অলিক চক্রবর্তীর জামিন, আন্দোলনকারীদের দাবি সরকার এবার আলোচনায় বসুক


  • July 17, 2018
  • (0 Comments)
  • 1007 Views

গ্রাউন্ডজিরো: বারুইপুর সেশন কোর্ট থেকে আজ সন্ধ্যেয় জামিনে মুক্তি পেলেন ভাঙড় আন্দোলনের নেতা অলিক চক্রবর্তী। গত ৩১শে মে ভাঙ্গড়ের ‘জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র মুখপাত্র অলিক চক্রবর্তীকে অসুস্থ অবস্থায় পুলিশ ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার করেছিলো।

খুন, খুনের চেষ্টা, বিস্ফোরণ ঘটানো, গুলি চালানো সহ অজস্র সাজানো অভিযোগে ৩৫টি মামলা রজু করা হয়েছিলো অলিক চক্রবর্তীর নামে। তার মধ্যে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কুখ্যাত ইউ.এ.পি.এ. ধারার মামলাও ছিল। ৩৪টি মামলাতে ইতিমধ্যেই জামিন পেয়ে গেছিলেন অলিক। খুনের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটিতে জামিন পাওয়ার পর কার্যত আজই পুলিশ-হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন তিনি।

ইতিপূর্বে গত দেড় বছরে অজস্র সাজানো মামলায় পুলিশ ৫০জনেরও বেশী গ্রামবাসীকে গ্রেফতার করেছিলো। গ্রেফতার করেছিলো ‘ভাঙড় আন্দোলন সংহতি কমিটি’র আহ্বায়ক কুশল দেবনাথ ও শঙ্কর দাসকে। গ্রেফতার হয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা চৌধুরী, প্রদীপ সিংহ ঠাকুর, অমিতাভ ভট্টাচার্য, সুনীল পাল সহ আন্দোলনের বহু প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ। অবশেষে, দেড় মাস আগে অলিক চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করার পর প্রশাসনের দৃঢ় ধারণা ছিলো যে ভাঙড়ের ‘পাওয়ার গ্রিড বিরোধী’ আন্দোলনে এবার ভাঁটা পড়বে। কিন্তু বাস্তবে হয় তার উল্টো। অলিকের মুক্তির দাবীতে উত্তাল হয়ে ওঠে ভাঙড়ের হাজার হাজার গ্রামবাসী। গত ৮ জুলাই প্রায় ১০,০০০ মানুষের মিছিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে হাড়োয়া রোড। স্লোগান ওঠে ‘অলিক চক্রবর্তীর মুক্তি চাই’, ‘পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিল করো’। চাপে পড়ে তার পরদিনই, ৯ জুলাই, দঃ ২৪ পরগনার জেলা শাসকের দপ্তরে মিটিং ডাকে প্রশাসন। ডি.এম., পুলিশ সুপার, নবান্নের দূত সহ পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের অফিসাররা কমিটি-নেতৃত্বের সাথে সেখানে আলোচনায় বসেন। এমনকি, ‘বহিরাগতদের সঙ্গে কোনও আলোচনা নয়’ বলে যে কঠোর অবস্থান ইতিপূর্বে প্রশাসন গ্রহণ করেছিলো, তার থেকেও তারা সরে আসে। গ্রামবাসীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জমি কমিটির নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরীও সেই আলোচনায় অংশ নেন। কমিটির পক্ষ থেকে সেদিনই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিলো যে অলিক চক্রবর্তী সহ সমস্ত বন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং যাবতীয় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পরই একমাত্র ইতিবাচক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হতে পারে, তার আগে নয়। সেদিনের সেই আলোচনার আট দিনের মাথায় মুক্তি পেলেন অলিক। শেখ আজিম ছাড়া কমিটির সমস্ত নেতৃত্বই এই মুহূর্তে জামিনে মুক্ত।

‘জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়েছে:

“আরেকটি উল্লেখযোগ্য জয় ছিনিয়ে নিল ভাঙড় আন্দোলন। ৩৫টি মামলার মধ্যে শেষতম মামলাটিতে আজ জামিন পেলেন জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির মুখপাত্র অলিক চক্রবর্তী। যে সমস্ত ব্যক্তি/সংগঠন আমাদের এই কঠিন লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ ও সংগ্রামী অভিনন্দন। আমরা আশা করছি আগামী দিনে দমনের বদলে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে সমস্যা সমাধানে সরকার উদ্যোগী হবে।”

কমিটির যুগ্মসম্পাদক মির্জা হাসান বলেন:

“আমরা আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই সরকারের সাথে আলোচনা চেয়ে এসেছি। সরকারই সে রাস্তায় না গিয়ে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছিলো। আজ সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ায় আমরা খুশি। এই উদ্যোগটাই যদি প্রশাসন দেড় বছর আগে নিতো, তাহলে হাফিজুর, মফিজুল, আলমগীরদের শহিদ হতে হতো না।”
Share this
Leave a Comment