সাহস আর আবেগের অন্য নাম বাংলাদেশের চলমান ছাত্র আন্দোলন

0
325

বাংলাদেশের চলমান ছাত্র আন্দোলনের গতিবিধির উপর নজর রাখতে, এর সঙ্গে যুক্ত শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণীদের দেখে নিজেকে নতুন করে মানুষ বলে ভাবতে ইচ্ছে‌ করে। নয়তো আজকাল মানুষ হিসাবে তো কেবলই লজ্জিত হতে হয়… লিখছেন সুদর্শনা চক্রবর্তী

আন্দোলনের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে যাওয়া যুক্তিসঙ্গত কি না তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে এ লেখা লিখছি না। একটি আন্দোলন শুরু করা ও তা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্দোলনকারীদের যে আবেগটুকু প্রয়োজন তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু যাঁরা তা দেখছেন, সমর্থন করছেন, পাশে থাকছেন, তাঁদের আবেগ-অনুভূতি ঠিক কোন খাতে বইতে পারে, তা যেন স্পষ্ট দেখিয়ে দিল পড়শি দেশের কিশোর-যুবারা। মর্মে ঘা লেগেছে একেবারে। সাংবাদিককে নিরপেক্ষ হতে হয়, জানি। কিন্তু এ শুধুই সাংবাদিকের কলমপেষা নয়, এই আন্দোলনের গতিবিধির উপর নজর রাখতে, এর সঙ্গে যুক্ত শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণীদের দেখে নিজেকে নতুন করে মানুষ বলে ভাবতে ভালো লাগছে। নতুবা আজকাল, মানুষ হিসাবে তো কেবলই লজ্জিত হতে হয়।

নির্বিচারে চলেছে পুলিশের লাঠি

দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, নতুন করে তারই যেন পাঠ দিচ্ছে এই ছেলেমেয়েরা। আচমকা শুরু হওয়া এই আন্দোলনে সবাই হয়তো শুরুতে ভেবে থাকতে পারেন, এ কেবল কিশোর বয়সের অপরিণত ভাবনা, তরুণদের বিপ্লব শুরুর স্পর্ধা ইত্যাদি। কিন্তু যত দিন এগোচ্ছে, তত বোঝা যাচ্ছে ওই ছোট ছোট মুখগুলিতে যে দৃঢ়তা, তা একদিনের আকস্মিক ভাবনা নয়, তরুণ শরীরগুলিতে শুধুই রক্তের চাঞ্চল্য নেই, রয়েছে আত্মবিশ্বাস ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। হোক না তা ‘রাষ্ট্র মেরামতি’র। যখন সর্বশক্তিমান প্রশাসন তা করে উঠতে পারে না তখন তারা সাহসে ভর করে এগিয়ে এসেছে, তাতে অন্তত এটুকু তো বোঝা যাচ্ছে যে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

বাংলাদেশে চলমান ছাত্র আন্দোলন

সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহন দপ্তরের বেহাল দশা, এ নিয়ে সত্যিই সংবাদমাধ্যমে অসংখ্য রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, তদন্তমূলক তথ্যানুসন্ধান চলে, সরকার-প্রশাসন আর সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপান-উতোর চলতে থাকে, কিন্তু আদপে কাজের কাজ কিছুই হয় না। পথ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি, আহত হওয়া এসবে আমরা আজকাল অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যাদের বাড়িতে দুর্ঘটনা ঘটছে তারা ছাড়া এগুলি সংবাদমাধ্যম থেকে জানা ঘটনা মাত্র, আমাদের কাছে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি দেশ যে ছাত্র-আন্দোলন, কিশোর-আন্দোলনকে এহেন বিরাট রূপ দিতে পারে, এ কথা হয়তো ভাবতেও পারিনি। কারণ আমরা যে ছাত্র-আন্দোলনের সঙ্গে পরিচিত, তার সঙ্গে এর যে কোনও মিলই নেই। রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসনের বিরূদ্ধে ছাত্র-আন্দোলনকে এক নতুন চেহারা দিল বাংলাদেশ।

স্কুল পড়ুয়াদের পরপর পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু এবং দেশজুড়ে সড়ক পরিবহন নিয়ন্ত্রণে বেহাল দশা ও দুর্নীতি – এই সবটা মিলে দেশের পরিস্থিতি যখন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে তখন সহ্যের বাঁধ ভেঙেছে পড়ুয়াদেরই। মূলত স্কুল, সঙ্গে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত ছাত্রছাত্রী সেই আবেগে ভর দিয়ে আর অদম্য সাহস বুকে নিয়ে পথে নেমেছে। হাল না শুধরে থামবে না। এই অনুভূতিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করব আমরা?

পুলিশ ও ছাত্রলীগের আক্রমণে আহত ছাত্র

একটা ছোট্ট দেশ আর তার নতুন প্রজন্ম দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশের নাগরিককে হাতের পুতুল ভাবতে শুরু করলে তার ফল ভালো হয় না। বুক চিতিয়ে চোখে চোখ রাখার সাহসটুকু সম্বল করেই ঘর থেকে বেরিয়েছে তারা। অন্যায়টা মানবে না বলেই হাতে হাত রেখেছে পরস্পরের।

কেন এই আন্দোলন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই উপমহাদেশে অন্য রকম বলে মনে হচ্ছে? গত কয়েক দিন ধরে চলা এই আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির দিকে নজর রাখলে কয়েকটি কারণে একে বিশেষ বলেই মনে হয়।

পুলিশ ও ছাত্রলীগের আক্রমণে আহত ছাত্রী
  • ছাত্র-আন্দোলনের যে কারণগুলির সঙ্গে আমরা মুখ্যত পরিচিত তার সঙ্গে এই আন্দোলনের কারণের বাস্তবিকই কোনও মিল নেই। শিক্ষাক্ষেত্রের দুর্নীতি, নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের সঙ্গে মতভেদ, ন্যায্য দাবী আদায়, সরকারের সঙ্গে সংঘাত ইত্যাদি নানা কারণেই পড়ুয়ারা আন্দোলনের পথ বেছে নেন, নিচ্ছেন। বৃহত্তর নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতেও তাদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সাধারণত রোজকার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কোনও বিষয়, যা হয়তো আমরা সেভাবে খেয়াল করতেও অভ্যস্ত নই, নিছকই ব্যস্ত জীবনের অংশ হিসাবে দেখতে অভ্যস্ত, চায়ের কাপে তুফান তুলে খানিক তর্ক-বিতর্ক চালিয়েই যা আমরা ভুলে যাই যতক্ষণ পর্যন্ত না তার আঁচ সরাসরি আমাদের জীবনে পড়ছে – এই ছেলেমেয়েগুলি সেরকম একটি বিষয় নিয়ে লড়ে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে রাস্তাটা ঠিক না থাকলে পড়তে পৌঁছানোও যাবে না। তারা জানে সড়ক পরিবহনে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়া থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জ্যামজট নিয়ন্ত্রণ প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির চক্রটা ঠিক কতটা বিস্তৃত। কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারে বারবার পরিবহন আইন অমান্য করা হচ্ছে ও কীভাবে তা ক্রমশ বাড়তে থাকা দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়িয়েই চলেছে, তা নিয়ে কিশোর, তরুণ পড়ুয়াদের এই আন্দোলন তাই সবদিক থেকেই আলাদা।
পুলিশ ও ছাত্রলীগের আক্রমণে আহত ছাত্র
  • বয়স। হ্যাঁ, যে বয়সের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে তা দেখে বিস্মিত হওয়া ছাড়া আর উপায় কী! স্কুলের ছাত্রছাত্রী যারা আদৌ দুর্নীতি, সরকার-প্রশাসন ইত্যাদি নিয়ে ভাবিত কি না তাই আমরা ভেবে দেখিনা কখনও, তারাই যখন শয়ে শয়ে রাস্তায় নামে তখন বিস্মিত হতে হয়। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন আমাদের পরিচিত, কিন্তু স্কুলের নীচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের এভাবে আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান আমাদের কাছে নতুন।

  • না, এই আন্দোলনকারীরা অনশন, ঘেরাও, বিক্ষোভ, মিছিল, পথসভা – আন্দোলনের এধরনের কোনও পরিচিত পথে হাঁটেনি। তারা দেখিয়ে দিয়েছে দেশটা আসলে তার নাগরিকদের, দেশবাসীর। বয়সটা সেখানে কোনও বাধা নয়। আর কে না জানে শুরুটা নবীন আর কাঁচাদেরই করতে হয়। এর ফলে আন্দোলনটা যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, যে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে এবং যেভাবে সরকারকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে তা বিস্ময়কর। আইন হাতে তুলে নেওয়া একে বলে না, একে বলা যেতে পারে আইনের রক্ষকদের, আইনের ধ্বজাধারীদের দেখিয়ে দেওয়া, শিখিয়ে দেওয়া আইনটা কীভাবে মানতে হয়। বাংলাদেশের রাস্তায় রাস্তায় তারা আইনমাফিক গাড়ি যে চালানো যায় তা দেখিয়ে দিয়েছে। শুধু বাংলাদেশ কেন, আমাদের মতো দেশেও প্রশাসন, সরকারকে তারা যেন দেখিয়ে দিচ্ছে কাজটা আসলে করাই যায়, যদি সদিচ্ছা থাকে। পথদুর্ঘটনায় প্রাণহানি, আহত হওয়ার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সুষ্ঠুভাবে যানবাহন চালানো যায়, লাইসেন্স রাখা যায় এবং যদি আইন মোতাবেক কাগজপত্র না থাকে, তবে শাস্তি পেতে হয়।
হাতে হাতে ঘুরছে নানান পোস্টার
  • ওরা তো স্কুলে পড়ে। জানে পড়া না করলে, নিয়মানুবর্তিতা না শিখলে শিক্ষকরা দশবার করে খাতায় লেখান, সহপাঠীদের সামনে ক্লাস থেকে বের করে দেন, সারা ক্লাসের সামনে শাস্তি দেন। ওরা শিখছে সত্যিতে কোনও ভয় নেই, ভয় আছে মিথ্যের আশ্রয় নিলে। তাই সেইভাবেই যাদের লাইসেন্স পাচ্ছে না, তাদের লিখতে বাধ্য করছে ‘আমার লাইসেন্স নেই’, বিচারপতি বা পুলিশের বড় আধিকারিকের গাড়িও ঘুরিয়ে দিচ্ছে। ওরা আসলে আইন না মানার জন্য লজ্জা পাওয়াচ্ছে। এই লজ্জা পাওয়া থেকেই মানুষ শোধরায়, নিজের ভুল বোঝে। ওরা সরাসরি বিবেকে আঘাত করছে।
লিঙ্গ নির্বিশেষে পথে নেমেছে বাংলাদেশের যুবসমাজ
  • এই ছেলেমেয়েরা নিজেদের দেশ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। ওরা দেশের ইতিহাসটা জানে হৃদয় দিয়ে, কেবলমাত্র ক্লাসের পাঠ্যবইয়ের মুখস্থবিদ্যা দিয়ে নয়। তারা জানে যে সরকার, প্রশাসন মিলে ক্ষমতাসীন থাকার জন্য ঠিক কোন খেলাটা খেলে, খেলছে। কীভাবে তারা দেশবাসীকে শোষণ ক’রে, তাদের যাবতীয় সুবিধা-অসুবিধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ কায়েম রাখে। তাই তারা রেগে উঠেছে। তাই তাদের মুখের ভাষাকে মনে হচ্ছে অশালীন, যখন তা পোস্টারে লেখা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যদি আমাদের রাজনীতির মহারথীদের ভুয়ো আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিকে অশালীন মনে না হয়, তাহলে এই সৎ পড়ুয়াদের পোস্টারের ভাষাকেও মনে হওয়া উচিৎ নয়। আপাতত ক্ষোভ প্রকাশের আর সত্যিটা বলার এর চেয়ে স্পষ্ট ভাষা কিছু হতে পারে না।
হাতে হাতে ঘুরছে নানান পোস্টার
  • এই আন্দোলনকারীরা কোনও তথাকথিত সুশীল সমাজ, নামজাদা ব্যক্তিত্ব, কারওর সমর্থনের মুখাপেক্ষী নয়। এদের সঠিক পথ দেখানোর জন্য রাজনৈতিক পরামর্শ দেওয়ার মতো মানুষেরা থাকতেও পারেন, না-ও পারেন। কিন্তু এরা নিজেদের পথটা নিজেরাই বেছে নিয়েছে। অহিংস বা সহিংস নয়, এরা শুধু চাইছে দেশ বাঁচাতে, তাকে শুধরোতে। তাই তাদের মা, বাবা, পরিবার-পরিজন, বন্ধুরা তাদের পাশে থাকছে। দুশ্চিন্তা আছে, ভয় আছে কিন্তু থামিয়ে দেওয়া নেই, ফিরে আসতে বলা নেই। বরং জলটুকু, খাবারটুকু নিয়ে পাশে দাঁড়ানো আছে।
পুলিশ ও ছাত্রলীগের আক্রমণে আহত ছাত্রছাত্রী
  • এই আন্দোলন একটা মানবিক মুখ নিয়ে এসেছে সামনে। যে প্রজন্মকে মনে করা হয় আত্মকেন্দ্রিক, গ্যাজেট-সর্বস্ব, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সময় কাটিয়ে দেওয়া, কেরিয়ার অন্তপ্রাণ, উদাসীন – তারা দেখিয়ে দিয়েছে দেশ আর সহনাগরিকদের নিয়ে, নিজেদের নিয়ে, রাষ্ট্রের পরিকাঠামো নিয়ে তারা ঠিক কতটা ভাবে, চিন্তা করে আর জানে কীভাবে তা সঠিক পথে চালাতে হয়।
নাগরিক অধিকার চাইলে মিলছে লাঠি ও টিয়ার গ্যাস

দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের পদলেহনকারী রাজনৈতিক দল, ছাত্রদল, চুপচাপ নির্দেশ মানা পুলিশ-প্রশাসন, যখন এই শরীরগুলোকে রক্তাক্ত করে, তখন টিয়ার গ্যাসের শেল-কে কলমদানী বানিয়ে তোলা এই ছাত্রছাত্রীরা, ভয় তুচ্ছ করে আবার পথে নামা এই আন্দোলনকারীরা বিশ্বাস জাগায় – এ আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার নয়, এ আন্দোলন এক নতুন শুরু। আমাদের অবিরাম নিরাপত্তা খুঁজতে থাকা দিনযাপনে এক নতুন সাহসী অধ্যায়ের সূচনা।

টিয়ার গ্যাস শেল কুড়িয়ে কলমদানি

ওরা ভয় পাইয়ে দিয়েছে। ওই কিশোর-যুবার দল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সাহস থাকলে শৃঙ্খলা আনা কঠিন নয়। ওরা আইন ভাঙেনি, হিংসা ছড়ায়নি। দুর্নীতিসর্বস্ব প্রশাসনকে মাথা আর শিরদাঁড়া সোজা রাখা যায় কীভাবে শিখিয়ে দিয়েছে। নিজেদের কদর্য চেহারাটা এই আন্দোলনকারীদের আয়নায় দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে সরকার আর তার চাটুকারেরা। নিজেদের ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতার জন্য যে সাধারণ মানুষকে মাশুল দিতে হয় তা সামনে চলে আসায় এই আন্দোলনকারীদের বয়সের পরোয়া করছে না তারা। নিষ্পাপ অথচ দৃপ্ত মুখগুলিকে যেনতেন প্রকারে চুপ করাতে তারা লাঠি, গুলি, চাপাতি, হাত, বুট সবকিছুই ব্যবহার করছে। আর ভয় দেখাতে মেয়েদের শরীরকে আক্রমণ আর নতুন কথা কী।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুলের মেয়েরা

সংবাদমাধ্যমকে তারা চুপ করিয়ে দিয়েছে। সেক্ষেত্রেও রয়েছে অপ্রকাশিত সরকারি নির্দেশ, উপরতলার হুকুম, আর আক্রমণ। সংবাদকর্মী, সাংবাদিক, আলোকচিত্রীদের উপর পুলিশ, প্রশাসন হামলা চালাচ্ছে। রক্তপাত, সংবাদ করতে না দেওয়া, দুষ্কৃতি ও পুলিশের সাঁড়াশি আক্রমণে সত্যি খবর আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে খবর আটকে দেওয়া সহজ নয়। সাংবাদিকেরাও নিজেদের বিপন্ন করে খবর তুলে আনছেন এই অসমসাহসী লড়াইয়ের আর প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে ছোটরা ঠিক কতটা মূল ধরে ঝাঁকুনি দিয়েছে, ভয় পাইয়ে দিয়েছে ঘুণধরা রাষ্ট্রব্যবস্থায়।

ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমকে তোলা হচ্ছে পুলিশের ভ্যানে

আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের এই আন্দোলন বড় স্যুররিয়াল মনে হয়। চোখের সামনে ঘটতে দেখেও অবিশ্বাস্য মনে হয়। ঝুমবৃষ্টির মধ্যে ভিজতে থাকা ছেলেমেয়ের দল যখন হাতে হাত ধরে যান নিয়ন্ত্রণ করে, হাতে পোস্টার ধরে দাঁড়ায়, রাস্তায় শ্লোগান লেখে, নিজেরা রিক্সা চালিয়ে অসুস্থকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়, সহযোদ্ধার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, গম্ভীর মুখে প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করে – প্রত্যয় জাগে – ‘প্রাণ আছে, এখনও প্রাণ আছে’।

চলছে লাইসেন্স পরীক্ষা

 

ছবি – সোশ্যাল মিডিয়া

লেখক স্বাধীন সাংবাদিক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা। 
Share this

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY