচ্ছে খাদ্যাভ্যাসের মত লঘু কারণে, যেখানে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মাচরণ সর্বক্ষণ খড়্গহস্ত হয়ে আছে সংখ্যালঘুর ওপর। এই ভয়াবহ সময়ে দাঁড়িয়ে একমাত্র আশার আলো দেখিয়েছে আইপিসি ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে দেশজোড়া আলোড়ন। বিভিন্ন মহল থেকে কিউরেটিভ পিটিশন এবং রিট পিটিশন দাখিল করা হয় ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে, মানুষ সোচ্চার হয়ে ওঠে প্রতিবাদে।

৩৭৭ ধারার নিরিখে কোনো ব্যক্তি যদি প্রাকৃতিক নিয়মের অন্যথা করে নিজ ইচ্ছায় অপর কোনো ব্যক্তি বা পশুর সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়, তা ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইন পায়ু-সংসর্গকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে, যা সমকামী মানুষের মধ্যে এক স্বাভাবিক যৌনাচার। এই আইন প্রবর্তিত হয় ১৮৬০ সালে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে। চার্চের চোখে সমকামিতা গর্হিত অপরাধ, আর তারই প্রতিফলন দেখা যায় এই আইনে। স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রাগৈতিহাসিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা আইন বহাল রাখার কোন যুক্তি থাকার কথা নয়। ৩৭৭ ধারা শুধু মাত্র সমকামী মানুষের অধিকারে থাবা বসায় না, কোনো বিসমকামী মানুষ যদি পিনো-ভ্যাজাইনাল সেক্সের বাইরে কোনো ধরনের দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়, সেও এই একই অপরাধে অপরাধী। ৩৭৭ ধারার আর একটি লজ্জাজনক দিক এই যে, এই আইন অনুযায়ী পশুর সাথে যৌন সংসর্গ বা বেস্টালিটি এবং সমকামিতা একই পর্যায়ে বিচার্য: দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্মতিপূর্ণ যৌনাচারের সাথে তুলনা করা হয়েছে পশুর সাথে মানুষের যৌনাচারের, যেখানে একটি পক্ষ সম্মতি বা কনসেন্ট জানাতেই পারেনা।

সূত্র – স্ক্রোল

দানিশ শেখের করা কোর্টরুম আলোচনার সারাংশ থেকে আমরা সরকারের নীরবতা এবং তার পিছনে থাকা সমকাম-বিরোধী রাজনীতির কথা জানতে পারি। প্রাথমিক ভাবে ভাবা হয়েছিল যে, কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সাথে সহমত পোষণ করবে। কিন্তু ৩৭৭ ধারার উপযোগিতা সম্বন্ধে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নোট বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হয়ে দেখা দেয়। ওই নোটে ৩৭৭ ধারায় বর্ণিত অজাচার বা বেস্টালিটিকে হাতিয়ার করে ৩৭৭ ধারা টিকিয়ে রাখার এবং ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে লিবার্টি বা স্বাধীনতার সীমারেখা বেঁধে দেওয়ার কথা বলা হয়। এই নোটে ২০১২-১৩য় সুরেশ কুমার কৌশল এবং নাজ ফাউন্ডেশন এর মধ্যে হওয়া আইনি লড়াইয়ের থেকে অবাঞ্ছিত প্রসঙ্গ টেনে এনে কোর্টকে বিভ্রান্ত করতে চাওয়া হয়। ২০১২-১৩ সালের এই কেস ২০০৯ সালের দিল্লী হাই কোর্টের সমকামিতার পক্ষে দেওয়া রায়-কে ভুল ‘প্রমাণ’ করে, জাস্টিস সিংভি এবং জাস্টিস মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ৩৭৭ ধারায় উল্লেখিত পায়ুমৈথুন প্রাকৃতিক নিয়মের বিরোধী বলে চিহ্নিত করেছিল, এবং সমকামিতাকে আরও একবার অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। এই ঘটনা এই বিষয়ে মৌলিক অধিকারের আন্দোলনকে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছিল। আজ এই আলোচনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, কারণ এর সাথে এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির মানুষের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।

এ বছর পিটিশন কোর্টে উঠলে বিভিন্ন পক্ষের উকিলরা ৩৭৭ ধারার পক্ষে এবং বিপক্ষে সওয়াল করেন ৯ থেকে ১৮ জুলাই। ৩৭৭-এর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় মুখ এবং পায়ুছিদ্র মানুষের পাচনতন্ত্রের অংশ, এবং তা যৌন সংসর্গে ব্যবহার করা স্বাভাবিকতার পরিপন্থী। মানুষ কি চায়, সেই বিষয়ে সওয়াল উঠলে অত্যন্ত কুযুক্তি দিয়ে বলা হয়, গরিষ্ঠতামূলক নৈতিকতার চেয়ে সাংবিধানিক নৈতিকতায় জোর দেওয়া উচিত, এবং সেই নৈতিকতা ৩৭৭ ধারা অব্যাহত রাখতে বলে। বলাই বাহুল্য, যে সংবিধান মানুষের সংবিধান, সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে মানুষের মতামতকে অগ্রাহ্য করার মত অসাংবিধানিক কাজ কিছু হয় না। এত অন্ধকারের মধ্যে আশার আলো দেখিয়ে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ৩৭৭ এর পক্ষে দাঁড়ায়নি, কারণ ওঁদের মনে হয়েছে যে, প্রিভেসি জাজমেন্টের পরে এই ইস্যুতে তর্ক করা বৃথা।

৩৭৭-এর বিলুপ্তিকরণের পক্ষে মতামত রাখেন অ্যাডভোকেট শ্যাম দিওয়ান, অ্যাডভোকেট মানেকা গুরুস্বামী, অ্যাডভোকেট অশোক দেসাই, সিজেআই দীপক মিশ্র, জাস্টিস ইন্দু মলহোত্র, জাস্টিস চন্দ্রচূড়, অরবিন্দ দাতার, প্রমুখ। অশোক দেসাই তুলে আনেন সমকামী মানুষের উপর হয়ে আসা অত্যাচার এবং অপমানের ছবি। তিনি জজ লীলা শেঠের কথা উল্লেখ করেন, যাঁর ছেলে সমকামী হিসেবে নিজেকে আইডেন্টিফাই করেছিলেন। দেসাই আলোকপাত করেন সমকামিতা সম্পর্কে সমাজের সম্যক ধারণা কী ভাবে বদলেছে, সেই বিষয়েও। যেখানে প্রাচীন সময়ে সমকাম বা সমপ্রেমকে অসুখ হিসেবে দেখা হত এবং তার চিকিৎসা করানোর বৃথা চেষ্টা করা হত, সেখানে আজ মানুষের চোখে সমকামিতা স্বাভাবিকতা অর্জন করেছে। বিশ্ব সাহিত্যের নিরিখে সমকামের গ্রহণযোগ্যতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি প্লেটোর সিম্পোজিয়াম থেকে শুরু করে রুথ বনিতা এবং সেলিম কিদ্বাই-এর সেম সেক্স লাভ ইন ইন্ডিয়া পর্যন্ত, এথেনিয়ান কনফারেন্স অফ লাভ থেকে শুরু করে সক্রেটিস পর্যন্ত, সব দর্শন এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সূত্র – ডেকান ক্রনিকল

অ্যাডভোকেট মানেকা গুরুস্বামী, যিনি আইআইটি-র পিটিশনকারীদের পক্ষে সওয়াল করেছেন, তিনি ঐতিহাসিক বক্তব্য রাখেন ভালোবাসার অধিকার ও প্রেমের অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে এনে। এই মামলায় ইনি প্রথম মহিলা আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেন এবং অসম্ভব নৈপুণ্যের সাথে মূল দাবির কথা অনায়াসে ব্যক্ত করেন। গুরুস্বামী বলেন যে, শুধু মাত্র যৌনাচার নয়, সমকামী প্রেম সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করে: “How strongly must you love knowing you are unconvicted felons under Section 377? My Lords, this is love that must be constitutionally recognised and not just sexual act.” গুরুস্বামী অনায়াসে সত্যি কথাটা কোর্টের সামনে তুলে ধরেন: এই লড়াই শুধু মাত্র ৩৭৭ ধারার বিলুপ্তিকরণের প্রশ্ন নয়, এটা মানবাধিকারের প্রশ্ন, মানবিকতার প্রশ্ন। ২০১২-১৩ সালের কেসে সব চাইতে দুর্বল প্রসঙ্গ ছিল সওয়াল চলাকালীন সমকামী মানুষের অনুপস্থিতি; এইবার সে অসুবিধার উদ্রেক হয়নি। পিটিশনকারীদের অনেকেই কোর্টরুমে উপস্থিত ছিলেন, বাকিরাও নিজেদের নাম প্রকাশ করেছেন। সেইসব মানুষেরা আদালতের সামনে এসে দাঁড়ান যাদের জীবনে ৩৭৭ ধারার আইন প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে। গুরুস্বামী আদালতকে নালসা ভারডিক্টের কথা স্মরণ করিয়ে আর একবার মনে করিয়ে দেন যে, ৩৭৭ ধারা কীভাবে রূপান্তরকামী মানুষের মানবাধিকারের পরিপন্থী। তিনি আরো জানান যে, ইনসেস্ট বা অজাচারের মত যৌন বাসনার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলার কঠোর হওয়া প্রযোজ্য, কিন্তু সমকামী যৌনতা সম্পর্ক কখনোই অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।

৩৭৭ ধারার নেতিবাচক দিকের বর্ণনা করতে গিয়ে জাস্টিস ইন্দু মলহোত্র খুবই শক্তিশালী বয়ান পেশ করেন। তিনি জানান এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির মানুষ হাসপাতাল ও অন্যান্য চিকিৎসা ক্ষেত্রে যেতে ও সুবিধা নিতে কুণ্ঠা বোধ করেন তাঁদের উপর অনবরত ঘটে চলা বৈষম্যের কারণে। আমাদের প্রচলিত চিকিৎসাক্ষেত্র এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির মানুষদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল নয়। তিনি আরো বলেন, সমকামিতা যথেষ্ট আইনি স্বীকৃতি না পাওয়ার দরুন প্রচুর মানুষকে বাড়ির চাপে পড়ে বিসমকামী সম্পর্কে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়, যার ফলে মানসিক চাপ, শারীরিক অনিচ্ছা ইত্যাদির কারণে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, সম্পর্কে ফাটল ধরে, জীবন নষ্ট হয়। মানুষ বাদে অন্যান্য জীবজন্তুর মধ্যেও সমকামী প্রবৃত্তি বর্তমান, এবং তা প্রকৃতির নিয়মেই স্বাভাবিক, এই বিষয়ে ইন্দু মলহোত্র আলোকপাত করেন। জাস্টিস চন্দ্রচূড় মানসিক স্বাস্থ্য আইনের ২১এ সেকশনের উল্লেখ করেন, যেখানে যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে কোন মানুষের সাথে বৈষম্য সৃষ্টি করা বা দুর্ব্যবহার করা বেআইনি। সিজেএই দীপক মিশ্র জানান, অ্যাডভোকেট সিংহের রিপোর্ট পড়ে উনি বুঝতে পেরেছেন যে, সমকামিতা মানসিক ব্যাধি নয়, বরং স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।

অ্যাডভোকেট শ্যাম দিওয়ান অধিকার আইন প্রসঙ্গে বলেন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি, বা অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো মানুষের যৌন প্রবৃত্তির ওপর নির্ভর করে বিভাজন হলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা অপরাধমূলক কাজ, কিন্ত তা-ও তা বিভিন্ন মহলে ক্রমাগত হয়ে আসছে। এলজিবিটিকিউ কমিউনিটি এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনের স্পষ্ট বিবৃতি চায়, যাতে কোনো ব্যক্তিকে এই অযাচিত বৈষম্যের শিকার হতে না হয়। দিওয়ান উল্লেখ করেন সাম্যের –  বৈষম্য দূর করতে যৌন প্রবৃত্তি নির্বিশেষে সাম্য। শুধু মাত্র দৈহিক নৈকট্যের অধিকার দিয়ে এই বৈষম্য দূর করা অসম্ভব বলেই তিনি ব্যক্ত করেন। দিওয়ান আর্টিকেল ২১ এবং হাদিয়া কেসের কথা উল্লেখ করে বলিষ্ঠ মতামত দ্বারা স্পষ্ট বলেন যে রাইট টু ইন্টিমেসি (অন্তরঙ্গতার অধিকার)-কে রাইট টু লাইফ (জীবনের অধিকার)-এর মধ্যে নথিভুক্ত করার সময় এসে গিয়েছে। দিওয়ান মহামান্য সুপ্রিম কোর্টকে আর্জি জানান, ৩৭৭ ধারা বিলুপ্ত করায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে, এবং বলেন, এর অন্যথায় সমাজ অনেকটা পিছিয়ে পড়বে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০০৯ সালের দিল্লী হাই কোর্টের রায়কে ধূলিসাৎ করে যে ২০১৩-য় সমকামী যৌনাচারকে পুনরায় অপরাধ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়, তা সামাজিক ভাবে পিছিয়ে যাওয়ার একটা জ্বলন্ত নিদর্শন; এইবার আর পিছিয়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা নেই: No going back।

সূত্র – ডিএনএ ইন্ডিয়া

অরবিন্দ দাতার এবং জাস্টিস চন্দ্রচূড়ও আর্টিকেল ২১-এর কথা বলেন, যার মধ্যে যৌন প্রবৃত্তির অধিকার এবং জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা আছে। চন্দর উদয় সিংহ মানসিক স্বাস্থ্য বিশারদদের প্রতিনিধিত্ব করে বলেন, সমকামিতা কোনো মানসিক ব্যাধি নয়, এটি একটি স্বাভাবিক যৌন প্রবৃত্তি। কৃষ্ণ বেণুগোপাল বাক্‌স্বাধীনতার সাথে সাথে ফ্রিডম অফ কনশিয়েন্স বা নৈতিকতার স্বাধীনতার কথা বলেন।

২০১২-১৩-র সাথে তুলনামূলক আলোচনায় গেলে দেখা যাবে আমরা কিছু ধাপ এগিয়েছি, পিটিশনকারীরা নির্ভয়ে কোর্টে আসছেন, মহামান্য আদালত মন দিয়ে তাদের কথা শুনছেন, মূল সমস্যা থেকে প্রসঙ্গ এদিক ওদিক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই জজেরাই তা সঠিক আলোচনার গণ্ডীতে ফিরিয়ে আনছেন। দুঃখের বিষয় এই যে, ২০১৮ সালে দাঁড়িয়েও শাসক দলের ঘনিষ্ঠরা মনে করেন সমকামী দৈহিক সম্পর্ক আইনি স্বীকৃতি পেলে দেশের জওয়ানরা দেশ রক্ষা করার বদলে যৌন সম্পর্কে মনোনিবেশ করবেন। এখনো আমাদের রূপান্তরকামী মানুষদের প্রতীক হিসেবে অর্ধনারীশ্বরের মূর্তি কল্পনা করি, সিগন্যালে যেই মানুষটি ভিক্ষা করে, তার মুখ মনে পড়ে না। এখনো আমরা ভেবে ফেলি, নিজেদের বস্তাপচা মরালিটি দিয়ে আর একটি মানুষের জীবনযাপনের অধিকারকে মুছে দেওয়া যায়। এত নৈরাশ্যজনক দিনেও আশায় বুক বাঁধতে ইচ্ছে করে যে, সুদিন আসবে, মানুষ মানুষ হওয়ার অধিকার পাবে, নিজের মত করে বাঁচার অধিকার পাবে পূর্ণ সম্মানের সাথে, আকাশে রামধনু ঝলমল করবে, করবেই।

সূত্র – নিউজএক্স

লেখক বিভিন্ন ফর্মের পারফর্মেন্স শিল্প, লেখালেখি, তথ্যচিত্র নির্মাণ ও সামাজিক-রাজনৈতিক নানা কালেক্টিভের সাথে নানা কাজে সক্রিয় ভাবে যুক্ত। ওয়েস্ট বেঙ্গল ফোরাম ফর জেন্ডার অ্যান্ড সেক্সুয়ালিটি মাইনরিটি রাইটস (যে কালেক্টিভ ৩৭৭ ধারার বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করে) এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
Share this
Leave a Comment