“ওরা একজন অলীককে গ্রেপ্তার করেছে, আমরা হাজার ‘অলীক’ তৈরি আছি”: প্রশাসনকে ভাঙ্গড়ের পাল্টা চ্যালেঞ্জ


  • July 10, 2018
  • (0 Comments)
  • 742 Views

গ্রাউন্ডজিরো: গত ৩১ মে ভাঙ্গড়ের ‘জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটি’র মুখপাত্র অলীক চক্রবর্তীকে অসুস্থ অবস্থায় পুলিশ ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেপ্তার করে। চিকিৎসার জন্য অলীক সেইসময় ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে গেছিলেন।

গত প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অলীক পাওয়ার গ্রিড সংলগ্ন গ্রামগুলিতে একটানা থেকেছেন। গ্রামবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত এই দেড় বছরে একটা দিনের জন্যেও পুলিশ-প্রশাসনের সাহস হয়নি গ্রামে ঢুকে অলীককে গ্রেপ্তার করার। কারণ তারা জানতো, হাজার হাজার গ্রামবাসী অলীক চক্রবর্তীকে বিনা বাধায় পুলিশের হাতে তুলে দেবে না। তাই গোপনে, অসুস্থ অবস্থার সুযোগ নিয়ে রাজ্যের বাইরে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অজস্র মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয় তাঁকে।

অলীক চক্রবর্তী সহ সমস্ত আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই মিথ্যে মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবীতে এবং নিঃশর্তে সমস্ত বন্দীদের মুক্তির দাবীতে গত ৮ জুলাই এক মহা-মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় জমি-জীবিকা কমিটি। প্রায় হাজার দশেক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল সংগঠিত ক’রে কমিটি এইদিন পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় প্রশাসনের কাছে। প্রমাণ হয়ে যায়, নেতা বন্দী হওয়ার এক মাস পরেও আন্দোলন আগের মেজাজেই রয়েছে।

৮ জুলাইয়ের এই মহা-মিছিলকে কেন্দ্র করে গত একমাস ধরে কমিটির আঞ্চলিক নেতৃত্ব ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে। পোস্টার, লিফলেট, বুলেটিন বিলির পাশাপাশি একদিন অন্তর একদিন বিভিন্ন গ্রামে গ্রাম-সভার ডাক দেওয়া হয়। প্রতিটা সভাতেই উপছে পড়ে ভিড়। স্লোগান ওঠে, “ওরা একজন অলীককে গ্রেপ্তার করেছে, আমরা হাজার ‘অলীক’ তৈরি আছি।” সেই স্লোগান যে নেহাত ফাঁকা আওয়াজ নয়, ৮ জুলাইয়ের মিছিলে তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়।

আন্দোলনে ‘বহিরাগত’ বলে চিহ্নিত, কমিটির অন্যতম নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরী কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের শর্ত অনুযায়ী প্রায় এক বছর ধরে কাশীপুর, কে.এল.সি এবং ভাঙ্গড় থানা এলাকায় ঢুকতে পারেন না। আর এক ‘বহিরাগত’ অলীক চক্রবর্তীকে হাজতে ভরার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে প্রশাসন ভেবেছিলো যে ভাঙ্গড়-আন্দোলনে এবার ভাটা পড়বে। কিন্তু তাদের সেই হিসেব মেলেনি। শাসকদলের প্রবল বাধা অতিক্রম করে, হাইকোর্টের রায়ে হোয়াটস্‌অ্যাপে মনোনয়ন জমা দিয়ে পাঁচ জন পঞ্চায়েত প্রার্থীর বিপুল জয়লাভের পর, কমিটির জনসমর্থন আরও বাড়ে। নতুন নতুন গ্রামের মানুষ কমিটিতে নাম লেখান। সব মিলিয়ে, নেতা-নেত্রীর দীর্ঘ অনুপস্থিতিতেও অভূতপূর্ব গণউদ্যোগের জোরেই ভাঙ্গড়-আন্দোলন এখনও প্রশাসনের গলায় কাঁটার মতই আটকে থাকছে।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর পর কমিটির দাবী মেনে পাওয়ার গ্রিড বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ২৩ জুন এবং ৯ জুলাই, দঃ ২৪ পরগনার জেলা শাসকের দপ্তরে দুটি মিটিং ডাকা হয়। ডি.এম., পুলিশ সুপার, নবান্নের দূত সহ পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের অফিসাররা কমিটি-নেতৃত্বের সাথে সেখানে আলোচনায় বসেন। কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়, অলীক চক্রবর্তী সহ সমস্ত বন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং যাবতীয় মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পরই একমাত্র ইতিবাচক আলোচনার পরিবেশ তৈরি হতে পারে, তার আগে নয়। প্রশাসন, কমিটির এই দাবী গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে।

ফটো: গ্রাউন্ডজিরো প্রতিবেদকের

Share this
Leave a Comment