মুহম্মদ আয়ুব হোসেন : খুলান আর কিস্যা খুঁজে চলা এক পরিব্রাজক

0
998

গল্প-গান-ছড়া-কেচ্ছার বিপুল সংগ্রহ কাটোয়ার কিংবদন্তী-সম সংগ্রাহক-সংকলক-গবেষক মুহম্মদ আয়ুব হোসেনের। তাঁর সংগ্রহের কিছু বাছাই করা সংকলন প্রকাশিত হয়েছে, অনেকটাই হয়নি। একটিই ইচ্ছে তাঁর। বাংলার এই লোককাহিনি, মুখে মুখে ফেরা গান, কেচ্ছা ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পাক, মানুষের কাছে পৌঁছাক। শহুরে সমাজ জানুক হিন্দু রমণীর মুখে আল্লার কথা আর মুসলমান রমণীর গল্পে ‘পানি’ নয়, ‘জলকুমারী’র আখ্যান।

দেবাশিস আইচ

নানি ফতেমা বিবি কিংবা মা খাদিজা বিবিরা মুখে মুখে গল্প বলতেন। রূপকথার গল্প, রাজা-রানি, বাঘ-ভালুকের কিস্যা। কত গল্পই না তাঁদের ভাঁড়ারে  ছিল। যে গল্প ছড়িয়ে রয়েছে বাংলার চাষি বউয়ের হেঁসেলের মটকি ভরে, পটুয়ার পটে, অক্ষর জ্ঞানহীন খেতমজুরের স্মৃতির কুলুঙ্গিতে। এমনকি ভিখারির ভিক্ষার ঝুলিতে। লেখাজোখা নেই, মুখে মুখেই ফেরে সে গল্প। গ্রামীণ কথকথাও তাই শ্রুতি। তবে, সে নিম্নবর্গের অন্ত্যজের শ্রুতি। সে আখ্যান বাংলার সমন্বয়ী সংস্কৃতি। হিন্দু-মুসলমানে ভেদ করে না।

ওই যে মায়ের মুখে শুনে শুনে বড় হয়ে ওঠা ছেলেটি, একদিন সেই গল্পের খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে পার করে দেবে এক চার কুড়ি জীবন। ব্রত হয়ে উঠবে ‘মাটির নীচে খুলান আর মাটির উপরে মানুষের কেচ্ছা’ সংগ্রহ। বড় সুন্দর করে বলেন ব্রতী মানুষটি। বাংলার লোককথা, লোকগান, রূপকথার আরও এক কিংবদন্তী-সম সংগ্রাহক-সংকলক-গবেষক মুহম্মদ আয়ুব হোসেন। ‘খুলান’ শব্দটিতে জিজ্ঞাসু হয়ে উঠি। খুলানের অর্থ ভাঙা মৃৎপাত্র, খোলাম-কুচি। আলঙ্কারিক অর্থে যৎসামান্য জিনিস হলেও, এখানে খুলানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙলার সভ্যতার ইতিহাস। অজয়-কুনুর-কোপাইয়ের দীর্ঘ অববাহিকায় পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রাম থানার পাণ্ডুক গ্রামের পাণ্ডুরাজার ঢিবি থেকে কাটোয়া থানার মঙ্গলকোট এক প্রত্নসমৃদ্ধ অঞ্চল। মঙ্গলকোট প্রত্নক্ষেত্রের সর্বনিম্ন স্তরে পাওয়া গেছে সেই খুলান বা বিভিন্ন মৃৎপাত্র, পানপাত্র, পোড়ামাটির পুতুলের নিদর্শন, যা তাম্রাশ্মীয় সভ্যতার স্মারক। যৌবনে এই সুপ্রাচীন অঞ্চল পরিক্রমা করেছেন মুহম্মদ আয়ুব। সংগ্রহ করেছেন এমন ৩৪টি প্রত্নসামগ্রী। যার দেখা পাওয়া যাবে কাটোয়া মহকুমা লাইব্রেরির সংগ্রহশালায়। ‘কেচ্ছা’ শব্দটিতে বদ যৌন গন্ধ রয়েছে। মানলেন তিনি। তবু, লোককথা, রূপকথা কিংবা গীতিকা’র পাশাপাশি ‘কেচ্ছা’ শব্দটিকেও ব্যবহার করতে চান। বোঝালেন কেচ্ছা শব্দের উৎপত্তি আরবি থেকে। কোরান শরিফে সুরা ইউসুফের কাহিনিকে বলা হয়েছে ‘আহসানুল কাসাস’। এই কাসাস থেকেই কিস্যা > কেচ্ছা। গ্রামের মানুষ, কথক কিংবা শ্রোতারা বলে ‘কেচ্ছা গাওয়া’। তারা লোককথা, লোকসংগীত কিংবা গীতিকা বলে না। ওসব শব্দ শিক্ষিত গবেষকদের দান। পালা বা পালাগান বলে। মনে পড়ে ‘মৈমনসিংহ-গীতিকা’ নামকরণ করলেও দীনেশচন্দ্র সেন ভূমিকায় বারবার পালা কিংবা পালাগান শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন।

অজয়-ভাগীরথীর সঙ্গমে রাঢ়বঙ্গের মধ্যমণি কাটোয়া। এই প্রাচীন জনপদের রাজুয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। রাজুয়ার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের দিন অজয় উপত্যকা আর বড় কাঁদরের পলিভরা জমির সবুজ জাদুরূপটি দেখা হয়নি। পথের দুধারে ফসল ওঠা খাঁ খাঁ জমি। গ্রামের মুখ থেকেই আঁকাবাঁকা কংক্রিটের সরু রাস্তা। দু-পাশে ছোটো-মাঝারি পাকাবাড়ির সারি। এমন বাড়িই সিংহভাগ। বাইরে পাকা পৈঠায় বসা যুবককে তাঁর বাড়ির হদিশ জানতে চাই। জানা গেল আরও কিছুটা সোজা রাস্তা পেরিয়ে বাঁদিকে মোড় নিতে হবে। তার পর দুটো কালভার্ট পেরিয়ে বাঁহাতে মাটির বাড়ি। অযাচিত ভাবেই সামনের একটি একতলা পাকাবাড়ি দেখিয়ে বললেন, “উনি পাকাবাড়িতে থাকেন না। এই তো ওঁর ছেলের বাড়ি। মাটির বাড়িতেই থাকবেন।”

চার-পাঁচদিন পায়ে হেঁটে কাটোয়া থেকে গলসি থানার চম্পাইনগরে যিনি চলে যান বেহুলার বাসর ঘর আর গাঙুরের উৎসের সন্ধানে। কিংবা জমিদারের অত্যাচারে পালিয়ে বাঁচা কবিকঙ্কণ-চণ্ডীর যাত্রাপথের খোঁজে বন্ধু নাজির হোসেনকে সঙ্গী করে বর্ধমানের দামিন্যা থেকে পায়ে হেঁটে পাড়ি দেন মেদিনীপুরের আডরা গ্রামে। যেখানে শেষ জীবনটি কাটিয়েছেন কবিকঙ্কণ। ফিরে এসে এঁকে ফেলবেন মানচিত্র। তাঁর যে দেশ দেখার নেশা। “নেশা লেগে গিয়েছিল বুঝলেন, দেশ দেখব, আমার দেশ।” দেশ শব্দটা তাঁর মুখে এই গাঙ্গেয় অববাহিকার মাটির মতোই উচ্চারণে উর্বর। আজও সে নেশার মায়াকাজল তাঁর চোখে। শিক্ষিত, সরকারি চাকুরে ছেলেদের যতই থাক দু- মহলা, তিন মহলা বাড়ি, জীবনসঙ্গিনীকে নিয়ে তাঁর বাস খড়ের ছাউনি দেওয়া দোতলা বারান্দাওয়ালা মাটির কোঠা ঘরে। বাইরের দেওয়ালে আলকাতরার প্রলেপ। এই তাঁর পারিবারিক আদি বাড়ি।

বর্ধমানের কলেজ জীবন থেকেই শুরু হয়েছিল গল্প সংগ্রহ। গ্রামে গ্রামে ঘোরা। এভাবেই একদিন হাতে এসে গেল ডঃ আশরফ সিদ্দিকীর লোকসাহিত্যের দুটি খণ্ড। বুঝলেন শুধু নেশা, নিষ্ঠা আর পরিশ্রম দিয়ে হবে না। এ কাজের কিছু ব্যাকরণ-বিধি রয়েছে। তৈরি করতে হয় প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলী। সে মতো প্রস্তুতি শেষে ফের ফিরে গেলেন কথকদের কাছে। ঘরের কাছে আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, রেভারেন্ড লালবিহারী দে’র উজ্জ্বল উদাহরণ তো ছিলই। সে কথা উঠলেই বললেন, “মৈমনসিংহ-গীতিকা পড়ে পূর্ব বাংলার জন্য কাঁদতাম বুঝলেন। কবে দেখব এমন দেশ।” তার পর একদিন খুঁজে পেলেন নিজভূমিতেই সে ফল্গুধারা বইছে। বললেন, “আবিষ্কারের নেশা পেয়ে গেল। গ্রামের বাঁকে-বাঁকে মানুষের কণ্ঠে তার খোঁজ পেয়ে পেলাম।”

গল্প-গান-ছড়া-কেচ্ছা সে এক বিপুল সংগ্রহ তাঁর। যাঁরা একটু লিখতে পারেন তাঁদের হাতে ধরিয়েছেন খাতা-কলম, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গান-গল্প লিখে নিয়েছেন নিজেই। কথকের নাম-ধাম-পেশা পরিচয় লিপিবদ্ধ করতে ভুল করেননি। এমনকি অনেকের পাসপোর্ট সাইজের ছবিও সংগ্রহ করেছেন। চড়ে বেড়ানো মানুষটির কিন্তু বিয়ে হয়ে গিয়েছিল কলেজে পড়তে পড়তেই। সরকারি চাকরিও পেয়েছেন। কাজ আর সংসার ফাঁকি দিয়ে, এক সময় ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের ফেলে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন ভিন গাঁয়ে। শুধু সংসার নয়, চাষের কাজের — ধান রোয়া থেকে গোলায় ভরা — দেখভাল করেছেন স্ত্রী আঙ্গুরা বিবি। “আমি সংসার দেখতাম না সবই করত আমার স্ত্রী।” তাঁর সরল স্বীকারোক্তি। অকপটে বলেন, “ওকে বিয়ে না করলে আমার খুলানও খোঁজা হত না, গল্পও সংগ্রহ করতে পারতাম না। অনেক ত্যাগ রয়েছে ওর।”

সংগ্রহ তো হল, লিপিবদ্ধও হল। তৈরি করলেন পাণ্ডুলিপি। ততদিনে সংগ্রহের পরিমাণ দুশো ছাড়িয়েছে। এক গুণমুগ্ধ অধ্যাপিকার কল্যাণে পেলেন নামকরা প্রকাশকের ফোন নম্বর। নিজেই ফোন করলেন। তার পর? “বড় প্রকাশক বুঝলেন কিন্তু কী আত্মঅহংকার, খুব মহৎব্যক্তি, অথচ গ্রামকে ঘৃণা করে। বললেন, ‘কে পড়বে এইসব’। নিজেই ফোন কেটে দিলেন।” আর একজন খুব উৎসাহ দেখালেন। এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে বলে এমন ভাব দেখালেন যেন তিনিই রচয়িতা। আর এগোলেন না সেই প্রকাশক। আর একজন পড়ে-টড়ে ফেরত পাঠালেন, বিক্রিবাটা হবে কি না বুঝতে না পেরে। এক প্রকাশক তো শুনেই বলেছিলেন, “গাঁয়ের লোকের এইসব গপ্পো কে কিনবে।” পাণ্ডুলিপি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে। বাগদি, মুচি, মুসলমান, গোয়ালাদের লোককাহিনির ভদ্রসমাজে মূল্য কোথায় সে তো মৈমনসিংহ-গীতিকা সংগ্রহের প্রাকপর্বেই স্বয়ং দীনেশচন্দ্র সেন বুঝেছিলেন। তখন সবে তিনি ‘সৌরভ’ পত্রিকায় (১৯১৩) গীতিকা সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে’র পল্লিকবিতা বিষয়ক একটি প্রবন্ধ পাঠ করেছেন এবং খুঁজে বেড়াচ্ছেন চন্দ্রকুমারকে। পরবর্তীতে (১৯২৩) গীতিকা’র ভূমিকার শুরুতেই সেদিনের কথা প্রসঙ্গে তিনি লিখছেন, ‘আমি মৈমনসিংহের অনেক লোকের নিকট জিজ্ঞাসা করিলাম, কিন্তু কেহই তথাকার পল্লীগাথার আর কোন সংবাদ দিতে পারিল না। কেহ কেহ ইংরাজি শিক্ষার দর্পে উপেক্ষা করিয়া বলিলেন, “ছোটলোকেরা, বিশেষত: মুসলমানরা, ঐ সকল মাথামুণ্ডু গাহিয়া যায়, আর শত শত চাষা লাঙলের উপর বাহুভর করিয়া দাঁড়াইয়া শোনে। ঐ গানগুলির মধ্যে এমন কি থাকিতে পারে যে শিক্ষিত সমাজ তৎপ্রতি আকৃষ্ট হইতে পারেন? আপনি এই ছেঁড়া পুঁথি ঘাঁটা দিন কয়েকের জন্য ছাড়িয়া দেন।”‘

সে পথ ছাড়া তো দূরের কথা, “…মৈমনসিংহের এই অনাবিষ্কৃত রত্নখনির সন্ধান” তাঁর “…আরাধনার বিষয় হইল”। দীনেশচন্দ্র সেনের উদ্যোগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চন্দ্রকুমার দে’কে পালা সংগ্রাহক হিসেবে নিযুক্ত করল। শ্রীসেনের প্রেরণা ও পদে পদে উপদেশে বলিয়ান চন্দ্রকুমার একের পর এক পালা সংগ্রহ করে গিয়েছেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই আর্থিক অনটন এবং অধ্যাপকদের প্রায় বেতনহীন দিনে এই গুরুভার নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। দীনেশচন্দ্রকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, “ভয় কি দীনেশবাবু, ছাপিতে দিন আমি চালাইব।”

সেই সময় চন্দ্রকুমার দে প্রথমে এক টাকা মাসিক বেতনে মুদিখানায় কাজ করতেন। হিসাব-নিকাশে অমনোযোগিতার অভিযোগে সে চাকরি যায়। এর পর দু-টাকার বেতনে গ্রামীণ তহশীলদারির চাকরি জোটে। চাষির ঘরের কলেজ পাস, সরকারি কেরানি মুহম্মদ আয়ুব হোসেন যে বিদ্বৎকুলের নজরে পড়েননি তা নয়। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন পুরস্কার দেয়। একই বছর কাজী নজরুল ইসলাম রচিত লেটো গান সংগ্রহ ও সংকলনের জন্য পেয়েছেন নজরুল পুরস্কার। গ্রিয়ারসন মৈমনসিংহ-গীতিকা’র দীনেশচন্দ্রকৃত অনুবাদ ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল ব্যালাডস — মৈমনসিংহ’ পড়ে মন্তব্য করেছিলেন, “আপনি এই পরম উপাদেয় জিনিসগুলি শুধু পূর্ব্ববঙ্গ নহে, সমস্ত বঙ্গদেশ হইতে সংগ্রহ করুন।” বড় ইচ্ছে ছিল সে কাজ করার। হয়ে ওঠেনি মূলত অর্থের অভাবে। সে ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরণ করেছেন আয়ুব হোসেন। আচার্যের নামাঙ্কিত পুরস্কার তো তাঁর প্রাপ্যই।

তাঁর সংগ্রহের কিছু বাছাই করা সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। যার কোনও কোনওটির প্রকাশনার মান খুব খারাপ। প্রচারেও আসেনি তেমন করে। তাঁর অনুরাগী গুণমুগ্ধরাই প্রধানত সে সব বইয়ের পাঠক। লোকসংস্কৃতিতে আগ্রহী পাঠক কিছু আছেন। আর রয়েছে মূলত অতি সাহসী ছোটো প্রকাশক। তবে, তাঁরা তো কেউ স্যার আশুতোষ কিংবা দীনেশচন্দ্র নন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানও নয়। প্রকাশিত ‘দুখু মিয়াঁর লেটো গান’ বা ‘প্রসঙ্গ লেটো গান’ ছাপা নেই। ‘পশ্চিমবঙ্গ গীতিকা’ পাওয়া যায় দু-খণ্ডে। রাজ্য সরকার প্রকাশ করেছে ‘মহিলা কথক ও তাদের কেচ্ছা রূপকথা’। এখনও প্রকাশের অপেক্ষায় অধিকাংশ সংগ্রহ। খুদে খুদে হাতের লেখায় ফাইল বন্দি দিস্তে দিস্তে কাগজ চোখের সামনে মেলে ধরে কখনও হতাশার সুরে বলে ফেলেন, “মনে হয় সব পুড়িয়ে দি। কী হবে আর এই সব! জীবনের মধ্যাহ্নে শুরু করেছিলাম এখন সায়াহ্ন।” প্রকাশকের কাছ থেকে অর্থ চাননি। হাত পেতে নেননি এক কানাকড়িও। বাড়ি বয়ে আগাম অর্থ দিতে গেলেও ফিরিয়ে দিতে দেখেছি। সই করতে চাননি চুক্তিপত্রে। বিশ্বাস করে পাণ্ডুলিপি হাতে তুলে দিয়ে হাত জোড় করে বলেছেন, “দেখবেন যেন প্রতারিত না হই।” একটিই ইচ্ছে তাঁর। বাংলার এই লোককাহিনি, মুখে মুখে ফেরা গান, কেচ্ছাগুলি অন্তত ছাপার অক্ষরে প্রকাশ পাক। মানুষের কাছে পৌঁছাক। শহুরে শিক্ষিত সমাজ দেখুক, জানুক হিন্দু রমণীর মুখে আল্লার কথা আর মুসলমান রমণীর গল্পে ‘পানি’ নয় ‘জলকুমারী’র আখ্যান। কৃষ্ণ-রাধার প্রেম কাহিনি। আবারও মনে পড়ে যায় ‘মৈমনসিংহ-গীতিকা’র ভূমিকার কথা। দীনেশচন্দ্র লিখছেন, “হিন্দু-মুসলমান যে বহুশতাব্দীকাল পরস্পরের সহিত প্রীতির সম্পর্কে আবদ্ধ হইয়া বাস করিতেছিলেন, এই গীতিগুলিতে তাহার অকাট্য প্রমাণ আছে।” অকাট্য প্রমাণ আছে মঙ্গলকোটের হাজেরা বিবি কিংবা আয়েশা খাতুনদের ‘বিরহগাথা’য়। “কালো জল আনতে গিয়ে, / আমার কালাকে মনে পড়ে রে। / কলসী যখন কাঁধে নিতাম ননদী বাঁধা দিত রে। / ঐ না কালো, নয় রে কালো, / ঐ না কালো ভালো রে।। কিংবা “সই লো সই, / ভাবের শ্যাম এলো কই।। / আমি পায়ের মানান তোড়া পড়িলাম / তাহার মানান ছড়া, / তাহার মানান ঘুঙুরী সই।। / সই লো সই, / ভাবের শ্যাম এল কই।”

ফটোগ্রাফি: লেখক

দেবাশিস আইচ সাংবাদিক ও সমাজকর্মী, বর্তমানে গ্রাউন্ডজিরোর হয়ে সাংবাদিকতা করছেন। 
Share this

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY